আমেরিকায় ফ্রিতে চোখের চিকিৎসা , কিন্তু কোথায় যাবেন জানেন কি?
যুক্তরাষ্ট্রে চোখের পরীক্ষা, চশমা কিংবা অপারেশনের খরচ বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই অথবা ইন্স্যুরেন্সে প্রয়োজনীয় আই কেয়ার কভার হয় না, তাদের চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট বলছে, কম আয়ের ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে বা কম খরচে চোখ পরীক্ষা, চশমা এবং কিছু ক্ষেত্রে চোখের অপারেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে ‘৫ হাজার ডলারের যেকোনো চোখের অপারেশন সবার জন্য ফ্রি’ এমন কোনো একক জাতীয় কর্মসূচি নেই। কে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন, কোন চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, রোগীর আর্থিক অবস্থা, ইন্স্যুরেন্স এবং স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।
লায়ন্স ক্লাবের মাধ্যমে চোখের চিকিৎসায় সহায়তা
লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় লায়ন্স ক্লাব আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে চোখের চিকিৎসার খরচে সহায়তা করে এবং কোনো কোনো এলাকায় চশমার ব্যবস্থাও করে। তবে প্রতিটি লায়ন্স ক্লাব একই ধরনের সুবিধা দেয় না। তাই নিজের এলাকার ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কী সহায়তা পাওয়া যায়, তা জানতে হয়।
আইকেয়ার আমেরিকা
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথালমোলজির আইকেয়ার আমেরিকা কর্মসূচি যোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসাবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার সুযোগ দেয়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরা এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। বয়স, চোখের রোগের ঝুঁকি এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সেবা নির্ধারিত হয়।
ভিএসপি আইজ অব হোপ
কম আয়ের এবং চোখের পরীক্ষা বা প্রেসক্রিপশন চশমার জন্য ইন্স্যুরেন্স কভারেজ না থাকা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভিএসপি আইজ অব হোপ গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে প্রেসক্রিপশন চশমা বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে ২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক চাহিদার কারণে আইজ অব হোপের গিফট সার্টিফিকেট নতুন করে বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এই সুবিধা নিতে আগ্রহীদের কর্মসূচিটির সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে হবে।
বিনামূল্যে ছানি অপারেশনও সম্ভব
চোখের অপারেশনের খরচ বহন করতে না পারলে কিছু বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্যাটারাক্ট বা ছানি অপারেশনের সুযোগ রয়েছে। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট এ ধরনের সহায়তার জন্য মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এবং অপারেশন সাইটের কথা উল্লেখ করেছে।
মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এমন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করে, যাদের ছানির কারণে দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যাদের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা অন্য ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে অপারেশনের খরচ দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রোগীর নিজের পক্ষে অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার সামর্থ্যও না থাকতে হবে।
অপারেশন সাইটও আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত করে। বর্তমান যোগ্যতা অনুযায়ী, রোগীর আয় সাধারণত ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশ বা তার নিচে হতে হয়, ক্যাটারাক্ট সার্জারি চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় হতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইন্স্যুরেন্সবিহীন বা অপারেশন কভার করে না এমন ইন্স্যুরেন্সধারী হতে হয়। এই কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিকত্ব বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির শর্তও রয়েছে।
কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও বিশ্ববিদ্যালয়েও কম খরচে সেবা
ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ী, কাছাকাছি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চোখের ক্লিনিক আছে কি না খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। কিছু কেন্দ্র বিনামূল্যে বা রোগীর আয়ের ভিত্তিতে কম খরচে সেবা দিয়ে থাকে।
একইভাবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে অপটোমেট্রি অথবা অপথালমোলজি প্রোগ্রাম রয়েছে, সেখানে কম খরচে চোখের চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে। সাধারণত প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থী বা চিকিৎসকেরা অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এসব সেবা দিয়ে থাকেন।
শিশুদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে
শিশুদের চোখের চিকিৎসায় মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা চিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যোগ্য পরিবারের শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ভিশন কেয়ারের খরচ এসব কর্মসূচিতে কভার হতে পারে। রাজ্যভেদে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তিত হয়।
৬ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ইনফ্যান্টসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগও রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট রাজ্যে ‘অল চিলড্রেন সি’ কর্মসূচির মাধ্যমে চোখের সমস্যার লক্ষণ থাকা শিশুদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
মেডিকেয়ার থাকলেও সব চোখের চিকিৎসা ফ্রি নয়
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়স হলেই মেডিকেয়ার নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও চশমার সব খরচ দেয়, এমন ধারণাও সঠিক নয়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট বলছে, অরিজিনাল মেডিকেয়ার সাধারণ রুটিন আই এক্সাম বা অধিকাংশ চশমার খরচ কভার করে না। তবে ডায়াবেটিস, বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমার উচ্চ ঝুঁকি এবং ক্যাটারাক্টের মতো নির্দিষ্ট অবস্থায় কিছু আই কেয়ার কভার হতে পারে।
সহায়তা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি খোঁজা। চোখ পরীক্ষা বা চশমা প্রয়োজন হলে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, লায়ন্স ক্লাব এবং স্বল্প খরচের আই ক্লিনিক সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। ছানি অপারেশনের প্রয়োজন অথচ খরচ বহন করা সম্ভব নয় এমন রোগীরা মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ বা অপারেশন সাইটের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব কর্মসূচিতে সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। আয়, ইন্স্যুরেন্স, বয়স, রোগের ধরন, ইমিগ্রেশন বা রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস এবং স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার আগে নিজের এলাকায় কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়, তা যাচাই করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ফস্টার কেয়ারে থাকা অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা দিতে লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এলএসইউ) সঙ্গে ৭২ লাখ ডলারের স্থায়ী বৃত্তি তহবিল ঘোষণা করেছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। শনিবার (৭ নভেম্বর) লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ওয়েড রুসের উপস্থিতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন। মেলানিয়ার ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার’ কর্মসূচির আওতায় এলএসইউর শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যাটন রুজভিত্তিক বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএমআর গ্রুপ তহবিলে ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এলএসইউ ফাউন্ডেশনের অন্য দাতাদের অনুদান মিলিয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখ ডলারে। এর আগে ৪ নভেম্বর হোয়াইট হাউস ৫০ লাখ ডলারের কথা জানিয়েছিল। নতুন ঘোষণায় সব দাতার অনুদান মিলিয়ে তহবিলের পূর্ণ অঙ্ক জানানো হয়। মেলানিয়া জানান, চলতি সেমিস্টারে এলএসইউতে ১৪ জন এবং ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় নয়জন শিক্ষার্থী ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার’ কর্মসূচির সহায়তা পাচ্ছেন। সারা দেশে ২৬টি প্রতিষ্ঠানে সহায়তা পাওয়া ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে তাঁরা রয়েছেন। এলএসইউর নতুন তহবিল থেকে একজন শিক্ষার্থী কত টাকা পাবেন, কোন খরচ বৃত্তির আওতায় পড়বে বা পরবর্তী দফায় কবে আবেদন নেওয়া হবে, সে তথ্য হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় শিশুরা নিজ পরিবারের বাইরে অনুমোদিত পরিবার বা অন্য পরিচর্যা ব্যবস্থায় থাকে। এলএসইউর প্রেসিডেন্ট ওয়েড রুস বলেন, শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিস্থিতি যেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার পথে বাধা না হয়, সে বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্ব দিচ্ছে। মেলানিয়া বলেন, বৃত্তির মাধ্যমে ফস্টার কেয়ার থেকে আসা তরুণদের পড়াশোনার ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি কর্মজীবনে প্রবেশ ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা দেওয়াই কর্মসূচির লক্ষ্য। মেলানিয়া ২০২১ সালে তাঁর ‘বি বেস্ট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার’ চালু করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে ফস্টার কেয়ার থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আবাসনের সুযোগ বাড়াতে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে কংগ্রেসে মেলানিয়া বলেন, আবাসন ও যাতায়াতের সমস্যা এসব তরুণের পড়াশোনা এবং পরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। তাঁদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাবগুলো হাউসে পাস হয়েছে। সেগুলো এখন সিনেটে বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে। সংবাদসূত্র — হোয়াইট হাউস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস
মেডিকেয়ার রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া কি আরও কঠিন হচ্ছে? ২০২৭ সালে কমছে চিকিৎসকদের পেমেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা কমাতে আসছে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি
১৫ লাখ ডলারের দলিল জালিয়াতিতে দোষ স্বীকার, চার অঙ্গরাজ্যের জমি ছিল নিশানায়
নিউইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে (জেএমসি) সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা নামাজের কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত যেসব সমস্যার কারণে মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সিটি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিয়মিত মুসল্লি ও কমিউনিটির সদস্যদের অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে জেএমসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও এক্সিকিউটিভ কমিটি। মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক কমিউনিটি আপডেটে জানানো হয়, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় চিহ্নিত হওয়ায় মসজিদে নামাজ আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে এসব সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে। বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সিটি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করে নিরাপদ পরিবেশে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি আবার উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। জেএমসি কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে মসজিদের নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। মুসল্লিদের কাছে মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে সম্প্রসারণ প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা, ধৈর্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জেএমসি। কঠিন এই পরিস্থিতিতে মসজিদের জন্য দোয়া এবং মুসল্লিদের ধৈর্য ধরে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মসজিদে নিয়মিত নামাজ কবে থেকে পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে নামাজ চালুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা দ্রুত কমিউনিটিকে জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার কর্তৃপক্ষ। সংবাদসূত্র: জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি), বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও এক্সিকিউটিভ কমিটির কমিউনিটি আপডেট।
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক!
যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন অঙ্গরাজ্যে তিন আসামির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জেট দুর্ঘটনায় নিহত ২০ বছর বয়সী কো-পাইলট নাথালিয়া গাদেলিয়া ফিলগেইরাসের শেষ বেতারবার্তা বারবার শুনছেন তাঁর বাবা অ্যালান ফিলগেইরাস। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কোরাল গেবলসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিমানটি কীভাবে বিধ্বস্ত হলো, তার কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না, সেই আশায় তিনি রেকর্ডিংটি শুনেছেন। সেখানে তিনি শুনেছেন, দ্রুত নিচে নামতে থাকা জেটটি থেকে তাঁর মেয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে পরিস্থিতি জানিয়ে গেছেন। নিজেও একজন পাইলট অ্যালান বলেন, ওই সময়ে মেয়ে যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, তা শুনে তিনি গর্ব অনুভব করেছেন। গত রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্সের কাছে একটি সড়কে বিধ্বস্ত হয় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি। জেটটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরা এয়ারপোর্টে যাচ্ছিল। পথে রাডার ও বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। নিহতদের মধ্যে নাথালিয়া ও ৫৫ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন জেফ গ্রেগরি ছাড়াও ছিলেন সাত যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প ও তাঁদের দুই সন্তান। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। উড্ডয়নের শেষ দিকের বেতার রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, নাথালিয়া প্রথমে তীব্র ঝাঁকুনি ও উড়োজাহাজে বরফ জমার কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান। এরপর তিনি ৩৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চান। কন্ট্রোলার অনুমতি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জেটটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। নাথালিয়া জরুরি সংকেত পাঠান এবং বিমানটি কত দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে, তা জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, জেটটি মিনিটে ২০ হাজার ফুট করে নিচে নামছে। তাঁর শেষ বার্তা ছিল, ‘আমাদের হাতে আর সময় নেই।’ ব্রাজিলীয় পরিবারের সন্তান নাথালিয়ার জন্ম ফ্লোরিডায়। তাঁর বয়স যখন ১২, তখন অ্যালান নিজেও বিমান চালানো শিখছিলেন। প্রশিক্ষক সঙ্গে থাকতেন, আর বাবার সেই ফ্লাইটগুলোতে নাথালিয়াও উঠতেন। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট বোকা রাটন কমিউনিটি হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স পান। তখনো তাঁর ড্রাইভার লাইসেন্স হয়নি। স্কুলের এভিয়েশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাম বিচ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাঁর পাইলট লাইসেন্সের খরচ বহন করে। পরে তিনি কমার্শিয়াল পাইলট ও ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টরের লাইসেন্স পান। লিয়ারজেট ৬০-এর কো-পাইলট হিসেবেও তাঁর স্বীকৃতি ছিল। দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টার বেশি। একসময় মেয়েই হয়ে উঠেছিলেন বাবার প্রশিক্ষক। অ্যালান জানান, রাতে ওড়ার সময় যন্ত্রপাতি বিকল হলে কীভাবে বিমান সামলাতে হবে, নাথালিয়া তাঁকে তা অনুশীলন করাতেন। দুর্ঘটনার চার দিন আগে তাঁরা একসঙ্গে নৌযান প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন এবং দুপুরের খাবার খেয়েছিলেন। সেটিই ছিল মেয়ের সঙ্গে কাটানো তাঁর শেষ দিন। অ্যালান বলেন, তিনি বিমান চালিয়ে যাবেন। আকাশে উঠলেই মেয়ের সঙ্গে সেই যোগ অনুভব করবেন বলে জানান তিনি। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে একটি ইঞ্জিনের অংশ উদ্ধার করেছেন। জেটটির নাক ওপরে বা নিচে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত লেজের একটি অংশের টুকরোও মূল ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েক মাইল দূরে পাওয়া গেছে। এনটিএসবির সদস্য টম চ্যাপম্যান জানিয়েছেন, অংশটি মাটিতে আঘাতের আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। সেটি খুলে যাওয়ার পর জেটটি দ্রুত নামতে শুরু করে, নাকি দ্রুত নামার সময়ের চাপে অংশটি ভেঙে যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবহাওয়াও তদন্তের একটি প্রধান বিষয়। শুক্রবার পর্যন্ত তদন্তকারীরা ককপিটের কথোপকথন ধারণ করার যন্ত্রটির খোঁজ চালাচ্ছিলেন। সংবাদসূত্র — সিএনএন
নিউজার্সিতে মা খু নের ৫ মাস পর সেই বাড়িতে আবারও পুলিশের তল্লাশি, আতঙ্কে প্রতিবেশীরা
চার্চের অনুদানও নিরাপদ নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮