আইসিইর হাতে আটক হবু স্ত্রী, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন। কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন তিনি। কারণ, তার হবু স্ত্রী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল এয়ারপোর্ট থেকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ঘটনাটি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির সমালোচনা করেছেন আজীবন রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত গ্যানন।
সিবিএস নিউজকে গ্যানন জানান, ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিনকে বিয়ে করে সংসার গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৪ জুলাই লাস ভেগাস যাওয়ার পথে হিউস্টন এয়ারপোর্টে আইসিই কর্মকর্তারা ইয়াসমিনকে আটক করলে তাদের সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ইয়াসমিনের জন্ম ভেনেজুয়েলায়। তবে তিনি স্পেনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি।
ইয়াসমিনের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিট ও টেক্সাসের ড্রাইভার লাইসেন্স ছিল। তবে ডিএইচএস বলছে, কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন বিচারাধীন থাকলেই তা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না। ইয়াসমিন অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন বলেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, ইয়াসমিনের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত দাবিগুলো বিচার বিভাগের একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে শুনানি হবে এবং তিনি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।
গ্যাননের দাবি, তারা হিউস্টন থেকে লাস ভেগাসে একটি ফার্নিচার শিল্পের সম্মেলনে যাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্টে ইয়াসমিনকে আটকের ঘটনাটি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, নিজের জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন বলে ভাবেননি।
গ্যানন যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি বিলবোর্ডের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মেক্সিকোতেও তার হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
হবু স্ত্রীর আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে তার অবস্থান আমূল বদলে গেছে। গ্যানন বলেন, তিনি ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর সেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। তার অভিযোগ, ইমিগ্রেশন অভিযানে অপরাধীদের পাশাপাশি এমন মানুষও আটক হচ্ছেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।
তিনি মনে করেন, সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবার বিচ্ছিন্ন করা নয়। আইসিইর বর্তমান অভিযান পরিবার ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইয়াসমিন বর্তমানে টেক্সাসে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার ভবিষ্যৎ এখন ইমিগ্রেশন আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে যে প্রশাসনকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিলেন, সেই প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সরাসরি প্রভাব নিজের জীবনে পড়ার পর গ্যানন বলছেন, তিনি নিজেকে গভীরভাবে হতাশ ও প্রতারিত মনে করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার ইন্স্যুরেন্সের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ারের আওতায় চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী অধিকাংশ চিকিৎসকের পেমেন্ট ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চিকিৎসকদের পারিশ্রমিক কমে যাওয়ায় কিছু চিকিৎসক ভবিষ্যতে মেডিকেয়ার রোগী গ্রহণ সীমিত করতে পারেন। এতে আগে থেকেই মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন এমন চিকিৎসক খুঁজে পেতে সমস্যায় থাকা প্রবীণদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গত ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার ফিজিশিয়ান ফি শিডিউলের চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পেমেন্ট কাঠামোর আওতায় থাকা চিকিৎসকদের জন্য মেডিকেয়ারের পারিশ্রমিক নির্ধারণের ভিত্তিমূল্য ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমবে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট বিকল্প পেমেন্ট মডেলে অংশগ্রহণকারী যোগ্য চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে কমবে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নতুন নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৭ সালের প্রথম দিন থেকে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক জানা প্রয়োজন। মেডিকেয়ার মূলত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু কম বয়সী মানুষের জন্য ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি। তবে মেডিকেয়ার কার্ড থাকলেই যেকোনো চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া যায় না। চিকিৎসক বা চিকিৎসাকেন্দ্র মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন কি না, সেটি আগে নিশ্চিত হতে হয়। আবার কিছু চিকিৎসক নতুন মেডিকেয়ার রোগী নেওয়া সীমিত রাখেন। ফলে অনেক প্রবীণকে নিজেদের ইন্স্যুরেন্স গ্রহণ করেন এমন চিকিৎসক খুঁজতে একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হয়। নতুন পেমেন্ট কমানোর সিদ্ধান্ত সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো। তাদের বক্তব্য, চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার ব্যয়, কর্মীদের বেতন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। অথচ মেডিকেয়ারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এর ফলে বিশেষ করে ছোট চিকিৎসাকেন্দ্র ও ব্যক্তিগত চেম্বারগুলোর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। কোনো কোনো চিকিৎসক নতুন মেডিকেয়ার রোগী গ্রহণ কমিয়ে দিলে সরাসরি সমস্যায় পড়তে পারেন বয়স্ক ও নিয়মিত চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল রোগীরা। আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের প্রেসিডেন্ট জ্যান কে. কার্নি ৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, মেডিকেয়ারের চিকিৎসক পেমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের কাটছাঁটের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে চিকিৎসকদের ওপর চাপ তৈরি করছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এভাবে পেমেন্ট কমতে থাকলে শেষ পর্যন্ত মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। তবে নতুন সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সব চিকিৎসকের পেমেন্ট একই হারে কমবে কিংবা সব চিকিৎসক মেডিকেয়ার রোগী নেওয়া বন্ধ করে দেবেন। চিকিৎসার ধরন, চিকিৎসকের বিশেষত্ব, পেমেন্ট মডেল এবং অন্যান্য হিসাবের ওপর প্রকৃত পারিশ্রমিক নির্ভর করবে। একইভাবে, রোগীদের মেডিকেয়ার ইন্স্যুরেন্সের আওতায় চিকিৎসা পাওয়ার সুবিধা সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে না। মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে চিকিৎসকদের সেবার বিপরীতে সরকার কত অর্থ পরিশোধ করবে, সেই হিসাবের ক্ষেত্রে। সিএমএসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য চিকিৎসকদের পেমেন্টে কংগ্রেসের অনুমোদিত অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির মেয়াদ ছিল মাত্র এক বছর। ২০২৭ সালে সেই অতিরিক্ত সুবিধা আর থাকছে না। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী বার্ষিক পেমেন্ট সমন্বয় এবং অন্যান্য হিসাবের পরিবর্তনও নতুন হার নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। নতুন নীতিমালায় কিছু চিকিৎসাসেবার জন্য অতিরিক্ত পেমেন্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগের ব্যবস্থাপনা, রোগীর নিয়মিত দেখভাল এবং সমন্বিত প্রাথমিক চিকিৎসাকে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট কিছু সেবায় বাড়তি অর্থ দেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ সরকার একদিকে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার মান ও সমন্বয় বাড়াতে চাইলেও অন্যদিকে অধিকাংশ চিকিৎসকের মূল পেমেন্টের ভিত্তিমূল্য কমাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ প্রবীণ নাগরিকের জন্য তাই নতুন সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়, দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে কিংবা নির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ২০২৭ সাল থেকে নতুন পেমেন্ট কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর চিকিৎসকেরা কীভাবে সাড়া দেন, নতুন মেডিকেয়ার রোগী গ্রহণে কোনো পরিবর্তন আসে কি না এবং চিকিৎসাসেবার প্রাপ্যতা কতটা প্রভাবিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা কমাতে আসছে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি
১৫ লাখ ডলারের দলিল জালিয়াতিতে দোষ স্বীকার, চার অঙ্গরাজ্যের জমি ছিল নিশানায়
নিউইয়র্ক জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে দ্রুত নামাজ চালুর আশাবাদ কর্তৃপক্ষের, ভোগান্তিতে দুঃখ প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্যবিমা না থাকা কিংবা বিমা থাকার পরও অতিরিক্ত খরচের ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেকের বিমা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ, রক্ত পরীক্ষা কিংবা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জন্য নিজের পকেট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও এড়িয়ে চলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রয়েছে বিনা মূল্যে কিংবা স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ। বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, মসজিদ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং অলাভজনক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এসব সেবা পরিচালনা করে। কোথাও নিয়মিত চিকিৎসক দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট দিনে ফ্রি ক্লিনিক পরিচালিত হয়। আটলান্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও রয়েছে এমন উদ্যোগ। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা জর্জিয়া চ্যাপ্টারের BMANA-GA Free Clinic-এর মাধ্যমে বিমাহীন মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার সুযোগ রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে এখানে পরামর্শ নেওয়া যায়। পাশাপাশি Quest Diagnostics এর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। আটলান্টার আল-ফারুক মসজিদেও স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের উদ্যোগে বিনা মূল্যে ক্লিনিক পরিচালিত হয়। আটলান্টা জর্জিয়া থেকে শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি একবার সেলফপে করে চিকিৎসক দেখিয়েছেন কিন্তু রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রায় এক হাজার ডলারের সম্ভাব্য ব্যয়ের কথা জানতে পারেন তিনি। পরে ফ্রি ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারের ছাড়ের ব্যবস্থায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ডলারে পরীক্ষাগুলো করানো হয়। এ ধরনের সুযোগ থাকলেও পরীক্ষাভেদে খরচ পরিবর্তিত হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিতে রয়েছে Charles B. Wang Community Health Center। এখানে সাধারণ চিকিৎসা, শিশু ও নারীস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। আয় অনুযায়ী চিকিৎসার খরচ কমানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া NYC Care কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য বিমাহীন নিউইয়র্কবাসীরা আয়ভিত্তিক খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। যোগাযোগ: 646-692-2273। বাফেলোতে রয়েছে Lighthouse Free Medical Clinic। 34 Benwood Avenue, Buffalo, NY 14214 ঠিকানায় অবস্থিত এই ক্লিনিকে বিমাহীন ও অপর্যাপ্ত বিমার আওতায় থাকা মানুষ বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্লিনিকটি পরিচালিত হয়। ফোন: 716-222-0805। এ ছাড়া বাফেলোর Jericho Road Community Health Center-এ বিমাহীন ও স্বল্প আয়ের মানুষ আয়ভিত্তিক ছাড়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। 1021 Broadway, Buffalo, NY 14212 ঠিকানায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলা ভাষায় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফোন: 716-529-3020। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এসব সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। পাশাপাশি নিজের এলাকার মসজিদ, বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্থানীয় ফ্রি ক্লিনিকের তথ্য পাওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুঁজতে সরকারি ওয়েবসাইট HRSA Find a Health Center (findahealthcenter.hrsa.gov) ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের শহরের নামের সঙ্গে Free Clinic অথবা Community Health Center লিখেও অনুসন্ধান করা সম্ভব। স্বাস্থ্যবিমা নেই বলে চিকিৎসা থেকে দূরে থাকার আগে এসব বিকল্প সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। সঠিক তথ্য জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই বিনা মূল্যে কিংবা স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক!
যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন অঙ্গরাজ্যে তিন আসামির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর
ফ্লোরিডায় জেট দুর্ঘটনায় নিহত তরুণ কো-পাইলট নাথালিয়া, শেষ বেতারবার্তা বারবার শুনছেন বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের মরিস কাউন্টিতে ৩৫ বছর বয়সী ব্রুক আলেকজান্দ্রা হ্যানলন নামের এক মাকে কুপিয়ে হত্যার কয়েক মাস পর তার বাড়িতে আবারও ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়েছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার চেস্টার টাউনশিপের পটার্সভিল রোডের ওই বাড়ির বাইরে প্রচুর পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পান প্রতিবেশীরা। পুলিশ পটার্সভিল রোডের একটি অংশ বন্ধ করে দিয়ে বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালায় এবং সারা রাত অন্তত একটি গাড়ি সেখানে পাহারায় রাখা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে পরের দিন পর্যন্ত ওই বাড়ির চারপাশে তারা প্রায় ১৬টির মতো পুলিশের গাড়ি দেখেছেন। ব্রুক হ্যানলন পেশায় একজন ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি কাউন্সেলর বা বিবাহ ও পারিবারিক পরামর্শদাতা ছিলেন। গত ৬ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ ঘর থেকে তার ছুরিকাহত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার স্বামী জেমস 'কনর' হ্যানলন প্রথম তার মৃতদেহ দেখতে পান। দ্য ডেইলি মেইল-এর সংগ্রহ করা অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, কনর ৯১১ নম্বরে কল করে ডিসপ্যাচারদের জানাচ্ছেন যে চারপাশে "প্রচুর রক্ত" ছড়িয়ে আছে এবং তিনি সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। এই দম্পতির এক বছর বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে। হ্যানলন দম্পতির বাড়িটি একটি ঘন জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত। চারপাশে রাজ্য ও কাউন্টি পার্ক পরিবেষ্টিত এই এলাকাটি সাধারণত খুবই শান্ত ও নিরিবিলি থাকে। তাদের বাড়ির আশেপাশে আরও তিনটি বাড়ি থাকলেও, হ্যানলনদের বাড়িটিই রাস্তার সবচেয়ে কাছাকাছি। পুলিশি তল্লাশির এই দুই দিন প্রতিবেশীদের কেউ কনরকে এলাকায় দেখেননি বা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতেও শোনেননি। তাদের মূল গাড়িটিও সেখানে ছিল না। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তারা সাধারণত নিজেদের মতোই থাকতেন। এক প্রতিবেশী জানান, তিনি ব্রুককে কখনও দেখেননি এবং কনরের সঙ্গেও তার কেবল একবার কি দুবার দেখা হয়েছিল। পুলিশের এই আকস্মিক তল্লাশিতে এলাকার বাসিন্দারা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এক বাসিন্দা বলেন, পুরো পরিস্থিতি তাদের জন্য বেশ 'উদ্বেগজনক'। তারা আশা করছেন, দ্রুত এই মামলার সমাধান হবে এবং ব্রুকের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে, যাতে তারা আবার তাদের স্বাভাবিক ও শান্ত জীবনে ফিরে যেতে পারেন। তবে মরিস কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস থেকে এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট প্রকাশ করা হয়নি।
চার্চের অনুদানও নিরাপদ নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮
নিউইয়র্ক বাফেলোতে প্রথমবার বাড়ি কিনলে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ