অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ খনিতে ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানিকে স্ক্যান্ডিয়াম খনিজের বিশ্বের প্রথম প্রাথমিক খনি নির্মাণে ৪০ কোটি ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ এই বিরল খনিজের সরবরাহে চীনের আধিপত্য থাকায় বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে খনি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর পেন্টাগন এই ঋণ প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে খনি থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার খনি কোম্পানি সানরাইজ এনার্জি মেটালস জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের ফিফিল্ডে প্রস্তাবিত খনিটি পশ্চিমা দেশগুলোর স্ক্যান্ডিয়াম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির নাম ‘সাইয়ার্সটন স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্প’।
স্ক্যান্ডিয়াম প্রতিরক্ষা খাত, উড়োজাহাজ এবং তথ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত একটি বিরল খনিজ। এটি সাধারণত অন্যান্য খনিজ উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়ামকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নমনীয়তা, তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে স্ক্যান্ডিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্ক্যান্ডিয়াম ঘনত্ব থাকা অঞ্চলগুলোর একটি। বর্তমানে স্ক্যান্ডিয়ামের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্য রয়েছে। গত বছর প্রতিরক্ষা পণ্যের ক্ষেত্রে চীন স্ক্যান্ডিয়ামসহ বিরল খনিজের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরবরাহ উৎস খুঁজতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। এতে দুই দেশ বিভিন্ন প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
সানরাইজ এনার্জি মেটালস গত বছর মার্কিন প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ওই চুক্তির আওতায় খনিটি চালু হওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছরে উৎপাদিত স্ক্যান্ডিয়ামের ২৫ শতাংশ লকহিড মার্টিনকে সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
স্ক্যান্ডিয়াম মহাকাশ প্রযুক্তি এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিতেও ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে খনিজটির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ব্যাটারি খাতের একাধিক প্রকল্পে মোট ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এর লক্ষ্য দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও শিল্পনীতিকে শক্তিশালী করা।
অস্ট্রেলিয়ার স্ক্যান্ডিয়াম প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ কোটি ডলারের শর্তসাপেক্ষ ঋণও একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনের নিয়ন্ত্রিত সরবরাহব্যবস্থার বাইরে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের নতুন উৎস তৈরিই প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে মাত্র পাঁচ মাস আগে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি সম্পত্তি নতুন করে ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের তালিকামূল্যে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইস্ট হ্যাম্পটনের ৪৩ ইস্ট ডিউন লেনের এই সম্পত্তিতে পুরোনো বাড়ির জায়গায় বিশাল নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্পত্তিটি গত মার্চে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। নতুন পরিকল্পনায় সেখানে ১৭ হাজার ৫০০ বর্গফুটের মূল বাড়ি এবং ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুটের অতিথিশালা নির্মাণ করা হবে। পুরো প্রকল্পে স্থাপত্য, নির্মাণ ও ল্যান্ডস্কেপের জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাজ করছে। এই সম্পত্তির সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক পরিচয়ও। দীর্ঘদিন এটি লি র্যাডজিউইলের মালিকানায় ছিল, যিনি জ্যাকি ওনাসিসের বোন। র্যাডজিউইল ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে সম্পত্তিটি ৬০ লাখ ডলারের কিছু বেশি দামে কিনেছিলেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় সেখানে স্বামী হার্বার্ট রসের সঙ্গে বসবাস করেন। বর্তমান মালিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একটি শেল কোম্পানির মাধ্যমে সম্পত্তিটি কেনা হয়েছে। দলিল ও কর-সংক্রান্ত নথিতে ক্রেতার ম্যানহাটনের ফ্ল্যাট আয়রন এলাকার একটি সমবায় ভবনের একটি ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন বাড়ির নকশা ও নির্মাণে স্থপতি রবার্ট এ এম স্টার্ন, নির্মাতা এড বুলগিন এবং ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি এড হল্যান্ডার যুক্ত রয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণের অনুমতিপত্র আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়িটিতে ২৭০ ডিগ্রি সমুদ্রের দৃশ্য এবং হ্যাম্পটনের উপকূলীয় সম্পত্তির জন্য বিরল একটি বেসমেন্ট থাকবে। প্রস্তাবিত সম্পত্তিটি ৩ দশমিক ৬ একর জায়গাজুড়ে থাকবে এবং সরাসরি সমুদ্রসীমা থাকবে ২২৫ ফুট। তিন তলা বাড়িটির প্রতিটি তলা থেকেই সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যাবে। সেখানে থাকবে নয়টি শোবার ঘর, ১১টি পূর্ণ বাথরুম ও দুটি অর্ধেক বাথরুম। চলাচলের সুবিধার জন্য লিফট ও একাধিক সিঁড়ির ব্যবস্থাও থাকবে। বাড়ির নিচের অংশে বিনোদন ও সুস্থতার জন্য বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে গলফ সিমুলেটর, ব্যায়ামের জায়গা, ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা, সনা, খেলাঘর ও খাবারের জায়গা থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ওয়াইন সেলার ও বার। বাইরের অংশে একটি টেনিস কোর্ট, বড় লন, বাগান ও অতিথিশালা থাকবে। এছাড়া ২০ বাই ৮০ ফুটের একটি প্রান্তবিহীন সুইমিং পুল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। হ্যাম্পটনের বিলাসবহুল আবাসিক বাজারে এই সম্পত্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি উচ্চমূল্যের সম্পত্তি প্রতিযোগিতায় রয়েছে। ক্যালভিন ক্লেইনের সাবেক ইস্ট হ্যাম্পটন সম্পত্তি ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে এবং বিলিয়নিয়ার জ্যাচ শ্রাইবারের স্যাগাপোন্যাকের বাড়ি ১৫ কোটি ২৫ লাখ ডলারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। হ্যাম্পটনে আবাসিক সম্পত্তির বর্তমান রেকর্ড ২০১৪ সালের ১৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিক্রি। ৪৩ ইস্ট ডিউন লেনের নতুন সম্পত্তিটি ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের তালিকামূল্যে বাজারে এলে সেটি ওই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ ভারতীয় ট্রাকচালক গুলিতে নিহত, ৫ দিন পর বনাঞ্চল থেকে মরদেহ উদ্ধার
অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ খনিতে ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র
জো বাইডেনের হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যান্সার,কষ্টের কথা জানালেন ছেলে হান্টার
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সাউথ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের সাময়িক সুরক্ষা বাতিলের পথ খুলে গেছে। শুক্রবার দুই ফেডারেল বিচারক অভিবাসন অধিকারকর্মীদের করা শেষ মুহূর্তের আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে প্রায় ২৩২ জন সাউথ সুদানের নাগরিক এবং প্রায় ৪ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক নির্বাসন থেকে পাওয়া টিপিএস হারাতে পারেন। টিপিএসের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নিজ দেশে সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসন থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তারা বৈধভাবে কাজের অনুমতিও পান। বোস্টনের ফেডারেল বিচারক প্যাটি সারিস সাউথ সুদানের টিপিএস বাতিলের বিরুদ্ধে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। কয়েক ঘণ্টা পর শিকাগোর বিচারক ম্যাথিউ কেনেলিও মিয়ানমারের ক্ষেত্রে একই ধরনের সিদ্ধান্ত দেন। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ—ডিএইচএস—টিপিএস বাতিল করার আইনগত ক্ষমতা রাখে না। তবে বিচারকরা সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। সাউথ সুদান ২০১১ সাল থেকে টিপিএস সুবিধা পেয়ে আসছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে এই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। আর মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। আইনি লড়াই চলার সময় আদালতের দেওয়া প্রশাসনিক স্থগিতাদেশের কারণে এসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ও কাজ করতে পারছিলেন। নতুন রায়ের ফলে সেই সুরক্ষা শেষ হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, টিপিএস বাতিল হলে এমন মানুষদেরও নির্বাসনের মুখে পড়তে হবে, যাদের নিজ দেশে এখনো সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা রয়েছে। ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল বলেছেন, নতুন দুই রায়ের পর এখন শুধু ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত আদালতের বাধার মুখে রয়েছে। এর আগে জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে যায়। সেই রায়ের পর নিচের আদালতগুলোর পক্ষে ডিএইচএসের টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এখন সাউথ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সেই একই আইনি ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হাজারো টিপিএসধারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ওষুধ ডেলিভারি দিতে গিয়ে হুইলচেয়ারে থাকা নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেপ্তার
নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ‘বিস্ফোরক পরিস্থিতি’, পুলিশ-জনতার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাসে মাসে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাবে ইউক্রেন
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে এবং শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। রায়ে প্ল্যাটফর্ম দুটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা-কে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি তহবিলে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সান্তা ফের বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড রায়ে বলেছেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো নিউ মেক্সিকোতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেসের মামলায় অভিযোগ ছিল, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তৈরি করেছে, যা অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে এবং একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণের ঝুঁকি থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারই মেটার বিরুদ্ধে নিউ মেক্সিকোতে একমাত্র আর্থিক দণ্ড নয়। একই মামলার আগের ধাপে গত মার্চে একটি জুরি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। দুই ধাপ মিলিয়ে মেটার আর্থিক দায় দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর্থিক দণ্ডের পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোর অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছরের কম বয়সীদের মাসিক ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টায় সীমিত করা, স্কুলের সময় ও রাতে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, বয়স যাচাই আরও কঠোর করা এবং শিশুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ ঠেকাতে সুরক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। এসব ব্যবস্থা পাঁচ বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে কার্যকর থাকার কথা। এছাড়া মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট যেন অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন বা রোমান্টিক ধরনের কথোপকথনে অংশ নিতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক নগ্ন ছবি ঝাপসা করে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত সুরক্ষাও আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। মেটার দাবি, অনলাইনে কিশোরদের নিরাপত্তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মামলায় তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। রায়টি আপাতত শুধু নিউ মেক্সিকোতে সরাসরি কার্যকর হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং ১ হাজার ৩০০টির বেশি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা করেছে। ফলে নিউ মেক্সিকোর এই রায় ভবিষ্যতে মেটাসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক, বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান
২০২৩ সালের পর থেকে আর ঘুমাননি! চিকিৎসার খোঁজে ঘুরছেন দেশে দেশে