যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সুযোগ! চাওয়া দামের নিচেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির বড় বড় হাউজিং মার্কেটের অনেকগুলোতেই বাড়ি মালিকেরা চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হওয়া বাড়ির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি।
রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেডফিনের ৫০টি বড় আবাসন বাজার নিয়ে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বাড়ির ৫৫ শতাংশই মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালের পর মে মাসের হিসাবে এটি সবচেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারগুলোর একটি।
ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গেছে টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে মে মাসে বিক্রি হওয়া ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ। সেখানে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। মায়ামিতে এই হার ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে ৮৪ শতাংশ।
এই তালিকায় আরও রয়েছে হিউস্টন, ডালাস, টাম্পা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো ও ফোর্ট ওর্থ। হিউস্টনে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ডালাসে ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টাম্পায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, ফিনিক্সে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ, অরল্যান্ডোতে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফোর্ট ওর্থে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে।
রেডফিনের বিশ্লেষণ বলছে, এসব বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রবৃদ্ধি, বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, বাড়ির মালিক সমিতির বাৎসরিক ফি এবং কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব আবাসন বাজারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের আশপাশের কিছু এলাকা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এখনো বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। মে মাসে নিউআর্ক, নিউ জার্সিতে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এই হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সান হোসেতে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ।
বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে বাড়ির সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ভারসাম্য বড় ভূমিকা রাখছে। যেসব এলাকায় বিক্রির জন্য বাড়ি বেশি কিন্তু ক্রেতা তুলনামূলক কম, সেখানে বিক্রেতাদের দাম কমানো অথবা ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ির বিক্রেতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের অর্থ পরিশোধ, মেরামতের খরচ বহন কিংবা ঋণের সুদের হার কমানোর মতো সুবিধাও রয়েছে।
অন্যদিকে, বেশি মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির তুলনামূলক বেশি দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে বাজারের বাইরে রাখছে। ফলে যারা এখন বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখছেন, তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছে চাওয়া দাম কমানোর জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
তবে চাওয়া দামের নিচে বাড়ি বিক্রি হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন শুরু হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো এলাকায় কতটা দর-কষাকষি করা সম্ভব, তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, একই এলাকার সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার পরিস্থিতির ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মহামারির পরের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি বড় হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সময় মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে চুক্তি করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপ্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিমের পোস্ট করা একটি টিকটক ভিডিওতে টেইলর সুইফটের গান ব্যবহারের পর ভিডিওটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কপিরাইট মালিকের অভিযোগের পর টিকটকে গানটি আর শোনা যাচ্ছে না। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ঘটনার শুরু চলতি সপ্তাহে। ট্রাম্পের টিমের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে সুইফটের জনপ্রিয় গান ‘অগাস্ট’ ব্যবহার করা হয়েছিল। পোস্টের ক্যাপশনে এমন কথাও লেখা হয়েছিল, টেইলর সুইফট এই গান ব্যবহারে নিশ্চয়ই ‘খুব খুশি’ হবেন। পরে ভিডিওটির অডিও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং কপিরাইট মালিকের কারণে গানটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে টিকটকে জানানো হয়। শুধু ওই ভিডিওই নয়, ট্রাম্পের টিমের আরও কয়েকটি টিকটক পোস্টে সুইফটের গান ব্যবহারের পর সেগুলোর অডিওও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে ‘ফাদার ফিগার’ গানটিও ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মজার প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের টিমের পোস্ট করা ভিডিও থেকেও শেষ পর্যন্ত কপিরাইটের কারণে গান সরাতে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন। টেইলর সুইফট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। সুইফট অতীতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিলেন। ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে সুইফটকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। তবে এবারের ঘটনায় সুইফট নিজে সরাসরি কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং কপিরাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে গানগুলোর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়াই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ঘটনায় আপত্তি উঠেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কপিরাইটের কারণে অডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের টিমের সঙ্গে সংগীতশিল্পীদের কপিরাইট ও রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো টেইলর সুইফটের গান। প্রেসিডেন্টের টিমের পোস্ট থেকেও কপিরাইটের কারণে গান নীরব হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে যন্ত্রণাদায়ক ক্যানসার
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সুযোগ! চাওয়া দামের নিচেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ বাড়ি
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম বাড়ি কিনতে অপেক্ষা ৪৭ বছর পর্যন্ত, নতুন প্রতিবেদনে উঠে এলো আবাসন সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত শিক্ষার্থী অস্টিন ফ্রাঙ্কো আবারও আলোচনায় এসেছেন। ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে আসা এই শিক্ষার্থী এবার দাবি করেছেন, তার বাসার জানালার বাইরে থাকা একটি ৫জি মোবাইল টাওয়ার থেকে আসা বিকিরণের কারণে তিনি মাথাব্যথা ও অস্বস্তিতে ভুগছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ১৯ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো অভিযোগ করেন, তার নতুন বাসার বাইরে স্থাপিত একটি ৫জি সরঞ্জাম থেকে নির্গত বিকিরণ তার মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে। তিনি লেখেন, গত এক ঘণ্টা ধরে তার কানে শব্দ হচ্ছে এবং তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ওই স্থানের বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। তবে নিজের দাবির পক্ষে তিনি কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ফ্রাঙ্কো একই পোস্টে জানান, তিনি ওই বাসায় আর বেশিদিন থাকবেন না এবং অন্য কোথাও থাকার জন্য একটি কক্ষ খুঁজছেন। এর আগে জুন মাসে চাকরির জন্য যোগাযোগ করা একটি প্রতিষ্ঠানের ইহুদি সহপ্রতিষ্ঠাতাদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, "আমি কোনো ইহুদির জন্য কাজ করতে আগ্রহী নই।" এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে তার বাবা-মা নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, অনলাইন উগ্রবাদী বিষয়বস্তুর প্রভাবে তাদের ছেলে চরমপন্থী মতাদর্শে আকৃষ্ট হয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, তার মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা সেগুলোর সঙ্গে একমত নন। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রাঙ্কো জানান, তার মতাদর্শের কারণে বাবা-মা তাকে ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত পারিবারিক বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এরপর তিনি অনলাইনে অর্থ সহায়তার আবেদন করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অনুদান সংগ্রহ প্ল্যাটফর্মে খোলা তহবিল থেকে তিনি ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছেন। এর আগে আরেকটি পৃথক তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম থেকেও প্রায় ২৬ হাজার ডলার পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মনোচিকিৎসক ও 'থেরাপি নেশন' বইয়ের লেখক জনাথন অ্যালপার্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ইন্টারনেটে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের উগ্র মতাদর্শের মধ্যে থাকলে একজন মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা ও বাস্তবতা মূল্যায়নের সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। তবে তিনি বলেন, সবকিছুর জন্য কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমকে দায়ী করাও ঠিক নয়। ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালপার্ট আরও মন্তব্য করেন, ইন্টারনেটের একটি উদ্বেগজনক দিক হলো, অনেক সময় বিতর্কিত আচরণও আর্থিকভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে। তার মতে, এ ধরনের ব্যক্তিকে অর্থ সহায়তা দেওয়া কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তার আচরণকে উৎসাহিত করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে অস্টিন ফ্রাঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। উল্লেখ্য, বর্তমানে ৫জি প্রযুক্তির স্বাভাবিক ব্যবহারে মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। ফ্রাঙ্কোর দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসমান নৌকায় বিড়ালের রাজত্ব, নেই কোনো মানুষ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় নিজ সন্তানদের ওপর মায়ের হামলা: দুই শিশুর মৃত্যু ও একজন গুরুতর আহত
মায়ামি বিচে মুখোমুখি দুই চালকবিহীন গাড়ি, এক মিনিটের অচলাবস্থায় পেছনে দীর্ঘ যানজট
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা এলাকায় পরিচালিত একটি বড় অভিবাসন অভিযানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে দণ্ডিত হয়েছেন। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, "অপারেশন সেফ কমিউনিটি, আটলান্টা" নামে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করা। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের নির্বাহী সহযোগী পরিচালক মার্কোস চার্লস ফক্স নিউজের "ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস" অনুষ্ঠানে বলেন, অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন। তার ভাষায়, "আমরা জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছি। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।" চার্লস আরও বলেন, "এদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ রয়েছে। তারা শুধু অপরাধের সঙ্গেই জড়িত নন, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।" ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যিনি অন্তত ৫০০ গ্রাম মেথামফেটামিন বিতরণের ষড়যন্ত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। আরেকজন এল সালভাদরের নাগরিকের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মার্কোস চার্লস বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইন কার্যকর করতে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার নানা প্রচেষ্টার কারণে আইসিই তাদের অভিযান পরিচালনার কৌশল পরিবর্তন করেছে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এদিকে আইসিইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংস্থাটি প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে, যা তাদের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস জুনে আটক হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। এর আগে ডিএইচএস জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিই বিলুপ্তির দাবিও তুলেছেন। ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, আইসিই ও ডিএইচএসের দেওয়া এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে নিষ্পত্তি হবে।
কলোরাডোর আকাশে রহস্যময় বস্তু, ট্রাম্পের আদেশের পরও প্রকাশ্যে আনছে না মার্কিন বিমানবাহিনী
ড্রাইভিংয়ের জন্য বাংলায় নলেজ টেস্ট দিতে চান? নিউইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগানেও আছে এ সুযোগ