আমেরিকা

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পরিবেশনায় মাতবে ভার্জিনিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১২:১১
ডিএমভি এলাকায় প্রথমবারের মতো লাইভ সংগীত পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খান। ছবি: সংগৃহীত
ডিএমভি এলাকায় প্রথমবারের মতো লাইভ সংগীত পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খান। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে ফোর্ট হান্ট পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমভি এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের লাইভ সংগীত পরিবেশনার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা।

 

দিনব্যাপী এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের পাশাপাশি থাকবে সংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাফেল ড্র এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নকীব খানের পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন। ফলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সরাসরি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

 

নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। প্রায় পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে তিনি সোলস ও রেনেসাঁর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর সংগীতজীবন ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

 

বাইটপো যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমভি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। সংগঠনটি পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও করে থাকে। এর আগে ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর আয়োজনে মেজবান ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে।

 

এবারের র‌্যাফেল ড্রতেও থাকছে নানা আকর্ষণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হীরার আংটি, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য।

 

আয়োজক কমিটি থেকে স্যাম রিয়া বলেন, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের সঙ্গে সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র‌্যাফেল ড্র যুক্ত করায় পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দিনটি আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় আরও গভীরভাবে তৈরি করা সম্ভব।

 

চট্টগ্রামের মেজবান শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রবাসের মাটিতে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

আগামী ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার এ-০০১-এ অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। মেজবানের স্বাদ, নকীব খানের লাইভ সংগীত এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনাকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মিশিগানের কালামাজু শহরের নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে গৃহহীনদের অস্থায়ী তাঁবু বসতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গৃহহীনদের তাঁবুতে গড়ে উঠেছে ‘ছোট শহর’, সরানোর উদ্যোগ সিটি কর্তৃপক্ষের

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কালামাজু শহরের নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে গৃহহীন মানুষের তাঁবু ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় একটি অস্থায়ী বসতি। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি তাঁবুতে বসবাস করছেন কয়েক ডজন মানুষ। তবে রাস্তার পাবলিক রাইট অব ওয়ে বা জনসাধারণের চলাচলের জায়গা তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী দিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবার সেগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।   সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্টের মধ্যে নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সরিয়ে নিতে সেখানে বসবাসকারীদের ৭২ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিটির ভাষ্য, রাস্তার জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা উন্মুক্ত ও চলাচলের উপযোগী রাখা তাদের দায়িত্ব।   কালামাজু সিটির কমিউনিকেশনস ম্যানেজার মাইকেল স্মিথ বলেন, তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী রাস্তার রাইট অব ওয়ে বাধাগ্রস্ত করছে এবং এটি সিটি কোডের লঙ্ঘন। তাই বাধা দূর করতে সেখানে বসবাসকারীদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে।   সিটি কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রমকে ‘রিমুভাল’ এবং ‘রাইট অব ওয়ে এনফোর্সমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এটিকে গৃহহীনদের শিবির ‘ক্লিয়ার’ বা ‘সুইপ’ করার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে না।   স্থানীয়দের হিসাবে, ওই এলাকায় প্রায় ৩৪টি তাঁবু রয়েছে। সেখানে ৫০ জনের বেশি মানুষ বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক তাঁবুতে একাধিক মানুষ থাকেন। তাঁবুর বাইরে সাইকেল, কুলার, পোশাকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখা গেছে। কয়েকজনের সঙ্গে পোষা প্রাণীও রয়েছে।   শিবিরের একজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশ এসে তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। না সরালে সিটি কর্তৃপক্ষ ডাম্পস্টার নিয়ে এসে সেগুলো সরিয়ে দিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।   ৫৬ বছর বয়সী মালিন্ডা ডগলাস বলেন, অনেক মানুষ তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার পর আবার এমন জায়গায় ফিরে যেতে পারেন, যেখান থেকে তাদের আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে শিবির সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁরা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   বুধবার সকালে সিটির সার্ভিস কর্মীরা ওই এলাকায় গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের কাজও করেন। তবে শিবিরে থাকা কয়েকজন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পর তাঁদের কোথায় যাওয়ার ব্যবস্থা হবে, সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা তাঁদের হাতে নেই।   গত ১০ আগস্ট কালামাজু সিটি কমিশনের এক সভায় নর্থসাইড এলাকার এক বাসিন্দাও রাস্তাজুড়ে গড়ে ওঠা তাঁবুগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এলাকাটিকে ‘একটি ছোট শহর’ হিসেবে বর্ণনা করে সিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের এই তাঁবু শিবিরটি মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটির কাছাকাছি। ৫০০ নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি গৃহহীন মানুষের জন্য ডে শেল্টার হিসেবে কাজ করে। সেখানে গোসল ও বিশ্রামাগারের সুবিধাও রয়েছে।   তাঁবু সরানোর পাশাপাশি গৃহহীন মানুষদের সহায়তার জন্যও কাজ করছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কালামাজু ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির কমিউনিটি সার্ভিসেস টিম শিবিরে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   এ ছাড়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস অব কালামাজু, কালামাজু গসপেল মিনিস্ট্রিজ, মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটি এবং কালামাজু কাউন্টি হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেসের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য শেল্টার স্পেস খোঁজা এবং বাসিন্দাদের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে।   তবে তাঁবু সরানোর সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এসব মানুষের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হবে। একদিকে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রাখার দায়িত্বের কথা বলছে সিটি কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে শিবিরে থাকা অনেক মানুষ নতুন করে আশ্রয় পাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১২:৩৯
নিউইয়র্কের ফেডারেল প্লাজায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে অভিবাসন প্রত্যাশীদের পাশে কমিউনিটি, ফেডারেল প্লাজায় সংহতি ও সহায়তার কর্মসূচি

ডিএমভি এলাকায় প্রথমবারের মতো লাইভ সংগীত পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পরিবেশনায় মাতবে ভার্জিনিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী ক্যারোলিন লিভিট। ছবি: সংগৃহীত

এবার ট্রাম্পের উপদেষ্টা হচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী লিভিট

পানামায় আঞ্চলিক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত
কলম্বিয়ার ভেতরে মার্কিন সামরিক অভিযানের অনুমতি, জানালেন হেগসেথ

কলম্বিয়ার ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদক পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার পানামায় এক আঞ্চলিক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সময়ের টানাপোড়েনের পর ওয়াশিংটন ও বোগোতার নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে যাচ্ছে।   পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশনের বৈঠকে হেগসেথ বলেন, নতুন কলম্বিয়ান সরকার মাদক পাচার ও সশস্ত্র নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে যৌথ সামরিক অভিযানেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা।   তবে যৌথ অভিযানের ধরন, কোথায় অভিযান চালানো হবে কিংবা মার্কিন সেনাদের সরাসরি কী ভূমিকা থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএন এবং সাবেক ফার্ক গেরিলাদের বিভিন্ন ভিন্নমতাবলম্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এসব গোষ্ঠীর কয়েকটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে।   একই বৈঠকে কলম্বিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশনে স্বাগত জানান হেগসেথ। মাদক কার্টেল ও আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোট গড়ে তোলা হয়েছে।   কলম্বিয়া একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস উদ্যোগে যোগ দিচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি এই উদ্যোগের ১৯তম সদস্য হচ্ছে। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের নেতাদের বৈঠক থেকে এই নিরাপত্তা উদ্যোগের সূচনা হয়। তৎকালীন কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সেই বৈঠকে অংশ নেননি।   কলম্বিয়ায় গত ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদাকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট।   এর আগে পেত্রো সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি নিয়ে একাধিকবার মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। নতুন সরকারের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে সম্মতি সেই অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কলম্বিয়ার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য যৌথ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহারের কথা রয়েছে।   পানামার বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি নিয়েও কথা বলেন হেগসেথ। ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে আইসিসি তদন্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে এবং কিছু সংগঠন ঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য তাদের সামরিক পদক্ষেপকে মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান হিসেবে তুলে ধরছে।   হেগসেথ বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতি আইসিসির কর্তৃত্ব স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বানও জানান। আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ আগে থেকেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য নয়, তবে কলম্বিয়াসহ লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ আইসিসির সদস্য।   কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশক ধরেই ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী সহযোগিতা রয়েছে। তবে নতুন সরকারের অধীনে কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের অনুমোদন সেই সহযোগিতাকে আরও সরাসরি সামরিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই অনুমোদনের ভিত্তিতে দুই দেশ কী ধরনের অভিযান শুরু করে এবং কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতে তার কী প্রভাব পড়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১০:২৩
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থী ও পেশাদারদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ফ্রি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি, স্কিল কোনোটিই নেই? যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রি চাকরির ট্রেনিং, সাথে মিলবে ডলার

মিশিগানে গ্রেফতারের পর বুকিং ছবির জন্য হিজাব খুলতে বাধ্য হওয়া হেলানা বোয়ে। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ হিজাব খুলতে বাধ্য করায় আড়াই লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন মুসলিম নারী

এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে তিন ব্রিটিশ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

এসেক্সের সৈকতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, সর্বশেষ প্রাণ হারাল ৭ বছরের মুসাও

২. ম্যানহাটনে চার সদস্যের পরিবারের আবাসন খরচ মেটানো কঠিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয়েও কেন বাংলাদেশীদের সঞ্চয় করা কঠিন!

নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় শুনতে বড় অঙ্ক মনে হলেও চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য এই অর্থে সব খরচ সামলে নিয়মিত সঞ্চয় করা কঠিন হতে পারে। বাসাভাড়া, ট্যাক্স, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চাইল্ড কেয়ার ও যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কিছু এলাকায় চার সদস্যের পরিবারের শুধু মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেই বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য এই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন মাত্র কর্মজীবী হলে মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঘণ্টায় প্রায় ৫৮ ডলার আয় প্রয়োজন বলে হিসাব করা হয়েছে। ফুলটাইম কাজের হিসাবে এটি বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার।   একই পরিবারের দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে ম্যানহাটনে প্রত্যেকের ঘণ্টায় প্রায় ৪০.৬১ ডলার আয় প্রয়োজন। দুজনের সম্মিলিত বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছরে ১ লাখ ডলারের পারিবারিক আয় অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের আগেই মৌলিক ব্যয় মেটাতে চাপে পড়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সেও পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন কর্মজীবী হলে ঘণ্টায় প্রায় ৫২.৮৪ ডলার আয় প্রয়োজন। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় আয় ঘণ্টায় প্রায় ৩৭.৬১ ডলার, অর্থাৎ পরিবারের সম্মিলিত আয় বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার।   এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এমআইটির লিভিং ওয়েজ হিসাব কোনো বিলাসবহুল জীবনযাত্রার বাজেট নয়। খাবার, বাসস্থান, পরিবহন, চিকিৎসা, চাইল্ড কেয়ার, ট্যাক্সসহ পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কত আয় দরকার, তার একটি আনুমানিক হিসাব এটি। ফলে বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্ট, বড় অঙ্কের সঞ্চয়, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এই হিসাবের মূল লক্ষ্য নয়।   বছরে ১ লাখ ডলার বেতন মানে মাসে গ্রস ইনকাম প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার। কিন্তু এই পুরো অর্থ পরিবারের হাতে আসে না। ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের আবার আলাদা সিটি ইনকাম ট্যাক্সও রয়েছে। এর সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার পেরোল ট্যাক্স কেটে নেওয়া হয়। পরিবারের ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তান, বিভিন্ন ডিডাকশন ও ক্রেডিটের কারণে প্রত্যেকের প্রকৃত টেক হোম পে আলাদা হয়।   নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব ইনকাম ট্যাক্স ব্যবস্থাও পরিবারের হাতে থাকা অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রকাশিত হার অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্সের হার আয়ের স্তর ও ফাইলিং স্ট্যাটাস অনুযায়ী প্রায় ৩ শতাংশের কিছু বেশি থেকে ৩.৮৭৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   এরপর আসে হাউজিং। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারের জন্য বার্ষিক হাউজিং ব্যয় প্রায় ৪০ হাজার ৮৭৭ ডলার ধরা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ ডলার। কেবল বাসস্থানের খরচই ১ লাখ ডলার গ্রস আয়ের বড় একটি অংশ নিয়ে নিতে পারে।   সন্তান ছোট হলে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি চাইল্ড কেয়ার। দুই অভিভাবকই কাজ করেন এমন দুই সন্তানের পরিবারের জন্য ম্যানহাটনে এমআইটির হিসাবে বার্ষিক চাইল্ড কেয়ার ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার। এর সঙ্গে বছরে খাবারের জন্য প্রায় ২০ হাজার ৮০০ ডলার, চিকিৎসা ব্যয়ে প্রায় ১২ হাজার ৭০০ ডলার এবং পরিবহনে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ ডলারের হিসাব রয়েছে।   এই কারণেই একই ১ লাখ ডলার বেতনের আর্থিক মূল্য পরিবারভেদে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। সন্তানহীন একজন সিঙ্গেল ব্যক্তির জন্য যে আয় তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের হতে পারে, দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে একই অর্থ যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবার পরিবারের দুজন আয় করছেন কি না, চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না, কোথায় বাসা নেওয়া হয়েছে এবং চাকরির মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কতটা কভার হচ্ছে, তার ওপর মাসিক বাজেট ব্যাপকভাবে বদলে যায়।   এমনকি নিউইয়র্কের মধ্যেও পার্থক্য বড়। ম্যানহাটন ও কুইন্সের জীবনযাত্রার ব্যয় এক নয়, আবার নিউইয়র্ক সিটির বাইরের অনেক কাউন্টিতে একই পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় আরও কম হতে পারে। ফলে শুধু বার্ষিক বেতন দিয়ে একজন পরিবার কতটা স্বচ্ছল, তা নির্ধারণ করা কঠিন।   বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের ক্ষেত্রে আরও কিছু আলাদা আর্থিক অগ্রাধিকার থাকতে পারে। দেশে পরিবারকে অর্থ পাঠানো, সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট জমানো কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিভিন্ন দায়িত্ব বহনের কারণে মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এসব ব্যয় পরিবারভেদে আলাদা এবং সব বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় কম নয়, কিন্তু চার সদস্যের পরিবারের জন্য এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ আয়ের নিশ্চিন্ত জীবন হিসেবে দেখার সুযোগও নেই। ২০২৬ সালের লিভিং ওয়েজ হিসাব বলছে, কুইন্স বা ম্যানহাটনের মতো এলাকায় দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্যই পরিস্থিতিভেদে ১ লাখ ডলারের উল্লেখযোগ্য বেশি পারিবারিক আয় প্রয়োজন হতে পারে।   তাই নিউইয়র্কে ১ লাখ ডলার বেতনের আসল হিসাব শুধু পেচেকের অঙ্কে নয়। পরিবারে কয়জন সদস্য, কয়জন আয় করেন, কোথায় থাকেন, সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না এবং হাউজিং ও হেলথ কেয়ারে কত খরচ হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত সঞ্চয় থাকবে কি না সেটি নির্ধারণ করে মূলত এসব বিষয়ই।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:২৩
স্মার্টফোনে মগ্ন একদল শিশু ও কিশোর-কিশোরী।ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে স্কুলে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিকল্প সুবিধার দাবিতে সরব শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের দ্বারা এক ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

জুলাইয়ে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, গ্রেফতার ৫১ হাজার অভিবাসী

তুরস্কের ইস্তানবুলে আয়োজিত গ্রেট প্যালেস্টাইন র‍্যালি'তে ফিলিস্তিনের কুফিয়া বা স্কার্ফ গলায় জড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। ছবি:সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা সমগ্র মানবজাতির যৌথ দায়িত্ব: প্রেসিডেন্ট এরদোগান

0 Comments