ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরীতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাসের বিমানবাহী রণতরীর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্মাণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ইউএসএনআই নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনার আওতায় ফোর্ড ক্লাসের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডরিস মিলার থেকে পরিবর্তন শুরু হওয়ার কথা। পরবর্তী রণতরীগুলোতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম বা ইএমএএলএসের পরিবর্তে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হবে।
তবে ফোর্ড ক্লাসের প্রথম তিনটি রণতরীতে ইএমএএলএস থাকবে। এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতিমধ্যে অপারেশনাল এবং পরবর্তী রণতরীগুলোর নির্মাণ ও পরীক্ষা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বিমানবাহী রণতরীর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফ্লাইট ডেক থেকে ভারী যুদ্ধবিমানকে দ্রুত আকাশে তুলতে ক্যাটাপল্ট ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নিমিৎজ ক্লাসের রণতরীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন ফোর্ড ক্লাসে এর পরিবর্তে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তিনির্ভর ইএমএএলএস চালু করা হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইএমএএলএসের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিমান আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে উৎক্ষেপণ করা, রক্ষণাবেক্ষণের চাপ কমানো এবং পুরোনো স্টিম ব্যবস্থার তুলনায় কম জনবল ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের ও ওজনের বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থাটি বেশি নমনীয় হওয়ার কথা।
তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইএমএএলএসের সমালোচক। প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি স্টিম ক্যাটাপল্টকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ২০১৭ সালেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নৌবাহিনীর নতুন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্টিম প্রযুক্তিতে ফিরে যাওয়া উচিত।
এবার সেই অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ দিলেন তিনি। তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সহজ হবে না। কারণ ফোর্ড ক্লাসের রণতরীগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফ্লাইট ডেকের নিচের বিভিন্ন অবকাঠামো ইএমএএলএসকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ইউএসএস ডরিস মিলারকে ঘিরে। ইএমএএলএস নির্মাতা জেনারেল অ্যাটমিকস জানিয়েছে, জাহাজটির জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন করলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ, নির্মাণসূচিতে বিলম্ব এবং বিভিন্ন সিস্টেম সমন্বয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। পুরো পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্টিম ক্যাটাপল্টের জন্য রণতরীর অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নতুন করে ডিজাইন ও স্থাপন করতে হবে।
স্টিম ব্যবস্থায় ফিরে গেলে জনবলের প্রয়োজনও বাড়তে পারে। আধুনিক ইএমএএলএস তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা কমানো। এমন সময়ে এই পরিবর্তন আসছে, যখন মার্কিন নৌবাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবল ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলা করছে।
ট্রাম্পের নির্দেশ শুধু ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউএসএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানো, সাবমেরিন মেরামতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং একটি নতুন সরকারি নেভাল শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদেশি মিত্রদের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তবে ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ বিশ্বের অন্যান্য বড় নৌ শক্তি উল্টো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। চীন তার নতুন ফুজিয়ান বিমানবাহী রণতরীতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফ্রান্সও ভবিষ্যতের বিমানবাহী রণতরীর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধের সময় অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির চেয়ে দীর্ঘদিন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিরোধীরা বলছেন, ফোর্ড ক্লাসের নকশা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর এমন পরিবর্তন করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি জাহাজগুলো নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছাতেও আরও সময় লাগতে পারে।
এখন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ফলে ইউএসএস ডরিস মিলারের নকশায় ঠিক কতটা পরিবর্তন আসবে, এর জন্য কত অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং জাহাজটির নির্মাণসূচি কতটা পিছিয়ে যাবে, সেসব বিষয় পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমুসলিম যাত্রীদের নামাজের আগে অজু করার সুবিধা দিতে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ডি-এর পুরুষ ও নারীদের রেস্টরুমে আলাদা অজু স্টেশন বসানো হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ ডলারের এই প্রকল্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটি গত ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। টার্মিনাল ডি-এর কনকোর্স লেভেলে থাকা একটি পুরুষদের রেস্টরুমে একটি এবং একটি নারীদের রেস্টরুমে আরেকটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের পুরো অর্থ আসছে বেসরকারি তহবিল থেকে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নতুন অজু স্টেশনগুলোর কাজ সম্পন্ন হবে। ইসলামে নামাজের আগে অজু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধান। অজুর সময় মুখ, হাত ও পাসহ শরীরের নির্দিষ্ট অংশ পানি দিয়ে ধুতে হয়। সাধারণ রেস্টরুমের উঁচু সিঙ্কে পা ধোয়া অনেক যাত্রীর জন্য অসুবিধাজনক। এ কারণে নিচু উচ্চতায় বিশেষভাবে তৈরি অজু স্টেশন ব্যবহার করা হয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রেস্টরুমের অবকাঠামো রক্ষার বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে রয়েছে। সাধারণ সিঙ্কে পা ধোয়ার সময় মেঝেতে পানি পড়ে সেটি পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সিঙ্কের কাউন্টারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে। আলাদা অজু স্টেশন থাকলে এই সমস্যাগুলো কমানো সম্ভব হবে। তবে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের অজুর ব্যবস্থা একেবারেই নতুন নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডি-এর গেট ডি৪০-এর কাছে থাকা ইন্টারফেইথ চ্যাপেল ২০১৯ সালে নতুনভাবে চালুর সময়ই এর পাশে দুটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এবার সরাসরি টার্মিনাল ডি-এর সাধারণ পুরুষ ও নারীদের রেস্টরুমে আলাদা অজু স্টেশন যুক্ত হচ্ছে। টার্মিনাল ডি মূলত ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের ফ্লাইট ওঠানামা করে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলিম যাত্রীদেরও প্রতিদিন এই টার্মিনাল ব্যবহার করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে এ ধরনের সুবিধা ডালাসেই প্রথম নয়। শিকাগো ও'হেয়ারসহ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য অজু করার বিশেষ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য ইন্টারফেইথ প্রেয়ার স্পেস রয়েছে। ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের যাত্রী ও কর্মীদের জন্য ইন্টারফেইথ চ্যাপেল পরিচালিত হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডি-এর চ্যাপেলে শুক্রবার মুসলিমদের জুমার নামাজের ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন অজু স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ধর্মীয় সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অন্যরা এটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছেন। প্রকল্পের সরকারি নথিতে অবশ্য এর পরিধি স্পষ্ট। টার্মিনাল ডি-এর বিদ্যমান রেস্টরুমে পুরুষ ও নারী যাত্রীদের জন্য দুটি আলাদা অজু স্টেশন যোগ করাই এর মূল কাজ। এর ফলে মুসলিম যাত্রীরা নামাজের আগে অজু করার জন্য সাধারণ সিঙ্ক ব্যবহারের পরিবর্তে নির্ধারিত জায়গা ব্যবহার করতে পারবেন।
আটলান্টায় বাড়ির ভয়াবহ সংকট, দামও চড়া, কমছে নতুন মানুষের আগমন
টিপিএস হারানোদের আইসিই চেক-ইনে ডেকে পরানো হচ্ছে অ্যাঙ্কেল মনিটর! নতুন নজরদারিতে বিতর্ক
তিন মাস ধরে দুধ নেই! মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে খাবার সংকটে নাবিকদের আর্তনাদ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরীতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাসের বিমানবাহী রণতরীর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্মাণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ইউএসএনআই নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনার আওতায় ফোর্ড ক্লাসের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডরিস মিলার থেকে পরিবর্তন শুরু হওয়ার কথা। পরবর্তী রণতরীগুলোতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম বা ইএমএএলএসের পরিবর্তে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হবে। তবে ফোর্ড ক্লাসের প্রথম তিনটি রণতরীতে ইএমএএলএস থাকবে। এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতিমধ্যে অপারেশনাল এবং পরবর্তী রণতরীগুলোর নির্মাণ ও পরীক্ষা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিমানবাহী রণতরীর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফ্লাইট ডেক থেকে ভারী যুদ্ধবিমানকে দ্রুত আকাশে তুলতে ক্যাটাপল্ট ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নিমিৎজ ক্লাসের রণতরীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন ফোর্ড ক্লাসে এর পরিবর্তে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তিনির্ভর ইএমএএলএস চালু করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইএমএএলএসের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিমান আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে উৎক্ষেপণ করা, রক্ষণাবেক্ষণের চাপ কমানো এবং পুরোনো স্টিম ব্যবস্থার তুলনায় কম জনবল ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের ও ওজনের বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থাটি বেশি নমনীয় হওয়ার কথা। তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইএমএএলএসের সমালোচক। প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি স্টিম ক্যাটাপল্টকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ২০১৭ সালেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নৌবাহিনীর নতুন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্টিম প্রযুক্তিতে ফিরে যাওয়া উচিত। এবার সেই অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ দিলেন তিনি। তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সহজ হবে না। কারণ ফোর্ড ক্লাসের রণতরীগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফ্লাইট ডেকের নিচের বিভিন্ন অবকাঠামো ইএমএএলএসকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ইউএসএস ডরিস মিলারকে ঘিরে। ইএমএএলএস নির্মাতা জেনারেল অ্যাটমিকস জানিয়েছে, জাহাজটির জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন করলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ, নির্মাণসূচিতে বিলম্ব এবং বিভিন্ন সিস্টেম সমন্বয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। পুরো পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্টিম ক্যাটাপল্টের জন্য রণতরীর অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নতুন করে ডিজাইন ও স্থাপন করতে হবে। স্টিম ব্যবস্থায় ফিরে গেলে জনবলের প্রয়োজনও বাড়তে পারে। আধুনিক ইএমএএলএস তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা কমানো। এমন সময়ে এই পরিবর্তন আসছে, যখন মার্কিন নৌবাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবল ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলা করছে। ট্রাম্পের নির্দেশ শুধু ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউএসএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানো, সাবমেরিন মেরামতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং একটি নতুন সরকারি নেভাল শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদেশি মিত্রদের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ বিশ্বের অন্যান্য বড় নৌ শক্তি উল্টো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। চীন তার নতুন ফুজিয়ান বিমানবাহী রণতরীতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফ্রান্সও ভবিষ্যতের বিমানবাহী রণতরীর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধের সময় অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির চেয়ে দীর্ঘদিন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিরোধীরা বলছেন, ফোর্ড ক্লাসের নকশা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর এমন পরিবর্তন করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি জাহাজগুলো নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছাতেও আরও সময় লাগতে পারে। এখন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ফলে ইউএসএস ডরিস মিলারের নকশায় ঠিক কতটা পরিবর্তন আসবে, এর জন্য কত অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং জাহাজটির নির্মাণসূচি কতটা পিছিয়ে যাবে, সেসব বিষয় পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ডেন্টিস্ট
১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল, ভিসাধারীদের জরুরী ৫ করণীয়
গ্রীষ্মের ছুটিতে টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার বানিয়ে প্রশংসায় ১৩ বছরের কিশোর
ক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পরিচালিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক থাকার পর আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে চাখোন-রাখসোন। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পুনরায় চালু হওয়া ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি আবার চালু করা হয়েছিল। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় হোসে চাখোন-রাখসোন হঠাৎ খিঁচুনির মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। দায়িত্বরত একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিই জানায়, গত ১৮ জুলাই চাখোন-রাখসোনকে গ্রেপ্তার করে ডিলানি হলে আনা হয়। তবে চার দিন পর, ২২ জুলাই তাকে আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বা এরপর হাসপাতালে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার পরবর্তী মৃত্যু পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার দায়িত্ব সংস্থার থাকে না। তবে এই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এই নীতির কারণে একটি "ফাঁক" তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাউকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়ে পরে তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত বা কংগ্রেস ও জনগণকে জানানো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতে আইসিই একটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, হেফাজত থেকে মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেটিও প্রকাশ করা হতো। নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। চাখোন-রাখসোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসেনি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি সামনে আসে। ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এর আগেও দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে আইসিইর হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এল সালভাদরের নাগরিক এডউইন লোপেজ-করনেহোর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রে আটক থাকা হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসেরও মৃত্যু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবা ও বন্দিদের জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ডিলানি হল আটককেন্দ্র নিয়েও গত কয়েক মাসে নানা অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের ওপর প্রহরীদের শারীরিক নির্যাতন, নষ্ট খাবার সরবরাহ এবং অপর্যাপ্ত সেবার অভিযোগে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে অন্তত ৩০০ অভিবাসী অনশন ও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। পরে নারী বন্দিরাও পৃথকভাবে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২১ বছরের কম বয়সী নারী, অসুস্থ নারী ও মায়েদের মুক্তি দেওয়া। তবে আইসিইর দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
আগুন দিয়ে ২৩ মাসের মেয়েকে হত্যার দায়ে জেল, মুক্তির পর মেক্সিকোয় ডিপোর্ট
চ্যাটজিপিটি থেকে ধারণা নিয়ে মা ও ভাইকে খুন! যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলে গ্রেপ্তার