সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ০:২৯
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরীতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাসের বিমানবাহী রণতরীর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্মাণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বৃহস্পতিবার একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ইউএসএনআই নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনার আওতায় ফোর্ড ক্লাসের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডরিস মিলার থেকে পরিবর্তন শুরু হওয়ার কথা। পরবর্তী রণতরীগুলোতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম বা ইএমএএলএসের পরিবর্তে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হবে।

 

তবে ফোর্ড ক্লাসের প্রথম তিনটি রণতরীতে ইএমএএলএস থাকবে। এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতিমধ্যে অপারেশনাল এবং পরবর্তী রণতরীগুলোর নির্মাণ ও পরীক্ষা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

 

বিমানবাহী রণতরীর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফ্লাইট ডেক থেকে ভারী যুদ্ধবিমানকে দ্রুত আকাশে তুলতে ক্যাটাপল্ট ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নিমিৎজ ক্লাসের রণতরীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন ফোর্ড ক্লাসে এর পরিবর্তে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তিনির্ভর ইএমএএলএস চালু করা হয়।

 

মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইএমএএলএসের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিমান আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে উৎক্ষেপণ করা, রক্ষণাবেক্ষণের চাপ কমানো এবং পুরোনো স্টিম ব্যবস্থার তুলনায় কম জনবল ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের ও ওজনের বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থাটি বেশি নমনীয় হওয়ার কথা।

 

তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইএমএএলএসের সমালোচক। প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি স্টিম ক্যাটাপল্টকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ২০১৭ সালেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নৌবাহিনীর নতুন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্টিম প্রযুক্তিতে ফিরে যাওয়া উচিত।

 

এবার সেই অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ দিলেন তিনি। তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সহজ হবে না। কারণ ফোর্ড ক্লাসের রণতরীগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফ্লাইট ডেকের নিচের বিভিন্ন অবকাঠামো ইএমএএলএসকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে।

 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ইউএসএস ডরিস মিলারকে ঘিরে। ইএমএএলএস নির্মাতা জেনারেল অ্যাটমিকস জানিয়েছে, জাহাজটির জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন করলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ, নির্মাণসূচিতে বিলম্ব এবং বিভিন্ন সিস্টেম সমন্বয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। পুরো পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্টিম ক্যাটাপল্টের জন্য রণতরীর অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নতুন করে ডিজাইন ও স্থাপন করতে হবে।

 

স্টিম ব্যবস্থায় ফিরে গেলে জনবলের প্রয়োজনও বাড়তে পারে। আধুনিক ইএমএএলএস তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা কমানো। এমন সময়ে এই পরিবর্তন আসছে, যখন মার্কিন নৌবাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবল ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলা করছে।

 

ট্রাম্পের নির্দেশ শুধু ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউএসএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানো, সাবমেরিন মেরামতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং একটি নতুন সরকারি নেভাল শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদেশি মিত্রদের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

 

তবে ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ বিশ্বের অন্যান্য বড় নৌ শক্তি উল্টো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। চীন তার নতুন ফুজিয়ান বিমানবাহী রণতরীতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফ্রান্সও ভবিষ্যতের বিমানবাহী রণতরীর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধের সময় অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির চেয়ে দীর্ঘদিন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিরোধীরা বলছেন, ফোর্ড ক্লাসের নকশা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর এমন পরিবর্তন করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি জাহাজগুলো নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছাতেও আরও সময় লাগতে পারে।

 

এখন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ফলে ইউএসএস ডরিস মিলারের নকশায় ঠিক কতটা পরিবর্তন আসবে, এর জন্য কত অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং জাহাজটির নির্মাণসূচি কতটা পিছিয়ে যাবে, সেসব বিষয় পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বিমানের টিকিট বুকিংয়ের আগে বিভিন্ন রুট ও ভাড়া তুলনা করা যেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!

নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। জন এফ কেনেডি, লাগার্ডিয়া ও নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের ভাড়া এবং আশপাশের কয়েক দিনের যাত্রার তারিখ তুলনা করলে সাশ্রয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে কোনো কৌশলেই ৩০০ ডলার সাশ্রয়ের নিশ্চয়তা নেই।   গুগল ফ্লাইটসে যাত্রার শহর দিয়ে খোঁজার পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলো আলাদাভাবেও দেখে নেওয়া যায়। লাগার্ডিয়া থেকে দেশের ভেতরের যাত্রা এবং জেএফকে বা নিউয়ার্ক থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রার ভাড়া তুলনা করুন। ফেরার ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে নামলে দাম কমছে কি না, সেটিও দেখার সুযোগ আছে। বিমানবন্দর বদলালে সেখানে যাওয়া-আসার খরচ ও সময় মোট হিসাবের সঙ্গে যোগ করতে হবে।    যাত্রার তারিখে কিছুটা ছাড় থাকলে ক্যালেন্ডারে কয়েক দিন আগে-পরে ভাড়া দেখুন। গুগল ফ্লাইটস প্রতিদিনের সর্বনিম্ন প্রদর্শিত ভাড়া দেখায়। স্কাইস্ক্যানারের ‘হোল মান্থ’ সুবিধায় পুরো মাসের বিভিন্ন দিনের দাম তুলনা করা যায়। পছন্দের ফ্লাইটের দাম নজরে রাখতে গুগল ফ্লাইটসে প্রাইস ট্র্যাকিং চালু করলে পরিবর্তনের খবর ইমেইলে পাওয়া যায়।    টিকিট কাটতে মঙ্গলবার বা বুধবার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে, এমন নির্ভরযোগ্য নিয়ম নেই। গুগলের প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট তথ্য অনুযায়ী, টিকিট কেনার দিনের কারণে গড় দামে পার্থক্য সামান্য। একইভাবে দেশের ভেতরের টিকিট ২১ থেকে ৪৫ দিন এবং আন্তর্জাতিক টিকিট দুই থেকে চার মাস আগে কাটলেই সেরা দাম মিলবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। রুট, মৌসুম ও যাত্রার তারিখ অনুযায়ী উপযুক্ত সময় বদলায়।    সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি একবার যাত্রাবিরতির ফ্লাইটও তুলনা করুন। কম ভাড়া দেখালেও যাত্রার মোট সময়, সংযোগকারী ফ্লাইট ধরার সুযোগ এবং লাগেজের নিয়ম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কম দামের টিকিটে ব্যাগেজ ও আসন বাছাইয়ের আলাদা খরচ থাকলে শেষ পর্যন্ত মোট দাম বেড়ে যেতে পারে।   ক্রেডিট কার্ড পয়েন্ট বা এয়ারলাইন মাইলস থাকলে টিকিট কাটার আগে কত পয়েন্ট লাগছে এবং সঙ্গে কত কর বা ফি দিতে হচ্ছে, তা মিলিয়ে নিন। পয়েন্ট ব্যবহার করলেই টিকিট পুরোপুরি বিনা খরচে পাওয়া যায় না। বুকিংয়ের আগে এয়ারলাইনের নিজস্ব সাইটে চূড়ান্ত দাম এবং টিকিট পরিবর্তন ও বাতিলের শর্তও দেখে নিন। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারলাইনের জন্য প্রযোজ্য ২৪ ঘণ্টার বুকিংসংক্রান্ত নিয়ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কেনা টিকিটে সরাসরি প্রযোজ্য নয়।    বারবার একই ফ্লাইট খুঁজলে কুকির কারণে দাম বাড়ে, তাই ইনকগনিটো মোডে টিকিট কাটতে হবে - এমন দাবিরও ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ভাড়া বদলাতে দেখলে যাত্রার তারিখ, ব্যাগেজসহ মোট দাম ও বুকিংয়ের শর্ত আবার মিলিয়ে দেখাই বেশি কার্যকর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৯:২
ঝড়ে প্লাবিত সার্ফ সিটির পানিতে হাঙরের মতো প্রাণীর চলাচলের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় দেখা গেল হাঙর, ভিডিওতে চাঞ্চল্য

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

‘কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিনিদের সরাতে এইচ-১বি নয়’: এক লাখ ডলারের শর্তের পক্ষে ভ্যান্স

মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সায়েদকে সমর্থন দিল অঙ্গরাজ্যটির বৃহত্তম সংবাদপত্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বাজেট আইনের কারণে আগামী অক্টোবর থেকে স্ন্যাপ ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন আসছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর থেকে বদলাচ্ছে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তার নিয়ম, যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি সরকারি কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি SNAP এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি Medicaid-এর নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বাজেট আইনের আওতায় নেওয়া কয়েকটি পরিবর্তন আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে SNAP পরিচালনার ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক দায়িত্ব এবং কিছু বৈধ অভিবাসীর Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মে পরিবর্তন। অন্যদিকে Medicaid-এর নতুন কাজ বা সামাজিক অংশগ্রহণের শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও কোনো কোনো রাজ্য চাইলে এর আগেও তা চালু করতে পারবে।   এসব পরিবর্তনের ফলে কোটি কোটি মানুষের সরাসরি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে এমন নয়। তবে যোগ্যতা যাচাই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং রাজ্যগুলোর অর্থায়নের দায়িত্বে পরিবর্তন আসায় সুবিধাভোগীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।   SNAP পরিচালনার ব্যয়ে রাজ্যের দায়িত্ব বাড়ছে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হওয়ার কথা। ফলে সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ের বাকি ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে।   মার্কিন কৃষি বিভাগের খাদ্য ও পুষ্টি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৭ অর্থবছর থেকে নতুন হার কার্যকর করার জন্য কৃষি বিভাগ নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।   SNAP-এর প্রশাসনিক ব্যয়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের আবেদন ও হিসাব ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের খরচ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং কিছু জালিয়াতি প্রতিরোধ কার্যক্রমের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় সহায়তা কমে যাওয়ায় রাজ্যগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিবর্তন নিজে থেকে SNAP সুবিধার অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে না। বরং কর্মসূচিটি পরিচালনার খরচ কে কতটা বহন করবে, সেই কাঠামোতে পরিবর্তন হচ্ছে। রাজ্যগুলো বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   পরবর্তী সময়ে SNAP সুবিধার খরচেও রাজ্যের অংশ আসতে পারে SNAP-এর ক্ষেত্রে আরও একটি পরিবর্তন ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব রাজ্যে সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হার নির্দিষ্ট ফেডারেল সীমার ওপরে থাকবে, সেসব রাজ্যকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে SNAP সুবিধার অর্থের একটি অংশ বহন করতে হতে পারে।   এটি বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন। এতদিন SNAP-এর সুবিধা দেওয়ার অর্থ মূলত কেন্দ্রীয় সরকারই বহন করে আসছিল। তবে এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকেই কার্যকর হচ্ছে না। তাই চলতি বছরের অক্টোবরের পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ব্যয় ভাগাভাগির নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।   কিছু অভিবাসীর Medicaid সুবিধায় পরিবর্তন ১ অক্টোবর থেকে Medicaid ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি CHIP-এর ক্ষেত্রে কিছু বৈধ অভিবাসীর জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মেও পরিবর্তন আসছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, পূর্ণ Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়ন সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক ও নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নির্দিষ্ট নাগরিকদের জন্য অব্যাহত থাকবে।   এর বাইরে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী, নির্দিষ্ট ধরনের প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো কিছু শ্রেণির জন্য ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ Medicaid সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়ন আর সাধারণভাবে পাওয়া যাবে না, যদি তারা অন্য কোনো যোগ্য শ্রেণির মধ্যে না পড়েন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। জরুরি চিকিৎসার জন্য Medicaid-এর বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। পাশাপাশি কোনো কোনো রাজ্য নিজেদের অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যেতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান কিছু ফেডারেল বিধানের আওতায় বিশেষ সুযোগও থাকতে পারে।   রাজ্যগুলোকে তাই ১ অক্টোবরের আগে সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত সুবিধাভোগীদের অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা যাচাই করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় এ বিষয়ে বর্তমান সুবিধাভোগীদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও উল্লেখ করা হয়েছে।   Medicaid পেতে কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমের নতুন শর্ত Medicaid-এর আরেকটি বড় পরিবর্তন ২০২৭ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার কথা। নির্দিষ্ট শ্রেণির ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী, গর্ভবতী নন এবং মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত নন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হতে পারে।   এই শর্ত পূরণ করা যাবে চাকরি, নির্দিষ্ট কর্মসূচি, কমিউনিটি সার্ভিস বা অনুমোদিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে। কেউ কেউ নির্দিষ্ট আয় অর্জনের মাধ্যমেও শর্ত পূরণ করতে পারবেন। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র জানিয়েছে, এই নতুন শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো রাজ্য চাইলে তার আগেও এটি কার্যকর করতে পারবে।   তবে এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট বয়স, পারিবারিক দায়িত্ব, প্রতিবন্ধিতা, সাবেক পালক পরিচর্যা ব্যবস্থায় থাকা এবং কিছু বিশেষ পরিস্থিতির মানুষ ছাড় পেতে পারেন।   সরকারের যুক্তি ও সমালোচকদের উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করা এবং সরকারি কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো।   CMS প্রশাসক মেহমেত ওজ বলেছেন, নতুন ব্যবস্থা কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কমিউনিটি সার্ভিসের মাধ্যমে মানুষের দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের উদ্বেগ হলো, নতুন রিপোর্টিং ও যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়মের কারণে প্রকৃতপক্ষে যোগ্য কিছু মানুষও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারাতে পারেন।   খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফিডিং আমেরিকাও SNAP-এ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন নিয়মের প্রকৃত প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে রাজ্যগুলো কীভাবে তা বাস্তবায়ন করে তার ওপর। একই ফেডারেল নিয়ম বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনিকভাবে ভিন্নভাবে কার্যকর হতে পারে।   কখন কোন পরিবর্তন ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নামার বিধান কার্যকর হওয়ার কথা। একই দিনে নির্দিষ্ট বৈধ অভিবাসী শ্রেণির জন্য পূর্ণ Medicaid ও CHIP সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নতুন সীমাবদ্ধতাও কার্যকর হবে।   এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট Medicaid সুবিধাভোগীর জন্য মাসে ৮০ ঘণ্টার কাজ বা অনুমোদিত সামাজিক কার্যক্রমের শর্ত কার্যকর করার কথা। রাজ্যগুলো চাইলে এর আগেও ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। আর SNAP সুবিধার ব্যয় ভাগাভাগির ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর নতুন আর্থিক দায়িত্ব ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট শর্তে কার্যকর হওয়ার কথা।   ফলে অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা ব্যবস্থায় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু সুবিধাভোগীদের যোগ্যতার ওপর নয়, রাজ্যগুলোর বাজেট, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার পরিচালনার ওপরও পড়তে পারে।   সূত্র: মার্কিন কৃষি বিভাগ (USDA), মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র (CMS), Newsweek

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৬:১২
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ আই এর ঝুঁকি নিয়ে বুঝাতে আগ্রহী বিল গেটস

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ আই এর ঝুঁকি নিয়ে বুঝাতে আগ্রহী বিল গেটস

ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন বেশি ২২ দশমিক ৪ পয়েন্ট

ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন বেশি ২২ দশমিক ৪ পয়েন্ট

কর ফেরতের তথ্য ও বকেয়া দেখার সুযোগ নিয়ে আইআরএসের নতুন অ্যাপ

কর ফেরতের তথ্য ও বকেয়া দেখার সুযোগ নিয়ে আইআরএসের নতুন অ্যাপ

সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী
সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী

নিউইয়র্কে থাকার সময় নিয়মিত ডেটে গিয়ে খাবারের খরচ কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন মার্কিন অর্থবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ভিভিয়ান টু। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে করা পোস্টে তিনি দুই বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার সাশ্রয়ের একটি আনুমানিক হিসাব দেন। তবে পরে স্পষ্ট করেন, বিনা খরচে খাবার পাওয়ার জন্য তিনি ডেটিং শুরু করেননি। ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়; তাঁর বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৩ সালে।    ভিভিয়ান জানান, নিউইয়র্কে আসার পর মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্যই তিনি ডেটে যেতেন। অনেক সময় রেস্টুরেন্টের বিল তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষেরা দিতেন। পরে তিনি খেয়াল করেন, বাইরে খাওয়ার কারণে নিজের খাবার কেনার খরচ কমছে।   এক সাক্ষাৎকারে তিনি সপ্তাহে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ডলার খরচ কমার কথা বলেন। আর আগের পোস্টে সপ্তাহে প্রায় ১৫০ ডলার সাশ্রয়ের অনুমান করেছিলেন। দুই বছরের জন্য সপ্তাহে ১৫০ ডলার ধরলেই প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার হয়। ফলে এই মোট অঙ্কটি তাঁর অনুমান, যাচাই করা খরচের হিসাব নয়।    সে সময় ম্যানহাটনে ইকুইটি ট্রেডার হিসেবে কাজ করতেন ভিভিয়ান। তাঁর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৯৫ হাজার ডলার। তিনি জানান, নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় খাবারের পেছনে খরচ কমলে সেই অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগসহ অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারতেন।    তবে ভিভিয়ানের মতে, শুধু বিনা খরচে খাবার পাওয়ার উদ্দেশ্যে ডেটে যাওয়া ভালো আর্থিক কৌশল নয়। খরচ সামলাতে বাজেট তৈরি করাকেই তিনি বেশি কার্যকর মনে করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৩:১৯
নিউ ইয়র্কে মায়েদের জন্য ফর্মুলা ও খাবার সহায়তা

নিউ ইয়র্কে মায়েদের জন্য ফর্মুলা ও খাবার সহায়তা, উইকে আবেদন করবেন যেভাবে জানুন

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ছয় রাজ্যে ঝড়, শত শত ফ্লাইট বাতিল

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ছয় রাজ্যে ঝড়, শত শত ফ্লাইট বাতিল, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

সুপারমার্কেটে ডিজিটাল মূল্য তালিকা নিয়ে উদ্বেগ, ক্রেতাদের আশ্বস্ত করল ওয়ালমার্ট

0 Comments