ম্যাসাচুসেটস

তিন সন্তান হত্যা মামলার বিচার শুরুর আগে আদালতে উপস্থিত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যায় অভিযুক্ত মায়ের বিচার শু

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসেচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ডাক্সবারি শহরে নিজের তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আদালতে পেশ করা প্রাথমিক বক্তব্যে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, লিন্ডসে এই অপরাধের জন্য অপরাধমূলকভাবে দায়ী নন; কারণ ঘটনার সময় তিনি প্রসূতিপরবর্তী তীব্র মানসিক রোগ বা 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস'-এ ভুগছিলেন।   ৩৫ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যান্সি বোস্টনের একটি হাসপাতালের সাবেক লেবার অ্যান্ড ডেলিভারি নার্স। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নিজের তিন সন্তান ৫ বছরের কোরা, ৩ বছরের ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালাংকে তাদের ঘরের নিচতলায় ব্যায়ামের রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর লিন্ডসে নিজের কবজি ও গলা কেটে দোতলার জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এই ঘটনার পর তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।   আদালতে লিন্ডসে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি হত্যা মামলার অভিযোগেই নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে লিন্ডসের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে। তবে আদালতে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘটনার সময় তার মানসিক সুস্থতা ও অপরাধের দায়ভার গ্রহণ করার ক্ষমতা।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, লিন্ডসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং চরম নৃশংসতার সাথে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পক্ষান্তরে, আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী কেভিন রেডিংটন যুক্তি দেখান যে, লিন্ডসে তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিজের আচরণের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।   চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে করা এক দেওয়ানি মামলায় লিন্ডসে জানান, ঘটনার সময় তার মাথার ভেতরে একটি অদৃশ্য কণ্ঠস্বর তাকে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। লিন্ডসের ভাষ্যমতে, "আমি সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার শরীর আমার নির্দেশ ছাড়াই কাজ করছিল। আমি কেবল সেই আদেশের দাসত্ব করছিলাম।"   আদালতে এই মামলার শুনানিতে মূল দৃষ্টি থাকবে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের বক্তব্যের ওপর। বিশেষজ্ঞরা লিন্ডসের গর্ভাবস্থা-পরবর্তী মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। ছয় থেকে আট সপ্তাহব্যাপী এই বিচার প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হলে লিন্ডসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি ম্যাসেচুসেটসের তিউকসবারি স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।   মামলায় অন্যতম মূল সাক্ষী হতে যাচ্ছেন লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। ২০২৩ সালের সেই মর্মান্তিক দিনে তিনি টেক-আউট খাবার কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান। তবে নিজের স্ত্রীর প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রেখে প্যাট্রিক মনে করেন, লিন্ডসে এক মারাত্মক মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি কোনো রাক্ষস বা দানবকে বিয়ে করিনি—আমি এমন একজনকে ভালোবেসেছিলাম যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।"   মামলার নথি থেকে জানা যায়, তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকেই লিন্ডসের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত তিনি একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং তাদের নির্দেশে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, সেডেটিভ ও অ্যান্টিসাইকোটিকসহ প্রায় এক ডজন ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ সেবন করেন। তিনি মানসিক চিকিৎসার জন্য দু'বার হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।   পরবর্তীকালে চিকিৎসকরা তাকে 'পোস্টপার্টাম সিভিয়ার বাইপোলার ডিসঅর্ডার'-এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেন। লিন্ডসের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও মানসিক রোগের সঠিক নির্ণয় না হওয়ায় আজ তাকে এই ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের ক্ষেত্রে মানসিক অসুস্থতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে 'ইনস্যানিটি ডিফেন্স' বা 'অপরাধমূলক দায়মুক্তির' পক্ষে রায় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ড. জনি জনস্টন জানান, অপরাধের বিচারে উন্মাদনার অজুহাত খুব বিরল ক্ষেত্রেই আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়। তবে আদালত যদি লিন্ডসেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও দায়মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে, তবে তাকে কারাদণ্ডের বদলে আজীবন রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও হেফাজতে রাখা হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০০১ সালে টেক্সাসের অ্যান্ড্রিয়া ইয়েটস নামে এক মা তার পাঁচ সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছিলেন। প্রথমে সাজা হলেও পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের পুনর্বিচারে মানসিক অসুস্থতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেন এবং মানসিক হাসপাতালে পাঠান। এছাড়া ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানকে গুলি করা জন হিঙ্কলি জুনিয়রকেও মানসিক অসুস্থতার কারণে আদালত খালাস দিয়েছিল।   বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অগ্রগতি সত্ত্বেও মাতৃত্বকালীন বা গর্ভাবস্থা-পরবর্তী চরম মানসিক বিষণ্ণতা ও মানসিক ব্যাধি কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার প্রক্রিয়াটি পুনরায় তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাসাচুসেটসের ডেভিস স্টেশনে এসকেলেটর দুর্ঘটনায় নিহত স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কেউ সাহায্য করেনি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের শুরুতে একটি সাবওয়ে স্টেশনের এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের এক বাবার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে পড়ে যাওয়ার পর তার পোশাক গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ হয়। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই আঘাতই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   ম্যাসাচুসেটস অফিস অব দ্য মেডিকেল এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সী স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাসাচুসেটস বে ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমবিটিএ) ডেভিস স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে নিচে নামার সময় ম্যাকক্লাসকি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। পরে তার পোশাক এসকেলেটরের যন্ত্রাংশে আটকে গিয়ে গলায় চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসরোধ হয় এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে 'হাইপক্সিক ইস্কেমিক এনসেফালোপ্যাথি' বলা হয়। পাশাপাশি শরীরে ভোঁতা আঘাতও তার মৃত্যুর একটি সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে তিনি এসকেলেটর দিয়ে প্ল্যাটফর্মে নামছিলেন। নিচে পৌঁছানোর পর হঠাৎ পড়ে গিয়ে এসকেলেটরের নিচের অংশে আটকে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই আটকে থাকলেও আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী বহু মানুষ তাকে উপেক্ষা করে চলে যান। কেউ কেউ অল্প সময়ের জন্য থামলেও কার্যকর কোনো সহায়তা করেননি।   ভিডিও অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর এমবিটিএর এক কর্মী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে জরুরি 'স্টপ' বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তখন তার শরীরে কোনো স্পন্দন ছিল না। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর নিহতের বোন শ্যানন ফ্ল্যাহার্টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনা মানুষের প্রতি তার বিশ্বাসকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তার ভাষায়, এত মানুষ একজন অসহায় মানুষকে এভাবে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ যাই হোক না কেন, একজন মানুষ এত দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় সাহায্য না পেয়ে পড়ে থাকবেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   ঘটনার পর এমবিটিএ একে একটি 'মর্মান্তিক দুর্ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি এসকেলেটরের ওপর ও নিচে লাল রঙের 'স্টপ' বোতাম থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে যে কেউ ওই বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করতে পারেন। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করে জরুরি সেবা ডাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   পরিবারের সদস্যরা জানান, স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং দুই ছেলের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছেও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলে জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভূমিকা এবং দ্রুত সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অর্থনীতির অঙ্গরাজ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ম্যাসাচুসেটস । ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সেরা অর্থনীতির অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটস

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক গবেষণায় অর্থনৈতিক শক্তি, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সমন্বিত মূল্যায়নে ম্যাসাচুসেটসকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   ব্যক্তিগত অর্থনীতি ও ভোক্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিকে ২৮টি অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেকারত্বের হার, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার প্রবণতা, উচ্চপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবন সক্ষমতার মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   গবেষণায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ম্যাসাচুসেটস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক বিনিয়োগ রাজ্যটির অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে রাজ্যটিতে উদ্ভাবনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাথাপিছু আবিষ্কার-সংক্রান্ত পেটেন্টের সংখ্যার বিচারে ম্যাসাচুসেটস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।   দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রেও রাজ্যটি এগিয়ে। উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে কর্মরত মানুষের অনুপাত দেশটির মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) খাতে কর্মরত জনশক্তির হারেও ম্যাসাচুসেটস তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ‘টেকনোলজি ফাস্ট ৫০০’-এ অন্তর্ভুক্ত কোম্পানির হারও ম্যাসাচুসেটসে সবচেয়ে বেশি। এর ফলে রাজ্যটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   তালিকায় ম্যাসাচুসেটসের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে উটাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, উদ্ভাবনমুখী পরিবেশ এবং দক্ষ কর্মশক্তির সমন্বয় এসব অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেই যে প্রতিটি নাগরিক আর্থিকভাবে সফল হবেন, এমন নয়। তবে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি মানুষের জন্য আর্থিক সাফল্যের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। তার মতে, কম বেকারত্ব, বেশি গড় আয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নাগরিকদের বাড়ি কেনা, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে।   চিপ লুপো আরও বলেন, সফল অঙ্গরাজ্যগুলো বর্তমান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতাও তৈরি করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতি এত বড় যে সেগুলোকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হলে বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির মধ্যেই স্থান পেত।   তবে অর্থনীতির সামগ্রিক আকারের বাইরে গিয়ে প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনায় ম্যাসাচুসেটস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Unknown মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০