আমেরিকা

টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২৩:৫৭
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং জাহাজের জীবনযাত্রার দুরবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে থাকা রণতরীটি মাসের পর মাস বন্দরে না ফিরেই মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করছে। এ সময়ে খাবার ও পানির সংকট, পরিচ্ছন্নতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। চলতি মোতায়েনটি ইতোমধ্যে ২৫০ দিনের বেশি ছাড়িয়েছে, যা রণতরীটির জন্য আধুনিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় পরিণত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রায় ৩৮ সপ্তাহের সমান সময়।

 

সাধারণত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর কোনো বন্দরে নেওয়া হয়। এতে নাবিকেরা বিশ্রামের সুযোগ পান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খাবার সংগ্রহ করা যায় এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণও করা সম্ভব হয়। কিন্তু আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান মোতায়েনে এমন নিয়মিত বন্দর বিরতি খুবই সীমিত ছিল।

 

জাহাজের নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। পাশাপাশি ডাকব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে নাবিকদের স্বাভাবিক বিশ্রামের সুযোগও কমে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন নাবিকের পরিবার জানিয়েছে, জাহাজে সাবান, টুথপেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। কিছু গোসলখানা ও শৌচাগারের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

খাবারের মান নিয়েও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নাবিক। সরবরাহব্যবস্থার ওপর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার চাপের কারণে তাজা খাবারের প্রাপ্যতাও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মোতায়েনের সময় কয়েকজন নাবিক জাহাজের বাইরে পড়ে যাওয়ার বা ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। ৩ আগস্ট একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে নৌবাহিনী বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহানির ঘটনার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

 

মার্কিন নৌবাহিনী অবশ্য জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সহায়তা থাকার কথা জানিয়েছে। নাবিকদের জন্য পরামর্শদাতা, ধর্মীয় কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।

 

এদিকে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীর বক্তব্যও এসেছে। কর্মকর্তারা জাহাজের পরিস্থিতিকে সংবাদমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তার কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বা ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ১৪ আগস্ট আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগকে খারিজ করে বলেন, রণতরীটির বর্তমান মিশন নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ নেই।

 

তবে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এসব বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাদের অভিযোগ, যারা জাহাজে রয়েছেন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে তাদের স্বজনদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়তে হচ্ছে।

 

দীর্ঘ মোতায়েনের প্রভাব শুধু নাবিকদের ওপরই নয়, জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। সমুদ্রে থাকা অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকে। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করায় নিয়মিত বন্দরে গিয়ে খাবার, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

এই পরিস্থিতিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। নতুন রণতরীটি আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বের কিছু অংশ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকা আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দেশে ফেরার বা বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

তবে নতুন রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্তকে নৌবাহিনীর স্বাভাবিক ঘূর্ণায়মান মোতায়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। একই সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিমানবাহী রণতরীকে সক্রিয় রাখার কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

 

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ঘটনা তাই শুধু একটি রণতরীর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েনে নাবিকদের বিশ্রাম, খাবার, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা চাপ পড়ে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। পরিবারের অভিযোগ ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় জাহাজটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও
ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও, কোম্পানির সদর দপ্তর সরালেন টেক্সাসে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ খরচ, ট্যাক্স ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা নিয়ে হতাশ হয়ে নিজের কোম্পানির সদর দপ্তর টেক্সাসে সরিয়ে নিয়েছেন ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হিল ডেভিস। ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানোর পর তার ভাষ্য, সেখানে কোম্পানি পরিচালনা করা ক্রমেই ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠছিল।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড পরিচালনাকারী ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসের রাউন্ড রকে স্থানান্তর করা হয়েছে। অস্টিনের কাছের এই শহরে কোম্পানিটি প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুটের একটি ওয়্যারহাউস ও অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে।   ডেভিসের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ভার্ননে কোম্পানিটি যে খরচে আগের জায়গাটি ব্যবহার করছিল, প্রায় একই খরচে টেক্সাসে অনেক বড় ও সুবিধাজনক জায়গা পাওয়া গেছে। নতুন স্থাপনায় অফিসের পাশাপাশি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রমও পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।   শুধু জায়গার খরচ নয়, ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক পরিবেশও সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান ডেভিস। তার অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্যাক্স, বিভিন্ন রেগুলেশন, আইনি জটিলতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের দীর্ঘ সময় কমিউট করাও কোম্পানির জন্য আরেকটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   তবে ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপ পুরোপুরি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাচ্ছে না। লস অ্যাঞ্জেলেসে কোম্পানিটির কিছু কার্যক্রম থাকবে। একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে যারা টেক্সাসে যেতে চান, তাদের স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।   ডেভিসের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে বিভিন্ন কোম্পানির সদর দপ্তর স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা চলছে। গত কয়েক বছরে টেসলা, ওরাকল ও শেভরনের মতো বড় কোম্পানিও তাদের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে সরিয়েছে।   ২০২৬ সালের ফরচুন ৫০০ তালিকাতেও করপোরেট সদর দপ্তরের সংখ্যায় ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে টেক্সাস। তালিকা অনুযায়ী, টেক্সাসে ফরচুন ৫০০ কোম্পানির সদর দপ্তর রয়েছে ৫৭টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬টি। কয়েক বছর আগেও এই হিসাবে এগিয়ে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া।   টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকা এবং তুলনামূলক কম অপারেটিং খরচ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কোম্পানিকে আকৃষ্ট করছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিনোদন ও উদ্ভাবন খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সিলিকন ভ্যালি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো অঞ্চল বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে।   ডেভিসও মনে করেন না যে হঠাৎ করেই সব কোম্পানি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে চলে যাবে। তার মতে, পরিবর্তনটি বরং ধীরে ধীরে ঘটছে। কিন্তু ব্যবসার খরচ ও পরিচালন পরিবেশে বড় পার্থক্য থাকলে আরও প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বিকল্প রাজ্যের দিকে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ০:৩৫
লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার

টিপের টাকা ছিল না, লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত

টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা

৪০টি বৃত্তি নিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আদেওলা আদেয়েমো। ছবি: সংগৃহীত

২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে প্যাডলবোর্ডিং করার সময় পানিতে ডুবে মারা যান কৌশিক শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে লেকে ডুবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মৃত্যু

নিউ জার্সির মরিস কাউন্টির লেক হোপাটকংয়ে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৪১ বছর বয়সী কৌশিক শর্মা। তিনি এডিসনের বাসিন্দা ছিলেন। মরিস কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে লেক হোপাটকংয়ে প্যাডেলবোর্ডিং করার সময় নিখোঁজ হন কৌশিক। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পানিতে একটি পরিত্যক্ত প্যাডেলবোর্ড ভাসতে দেখে বিষয়টি সৈকতের লাইফগার্ডকে জানান। এরপর একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৌশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এমন একটি এলাকায় প্যাডেলবোর্ডিং করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধান ছিল না।   কৌশিকের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে এডিসনের বাসিন্দা, দুই সন্তানের বাবা এবং পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া একজন প্রিয়জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগটির আয়োজক রাকেশ আহিরওয়ার লিখেছেন, কৌশিকের আকস্মিক মৃত্যু তার স্ত্রী, দুই সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। তার বর্ণনায়, কৌশিক এডিসন, বিএপিএস, এডিসন স্কুল পিটিএ বোর্ড ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি প্রয়োজনের সময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এদিকে কৌশিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরিস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে এতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না।   কৌশিকের মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেও মরিস কাউন্টির আরেকটি হ্রদে প্যাডেলবোর্ডিং করতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। ১৫ আগস্ট শনিবার টিলকন লেকে ২৩ বছর বয়সী জোনাথন গ্রেসো প্যাডেলবোর্ডিংয়ের সময় পানিতে ডুবে মারা যান বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লেক হোপাটকং নিউ জার্সির অন্যতম বড় মিঠাপানির হ্রদ এবং গ্রীষ্মকালে এখানে নৌভ্রমণ, সাঁতার ও প্যাডেলবোর্ডিংসহ বিভিন্ন জলক্রীড়া জনপ্রিয়। তবে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধানের বাইরে পানিতে নামা এবং জলক্রীড়ার সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কৌশিক কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তের পর তার মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২২:৫৪
হ্যাম্পটনের মেডো লেনে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে জুলিয়া কোচের। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ

ডাকযোগে ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প

মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত

নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের সহায়তায় খাবার, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, বিনা মূল্যে পাবেন খাবার, ফোন ও যাতায়াত সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন অবস্থায় থাকা সাবেক সেনাদের জন্য নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে দেশটির ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ (ভিএ)। এ কর্মসূচির আওতায় খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্মার্টফোন, অস্থায়ী আবাসন এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   ভিএ জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিভিন্ন পণ্য ও সেবা দেওয়ার জন্য এবং বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার যাতায়াত সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সহায়তা কর্মসূচি ‘হাড-ভ্যাশ’-এ অংশ নেওয়া যোগ্য সাবেক সেনারাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   ভিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা দেওয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে যাতায়াত সেবার জন্য চুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এসব পরিবহন সুবিধা চালু হবে।   ভিএর সচিব ডগ কলিন্স বলেছেন, গৃহহীন সাবেক সেনাদের রাস্তায় থাকা থেকে বিরত রাখতে বিভাগটি বিভিন্ন উদ্যোগে অগ্রগতি করছে এবং নতুন কর্মসূচিটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।   নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সাবেক সেনারা খাবার, পোশাক, কম্বল, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস পেতে পারেন। যারা রাস্তায় বা ঘরের বাইরে রাত কাটান, তাদের জন্য তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   আবাসনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সহায়তার সুযোগ। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এমনকি আগের কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া বা বিলও নির্দিষ্ট শর্তে পরিশোধ করা হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে ওই সাবেক সেনা আবাসন পেতে পারেন বা বর্তমান আবাসন ধরে রাখতে পারেন।   এ ছাড়া নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি সংযোগের জামানত, বাসা বদলের খরচ এবং স্বল্পমেয়াদি জিনিসপত্র রাখার খরচও এই সহায়তার আওতায় আসতে পারে। সাধারণভাবে ভাড়া ও ইউটিলিটি সহায়তা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন বলে ভিএর চিকিৎসকরা মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।   অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রয়োজন হলে হোটেল বা মোটেলে স্বল্পমেয়াদি থাকার খরচ কর্মসূচির অর্থ থেকে বহন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাব, বিছানাপত্র, রান্নার সরঞ্জাম, ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে। ভিএর চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে সাবেক সেনাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন এবং ফোনের সংযোগের খরচ দেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো তারা যেন চিকিৎসক, সরকারি সেবা প্রদানকারী, সম্ভাব্য বাড়ির মালিক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।   যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সুবিধা। সরকারি পরিবহনের ভাউচার বা যাতায়াত সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া, বাসা খোঁজা, চাকরি খোঁজা, আদালত বা আইনি কাজে যাওয়া, জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের মতো কাজে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে সাবেক সেনাদের হাতে দেওয়া হবে না। ভিএর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে অথবা সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য সরাসরি পরিশোধ করবে। প্রধানত সমাজকর্মীসহ ভিএর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকর্মীরা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন।   কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য একজন সাবেক সেনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহহীনতার সংজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। এর মধ্যে স্থায়ী ও পর্যাপ্ত রাত কাটানোর জায়গা না থাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিংবা ঘুমানোর জন্য নির্ধারিত নয় এমন জায়গায় বসবাসের মতো পরিস্থিতি রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যারা শিগগিরই বাসস্থান হারাতে পারেন এবং বিকল্প থাকার জায়গা নেই, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। পারিবারিক সহিংসতা বা অনুরূপ হুমকির কারণে অনিরাপদ আবাসনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রয়েছে।   এ ছাড়া হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারাও নতুন সহায়তা পেতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (হাড) ভাড়ার ভাউচার দেয় এবং ভিএ আবাসন ধরে রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কেস ম্যানেজমেন্ট সেবা দেয়। স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ ভাড়ার সহায়তা পরিচালনা করে এবং ভিএর কর্মীরা সাবেক সেনাদের বাসা খুঁজে পাওয়া ও তা ধরে রাখতে সহায়তা করেন।   গৃহহীন সাবেক সেনাদের পরিস্থিতিতে গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ভিএর ২০২৫ সালের ‘পয়েন্ট-ইন-টাইম’ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ হাজার ৪৯৫ জন সাবেক সেনা গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০০৯ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১০ সালের তুলনায় সংখ্যাটি ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।   ২০২৫ অর্থবছরে ভিএ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন গৃহহীন সাবেক সেনাকে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভিএর তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে স্থায়ী আবাসন পাওয়া এসব ব্যক্তির ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থবছর শেষ হওয়ার সময়ও আবাসনে ছিলেন।   তবে গৃহহীনতা কমলেও আবাসন ও জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থার (জিএও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে কেস ম্যানেজারের ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পদ খালি ছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ১২৯টি ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিতে কেস ম্যানেজারের অন্তত ২০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল।   জিএও আরও জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাড-ভ্যাশে পাঠানোর জন্য বিবেচিত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫টি ক্ষেত্রে সাবেক সেনাদের শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে পাঠানো হয়নি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬টি ক্ষেত্রে কেন পাঠানো হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ নথিভুক্ত করা হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের তথ্যের ঘাটতির কারণে কোথায় অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন এবং কতজন সাবেক সেনা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।   অর্থাৎ নতুন ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মসূচিটি গৃহহীন সাবেক সেনাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও তীব্র গরমের পূর্বাভাস রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ঝড়, আকস্মিক বন্যা ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

অ্যামাজনের ডেলিভারি গাড়ির প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের ডেলিভারি ভ্যানে মৃত নারী চালকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ

এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের চাপ বাড়ছে। ছবি:সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে চাকরি ছাঁটাই

0 Comments