সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পিট হেগসেথ

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ডিসক্রল
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ডিসক্রল, নতুন চ্যালেঞ্জে পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও টানাপোড়েনের জেরে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সেনাসচিব (আর্মি সেক্রেটারি) ড্যান ডিসক্রল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ডিসক্রলের প্রশংসা করে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানগুলোতে তিনি অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।   পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে ডিসক্রলের সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই বৈরী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সাবেক এই সেনাসচিব বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হোয়াইট হাউসে ডিসক্রলের এই সরাসরি প্রবেশাধিকার ও প্রভাবকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একধরনের বাইপাস বা হুমকি হিসেবে দেখছিলেন।   এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করে যখন চলতি বছরের এপ্রিলে হেগসেথ আকস্মিকভাবে আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল রেন্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন। জেনারেল জর্জের সঙ্গে ডিসক্রলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কাজের সম্পর্ক ছিল এবং এই বরখাস্তের ঘটনা তাদের মধ্যকার চাপা উত্তেজনাকে সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।   ডিসক্রলের এই পদত্যাগ এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক সংঘাত ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। সংঘাত শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে।   সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে দেওয়া এক গোপন মূল্যায়নে (সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অর্ডার্স বুক) শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে।   বিশেষ করে নৌবাহিনীর ওপর এই যুদ্ধের চাপ সবচেয়ে বেশি। নৌবাহিনীর প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান মাত্রায় এই অভিযান দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই টেকসই নয়।   ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং সামরিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সীমানা ও অন্যান্য বৈশ্বিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।   ঠিক এই রকম একটি জটিল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ড্যান ডিসক্রলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্তার বিদায়ে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হলো, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ কৌশল ও স্থিতিশীলতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘায়িত সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা শীর্ষ সামরিক নেতাদের। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করতে হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক নেতারা

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতারা। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে ইরান অভিযানে বিপুলসংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অস্ত্র ব্যবহৃত হলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা-সংক্রান্ত একটি গোপন নথিতে সামরিক নেতাদের এই উদ্বেগ উঠে এসেছে। গত ১৪ আগস্টের ওই নথি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী চার তারকা কর্মকর্তারা হেগসেথকে তাদের মূল্যায়ন জানিয়েছেন।   ওই নথিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং কিছু সেনাকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাখার নির্দেশনার কথা রয়েছে। ইরান অভিযানে এসব বাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনাই সামরিক নেতাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের নেতৃত্ব এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এই বাহিনী বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে নির্দেশনা কার্যকর করার কথা তারা জানিয়েছেন।   ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমান্ডগুলোর জাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলগুলোর নিজস্ব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নৌবাহিনীকে যুদ্ধকালীন চাহিদা পূরণে নিজেদের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে।   নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান অভিযানে নৌবাহিনী যে মাত্রায় সহায়তা দিচ্ছে, তা আর দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব নয়, কারণ যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধের কারণে নৌবাহিনীর জাহাজ ও নাবিকদের মোতায়েনের মেয়াদও কয়েক মাস করে বাড়ানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নৌবাহিনীর ধ্বংসকারী জাহাজের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ইরান অভিযানের বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকলে জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংঘাত তৈরি হলে নৌবহরের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সামরিক নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে।   ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু নৌবাহিনীতেই সীমাবদ্ধ নেই। সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই অঞ্চলে থাকার কথা রয়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তা ধারণা করছেন, এই মোতায়েনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।   এদিকে বিমানবাহিনীর যেসব ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত বোমা হামলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের অনেককেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনকে আগের দেওয়া অস্ত্রের কারণে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রীপার ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘমেয়াদি বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও মিত্রদের সহায়তা নেই। সাম্প্রতিক সময়েও ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ পর্যাপ্ত নৌবাহিনীর সক্ষমতা না থাকার বিষয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছিলেন।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো সামরিক কমান্ডে কতটা এবং কতদিন বাহিনী মোতায়েন থাকবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বর্তমান হুমকি, প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং সামরিক নেতৃত্বের পরামর্শের ভিত্তিতে। তবে পেন্টাগন গোপন নির্দেশনা নথির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, সামরিক কমান্ডগুলোর মতপার্থক্য বা ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

তাবাস্সুম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত
টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং জাহাজের জীবনযাত্রার দুরবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে থাকা রণতরীটি মাসের পর মাস বন্দরে না ফিরেই মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করছে। এ সময়ে খাবার ও পানির সংকট, পরিচ্ছন্নতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। চলতি মোতায়েনটি ইতোমধ্যে ২৫০ দিনের বেশি ছাড়িয়েছে, যা রণতরীটির জন্য আধুনিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় পরিণত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রায় ৩৮ সপ্তাহের সমান সময়।   সাধারণত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর কোনো বন্দরে নেওয়া হয়। এতে নাবিকেরা বিশ্রামের সুযোগ পান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খাবার সংগ্রহ করা যায় এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণও করা সম্ভব হয়। কিন্তু আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান মোতায়েনে এমন নিয়মিত বন্দর বিরতি খুবই সীমিত ছিল।   জাহাজের নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। পাশাপাশি ডাকব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে নাবিকদের স্বাভাবিক বিশ্রামের সুযোগও কমে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।   পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন নাবিকের পরিবার জানিয়েছে, জাহাজে সাবান, টুথপেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। কিছু গোসলখানা ও শৌচাগারের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   খাবারের মান নিয়েও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নাবিক। সরবরাহব্যবস্থার ওপর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার চাপের কারণে তাজা খাবারের প্রাপ্যতাও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মোতায়েনের সময় কয়েকজন নাবিক জাহাজের বাইরে পড়ে যাওয়ার বা ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। ৩ আগস্ট একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে নৌবাহিনী বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহানির ঘটনার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।   মার্কিন নৌবাহিনী অবশ্য জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সহায়তা থাকার কথা জানিয়েছে। নাবিকদের জন্য পরামর্শদাতা, ধর্মীয় কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।   এদিকে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীর বক্তব্যও এসেছে। কর্মকর্তারা জাহাজের পরিস্থিতিকে সংবাদমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তার কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বা ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ১৪ আগস্ট আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগকে খারিজ করে বলেন, রণতরীটির বর্তমান মিশন নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ নেই।   তবে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এসব বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাদের অভিযোগ, যারা জাহাজে রয়েছেন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে তাদের স্বজনদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়তে হচ্ছে।   দীর্ঘ মোতায়েনের প্রভাব শুধু নাবিকদের ওপরই নয়, জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। সমুদ্রে থাকা অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকে। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করায় নিয়মিত বন্দরে গিয়ে খাবার, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।   এই পরিস্থিতিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। নতুন রণতরীটি আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বের কিছু অংশ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকা আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দেশে ফেরার বা বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে নতুন রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্তকে নৌবাহিনীর স্বাভাবিক ঘূর্ণায়মান মোতায়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। একই সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিমানবাহী রণতরীকে সক্রিয় রাখার কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ঘটনা তাই শুধু একটি রণতরীর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েনে নাবিকদের বিশ্রাম, খাবার, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা চাপ পড়ে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। পরিবারের অভিযোগ ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় জাহাজটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় মাদক পাচারকারীদের সমূলে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র এবার সরাসরি স্থলপথে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। পানামায় একটি যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শনের সময় তিনি এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন।   এর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানগুলোতে কেবল বিমান হামলা চালাত মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এবার সেই অভিযানের পরিধি আরও বাড়িয়ে ইকুয়েডর, কলম্বিয়াসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি লাতিন আমেরিকার মাটিতেও অভিযান চালানোর ছক কষছে পেন্টাগন।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য হুমকি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত, তারা আইএস বা আল-কায়েদার মতোই আমেরিকার শত্রু। তাই মার্কিন সরকার যেকোনো মূল্যে এই মাদকচক্রগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর।   আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই মাদকবিরোধী জোটে ইতোমধ্যে ১৯টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়েছে। তবে মেক্সিকোতে বড় বড় মাদক চক্রের শক্তিশালী ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও তারা এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত নেই।   উল্লেখ্য, গত বছর থেকে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাগরে পরিচালিত বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা ওই হামলাগুলোর কড়া সমালোচনা করে আসছেন।   তবে এসকল সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ ও মিত্রদের সাথে নিয়ে স্থলপথে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, আরও ৬৭ বিলিয়ন চায় পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির এক শুনানিতে তিনি এই হালনাগাদ হিসাব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পেন্টাগনের জন্য অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পূরক তহবিলের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি।   সেনেটের এই শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রলিন্সও সাক্ষ্য প্রদান করেন। সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে নতুন করে আরও তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জনেরও বেশি সেনা সদস্য। প্রাণহানি ও ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্যানেলের শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সেনেটর প্যাটি মারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সাথে এই সংঘাত অচিরেই আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ (ফরেভার ওয়ার) রূপ নিতে পারে। নিজের লিখিত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে প্যাটি মারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ৪০ বারের বেশি দেশবাসীকে বলেছেন যে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি এবং যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে। কিন্তু এখন তিনি নতুন করে আরও বিশাল অঙ্কের তহবিল দাবি করছেন এবং সবাইকে শুধু আশ্বস্ত থাকতে বলছেন যে সবকিছু এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে নেই, দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, "হরমুজ প্রণালি ইরান নিয়ন্ত্রণ করে না।" তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।   এক্সে দেওয়া ওই বার্তার পাশাপাশি একটি ছবিও শেয়ার করেছেন পেন্টাগন প্রধান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আগে প্রকাশিত ওই ছবিতে ওমান উপসাগরে একটি নৌযানে মার্কিন সেনাদের তল্লাশির উদ্দেশ্যে ওঠার দৃশ্য দেখা যায়। পেন্টাগনের দাবি, এটি মূলত ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানি আধিপত্য রুখতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নিজেদের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে।   এর আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ ভেঙে পার হওয়ার চেষ্টাকালে তিনটি বাণিজ্যিক নৌযানকে বাধা দিয়ে সেগুলোর গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বৈশ্বিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সেখানে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি টিকিয়ে রাখতে প্রতিরক্ষায় বড় বিনিয়োগ জরুরি: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন দেশটির যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার ভাষ্য, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আধিপত্য ও জাতীয় নিরাপত্তা ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০২৭ অর্থবছরের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে সামরিক খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়াই বর্তমানে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিই দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ডলারের আধিপত্য, স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।   হেগসেথ বলেন, শুধু ট্রেজারি বিভাগ ডলারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে না, এতে মার্কিন বিমান বাহিনীরও ভূমিকা রয়েছে। একইভাবে শুধু ফেডারেল রিজার্ভ নয়, মেরিন কোরও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত। আর বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু বাণিজ্য বিভাগ নয়, মার্কিন নৌবাহিনীরও অবদান রয়েছে।   তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে দেশটি সহজে ঋণ নিতে পারে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ করতে পারে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়বে, যা বাজার, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   চীনের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে হেগসেথ বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যাপ্ত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এখন মহাকাশ, সাইবার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধব্যবস্থা, সমুদ্রের নিচের প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতায় বড় বিনিয়োগের সময় এসেছে।   তিনি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কংগ্রেসের সদস্যদের বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং দিয়েছে এবং কেন এই বাজেটকে জরুরি বলে মনে করছে, তা ব্যাখ্যা করেছে। হেগসেথ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা (অডিট) পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যেই সফলভাবে অডিট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   তার ভাষ্য, বাজেটের প্রতিটি খাত পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকারহীন ব্যয় কমানো হয়েছে, যার ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করে তা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রকল্পে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিনিময়ে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের নিজেদের অর্থে নতুন উৎপাদন কারখানা ও অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের ব্যয়ও কমছে।   হেগসেথের মতে, নতুন এই ব্যবস্থায় সেনাবাহিনী নির্ধারিত সময়ের আগেই আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি পাবে। একই সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদেরও নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, অন্যথায় তাদের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হবে।   নিবন্ধের শেষে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও দায়িত্বশীল প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, দুটি লক্ষ্যই একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব এবং সে জন্য কংগ্রেসকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করা উচিত।

Unknown জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইউরোপে অভিবাসীদের আগমনকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি অধিকৃত ইউরোপকে মুক্ত করতে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি অভিযান স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ইউরোপের বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন।   হেগসেথ বলেন, দুঃখজনকভাবে আজ ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে ভিন্ন ভিন্ন বিপজ্জনক মতাদর্শের মানুষ প্রবেশ করছে। তার ভাষায়, স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার মতো দেশের উপকূলে নৌকায় করে মানুষের আগমন ঘটছে এবং ইউরোপ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কবে এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।   তার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ইস্যু ইতোমধ্যেই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন দেশে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থনও বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নরম্যান্ডির মতো ঐতিহাসিক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।   সূত্র: বিবিসি    

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ | ছবি: সংগৃহীত
চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানে পুনরায় ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইরান যদি নতুন শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি তেহরানকে এই সতর্কবার্তা দেন। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে।   বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, এই প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। এছাড়া তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন চীন ইরানে কোনো প্রকার অস্ত্র পাঠাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে।   সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরানে প্রবেশকারী ও বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।   ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ হুঁশিয়ারি দেন যে, ভুল পথ বেছে নিলে দেশটির বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়বে। মূলত ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে পেন্টাগন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ব্রায়ান হেগসেথ | ছবি: সংগৃহীত
ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' ঐতিহাসিক বিজয়: পিট হেগসেথ

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে পিট হেগসেথ বলেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও ব্যাপক বিজয় যেকোনো মানদণ্ডেই এটি একটি বড় সামরিক সাফল্য।' তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং বহু বছর ধরে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। হেগসেথ বলেন, ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে ইরান আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং তেল-জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতো, যা তারা প্রতিরোধ করতে পারত না। ট্রাম্পও যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের 'সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত বিজয়' হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ-এর মধ্যস্থতায় নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবুও হেগসেথ দাবি করেন, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এদিকে যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, যুদ্ধবিরতি আপাতত একটি বিরতি মাত্র এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবার দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং শতাধিক নৌযান ও হাজারো সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। তবে এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ।
ইরান হামলার সিদ্ধান্তের দায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথের ওপর চাপালেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ‘মেম্ফিস সেফ টাস্ক ফোর্স’-এর এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, তার প্রশাসনের প্রথম শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে হেগসেথই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।   বৈঠকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, হেগসেথই প্রথম তাকে সামরিক অভিযানের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘পিটই প্রথম বলেছিলেন—চলুন এটা করি, কারণ তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যায় না।’   অভিযান অনুমোদনের আগের পরিস্থিতি তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, তিনি কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি পিট হেগসেথ, জেনারেল কেইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।   ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ইরান ও তার মিত্রদের সম্পৃক্ততায় একটি বড় আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা এবং নৌ শক্তিকে দুর্বল করার কথা উল্লেখ করেছেন।   অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধ ছিল। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে খুব উৎসাহী ছিলেন না, যদিও তিনি প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেননি।   অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রুপার্ট মারডকের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তবে কিছু উপদেষ্টা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তাবাস্সুম মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০