নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সোমবার ১৭ আগস্ট কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে এই সম্মাননা দেন। ভারত ও নেপালের সেনাপ্রধানকে পরস্পরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দেওয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই এই সম্মান পেলেন শেঠ।
নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে দেশটিতে গেছেন জেনারেল শেঠ। সফরকালে দুই সেনাপ্রধানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারত ও নেপালের সেনাপ্রধানদের এই পারস্পরিক সম্মান দেওয়ার রীতি শুরু হয় ১৯৫০ সালে। এরপর থেকে দুই দেশের নতুন সেনাপ্রধানরা দায়িত্ব নেওয়ার পর একে অপরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা পেয়ে আসছেন। প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী অংশ হিসেবে এই প্রথা বহাল রয়েছে।
নেপালের প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শীতল নিবাসের অনুষ্ঠানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সাহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং নেপাল সেনাবাহিনী ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেনারেল শেঠ নেপালে পৌঁছানোর পর দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেনা সদর দপ্তরে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে নেপাল সেনাবাহিনীর কাছে সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন ভারতের সেনাপ্রধান। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জেনারেল শেঠের এই সফর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশা করছে।
জেনারেল শেঠ কাঠমান্ডুতে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেখানে ভারত ও নেপালের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল ধীরাজ শেঠ চলতি বছরের ৩০ জুন ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রায় চার দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে তিনি ভারতের সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ড ও সাউদার্ন কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাপ্রধান হওয়ার আগে তিনি ভারতের ভাইস চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশন পাওয়া শেঠ জম্মু ও কাশ্মীরে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও ফরমেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নেপাল সফরে গিয়ে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক সর্বোচ্চ পদমর্যাদা পেলেন।
নেপাল ও ভারতের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সম্মানসূচক পদমর্যাদা মূলত প্রতীকী। এর মাধ্যমে একজন দেশের সেনাপ্রধান অন্য দেশের সেনাবাহিনীতে কার্যকর কমান্ড বা পরিচালনার ক্ষমতা পান না। বরং দুই প্রতিবেশী দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও সামরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনেপালে একটি মসজিদে হামলার সময় এক পা হারানো অবস্থাতেই হামলাকারীদের সামনে দাঁড়িয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শেখ রহিমুল্লাহ। হাতে লাঠি নিয়ে মসজিদ রক্ষায় তার প্রতিরোধের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির গণ্ডি পেরিয়ে বহু মানুষের নজর কাড়ে। ঘটনাটি নেপালের রাউতাহাট এলাকায়। ধর্মীয় একটি আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একপর্যায়ে একদল লোক কাছের একটি মসজিদের দিকে এগিয়ে গেলে তাদের বাধা দিতে সামনে আসেন রহিমুল্লাহ। তার একটি পা না থাকলেও লাঠি ও ক্রাচের সাহায্যে তিনি সেখানে অবস্থান নেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কনহাবের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও রহিমুল্লাহর এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পা না থাকা সত্ত্বেও মসজিদ রক্ষায় হামলাকারীদের সামনে দাঁড়ানোর ঘটনায় তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান। তার এই সাহসিকতার স্বীকৃতি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তুরস্কের ভুসলাত অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশে নির্মিত একটি মসজিদের নামও তার নামে রেখেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে উদ্বোধন করা মসজিদটির নাম দেওয়া হয় ‘নেপালি মসজিদ রক্ষাকারী শেখ রহিমুল্লাহ মসজিদ’। সংস্থাটি জানায়, তার সাহস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে রহিমুল্লাহকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের দাতাদের সহায়তায় তিনি বাবা-মাসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এসব পোস্টে আরও দাবি করা হচ্ছে, আগস্টের শুরুতে মক্কায় পৌঁছানোর পর স্থানীয়রা তাকে স্বাগত জানান এবং সৌদির একটি সংস্থা তার জন্য কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ওমরাহ সফরের অর্থায়ন, মক্কায় পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ এবং কৃত্রিম পা দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে সৌদি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রহিমুল্লাহর মসজিদ রক্ষার ঘটনাটি অবশ্য এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়েছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সংকটের মুহূর্তে সামনে দাঁড়ানোর সেই দৃশ্যই তাকে নেপালের বাইরে পরিচিত করে তুলেছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান
স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ, মানবিক সংকট আরও গভীর
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৬৮, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার, ১৭ আগস্ট, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়াই তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। ১৬ আগস্ট রোববার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের খবর পাওয়া যায়নি; এর আগের দিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ পার হয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এটি বড় ধরনের পতন। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থাও বড় ভূমিকা রাখছে। ১৭ আগস্ট নির্ধারিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার সময়সীমা শেষ হলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হলে তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব পরিবহন, উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যের দামেও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ৪ দশমিক ০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগস্ট মাসের জন্য রেকর্ড উচ্চ পর্যায়। বিশ্ববাজার এখন মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি আসে কি না—সেদিকে নজর রাখছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে তেলের বাজারে নতুন করে বড় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
মেয়ের মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে, ৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা
একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে
ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের খ্যাতিমান শিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনার চারটি অত্যন্ত মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত প্রায় ১০টার দিকে মেসিনার আঞ্চলিক জাদুঘরে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৭৩ সালের বিখ্যাত ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর তিনটি প্যানেল এবং দুই পাশে আঁকা একটি ছোট প্যানেল। ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আলেসান্দ্রো গিউলি ঘটনাটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গুরুতর ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চোরেরা কীভাবে জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম নিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। আন্তোনেলো দা মেসিনা পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তার টিকে থাকা চিত্রকর্মের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ কারণে তার প্রতিটি শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক ও আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রথমে ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর টিকে থাকা পাঁচটি প্যানেলই সরিয়ে নিয়েছিল। তবে পালানোর সময় দুটি প্যানেল ফেলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই শিল্পকর্মের তিনটি প্যানেল নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা। এর পাশাপাশি চুরি হয়েছে ছোট একটি দুই-পিঠে আঁকা কাঠের প্যানেল। এর এক পাশে শিশু যিশুকে কোলে নিয়ে ভার্জিন মেরি ও একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীর চিত্র এবং অন্য পাশে ‘ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ আঁকা রয়েছে। প্যানেলটি একটি সুরক্ষিত প্রদর্শনী বাক্সে রাখা ছিল। জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় জাদুঘরে নিরাপত্তাকর্মী এবং সচল অ্যালার্ম ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও চোরেরা কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মূল্য নিয়েও বিভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হিসাবে চারটি শিল্পকর্মের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শুধু বাজারমূল্য দিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’ আন্তোনেলো দা মেসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। ১৪৭৩ সালে তৈরি এই শিল্পকর্মটি মেসিনার একটি মঠের জন্য নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯০৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ওই মঠ ধ্বংস হলেও শিল্পকর্মটি রক্ষা পায়। শত শত বছর ধরে এটি মেসিনাতেই সংরক্ষিত ছিল। চুরির পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। শিল্পকর্মগুলো বিশ্বজুড়ে এত পরিচিত যে বৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সংগ্রাহকের ফরমায়েশে চুরি হয়েছে কি না, এমন সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তোনেলো দা মেসিনার আরেকটি বিরল চিত্রকর্ম ‘এক্সে হোমো’ প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে কিনেছিল ইতালি সরকার। শিল্পীর কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরির মধ্যেই তার জন্মশহরের জাদুঘর থেকে এই চারটি শিল্পকর্ম চুরি হলো। মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলে এ ঘটনাকে শহরের জন্য গভীর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুরির পর তদন্তের স্বার্থে জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়। এখন ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অমূল্য শিল্পকর্মগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা।
মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাক, একই বিমানে হার্ট কনফারেন্সে যাচ্ছিলেন ১৫ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
ভারতে ফিরছেন প্রিয় প্রতিবেশী, জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী