যুক্তরাষ্ট্রে মশাবাহিত রোগ আগাম শনাক্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগি, মিলছে সংক্রমণের পূর্বাভাস
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছর দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আগেই ভাইরাসের সক্রিয়তা দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মশাবাহিত রোগের বিস্তার আগেভাগে শনাক্ত করতে ডেলাওয়্যারসহ কিছু এলাকায় বিশেষ পদ্ধতিতে মুরগি ব্যবহার করছেন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম অস্বাভাবিকভাবে আগেই শুরু হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৮ জনের রোগ ছিল গুরুতর স্নায়ুতন্ত্রজনিত। একই সময়ে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ভাইরাসের সক্রিয়তার খবর পাওয়া যায়। ২০০৪ সালের পর বছরের এই সময়ে এত বেশি মানব সংক্রমণ আগে দেখা যায়নি বলে সিডিসি জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন, সেটি কয়েক দশক পুরোনো। সেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় মুরগির ছোট ছোট দল রাখা হয়। এসব মুরগিকে বলা হয় ‘সেন্টিনেল চিকেন’ বা নজরদারি মুরগি। মশা কোনো ভাইরাস বহন করছে কি না, তা সরাসরি মশার সংখ্যা দেখে বোঝার বদলে এই মুরগিগুলোর শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়।
পদ্ধতিটির মূল সুবিধা হলো, মুরগি ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মতো কিছু মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও সাধারণত সেই ভাইরাস ছড়ানোর উৎস হয়ে ওঠে না। অর্থাৎ তারা ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে সংকেত দিতে পারে, কিন্তু নিজেরা সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয় না। ডেলাওয়্যারের মশা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান টম মোরানের ভাষায়, মুরগিগুলো অনেকটা খনির ভেতর বিপদের আগাম সংকেত দেওয়া পাখির মতো কাজ করে।
ডেলাওয়্যারে ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকেই এই কর্মসূচি চলছে। বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটির ২০টি স্থানে চারটি করে মুরগি রাখা হয়। নিয়মিত তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোনো মশাবাহিত ভাইরাসের সংস্পর্শে তারা এসেছে কি না।
২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বা ডিএনআরইসি জানিয়েছে, বছরের প্রথমবারের মতো তাদের একটি নজরদারি মুরগির মধ্যে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ওই এলাকায় ভাইরাসের সক্রিয়তার একটি সতর্কসংকেত পাওয়া গেছে।
এ ধরনের তথ্য জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়লে সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম জোরদার করা যায়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক করা সম্ভব হয়।
চিকিৎসকদের জন্যও এই তথ্য কাজে আসে। বিশেষ করে মশাবাহিত রোগের মৌসুমে কোনো রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা ওয়েস্ট নাইলসহ সংশ্লিষ্ট রোগের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিতে পারেন। ঘোড়ার ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়, কারণ ওয়েস্ট নাইল ও ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস ঘোড়ার জন্যও গুরুতর হতে পারে এবং টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। মশা সাধারণত আক্রান্ত পাখি থেকে ভাইরাস গ্রহণ করে এবং পরে মানুষ বা অন্য প্রাণীকে কামড়ানোর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থতা হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম গ্রীষ্মে শুরু হয়ে শরৎ পর্যন্ত চলতে থাকে। মানুষের মধ্যে সংক্রমণ সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তাই মৌসুমের শুরুতেই ভাইরাসের গতিবিধি শনাক্ত করা জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মশার দল পরীক্ষা করেও ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন মশার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যা মুরগির তুলনায় দ্রুত ফল দিতে পারে। কারণ মশার কামড়ের পর মুরগির শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
তবু ডেলাওয়্যার কর্মকর্তারা মুরগির ওপর নির্ভর করাকেই কার্যকর মনে করছেন। কারণ মশা উড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা মুরগি সেখানেই থাকে। ফলে কোনো মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে ওই নির্দিষ্ট এলাকার আশপাশে সংক্রমিত মশা সক্রিয় রয়েছে।
ফ্লোরিডাতেও দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি মুরগির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়েক দশকের এসব তথ্য এখন শুধু বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য নয়, ভবিষ্যতে ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মৌসুম কতটা গুরুতর হতে পারে, তা অনুমানের গবেষণাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব ও নিমাটোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিন্ডসে ক্যাম্পবেল দীর্ঘদিনের কাগজের রেকর্ড ডিজিটাল করে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার গবেষণায় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, ভূমির ধরন এবং পাখির চলাচলের মতো পরিবেশগত তথ্যও বিবেচনা করা হয়েছে।
গবেষকদের লক্ষ্য শুধু ভাইরাস কোথায় ছড়িয়েছে তা জানা নয়, বরং কোন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বাড়তে পারে সেটিও বোঝা। উদাহরণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের কয়েক মাস আগে তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের ধরন পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট নাইলের সংক্রমণের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গবেষক রবার্ট গুরালনিকের মতে, দীর্ঘদিনের নজরদারি মুরগির তথ্য ভাইরাসের গতিবিধি বোঝার জন্য মূল্যবান। অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে ভাইরাসের ওঠানামার সম্পর্ক খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে এই পদ্ধতিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার নির্ভর করে মশা, পাখি, অন্যান্য প্রাণী এবং আবহাওয়া ও পরিবেশের ওপর। ফলে কোনো মৌসুমে সংক্রমণ কতটা বাড়বে, তা একক কোনো সূচকের ভিত্তিতে নির্ভুলভাবে বলা কঠিন। তবু দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরিতে সহায়তা করছে।
ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা কয়েক দশকের অভিজ্ঞতায় মুরগির জাত নিয়েও পরীক্ষা করেছেন। কর্মসূচির শুরুর দিকে তারা সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এসব মুরগি সহজেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। পরে রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি ব্যবহার শুরু করলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়।
এদিকে মশাবাহিত রোগ শনাক্তে আরও দ্রুত ও কম খরচের পদ্ধতি খুঁজতে গবেষণা চলছে। মশা ধরতে মধুর ফাঁদ ব্যবহারের মতো নতুন পদ্ধতিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে আপাতত কয়েক দশকের পুরোনো এই নজরদারি ব্যবস্থায় মুরগির ভূমিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিডিসির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের তথ্য প্রাথমিক এবং পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে।
সংবাদসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গে গ্যাস স্টেশনে গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার সময় এক নারীর ওপর আগুনের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে এলেনর ক্রফোর্ড নামে ৪১ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ৪০তম অ্যাভিনিউ নর্থের একটি মোবিল গ্যাস স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী তার ভলভো এসইউভিতে জ্বালানি নিচ্ছিলেন। এ সময় ক্রফোর্ড তার কাছে গিয়ে প্রথমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চান। ফোন ব্যবহারের পর তিনি ওই নারীর কাছে টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্রফোর্ড লাইটার দিয়ে জ্বালানি প্রজ্বালিত করেন বলে পুলিশের অভিযোগ। আগুন দ্রুত গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভুক্তভোগী গুরুতর আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় মাত্রার দ গ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। পরে তাকে ট্যাম্পা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে আহত নারীকে সহায়তা করেন এবং জরুরি সেবায় ফোন করেন। আগুনে ভুক্তভোগীর গাড়ি ও গ্যাস পাম্পের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর ক্রফোর্ডকে গ্যাস স্টেশন থেকে কয়েক ব্লক দূরে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার জামিনের পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ক্রফোর্ড ও ভুক্তভোগী একে অপরকে আগে থেকে চিনতেন না। কেন ক্রফোর্ড এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে। তদন্ত এখনো চলছে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রফোর্ডকে আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা বাড়তে পারে ২০২৭ সালে, জেনে নিন হিসাব
এআই প্রম্পটসহ সংবাদপত্র প্রকাশ, ট্রলের শিকার টাইমস অব বাংলাদেশ
নিউইয়র্কে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা ভারী বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বিভিন্ন এলাকা
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গতি কমছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশের বড় বড় শহরের অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম ও প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে। একই সময়ে উচ্চ মর্টগেজ রেট ক্রেতাদের সামর্থ্যের ওপর চাপ তৈরি করায় বিক্রেতারাও ক্রেতাদের কাছে আসতে দাম কমাতে শুরু করেছেন। রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের জাতীয় গড় তালিকামূল্য টানা ১০ মাসের মতো আগের বছরের তুলনায় কমেছে। আগস্টে এই পতন ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশের চারটি প্রধান অঞ্চলের মধ্যে নর্থইস্টে মধ্যম তালিকামূল্য ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, সাউথে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওয়েস্টে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মিডওয়েস্টে দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। ৫০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ৩৬টিতে আগস্টে আগের বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, টাম্পায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিসে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে প্রভিডেন্সে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, ইন্ডিয়ানাপোলিসে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শিকাগোতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো ২০২০-২২ সালের আবাসন-বুমের শহরগুলো এখন মহামারির সময়কার অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কিছুটা সমন্বয় করছে। এসব বাজারে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখন বাড়ির সরবরাহও বেশি। সান ফ্রান্সিসকোতেও আগস্টে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। শহরটির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কম। তবে বাজারটি এখনও প্রতিযোগিতামূলক রয়েছে। ফ্যানি মে-র পক্ষে পালসেনমিক্স পরিচালিত সর্বশেষ হোম প্রাইস এক্সপেকটেশনস সার্ভে-তে ১১৪ জন অর্থনীতিবিদ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষক অংশ নিয়েছেন। তাঁদের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। এরপর ২০২৮, ২০২৯ ও ২০৩০ সালে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৭, ৩ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমানে যে বাজার-শীতলতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি ২০২৭ সালেও বাড়ির দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকিয়ে রাখতে পারে। তবে জাতীয় পর্যায়ে দাম পতনের বদলে সামান্য বাড়ার পূর্বাভাসই এখন বেশি জোরালো। রয়টার্সের মার্চ ২০২৬-এর একটি অর্থনীতিবিদ জরিপেও ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। একই জরিপে ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।
আইফোনের চেয়ে বাড়লো ট্রাম্প ফোনের দাম, এক লাফে ৭৪৯ ডলার
ছেলে সমকামী জানার পর লালন-পালনের খরচ ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে বাবার মামলা
ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার বললেন, ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার যখন ধীরে ধীরে ক্রেতাদের পক্ষে ঝুঁকছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে। রেডফিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লং আইল্যান্ড বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী সেলার্স মার্কেট। এখানে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি, ফলে ভালো অবস্থায় থাকা এবং সঠিক দামে তালিকাভুক্ত বাড়ির জন্য প্রতিযোগিতা এখনো তীব্র। লং আইল্যান্ড বলতে মূলত নাসাউ ও সাফোক কাউন্টিকে বোঝানো হয়েছে। রেডফিনের জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৯টিই বর্তমানে বায়ার্স মার্কেট। অর্থাৎ অধিকাংশ এলাকায় ক্রেতারা দরদাম করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। এর বিপরীতে লং আইল্যান্ডে সীমিত হাউজিং ইনভেন্টরি এবং শক্তিশালী চাহিদার কারণে বিক্রেতারাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এই চাহিদার অন্যতম কারণ নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে লং আইল্যান্ডের ঘনিষ্ঠতা। ম্যানহাটনের কাছে তুলনামূলক উপশহরীয় পরিবেশে একক পরিবারের বাড়ির চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী। রেডফিনের এজেন্টদের মতে, বিশেষ করে এমন বাড়িগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি যেগুলো বসবাসের জন্য প্রস্তুত এবং সঠিক দামে বাজারে তোলা হয়েছে। ফলে লং আইল্যান্ডে বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে বাজারের সাধারণ জাতীয় প্রবণতা সবসময় প্রযোজ্য হচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং বাড়ির দামের কারণে অনেক ক্রেতা পিছিয়ে গেলেও লং আইল্যান্ডে সীমিত সরবরাহ চাহিদাকে শক্তিশালী রাখছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সামগ্রিক মেট্রো এলাকা অবশ্য ভারসাম্যপূর্ণ বাজারে রয়েছে। সেখানে বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। লং আইল্যান্ডের দুই প্রধান কাউন্টিতেও বাড়ির দাম শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জুলাই ২০২৬-এর স্থানীয় মার্কেট ডেটা অনুযায়ী, নাসাউ কাউন্টিতে একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সাফোক কাউন্টিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে নাসাউতে বাড়ির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সাফোকে কমেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। সীমিত ইনভেন্টরি বাজারে বিক্রেতাদের অবস্থান শক্ত করার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লং আইল্যান্ডের যেকোনো বাড়ি যেকোনো দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রেডফিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভালো অবস্থায় থাকা এবং সঠিক দামে তালিকাভুক্ত বাড়ি দ্রুত ক্রেতা আকর্ষণ করছে। কিছু ক্ষেত্রে ওপেন হাউস হওয়ার আগেই একাধিক অফার পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে রেডফিনের স্থানীয় এজেন্টরা জানিয়েছেন। লং আইল্যান্ডের বাজারে ক্রেতাদের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। সীমিত সংখ্যক বাড়ির বিপরীতে বেশি ক্রেতা থাকায় পছন্দের বাড়ি বাজারে আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমে যাচ্ছে। ফলে যারা কিনতে চান, তাদের আগে থেকেই মর্টগেজ প্রি-অ্যাপ্রুভাল, স্থানীয় বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিজেদের বাজেট পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও এই পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে। আগস্ট ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি ২ শতাংশ কমে ১৪ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে উঠেছিল। ফলে দেশের অনেক অঞ্চলে ক্রেতারা এখনো উচ্চ ঋণ খরচের চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে লং আইল্যান্ডে সীমিত সরবরাহ, নিউইয়র্ক সিটির কাছাকাছি অবস্থান এবং একক পরিবারের বাড়ির চাহিদা বাজারটিকে জাতীয় প্রবণতা থেকে আলাদা করে রেখেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় যেখানে ক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দরকষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানে লং আইল্যান্ডে এখনো বাড়ির মালিকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিরাজ করছে।
স্ন্যাপ থেকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বাদ, অক্টোবরে রাজ্যের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ
৮ বছর বয়স থেকে ৭৫ বছরের দাম্পত্য! স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীরও বিদায়