নিউইয়র্কে জনপ্রিয় কুকি ব্যবসার মালিক দম্পতির বিচ্ছেদ, আদালতে গড়িয়েছে ব্যবসা দখলের লড়াই
নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কুকি ব্র্যান্ড ‘থিন কুকিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়োসেফ রাজা ও জোহাল আজিমি রাজার দাম্পত্য বিরোধ এখন ব্যবসায়িক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, অর্থ ও ব্যবসায়িক সম্পদ নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই।
ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে করা একটি মামলায় ইয়োসেফ রাজা অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী জোহাল আজিমি রাজা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নিজের ব্যবহারের জন্য তুলে নিয়েছেন। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ব্যবসার একটি বড় ফ্রিজার ও সেখানে রাখা কুকির মজুত দখলে নিয়েছেন এবং কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটিও নিয়ে গেছেন।
তবে এসব অভিযোগ জোহাল আজিমির বিরুদ্ধে আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, তিনি মামলাটি দেখেননি এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। ইয়োসেফ রাজার আইনজীবী আয়াত মাসউদও সংবাদমাধ্যমটির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি।
আদালতে দেওয়া মামলার নথি অনুযায়ী, ইয়োসেফ রাজা দাবি করেছেন, জোহাল আজিমি থিন কুকিজের কোনো আনুষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা বা পরিচালক ছিলেন না। তার ভূমিকা মূলত কুকির রেসিপি তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের নকশা ও প্রচারণার কাজে সীমাবদ্ধ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ইয়োসেফ রাজা প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এবং ৫০ শতাংশ মালিক। বাকি ৫০ শতাংশের মালিক তার বাবা বশির রাজা, যিনি প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
ব্যবসায়িক বিরোধের প্রভাব ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমেও পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ইয়োসেফের অভিযোগ, কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থ কোম্পানির হাতে না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এমনকি ম্যানহাটনের গ্রিনিচ ভিলেজের ব্লিকার স্ট্রিটের দোকানটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ভাড়া পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে কিছু পচনশীল পণ্য, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইয়োসেফ আরও অভিযোগ করেছেন, জোহাল কোম্পানির অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের খরচ পরিশোধ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জোহালের বক্তব্য এখনো আদালতের মাধ্যমে যাচাই বা নিষ্পত্তি হয়নি।
থিন কুকিজের গল্প অবশ্য শুরু হয়েছিল অনেকটা ভিন্নভাবে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২১ সালে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিলে নিজেদের বাড়ির রান্নাঘর থেকেই কুকি বানানোর কাজ শুরু করেন এই দম্পতি। জোহালের বাবা কুইন্সে একটি আফগান বেকারি পরিচালনা করেন। ছোটবেলা থেকেই বেকিংয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠায় জোহালের রান্না ও বেকিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল।
একপর্যায়ে ইয়োসেফ পাতলা কুকি পছন্দ করেন বলে জানান, তবে প্রচলিত পাতলা কুকির শক্ত ও মচমচে ধরন তার পছন্দ ছিল না। সেই ধারণা থেকেই জোহাল পরীক্ষানিরীক্ষা করে এমন একটি কুকির রেসিপি তৈরি করেন, যা পাতলা হলেও নরম ও চিবিয়ে খাওয়ার মতো। পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে সাড়া পাওয়ার পর সেটিই ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত হয়।
২০২৩ সালে হিকসভিলের জেরুজালেম অ্যাভিনিউতে থিন কুকিজের প্রথম দোকান চালু হয়। এর আগে বাড়িতে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা কাটাতে তারা কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাণিজ্যিক রান্নাঘর ব্যবহার শুরু করেছিলেন। ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং একসময় নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি সরবরাহও শুরু হয়।
২০২৫ সালে ম্যানহাটনের ১৬৬ ব্লিকার স্ট্রিটে থিন কুকিজের দ্বিতীয় দোকান চালু হয়। এর মধ্য দিয়ে ছোট একটি ঘরোয়া উদ্যোগ নিউইয়র্কের পরিচিত কুকি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও হিকসভিল ও ব্লিকার স্ট্রিটের দুটি দোকানের তথ্য রয়েছে।
জোহাল শুধু কুকি তৈরিতেই নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও নকশার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচকে তিনি জানিয়েছিলেন, মহামারির সময় বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় বেকিংয়ের জন্য বেশি সময় দিতে পেরেছিলেন। পরে ব্যবসা বড় হতে থাকলে তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে থিন কুকিজের কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন।
ব্যবসাটি একসময় এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে নিউইয়র্কের বিভিন্ন দোকানে এর কুকি সরবরাহ করা হতো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্রেটার লং আইল্যান্ডের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন থিন কুকিজের পণ্য লং আইল্যান্ড ও নিউইয়র্ক সিটির ৩০টির বেশি দোকানে পাওয়া যেত।
কুকির ব্যবসার পাশাপাশি ইয়োসেফ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। ব্যবসা ও পারিবারিক জীবন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার সময় এই দম্পতির দুটি সন্তানও হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাদের সন্তান জন্ম নেয় বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু ব্যবসার সাফল্যের আড়ালে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে পড়তে শুরু করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, জোহাল আজিমি রাজা ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইয়োসেফ রাজার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। পরে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই পারিবারিক মামলায় আদালতে শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রম হয়েছে।
এবার সেই দাম্পত্য বিরোধই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ নিয়ে নতুন আইনি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইয়োসেফ রাজা মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটি ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।
একসময় মহামারির ঘরোয়া রান্নাঘর থেকে শুরু হয়ে যে ব্যবসা নিউইয়র্কের দুই এলাকায় দোকান পর্যন্ত পৌঁছেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দাম্পত্য বিরোধ ও ব্যবসায়িক মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।
সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ জার্সিতে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা রাজ্য আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে)। মামলাটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল গত ২৫ মার্চ ২০২৬ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজ্য সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো। রাজ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নিউ জার্সি। তবে ২৯ এপ্রিল ডিওজে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। বিচার বিভাগের দাবি, রাজ্য সরকার ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না। ডিওজের মতে, মুখ ঢাকার সুযোগ সীমিত করার মতো বিধিনিষেধ ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়ম তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। মামলাটি নিউ জার্সিতে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান মতবিরোধের অংশ। এর আগে রাজ্যের আরেকটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিউ জার্সির আইনি বিরোধ হয়েছিল। ওই আদেশে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ এবং সেখানে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় নিউ জার্সি আদালতের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ জার্সির ফেডারেল জেলা আদালত রাজ্যের ওই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে গভর্নর ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন মামলাটি অবশ্য ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি রাজ্য কতটা পর্যন্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়। ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের এই বিরোধ নিউ জার্সির অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ডলারের নোটে এই সিরিয়াল থাকলে দাম উঠতে পারে ১৯ হাজার ডলার পর্যন্ত
তেল নেওয়ার সময় টাকা না দেওয়ায় লাইটার দিয়ে নারীকে আ হ ত, গ্রেপ্তার আরেক নারী
সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা বাড়তে পারে ২০২৭ সালে, জেনে নিন হিসাব
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
নিউইয়র্কে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা ভারী বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বিভিন্ন এলাকা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বাজারে শীতলতা, ২০২৭ সালেও কমতে পারে দামের গতি
আইফোনের চেয়ে বাড়লো ট্রাম্প ফোনের দাম, এক লাফে ৭৪৯ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস এলাকার ১৮ বছর বয়সী মাইকেল ট্যালবার্টকে সমকামী হওয়া থেকে ‘বদলে দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে একটি ধর্মীয় কনভার্সন থেরাপি প্রোগ্রামে পাঠিয়েছিলেন তাঁর বাবা গ্রেগরি ট্যালবার্ট। প্রায় এক মাস পর সেই প্রোগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার পর ছেলের কাছ থেকে খরচ করা ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে মামলা করেন বাবা। তবে টেলিভিশনভিত্তিক আদালত অনুষ্ঠান ‘ইকুয়াল জাস্টিস’-এর সালিশি শুনানিতে বিচারক ইবনি কে. উইলিয়ামস ওই দাবি খারিজ করে মাইকেলকে বলেন, তিনি অভিশপ্ত নন এবং তাঁকে ‘ঠিক’ করার কোনো প্রয়োজন নেই। ঘটনাটি ‘ইকুয়াল জাস্টিস উইথ জাজ ইবনি কে. উইলিয়ামস’ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে উঠে আসে। তবে এটি বাস্তব সরকারি আদালত নয়। অনুষ্ঠানটি নিজেকে ছোট দাবির বিরোধ নিষ্পত্তির সালিশি কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্বটির ভিডিও নতুন করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। অনুষ্ঠানে গ্রেগরি জানান, মাইকেল তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। ছেলেকে একজন পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখার পর তিনি তার যৌন অভিমুখিতা নিয়ে আপত্তি জানান। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ছেলে তাঁর কথা না শুনলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে মাইকেল কনভার্সন থেরাপি প্রোগ্রামে যেতে রাজি হন। মাইকেলের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক হারানো এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই তিনি প্রোগ্রামে যেতে সম্মত হয়েছিলেন। কয়েক দিন পর তিনি একটি ধর্মীয় প্রোগ্রামে যোগ দেন। সেখানে প্রায় এক মাস থাকার পর তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়। মাইকেল বিচারককে জানান, সেখানে তাঁকে বলা হয়েছিল তিনি ‘অভিশপ্ত’, নরকে যাবেন এবং তাঁকে ও অন্য অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের ‘ঠিক’ করার প্রয়োজন রয়েছে। একপর্যায়ে মাইকেল প্রোগ্রাম ছেড়ে তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই তিনি জীবনে প্রথমবারের মতো নিজেকে মুক্ত মনে করেন। এরপর তাঁর বাবা প্রোগ্রামে ব্যয় করা ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে দাবি তোলেন। গ্রেগরির বক্তব্য ছিল, ছেলে পুরো প্রোগ্রাম শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা করেননি। শুনানিতে বিচারক উইলিয়ামস মাইকেলের সম্মতি ও তাঁর বাবার দেওয়া চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি গ্রেগরিকে বলেন, ছেলেটি পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই প্রোগ্রামে যেতে রাজি হয়েছিল। পরে তিনি গ্রেগরির অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি পুরোপুরি খারিজ করেন। রায়ের পর মাইকেলের সঙ্গে কথা বলার সময় বিচারক উইলিয়ামস আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে বলেন, তিনি অভিশপ্ত নন। তিনি ভালোবাসা ও সম্মানের যোগ্য এবং তাঁকে পরিবর্তন বা ‘ঠিক’ করার প্রয়োজন নেই। বিচারক আরও বলেন, একজন সন্তানের এমন একটি বাড়ি প্রাপ্য, যেখানে সে নিরাপদ ও ভালোবাসার মধ্যে থাকতে পারে। কনভার্সন থেরাপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সংগঠনগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব প্রচেষ্টার কার্যকারিতার পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই এবং এগুলো ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষণায় বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক ফলাফলের সঙ্গে এসব প্রচেষ্টার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে মাইকেল ও তাঁর বাবার এই ঘটনা বাস্তব আদালতের রায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ‘ইকুয়াল জাস্টিস’ একটি টেলিভিশন সালিশি অনুষ্ঠান, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের প্রযোজনা সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রকৃত পক্ষের ঘটনা উপস্থাপনের পাশাপাশি কিছু ঘটনা পুনর্নির্মাণও থাকতে পারে। ফলে টেলিভিশনের এই সিদ্ধান্তকে কোনো সরকারি আদালতের বিচারিক রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার বললেন, ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি
বাড়ি কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে ক্রেতারা, শীর্ষে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড