নিউইয়র্কে বকেয়া করের জন্য ভবন বাজেয়াপ্ত, মালিকদের ৬০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শহর
বকেয়া করের দায়ে একটি বিতর্কিত কর্মসূচির অধীনে বাজেয়াপ্ত হওয়া ভবনের মালিকদের ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে নিউইয়র্ক শহর। গত শুক্রবার ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা একটি আপস-মীমাংসা চুক্তির অধীনে, শহর কর্তৃপক্ষের বাজেয়াপ্ত করা ৬৪টি সম্পত্তির মালিকরা ক্ষতিপূরণের এই অর্থ পাবেন। প্রায় এক দশক আগে দায়ের করা একটি 'ক্লাস-অ্যাকশন' বা গণমামলার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
বাড়ির মালিকদের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী সারা কেইন এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরে আনন্দিত।
২০১৯ সালে দায়ের করা ওই মামলার নথিতে বাদীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, "যথাযথ ক্ষতিপূরণ" ছাড়াই তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, যা সরাসরি তাদের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। এমনকি তাদের বাড়িগুলো যে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও শহর কর্তৃপক্ষ কোনো আগাম নোটিশ দেয়নি বলে দাবি করা হয়।
মূলত 'থার্ড পার্টি ট্রান্সফার প্রোগ্রাম' নামের ওই কর্মসূচির অধীনে, যেসব ভবনে হাউজিং কোড লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি কর বকেয়া থাকে, সেগুলোর মালিকানা যেকোনো অলাভজনক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যায়। পরবর্তীতে সংস্থাগুলো সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাতাদের কাছে ওই ভবনগুলো হস্তান্তর করে। কিন্তু আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বকেয়া করের তুলনায় বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিগুলোর বাজারমূল্য অনেক বেশি ছিল।
গত এক দশকের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম বৃহৎ এই ক্ষতিপূরণ চুক্তির খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি তার 'ফিক্স দ্য সিটি' আবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিতর্কিত এই কর্মসূচিটিকে আবারও চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।
শহরের আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু স্টার্ন অবশ্য দাবি করেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সাবেক মালিকদের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়নি। তবে একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই শহর কর্তৃপক্ষ এই আপস-মীমাংসায় সম্মত হয়েছে। বর্তমান চুক্তিটি শুধুমাত্র ২০১৯ সালে বাজেয়াপ্ত হওয়া সর্বশেষ সম্পত্তিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাদীদের আইনজীবীদের মতে, গণমামলাটির অংশ হিসেবে এখনও আরও ৫০০টির বেশি সম্পত্তির নিষ্পত্তি হওয়া বাকি।
আইনজীবী কেইন আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত ব্যবস্থা বাকি মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও এমন ইতিবাচক রায় দেবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান, হেগসেথকে অভিশংসনের প্রস্তাব ম্যাসির
নিউইয়র্কে বকেয়া করের জন্য ভবন বাজেয়াপ্ত, মালিকদের ৬০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শহর
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীর হাত থেকে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হলেও, পথচারী বা আশেপাশের কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি; বরং তারা নির্দয়ভাবে তার ভিডিও ধারণ করেছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে বেলটাউন এলাকায় একটি অবৈধ 'স্ট্রিট টেকওভার'-এর সময় আইজ্যাক এলাইজাহ রিওস (২০) নামের এক যুবককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে এক নারী ও এক পুরুষ। এ সময় তার বন্ধু ম্যাথু ল্যান্সক (২১) তাকে বাঁচাতে ছুটে গেলে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে প্রাণ হারান আইজ্যাক। অন্যদিকে, ল্যান্সকের পেটে দুটি ও পেলভিসে একটি গুলি লাগে, যার ফলে তার একটি প্রধান ধমনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুন হওয়া তিনজনের মধ্যে আইজ্যাক ছিলেন অন্যতম। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ল্যান্সক সাহায্য চাইতে কাছের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরের দিকে ছুটে যান। কিন্তু দোকানের কর্মীরা তাকে সাহায্য করার বদলে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং মোবাইল ফোনে তার ভিডিও ধারণ করতে থাকে। ফক্স ১৩-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্যান্সকের মা শান্ডা বার্নি আক্ষেপ করে বলেন, "আমার ছেলে চোখের জলে আমাকে বলেছে যে, তারা তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি এবং দরজা আটকে দিয়ে ভিডিও করছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সে ভেবেছিল ওখানেই মারা যাবে।" ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের এমন অমানবিক আচরণ তাকে গভীরভাবে আহত করেছে বলে জানান তিনি। আইজ্যাকের খালা বেনেটা লালও একই ধরনের অমানবিকতার কথা জানিয়েছেন। আইজ্যাকের শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে তিনি লিখেছেন, "ওই ভয়ংকর মুহূর্তে আইজ্যাক ও তার বন্ধুকে গুলি করে ফেলে রাখা হয়েছিল, আর সবাই তখন ভিডিও করছিল।" পরবর্তীতে ল্যান্সককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে একাধিক অস্ত্রোপচারের পর তার জ্ঞান ফেরে এবং তিনি বন্ধুর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। ল্যান্সকের বোন কমো (KOMO) নিউজকে জানান, বন্ধুকে বাঁচাতে না পারার অপরাধবোধ এখন তাকে তীব্রভাবে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনায় নিহত ও আহতের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশের কাছে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর জন্য ১ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ক্রাইম স্টপারস।
ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে ২৫ কোটি ডলার লুট, বৃদ্ধার বুদ্ধিতে ধরা প্রতারক
অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য ও বিস্ফোরক তৈরির ঘটনায় পেনসিলভানিয়ায় তরুণ গ্রেপ্তার
আমেরিকায় গাড়ি চালিয়ে এই ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে ২৪টি অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্টের লটারি চলছে। ২৯০৫ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটের নতুন আবাসিক ভবনের এসব অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৬৮১ ডলার থেকে। যোগ্য আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার শর্ত পূরণ করা আবেদনকারীরা লটারির জন্য বিবেচিত হবেন। আটতলা মিশ্র-ব্যবহারের এই ভবনে মোট ৭৭টি আবাসিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি ইউনিট অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এসব ইউনিটের জন্য যোগ্য পরিবারের বার্ষিক আয় ৬৩ হাজার ২৫৮ ডলার থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও নির্দিষ্ট ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে আয়সীমা পরিবর্তিত হবে। মোট ২১টি এক-বেডরুম এবং তিনটি দুই-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্ট এই লটারিতে রয়েছে। ৮০ শতাংশ এরিয়া মিডিয়ান ইনকাম বা এএমআই শ্রেণিতে রয়েছে ১৫টি ইউনিট। এর মধ্যে ১৩টি এক-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৬৮১ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য যোগ্য পরিবারের আয় ৬৩ হাজার ২৫৮ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়া ৮০ শতাংশ এএমআই শ্রেণিতে দুটি দুই-বেডরুম ইউনিট রয়েছে, যার মাসিক রেন্ট ২ হাজার ২ ডলার এবং আয়সীমা ৭৬ হাজার ১৮৩ থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬০ ডলার। বাকি নয়টি ইউনিট ১৩০ শতাংশ এএমআই শ্রেণির। এর মধ্যে আটটি এক-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ২ হাজার ৫০০ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৩৮ থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একটি দুই-বেডরুম ইউনিটের মাসিক রেন্ট ২ হাজার ৮৫০ ডলার এবং এর জন্য আয়সীমা ১ লাখ ৫ হাজার ২৫৮ থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত পার্কিং স্পেসসহ গ্যারেজ, বাইক স্টোরেজ লকার, পার্সেল লকার, লিফট এবং রুফটপ টেরেস। অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে ওয়াশার ও ড্রায়ার, ইন্টারকম, এয়ার কন্ডিশনিং এবং আধুনিক কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও ফিনিশিং রয়েছে। তবে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিল নিজেদের বহন করতে হবে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক স্টোভ ও হিটিংয়ের খরচও রয়েছে। গরম পানির খরচ রেন্টের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ও সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী কোন ইউনিটের জন্য যোগ্যতা রয়েছে তা যাচাই করা। শুধু সর্বনিম্ন ১ হাজার ৬৮১ ডলারের রেন্ট দেখেই আবেদন করা যাবে না। ওই ইউনিটের জন্য নির্ধারিত আয়সীমা ও পরিবারের আকারের শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন করতে হবে নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল NYC Housing Connect প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। প্রথমবার আবেদনকারীদের Housing Connect-এ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বর্তমান ঠিকানা ও আয়সংক্রান্ত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় প্রোফাইল সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ২৯০৫ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটের লটারি খুঁজে যোগ্য ইউনিটের জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন করতে কোনো ফি নেই। এই লটারির আবেদন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খোলা হয়েছে এবং শেষ হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। অনলাইনে আবেদন করলে ওই তারিখের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। ডাকযোগে আবেদন করলে আবেদনপত্র ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পোস্টমার্ক হতে হবে। আবেদন শেষ হওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া এগোবে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই সরাসরি অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নয়। নির্বাচিত আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার প্রমাণপত্র যাচাই করা হবে। সব শর্ত পূরণ করার পরই অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। তাই আগ্রহী আবেদনকারীদের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে নির্ধারিত আয়সীমা ও পরিবারের আকারের শর্ত যাচাই করে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এই লটারির জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
সুরক্ষার আদেশের পরও থামেনি হয়রানি পিছু নেয়া, স্যাক্রামেন্টোতে গুলিতে প্রাণ গেল শালিনীর
২৩ বছর বয়সে জর্জিয়ায় ইতিহাস গড়া তরুণ মেয়রকে ১০ মাসের মধ্যেই পদচ্যুত করল সিটি কাউন্সিল