সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে ২৫ কোটি ডলার লুট, বৃদ্ধার বুদ্ধিতে ধরা প্রতারক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১২:৩০
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে এক প্রবীণ নারীর সাথে ৩০ হাজার ডলারের প্রতারণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে এক প্রবীণ নারীর সাথে ৩০ হাজার ডলারের প্রতারণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফ্রিসকোর এক প্রবীণ নারীর সঙ্গে ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার ডলারের প্রতারণা করা হয়। পরে একই চক্র তাঁর কাছ থেকে আরও ২২ হাজার ডলার নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ব্যাংক ও পুলিশের সহায়তায় প্রতারকদের ফাঁদে ফেলতে সহযোগিতা করেন। পুলিশের দেওয়া নকল টাকা নিতে আসা এক বাহককে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সোনা চুরি চক্রের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই চক্রটি দুই শতাধিক প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে ২৫ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে।

 

পরিচয় প্রকাশ না করা ওই নারী জানান, এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে দাবি করেন, ওহাইওতে কেউ তাঁর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে হাজার হাজার ডলারের শিশুপণ্য কিনেছে। একই সঙ্গে তাঁর নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেগুলো অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তাঁকে জানানো হয়। ফোনকারী নিজেকে ওয়াশিংটনে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রতারণা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।

 

প্রতারক নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন নথি দেখান। ওই নথির মাধ্যমে তাঁকে বোঝানো হয়, তাঁর অর্থ নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে টাকা তুলে দিতে হবে। প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী প্রথমে ৩০ হাজার ডলার দেন। পরে তাঁকে আরও ২২ হাজার ডলার অন্য একটি ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

দ্বিতীয় দফায় টাকা তোলার সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওই নারীকে সতর্ক করেন। তিনি বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাটিই প্রতারণার অংশ। এরপর তিনি ফ্রিসকো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ তখন ওই নারীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারকদের ধরার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশ ওই নারীকে প্রতারকদের দেওয়ার জন্য নকল টাকা দেয়। নির্ধারিত সময়ে চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক বাহক তাঁর কাছ থেকে টাকার বাক্স নিতে আসে। ওই নারী তাকে বাক্সটি তুলে দেন এবং ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

তদন্তকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি একটি বড় আন্তর্জাতিক সোনা চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত প্রবীণ ব্যক্তিদের ফোন করে নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। এরপর তাঁদের ব্যাংক হিসাব জালিয়াতির শিকার হয়েছে বা অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখানো হতো।

 

প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আনতে অথবা সোনা কিনে নির্দিষ্ট বাহকের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত সোনা পরে গলিয়ে গয়না তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। নগদ অর্থের একটি অংশ ডিজিটাল মুদ্রা কেনার কাজে ব্যবহার করা হতো এবং সেই অর্থ বিদেশে পাঠানো হতো।

 

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ এবং মোট চুরির পরিমাণ ২৫ কোটি ডলারের বেশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত এই চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৩ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোনা জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে। ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফিল সরেলস জানিয়েছেন, এক ভুক্তভোগী তাঁর পুরো জীবনের সঞ্চয় হারানোর পর আত্মহত্যা করেন।

 

চক্রটির তদন্তে ৪০টির বেশি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে ১৮টি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযুক্তদের ১২ জন এখনো ট্যারান্ট কাউন্টি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া ৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি চক্রটির অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি এবং দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়।

 

কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আহমেদ নিউ জার্সি থেকে চক্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং প্রবীণদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ পাচারের জন্য ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ট্যারান্ট কাউন্টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। একই দিনে গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুজনকে ট্যারান্ট কাউন্টিতে এনে মামলার মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফিল সরেলস সতর্ক করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো ফোন করে কাউকে নিরাপত্তার নামে সোনা কিনতে, ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলতে বা ডিজিটাল মুদ্রা কিনতে বলবে না। এমন নির্দেশ পেলে ফোন কেটে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

ফ্রিসকোর ওই প্রবীণ নারীর সাহস ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে চক্রটির একজন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এই প্রতারণা চক্রের তদন্ত এখনো চলছে এবং এর সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

 

সূত্র: ফক্স ৪


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৩০ সালের নতুন ব্যাচে শিক্ষার্থীদের জাতিগত অনুপাতে পরিবর্তন দেখা গেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশীয় শিক্ষার্থী বেড়ে ৪৩.২ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গ কমে ৯.৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৩০ সালের স্নাতক ব্যাচে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীর হার বেড়ে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে, কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীর হার কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয় বিবেচনার নীতি বাতিল করার পর ভর্তি হওয়া তিনটি ব্যাচের তথ্য বিশ্লেষণে এ পরিবর্তন দেখা গেছে।   হার্ভার্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ব্যাচে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীর হার ছিল ৩৭ শতাংশ। ২০২৯ সালের ব্যাচে তা বেড়ে ৪১ শতাংশ হয়। সর্বশেষ ২০৩০ সালের ব্যাচে এই হার আরও বেড়ে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীর হার ২০২৮ সালের ব্যাচে ১৪ শতাংশ থাকলেও পরের বছর কমে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ হয়। সর্বশেষ ব্যাচে তা আরও কমে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।   জাতিগত পরিচয়ের হিসাবে হিস্পানিক বা লাতিনো শিক্ষার্থীর হার ২০৩০ সালের ব্যাচে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এ হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, আদিবাসী, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীর সম্মিলিত হার প্রায় ২ শতাংশ। তবে শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের অনুপাত প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজেদের জাতিগত পরিচয় জানাননি।   হার্ভার্ডের ভর্তি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ব্যাচে মোট ১ হাজার ৬৪৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাতিগত পরিচয়ের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা স্বেচ্ছায় নিজেদের জাতিগত পরিচয় জানিয়েছেন, তাঁদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক জাতিগত পরিচয় নির্বাচন করলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি শ্রেণির হিসাবেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণির শতাংশ যোগ করলে মোট সংখ্যা ১০০ শতাংশ নাও হতে পারে।   ২০২৩ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট ‘স্টুডেন্টস ফর ফেয়ার অ্যাডমিশনস বনাম হার্ভার্ড’ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয়কে সরাসরি বিবেচনার নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়। একই সঙ্গে নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিও আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত জাতিগত অগ্রাধিকারভিত্তিক ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আসে। হার্ভার্ডের ২০২৮ সালের ব্যাচ ছিল ওই রায়ের পর ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যাচ।   নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় জাতিগত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। এশীয় শিক্ষার্থীদের অংশ বাড়ার পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের অংশ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে শুধু এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ই পরিবর্তনের একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ভর্তি নীতির পাশাপাশি আবেদনকারীদের সংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ও শিক্ষার্থীদের গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।   হার্ভার্ডের নতুন ব্যাচে ভর্তির জন্য আবেদনও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ব্যাচে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিলেন ৫৫ হাজার ১০৪ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ৮৬টি দেশ থেকে এসেছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অংশ প্রায় ১৫ শতাংশ।   সূত্র: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিসংখ্যান, দ্য হার্ভার্ড ক্রিমসন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ২৩:২৯
নিউ জার্সির কয়েকটি শহরে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সম্ভাব্য সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, তালিকায় রয়েছে ১০ শহর

বাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকলেও ভাড়া বাসায় থাকতে আগ্রহী হচ্ছেন নিউ ইয়র্কের অনেক ধনী পরিবার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাড়ি কেনার বদলে ভাড়ায় থাকছেন ধনীরা, নিউ ইয়র্কে বাড়ির মালিকদের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে মিলিয়নিয়ার ভাড়াটে

শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর প্রস্তাব বিবেচনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে 'স্টুডেন্ট লোনে' সুদ কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় ট্রাম্প, উপকৃত হতে পারেন লাখো ঋণগ্রহীতা

যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইম স্থায়ী হলে শীতকালে সকালে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের, বাড়বে দুর্ঘটনা ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইম বা ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে রাখার নিয়মটি যদি সারা বছরের জন্য স্থায়ী করা হয়, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিয়ম চালু হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের স্কুল যাত্রায় অন্তত ২০০ কোটি বার অন্ধকারের মুখোমুখি হতে হবে।   কারেন্ট বায়োলজি নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে গত ২৯ অক্টোবর গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধ করার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিকেলে অতিরিক্ত সূর্যালোক পাওয়ার অর্থ হলো শীতকালে সকালের দিকে আলোর ঘাটতি তৈরি হওয়া, যা শিশুদের স্কুল যাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে।   গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হোরাসিও দে লা ইগলেসিয়া বলেন, কোনো অভিভাবকই চান না তাদের সন্তান অন্ধকারে স্কুলে যাক। গবেষক দলটি ১৪টি অঙ্গরাজ্যের স্কুলের সময়সূচি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং স্কুলের অবস্থান বিশ্লেষণ করেছেন। কেন্দ্রীয় আইনে অনুমোদন পেলে এই রাজ্যগুলো স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালু করতে সম্মত হয়েছে।   গবেষকরা হিসাব করে দেখেছেন যে, বর্তমান নিয়মে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের কারণে সূর্যোদয়ের আগে কতগুলো স্কুল যাত্রা হয় এবং স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালু হলে এই সংখ্যা কত দাঁড়াবে। ফলাফল অনুযায়ী, স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালু হলে শুধু ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যেই অন্ধকারে স্কুল যাত্রার সংখ্যা ৩.৫ কোটি বেড়ে যাবে। অন্যদিকে, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এই বৃদ্ধি হবে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭.১ কোটি।   যুক্তরাষ্ট্রের টাইম জোনগুলোর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এলাকাগুলো এবং যে স্কুলগুলো সকালে আগে শুরু হয়, সেখানে এই পরিবর্তনের প্রভাব হবে সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমান নিয়মে আলাবামা এবং মিসিসিপিতে বছরে প্রায় ২০ লাখবার সূর্যোদয়ের আগে স্কুল যাত্রা হয়। কিন্তু নতুন নিয়ম চালু হলে এই সংখ্যা প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে দুই কোটির বেশি ছাড়িয়ে যাবে।   গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, সকাল ৮টায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে বের হবে এমনটি ধরে নিয়ে দেশজুড়ে স্কুল যাত্রায় অতিরিক্ত ২০০ কোটি বার অন্ধকারের হিসাব করা হয়েছে। তবে গবেষণার প্রধান লেখক গুয়াদালুপ রদ্রিগেজ ফেরান্তে জানান, এই সময়টা বেশ দেরি, তাই প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সকালে অন্ধকারে স্কুলগামী শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্র্যাফিক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে।   গবেষকদের মতে, সকালের আলো মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা ঘুম, মেজাজ এবং রুচির উপর প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সানশাইন প্রটেকশন অ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা চলছে, যার অধীনে ডেলাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলটি গত ১৪ জুলাই প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও বর্তমানে সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ২১:৩৩
মাত্র ৩৫০ ডলার মাসিক ভাড়ায় দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট পেয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন ম্যাডিসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে না দেখেই সস্তায় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, পরে জানলেন সেটি বৃদ্ধদের আবাসন

যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের কারাগার কিনল ৪৯৫ মিলিয়নে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের কারাগার কিনল ৪৯৫ মিলিয়নে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট
৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট, তৃষ্ণা মেটান যে পানীয় দিয়ে

প্রখ্যাত মার্কিন ধনকুবের এবং বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট গত ৫০ বছর ধরে এক গ্লাস সাধারণ পানিও পান করেননি! সম্প্রতি ‘ইক্যুইটি মেটস ইনভেস্টিং’ (Equity Mates Investing) পডকাস্টের একটি পর্বে অংশ নিয়ে আরেক বিলিয়নিয়ার হেজ ফান্ড ম্যানেজার বিল অ্যাকম্যান এই বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছেন।   অ্যাকম্যান জানান, ৯৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ব্যবসায়ী একবার তাকে জানিয়েছিলেন যে, ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে তিনি আর কখনো পানি পান করেননি। দীর্ঘ এই সময়ে পানি ছাড়াই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পানীয়ের ওপর নির্ভর করে চলছেন তিনি।   অ্যাকম্যান তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে ওয়ারেন বাফেট একবার তার বাড়িতে রাতের খাবার খেতে এসেছিলেন। বাফেটের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকায় অ্যাকম্যান তার রেফ্রিজারেটর এই কিংবদন্তি বিনিয়োগকারীর প্রিয় পানীয় ‘চেরি কোক’ (Cherry Coke) দিয়ে ভরিয়ে রেখেছিলেন।   কারণ, সাধারণ পানির বদলে এই চেরি কোকই বাফেটের তৃষ্ণা মেটানোর একমাত্র উপায়। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে সাধারণ পানি এড়িয়ে কেবল কোমল পানীয়ের ওপর নির্ভর করে ৯৬ বছর বয়সেও তার এমন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার বিষয়টি অনেকের কাছেই রীতিমতো অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৯:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় যৌ ন অসদাচরণের অভিযোগে হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় যৌ ন অসদাচরণের অভিযোগে হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অনুদান না দেওয়ার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অনুদান না দেওয়ার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্র্যান্সজেন্ডার জামাতাকে হ ত্যার দায় স্বামীর ওপর চাপালেন অভিযুক্ত ৭৭ বছর বয়সী শাশুড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে ট্র্যান্সজেন্ডার জামাতাকে হ ত্যার দায় স্বামীর ওপর চাপালেন অভিযুক্ত ৭৭ বছর বয়সী শাশুড়ি

0 Comments