সুরক্ষার আদেশের পরও থামেনি হয়রানি পিছু নেয়া, স্যাক্রামেন্টোতে গুলিতে প্রাণ গেল শালিনীর
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে প্রায় এক বছর ধরে পিছু নেওয়া, হয়রানি ও হুমকির শিকার হওয়ার পর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুর। গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি শপিং প্লাজার বাইরে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিতের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের ধাওয়ার সময় হাইওয়ে ৫০ এলাকায় রোহিত নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আদালতের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শালিনী ও রোহিতের পরিচয় হয়েছিল রোহিতের খাবার সরবরাহের কাজের সূত্রে। শালিনীর কর্মস্থলে খাবার পৌঁছে দিতে যেতেন রোহিত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে শুরু হওয়া তার আচরণ পরে আরও গুরুতর হয়ে ওঠে বলে শালিনীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিত শালিনীর বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন এবং তার চলাফেরার ওপর নজর রাখতেন বলে অভিযোগ করেন শালিনী। একপর্যায়ে তার গাড়ির নিচে একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার করে তার অবস্থান অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। গাড়ির টায়ারেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তার জন্য শালিনী আদালতের সুরক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
২০২৬ সালের মে মাসে শালিনী রোহিতের বিরুদ্ধে দেওয়ানি হয়রানি প্রতিরোধে সুরক্ষা আদেশ নেন। আবেদনে তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে হয়রানি ও পিছু নেওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং গুরুতর হয়ে উঠেছিল। রোহিত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার বাসায় প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত চাবি তৈরি করে নেওয়ার অভিযোগও নথিতে রয়েছে।
তবে সুরক্ষা আদেশ পাওয়ার পরও অভিযোগিত হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসেও রোহিত ওই আদেশ লঙ্ঘন করে শালিনীর বাড়িতে জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হলেও কয়েক দফায় তাকে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই শালিনী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে নথি ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর স্যাক্রামেন্টোর হাও অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং প্লাজার কাছে শালিনীকে লক্ষ্য করে হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের খবর পেয়ে দুপুর ৩টার কিছু আগে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তকারীদের মতে, রোহিত শালিনীর মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। রোহিত তাকে ধাওয়া করে গুলি করেন। শেরিফের কার্যালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, শালিনী মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে গুলি করা হয়।
হামলার পর রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ডেপুটিরা তাকে শনাক্ত করে হাইওয়ে ৫০ এলাকায় অনুসরণ করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে তার অবস্থান শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয় বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে পুলিশের সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার সময় রোহিত নিজের ওপর গুলি চালান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর রোহিতের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টিও সামনে এসেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের নাগরিক রোহিত ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাকে আটক করার পর পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বিভাগটি জানিয়েছে। তবে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি এবং শালিনী হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের আইনগত তদন্তকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে।
শালিনীর মৃত্যুর পর তার পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে পরিশ্রমী, যত্নশীল ও উদার মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগের পর ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের সুরক্ষা আদেশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্ত এখনো চলছে। দীর্ঘদিনের পিছু নেওয়া ও হয়রানির অভিযোগ, সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ৮ সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী হামলার মধ্যকার পুরো ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরে একটি ইসলামিক সংগঠন সাবেক ব্যাংক ভবন কিনে সেখানে কমিউনিটি সেন্টার ও নামাজের স্থান প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্ক শহরে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা। ভার্জিনিয়ার নর্টনে অবস্থিত সাবেক ব্যাংক অব আমেরিকার ভবনটি ৩ লাখ ডলারে কিনেছে মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি ইসলামিক অলাভজনক সংগঠন। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ভবনটির ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কার্ডিনাল নিউজ জানিয়েছে, ভবনটির নির্ধারিত মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আইমান নাসার জানিয়েছেন, এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১৯০ জনের বেশি দাতা সহায়তা দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে শুধু মুসলিমদের নামাজের ব্যবস্থাই থাকবে না, বরং সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কর্মসূচিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভবনটির প্রথম তলায় এসব কার্যক্রম শুরু হতে পারে। নাসারের হিসাব অনুযায়ী, নর্টন ও ওয়াইজ কাউন্টিতে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন মুসলিম বসবাস করেন। বর্তমানে তাঁদের নিকটতম মসজিদে যেতে টেনেসির জনসন সিটিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা গাড়ি চালাতে হয়। নর্টনে এই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত ২০ অক্টোবর শহরের কাউন্সিল সভায় এক ডজনের বেশি বাসিন্দা পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেন। তাঁদের কয়েকজন ইসলাম ধর্ম নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। সভার আগে মেয়র জো ফাউবুশ জানান, ভবনটি শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার আওতাভুক্ত, যেখানে গির্জা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্যালয় পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত কার্যক্রমের জন্য এখন পর্যন্ত নগর কর্তৃপক্ষের কোনো বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি। শহরের ব্যবস্থাপক জেফ শুপে কার্ডিনাল নিউজকে বলেন, ভবনটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় এর বিক্রয়প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের নেই। তবে ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন ব্যবহার শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র নিতে হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মাইকেল স্টাবলফিল্ড ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গত ২৭ অক্টোবর আয়োজিত এক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে ১৬ জন অংশ নেন। তাঁদের অনেকেই তরুণদের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান। আলবুকার্কের মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। শহরের নর্থ ভ্যালি এলাকায় সেকেন্ড স্ট্রিট এনডব্লিউ ও আলামেডা বুলেভার্ডের কাছে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন বহাল রেখেছেন বার্নালিলো কাউন্টির কমিশনাররা। গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৪-১ ভোটে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হয়। নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় একটি প্রতিবেশী সংগঠনের সভাপতি প্যাট হাউজার এই আপিল করেছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পটির কারণে আশপাশের সড়কে যানজট বাড়তে পারে এবং এলাকাটির বিদ্যমান অবকাঠামো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা যথেষ্টভাবে যাচাই করা হয়নি। বর্তমানে আলবুকার্ক ইসলামিক সেন্টারের মসজিদে জায়গার সংকট রয়েছে। প্রকল্পের প্রকৌশলী জোসেফ তাহাত কমিশনারদের জানান, শুক্রবারের জুমার নামাজে প্রায় ১২০টি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আসে, অথচ বর্তমান ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৬৪টি গাড়ির। নতুন স্থাপনায় ২৩৫টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আপিলকারী পক্ষের প্রতিনিধি আন্দ্রেয়া আর্চুলেটা স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের আপত্তি কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নয়, বরং যানবাহন চলাচল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে। আপিল খারিজ হলেও মসজিদ নির্মাণের জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। অনুমোদনের সঙ্গে মোট ১৫টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৬ ফুট রাখার পাশাপাশি সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং ভবনের বাইরে মাইকে শব্দ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্মাণকাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার আগে বার্নালিলো কাউন্টি, আলবুকার্ক নগর কর্তৃপক্ষ এবং নিউ মেক্সিকো পরিবহন বিভাগের অনুমোদনসহ যানবাহন চলাচলের ওপর প্রভাবসংক্রান্ত সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। প্রকল্পের কারণে সড়কের উন্নয়ন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হতে পারে। দুই শহরের ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ‘রিলিজিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসনস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভূমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট আইনি শর্ত মানতে হয়। ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ কিংবা অযৌক্তিকভাবে ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করাও এই আইনের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। ফলে ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোর ঘটনাগুলো শুধু দুটি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকার এবং স্থানীয় প্রশাসনিক বিধিমালার প্রয়োগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংবাদসূত্র: কার্ডিনাল নিউজ, নিউ মেক্সিকো সেন্টিনেল ও দ্য পেপার।
যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের কারাগার কিনল ৪৯৫ মিলিয়নে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট, তৃষ্ণা মেটান যে পানীয় দিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় যৌ ন অসদাচরণের অভিযোগে হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এইচ-১বি (H-1B) ভিসাধারী কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (টিডিএ) জানিয়েছে, বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল এমন কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু অনুদান দেওয়া হবে না। টেক্সাসের কৃষিমন্ত্রী সিড মিলার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানান, অঙ্গরাজ্যটির স্থানীয় কর্মীদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে সরকারি তহবিল নির্দেশ করার লক্ষ্যেই এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতি ঘোষণার সময় কৃষিমন্ত্রী সিড মিলার যুক্তি দেন, টেক্সাসের সাধারণ মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে কর দেন। তাই এই করের টাকায় সাময়িক বিদেশি শ্রমিকের বদলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া উচিত। তিনি টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটসহ রাজ্যের অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রতিও নিজ নিজ দপ্তরে ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এমন বিধিনিষেধ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্কিলস্টর্ম-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হানি গিরগিস এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, কোম্পানিগুলো চাইলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতেই পারে, কিন্তু করদাতাদের অর্থে সেই সিদ্ধান্তের ভর্তুকি দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। তবে এই বিধিনিষেধের কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। স্বাধীন বোর্ড বা কমিশনের অধীনে পরিচালিত অনুদান, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান এবং রাজ্য সরকারের ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে এই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য হবে না। এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বিশেষায়িত কাজের জন্য বিদেশি পেশাদারদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। তবে কর্মক্ষেত্রে আমেরিকানদের সাথে বিদেশিদের প্রতিযোগিতার কারণে এই ভিসা কর্মসূচি নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। স্থানীয়দের কাজের সুযোগ বাড়াতে টেক্সাসের এই নতুন নীতি সেই বিতর্কে এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্র্যান্সজেন্ডার জামাতাকে হ ত্যার দায় স্বামীর ওপর চাপালেন অভিযুক্ত ৭৭ বছর বয়সী শাশুড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, আগেই পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ময়লার ব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির ম রদেহ, তদন্তে পুলিশ
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ওঠা বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগকে 'প্রায় নিশ্চিতভাবেই সত্য' বলে মন্তব্য করে খোদ নিজ দলের ভেতরেই আলোড়ন তৈরি করেছেন মিনেসোটার এক বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট নেতা। মিনেসোটার সাবেক স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী রাজনৈতিক কৌশলবিদ জো রাডিনোভিচ গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ধারাবাহিক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ইলহান ওমর এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বিষয়টিকে ডানপন্থীদের ইসলামোফোবিক বা বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র বলে যে দাবি করে আসছে, তা কোনোভাবেই সত্য নয়। এর পাশাপাশি ইলহান ওমরের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোও সহজে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করলে প্রমাণগুলো ওমরের পক্ষে যায় না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। রাডিনোভিচের এই মন্তব্যের পর মিনিয়াপলিসের ডেমোক্র্যাটিক কর্মী ও ইলহান ওমরের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক কর্মকর্তা ব্রায়ানা রোজ লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ব্রায়ানা একে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন যে, এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র। তবে রাডিনোভিচ তার অবস্থানে অনড় থেকে জানান, ওমরের দাবির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ নেই, বরং পর্যাপ্ত প্রমাণ বলছে যে এই নির্দিষ্ট অভিযোগটি সত্য। তিনি আরও বলেন, যারা এখনো ওমরের কথা বিশ্বাস করছেন, তারা আসলে চোখের সামনের অসংখ্য প্রমাণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, রাডিনোভিচ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিনেসোটা হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর সদস্য ছিলেন এবং তিনি মিনিয়াপলিসের বর্তমান মেয়র জেকব ফ্রের চিফ অফ স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ডন স্যামুয়েলসের দুটি নির্বাচনী প্রচারণাও পরিচালনা করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, অভিবাসন জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তিনি ২০০৯ সালে তার নিজের ভাই আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন। সম্প্রতি তার অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গত ১২ অক্টোবর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনের (এইচএসআই) এজেন্টরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তার পাসপোর্ট, ফোন এবং কম্পিউটার জব্দ করে। দশক পেরোনো নাগরিকত্বের ফর্মে ইলহান বা তার প্রয়াত পিতা নুর মোহাম্মদ কোনো জালিয়াতি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বারাক ওবামার শাসনামলে এই বিয়ের জালিয়াতি নিয়ে প্রথম তদন্ত শুরু হলেও বাইডেন প্রশাসনে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ইলহান ওমরের কার্যালয় থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাডিনোভিচের মন্তব্যের জবাবে ওমরের নির্বাচনী প্রচারণা শিবির থেকে তাকে একজন 'মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি' ও 'রিপাবলিকানদের দালাল' বলে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়ছেন ৫১ মুসলিম আমেরিকান, কংগ্রেসে প্রার্থী ১১ জন
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি নেতাদের সম্মেলন