সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৮:৩৩
সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ
সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ

বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি ইয়েমেন ও সৌদি আরবে তাদের একের পর এক হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে।

 

গত সপ্তাহে হুতিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'বাব আল-মান্দেব' প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের বিশাল 'ইস্ট-ওয়েস্ট' তেল পাইপলাইনে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে পাইপলাইনটির কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে; গত মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম লাফিয়ে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে।

 

 

জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সমর্থিত হুতি-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোও এই শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বরে এই মিত্রদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএই-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর জন্য আসা অস্ত্রের ওপর সৌদি বাহিনী বোমা হামলা চালালে আবুধাবি এই সংঘাত থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়, যার ফলে হুতি-বিরোধী জোট ভেঙে পড়ে।

 

এই অন্তর্দ্বন্দ্ব জোটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়, কারণ ইউএই-সমর্থিত বাহিনীর হাতেই ছিল বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত 'পেরিম দ্বীপ'-এর নিয়ন্ত্রণ। ফলে গত সপ্তাহান্তে হুতিদের আকস্মিক হামলায় দ্বীপটি এবং ইয়েমেন উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর পতন ঘটে। এখন ২০ মাইল চওড়া এই প্রণালী দিয়ে পার হতে যাওয়া যেকোনো সৌদি জাহাজের জন্যই হুতিরা বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে এই জলপথটিই সৌদির প্রধান রপ্তানি রুটে পরিণত হয়েছিল। এখন সৌদির সামনে কেবল সুয়েজ খালের পথ খোলা আছে, যা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর যাত্রায় আরও কয়েক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দেবে।

 

মিত্রদের এই বিভাজনের কারণে হুতিদের মোকাবিলার পুরো চাপ এখন সৌদি আরবের ওপর এসে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াদের ধীরগতির প্রতিক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরানের দিক থেকে চাপের মুখে থাকা সৌদি আরব হুতিদের হামলার বিরুদ্ধে ইয়েমেন থেকে আসা বিমান হামলার অনুরোধে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন সামরিক সহায়তার জন্য গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে কোনো হামলায় জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লোহিত সাগরের প্রধান বন্দর থেকে গত মাসে সৌদির তেল রপ্তানি প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার পর, এবার তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আরও বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

৭৪৫ মাইল দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর, ইয়ানবু বন্দরে এখন সৌদির কাছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানিযোগ্য তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতা ইয়োসি
হিন্দুরা গরুর মূত্র খায়! এবং গরুর পূজা করে, ভারত নিয়ে উপহাস ইসরায়েলি ধর্মীয় নেতার

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভারতীয় চিকিৎসকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতা ইয়োসি মিজরাহি। তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত ও ইসরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং ভারতীয়দের জীবনযাপন নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিজরাহিকে ভারতের গরু পূজার প্রচলিত ধারণা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের কিছু মানুষ গোমূত্র পান করেন এবং তাঁদের মধ্যে চিকিৎসকরাও রয়েছেন। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে গোমূত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উপহাস করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সড়কে গরুর উপস্থিতি এবং এর কারণে যানজট তৈরির বিষয় নিয়েও তিনি রসিকতা করেন বলে জানা গেছে। সমালোচকদের মতে, একটি দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে এ ধরনের সাধারণীকরণ বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের মতো একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করায় বিতর্ক আরও বেড়েছে।   ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অংশের কাছে গরু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ঐতিহ্যে গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ভারতের সব হিন্দু একইভাবে ধর্মীয় আচার পালন করেন না। অঞ্চল, সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী এসব রীতিনীতিতে পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো একটি প্রচলিত আচরণকে সমগ্র ভারতীয় জনগোষ্ঠীর অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরা যথাযথ নয়। গোমূত্রের ব্যবহার নিয়েও ভারতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। কিছু ঐতিহ্যগত ধর্মীয় ও লোকজ অনুশীলনে এর উল্লেখ থাকলেও তা সব ভারতীয় বা সব হিন্দুর সাধারণ অভ্যাস নয়। একইভাবে চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠী হিসেবে এ ধরনের অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। মিজরাহির বক্তব্যে এমন তথ্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।   বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি লেখক ইয়েশায়া রোজেনম্যানও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে অন্য দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতেও সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। এ অবস্থায় একজন ইহুদি ধর্মীয় নেতার ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   তবে মিজরাহির বক্তব্যকে ইসরায়েল সরকার কিংবা দেশটির ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তিনি একজন স্বতন্ত্র ধর্মীয় বক্তা এবং তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য কোনো রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াকে ভারত বা ইসরায়েলের সব নাগরিকের মতামত হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং কোন অনুষ্ঠানে মিজরাহি এসব মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিতর্কের পর তিনি প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিংবা বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।   ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী থাকা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইয়োসি মিজরাহির ভিডিও ঘিরে চলমান বিতর্কেও সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।    

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৩:১৩
১৫ বছরের বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন ভেঙে মাঝপথে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো মার্কিন যাত্রীদের

১৫ বছরের বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন ভেঙে মাঝপথে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো মার্কিন যাত্রীদের

ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে

ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর গণকবর খোঁড়ার মহড়া

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর গণকবর খোঁড়ার মহড়া

ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি
ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) তাদের হালনাগাদ করা হতাহতের তালিকায় আরও দুই সেনার নাম যুক্ত করেছে। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত মার্কিন সেনার সরকারি সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।   পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য যুক্ত হওয়া দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুই হয়েছে যুদ্ধবহির্ভূত কারণে। এদের মধ্যে একজন সেনাসদস্য অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন এবং অপরজনের মৃত্যুর কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। নতুন এই দুই মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হওয়ার ফলে পেন্টাগনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নিহত মোট সেনার অর্ধেকের বেশি অ-যুদ্ধজনিত বা যুদ্ধবহির্ভূত ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   মোট ২৩ জন নিহত মার্কিন সেনার মধ্যে ১১ জন সরাসরি শত্রুর হামলায় বা সংঘাতে নিহত হয়েছেন এবং বাকি ১২ জন অ-যুদ্ধজনিত প্রাণহানির তালিকায় রয়েছেন।   পেন্টাগন সাধারণত সরাসরি শত্রুর আঘাত ছাড়া বিমান বা যানবাহন দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু হলে সেটিকে ‘অ-যুদ্ধজনিত’ মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। তবে সামরিক অভিযান চলাকালীন এসব ঘটনা ঘটায় এগুলোকেও যুদ্ধের মোট প্রাণহানির অংশ হিসেবেই গণনা করা হয়।   পেন্টাগনের 'ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম' (DCAS)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই সংঘাতে আরও ৮৬৫ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ৪৪৮ জন আহত হয়েছেন গত ৭ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৭:২৭
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ

নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়

নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়

ইনস্টাগ্রামের মতো রঙিন নয় প্রবাসী জীবন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের ৭ পরামর্শ

ইনস্টাগ্রামের মতো রঙিন নয় প্রবাসী জীবন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের ৭ পরামর্শ

পার্কিং নিয়ে বিরোধে ২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি
পার্কিং নিয়ে বিরোধে ২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি, একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা

গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। হামলার ২২ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।   ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।হত্যাকাণ্ডের নতুন একটি ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচবার গুলি চালানো হয়। মাঝপথে পিস্তলে নতুন করে গুলি ভরেও হামলা চালান অভিযুক্ত ব্যক্তি।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ অক্টোবর সকালে লক্ষ্ণৌয়ের সাদাতগঞ্জ এলাকায়। একটি খালি জায়গায় গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়।    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন। এরপর পিস্তলে নতুন করে গুলি ভরে আরও তিনটি গুলি চালান। পুরো ঘটনাটি আশপাশের মানুষের সামনে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অভিযুক্তকে বলতে শোনা যায়, ইট দিয়ে আঘাত করার কারণেই তিনি গুলি চালিয়েছেন। তবে এটি অভিযুক্তের নিজের বক্তব্য; ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট তদন্তের বিষয়।    নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবাজি তিওয়ারি, শিবেন্দ্র তিওয়ারি এবং সুয়াশ তিওয়ারি। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। শিবাজি ও শিবেন্দ্র ছিলেন দুই ভাই এবং সুয়াশ ছিলেন শিবাজির ছেলে।   গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহত সুয়াশের একটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবসা ছিল। আগামী ৫ ডিসেম্বর তাঁর বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।   পুলিশের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলায় অভিযুক্ত শুক্লাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল এবং চারটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে তাঁকে মার্চেন্ট নেভিতে নেভিগেশন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দাঙ্গাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।   এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তের পরিবারের পাঁচ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা, বোন ও তিন আত্মীয়ের মধ্যে চারজনের পরিচয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ আরও একজন অভিযুক্তের সন্ধান করছে।এদিকে লক্ষ্ণৌ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বাড়ির একটি অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে।  হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ বিষয়ে আগেও পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।   এ ঘটনার পর সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক অজয় চৌরাসিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    তিনজনের মৃত্যুর পর স্বজনেরা বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে নেওয়ার বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৩:২৭
রুমমেটকে হ ত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ, সুইজারল্যান্ডে গ্রেপ্তার ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি

রুমমেটকে হ ত্যার পর ম রদেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ, সুইজারল্যান্ডে গ্রেপ্তার ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি

পুনে শহরের একটি যৌনপল্লি থেকে ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার

চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচার, পুনের যৌনপল্লি থেকে ৬ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার

১৬ বছর স্কুলে না গিয়েও বেতন নেওয়ার অভিযোগ

১৬ বছর বেতনসহ অসুস্থতার ছুটিতে শিক্ষিকা, অবশেষে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ধরা

0 Comments