সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! মার্কিন সেনাদের সতর্ক করে ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১০:৪৯
পৃথিবীর কক্ষপথ ও চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীর কক্ষপথ ও চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পৃথিবীর কক্ষপথের পাশাপাশি চাঁদের আশপাশের মহাকাশেও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বুধবার ওয়াশিংটনের কাছে এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে সামরিক সদস্য ও প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে এ কথা জানান। একই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশবাহিনীর কর্মকর্তারা কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েনের তথ্য প্রকাশ করেন। 

 

জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সমুদ্রের তলদেশ থেকে পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে চাঁদের আশপাশের অঞ্চল পর্যন্ত লড়াই, টিকে থাকা এবং জয়ী হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উঠে আসে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী মহাকাশও সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক শাখা স্পেস ফোর্সও পৃথিবীর কক্ষপথ এবং চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন সাংবাদিকদের জানান, মানবজাতি মহাকাশের আরও গভীরে প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য সেখানে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরির দায়িত্ব স্পেস ফোর্সের।

 

এর আগে একই সম্মেলনে এয়ার ফোর্সের সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন কক্ষপথে ব্যবহারের জন্য কার্যকর ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। গ্যাগননের দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা মহাকাশে যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বিশেষভাবে চীনের মহাকাশ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

 

চীন ২০২৪ সালে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি পৃথক সামরিক ইউনিট গঠন করে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, চীন সবসময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে সমর্থন করে এবং মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার পাশাপাশি সেখানে সামরিক প্রতিযোগিতা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান। 

 

মহাকাশে সামরিক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই অনুমোদন করেছে। চুক্তিতে চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তুগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে এবং কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে প্রচলিত ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে বা চাঁদের আশপাশে মোতায়েনের ক্ষেত্রে চুক্তির নির্দিষ্ট সীমা কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মহাকাশের সব অঞ্চলে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে মহাকাশে কী ধরনের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। স্পেস ফোর্সের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সামরিক নীতির প্রশ্নে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। 

 

এদিকে আগামী পাঁচ বছরে স্পেস ফোর্সের আকার প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্যাগনন। বর্তমানে যে জনবল রয়েছে, তা বাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার সদস্য করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের অধীনে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সক্ষমতা তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা। তবে মহাকাশে সামরিক অস্ত্রের উপস্থিতি ও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য শক্তিধর দেশের মধ্যে মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত
বাবা-মা পাশে নেই, এবার অন্তত আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারক। শিশুদের আশ্রয় আবেদনের সাক্ষাৎকার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং সময় পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।   গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক ব্রেন্ডান হার্সন এই আদেশ দেন।মামলাটি করেছিলেন অভিবাসী শিশুদের নিয়ে কাজ করা কয়েকটি আইনি সহায়তা সংস্থা। তাদের মধ্যে রয়েছে অ্যামিকা সেন্টার ফর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস এবং দ্য ডোর।   আগে আশ্রয়প্রার্থী অভিভাবকহীন শিশুদের সাক্ষাৎকারের জন্য কমপক্ষে ২১ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম ছিল। কিন্তু নতুন নীতিতে সেই সময়সীমা তুলে দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে শিশুদের জানানো হচ্ছিল।   এ ছাড়া সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগও কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছিল। নতুন নিয়মে কেবল বিশেষ ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সময় পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়।   অভিবাসী শিশুদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ে সাক্ষাৎকারের নোটিশ পেলে শিশুদের পক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।   বিচারক প্রশাসনকে আগের সাক্ষাৎকার-সংক্রান্ত নিয়ম পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর আদেশ অনুযায়ী, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে আদালত দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।   বিচারক উল্লেখ করেছেন, অভিভাবকহীন শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনা করে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে। ২০০৮ সালের উইলিয়াম উইলবারফোর্স ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন আইনের সুরক্ষার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে অনেক অভিবাসী শিশু বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়াই আশ্রয়ের আবেদন করে। তাদের জন্য সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, আইনজীবীর সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আদালতের এই সাময়িক আদেশ শিশুদের সেই প্রস্তুতির সুযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।   তবে এটি সব অভিবাসীর জন্য সাধারণভাবে নির্বাসন বন্ধের আদেশ নয়। এটি নির্দিষ্টভাবে অভিভাবকহীন শিশুদের আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের নিয়ম নিয়ে দেওয়া আদালতের সাময়িক নির্দেশ।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৮:৫
অভিবাসীদের জন্য শীতের পোশাক নিয়ে হাজির প্রবীণরা

৯৭ বছর বয়সেও থামেনি মানবিকতা, অভিবাসীদের জন্য শীতের পোশাক নিয়ে হাজির প্রবীণরা

উৎসবে এক হলো শতাধিক পরিবার

ছয় বছরের উইন্টার নেই, তবু তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে উৎসবে এক হলো শতাধিক পরিবার

অভিবাসীদের জন্য নিউইয়র্কের বিশেষ বার্তা

সরকারি সুবিধা নিলেই গ্রিনকার্ড বাতিল নয়, অভিবাসীদের জন্য নিউইয়র্কের বিশেষ বার্তা

ফ্লোরিডায় ৯ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত
ফ্লোরিডায় ৯ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত, একাধিক প্রাণহানির খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্স এলাকায় নয়জন আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আবাসিক এলাকার একটি মোবাইল হোম পার্কের কাছে বিমানটি আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে উড়তে থাকে ঘন কালো ধোঁয়া। দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং আহতদের অবস্থা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি ছিল লিয়ারজেট ৬০ মডেলের একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ। এতে মোট নয়জন আরোহী ছিলেন। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে বাহামাসের নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুপুর প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে বিমানটি পাম বিচ কাউন্টির ক্রেস্টহ্যাভেন এলাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়। তবে বিমানের আরোহীদের পরিচয় ও তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি দ্রুতগতিতে আকাশ থেকে নিচের দিকে নেমে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে সেটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং বিকট বিস্ফোরণের সঙ্গে আগুনের বিশাল গোলা তৈরি হয়। দুর্ঘটনাস্থলে সড়কের ওপর বড় গর্ত তৈরি হয় এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। একটি মোবাইল বাড়িও আগুন ও ধ্বংসের কবলে পড়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পাম বিচ কাউন্টি ফায়ার রেসকিউ দুর্ঘটনাটিকে বহু হতাহতের আশঙ্কাযুক্ত জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনাস্থলে দমকলকর্মী, উদ্ধারকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দলের সদস্যরা পৌঁছান। নিউইয়র্ক পোস্টসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম একাধিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রাথমিক প্রতিবেদনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানের কেউ বেঁচে আছেন কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। ফলে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।   দুর্ঘটনার কারণে মিলিটারি ট্রেইলের উত্তরমুখী ও দক্ষিণমুখী উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। ক্রেস্টহ্যাভেন বুলেভার্ড থেকে টেনথ অ্যাভিনিউ নর্থ পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান ও তদন্তের স্বার্থে এলাকাটি এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য চালকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।   বিমানটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হলো, তা এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড দুর্ঘটনার তদন্ত করছে। এ তদন্তের নেতৃত্ব দেবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড। বিমানের উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য, আবহাওয়া, সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি এবং দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।   ফ্লোরিডার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আবাসিক বাড়ি ও যানবাহনের কাছাকাছি বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দুর্ঘটনায় বিমানের আরোহীদের পাশাপাশি মাটিতে থাকা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নিউইয়র্ক পোস্ট, ডব্লিউএফটিভি এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:৪৩
অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন

ভার্জিনিয়ায় বসেছিল নটরডেমিয়ানদের মিলনমেলা, অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন

এসএনএপি সুবিধাভোগীদের জন্য সুখবর

স্ন্যাপ কার্ড সুবিধাভোগীদের জন্য সুখবর, ফল-সবজি কিনতে দৈনিক মিলবে ১৪ ডলারের কুপন

নিউইয়র্কের হ্যালোইন প্যারেডে ২০ লাখ দর্শকের সমাগম

নিউইয়র্কের হ্যালোইন প্যারেডে ২০ লাখ দর্শকের সমাগম, বিচিত্র পোশাকে রঙিন ম্যানহাটন

স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধসহ বদলাচ্ছে নাগরিক সেবা
৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে নির্বাচন, স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধসহ বদলাচ্ছে নাগরিক সেবা

নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। যাঁরা নিবন্ধিত ভোটার, তাঁরা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা জানতে নির্বাচন বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিজের ঠিকানা দিয়ে খুঁজে নেওয়া যাবে।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলো ৩ নভেম্বর বন্ধ থাকবে না; বরং সব শিক্ষার্থীর জন্য দিনটি হবে দূরশিক্ষণের। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনে না গিয়ে বাড়ি থেকে অনলাইনে ক্লাস করবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। যেসব পরিবারের প্রয়োজনীয় যন্ত্র নেই, তারা নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চাইতে পারবে।    নিউইয়র্ক সিটির সরকারি দপ্তর এবং সিটি ও স্টেট আদালত নির্বাচনের দিন বন্ধ থাকবে। তবে মোটরযান বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তর খোলা থাকবে। ডাক সরবরাহও স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে নগরীর সরকারি তথ্য জানানো হয়েছে।   নির্বাচনের দিন নিউইয়র্কে রাস্তা পরিষ্কারের জন্য নির্ধারিত বিকল্প পার্কিং বিধি স্থগিত থাকবে। তবে পার্কিং মিটারের নিয়ম বহাল থাকবে। একই দিনে নগরীতে ময়লা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ও জৈব বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে না। মঙ্গলবার যাঁদের নিয়মিত ময়লা সংগ্রহের দিন, তাঁদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্জ্য বাইরে রাখতে বলা হয়েছে; সংগ্রহ শুরু হবে বুধবার, ৪ নভেম্বর থেকে।    নিউইয়র্কের পাশাপাশি নিউ জার্সিতেও আগামীকাল সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যটির নির্বাচন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। অর্থাৎ নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির ভোটের সময় এক নয়।    নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো—শিশুদের স্কুলের অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতি, কর্মস্থলে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং ভোট দেওয়ার সময় নির্ধারণ। ভোটার হলে নিজের নির্ধারিত কেন্দ্র ও ব্যালটের তথ্য আগেই যাচাই করে নেওয়া ভালো।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৫:৫০
ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা

কুইন্সে ৭ নম্বর ট্রেনের মেরামত শেষ হতে আরও পাঁচ মাস, ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা

আজ থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্থিক সহায়তা

শীতের বিল নিয়ে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, আজ থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্থিক সহায়তা

ছেলেকে শেষবার দেখতে ভিসার অপেক্ষায় মা

স্কুলে যাওয়ার পথেই গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের, ছেলেকে শেষবার দেখতে ভিসার অপেক্ষায় মা

0 Comments