প্রাইম সাবস্ক্রাইবারদের অ্যাকাউন্টে আসছে ২০০ ডলার, কারা পাবেন এই অর্থ
অ্যামাজন প্রাইমের গ্রাহকদের জন্য রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়ছে। ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে অ্যামাজনের প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের সমঝোতার আওতায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে সবাই এই অর্থ পাবেন না, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
এর আগে যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমা বেড়ে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন নিয়মে আগে যেসব প্রাইম গ্রাহক ১০টির কম সুবিধা ব্যবহার করেছেন, তাদের পাশাপাশি ১১ থেকে ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকরাও রিফান্ডের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। অর্থাৎ আগের তুলনায় আরও বেশি গ্রাহক এই অর্থ ফেরতের আওতায় আসতে পারেন।
রিফান্ডের অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যোগ্য গ্রাহকদের ভেনমো, পেপ্যাল অথবা চেকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতে পারে। তবে কার কত টাকা ফেরত দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যামাজন প্রাইম ব্যবহারের তথ্য ও যোগ্যতার ওপর।
যেসব গ্রাহক এরই মধ্যে রিফান্ড পেয়েছেন, তারাও অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তহবিল অবশিষ্ট থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন। সব মিলিয়ে একজন গ্রাহকের মোট রিফান্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এফটিসির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন গ্রাহকদের প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা গ্রাহকদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই অ্যামাজনকে গ্রাহকদের রিফান্ড দেওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের দেওয়ানি জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
সমঝোতার আওতায় অ্যামাজন রিফান্ডের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার এবং দেওয়ানি জরিমানা হিসেবে আরও ১০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। রিফান্ডের অর্থ বিতরণের পরবর্তী ধাপ ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এফটিসি—রিফান্ডের নামে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বা টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রাইবাররা তাদের যোগ্যতা ও রিফান্ড পাওয়ার বিষয়ে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করাই নিরাপদ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি, এইচ-১বি ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং জাতিগত বৈষম্যের উদ্বেগের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি নিজেদের সমর্থন নতুন করে মূল্যায়ন করছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান ভোটারদের একাংশ। বিশেষ করে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা ও চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় কমিউনিটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় এইচ-১বি ভিসা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগের জন্য এই ভিসা ব্যবহার করা হয়। ভারতীয় নাগরিকেরা দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসার অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। ফলে ভিসা আবেদন, অতিরিক্ত খরচ, নবায়ন এবং চাকরির শর্তসংক্রান্ত পরিবর্তন ভারতীয় পেশাজীবী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অভিবাসন নীতির পাশাপাশি জাতিগত বৈষম্য ও অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে কমিউনিটির একাংশের। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনো অস্থায়ী ওয়ার্ক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাঁদের কাছে অভিবাসন নীতির পরিবর্তন সরাসরি ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। চাকরি পরিবর্তন, ভিসা নবায়ন কিংবা পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জরিপেও ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া অনেকে। এসব তথ্য ইঙ্গিত করছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করা ভোটারদের একাংশ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে ভারতীয় আমেরিকান ভোটারদের সবাই একই রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী নন। তাঁদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের সমর্থক রয়েছেন। করনীতি, ব্যবসার পরিবেশ, অর্থনীতি, অভিবাসন, শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিভিন্ন বিষয় ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। ফলে অভিবাসন নীতি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেই কোনো ভোটার রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। কার্নেগি ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউগভের অক্টোবর ২০২৬ সালের নতুন সমীক্ষায় রাজনৈতিক সমর্থনের পরিবর্তনের আরও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এক হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ভারতীয় আমেরিকানদের ৬২ শতাংশ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে এবং ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। আরও ১২ শতাংশ তখনো সিদ্ধান্তহীন ছিলেন। জরিপটি ৭ থেকে ২৭ অক্টোবর পরিচালিত হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত কার্নেগির আরেক জরিপে ৭১ শতাংশ ভারতীয় আমেরিকান ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। অভিবাসন নীতিতে অসন্তোষ ছিল ৬৪ শতাংশের, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতিতে ৬৮ শতাংশের এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতিতে ৭০ শতাংশের। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এইচ-১বি ভিসার নতুন আবেদনে এক লাখ ডলার ফি আরোপের পদক্ষেপও ভারতীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক তৈরি করেছে। কার্নেগির জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তবে ফি সংক্রান্ত নিয়মের প্রয়োগ আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য সরকারি শর্তের ওপর নির্ভর করে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের রাজনৈতিক অবস্থানের এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কমিউনিটির বৃহত্তর উদ্বেগেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের ভিসা, চাকরির নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জাতিগত বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো আগামী দিনের রাজনৈতিক সমর্থন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে জরিপের ফলাফল ভোটারদের মনোভাবের চিত্র তুলে ধরে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জিপ কিনতে গিয়ে জাল চেকে গ্রেপ্তার নারী, জামিন করাতে এসে ধরা সঙ্গিনীও
‘সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না’, ইসলাম গ্রহণের পর মার্কিন আদিবাসী নারী
মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না বসিয়ে রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লাতিনো ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তন বড় রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিবাসন নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ে অসন্তোষের কারণে অনেক লাতিনো ভোটার এবার রিপাবলিকানদের ছেড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন। এতে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি এলাকাতেও নির্বাচনী ফলাফলে বড় পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ লাতিনো ভোটার অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা দিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠন ইউনিডোসইউএসের প্রধান নির্বাহী জ্যানেট মুরগুইয়া। এটি দেশটির ইতিহাসে লাতিনো ভোটারদের অন্যতম বড় অংশগ্রহণ। টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থের ভোটার ৫৬ বছর বয়সী জেরোনিমো পেরেজের অভিজ্ঞতা এই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ। ভোট দিতে গিয়ে তাঁর মনে ছিল এক বন্ধুর কথা, যাঁকে নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিও তাঁকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করেছে বলে তিনি রয়টার্সকে জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৪টি সংখ্যাগরিষ্ঠ লাতিনো অধ্যুষিত কাউন্টিতে ২০২৪ সালের তুলনায় রিপাবলিকানদের ভোটের অংশ গড়ে ১৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। টেক্সাসের হিডালগো কাউন্টিতে এই পতন প্রায় ২৫ শতাংশ পয়েন্ট এবং ফ্লোরিডার মায়ামি-ডেড কাউন্টিতে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট। নির্বাচনে অর্থনীতি ছিল লাতিনো ভোটারদের সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়। রয়টার্সের উদ্ধৃত এসএসআরএসের নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেছেন। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অনেক ভোটার অভিবাসন অভিযান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত সর্বশেষ ভোটের হিসাবে হিনোজোসা পেয়েছেন ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অ্যাবট পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ ভোট। একই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেভিয়ার বেসেরা গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। ফলে আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল দুই অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাস একই সময়ে লাতিনো গভর্নরের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে যাচ্ছে। কানসাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও অভিবাসন অভিযান নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে। সেপ্টেম্বরে ফোর্ড, ফিনি ও সিওয়ার্ড কাউন্টিতে আইসিইর অভিযানে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটক হন বলে রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব এলাকায় মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসী কর্মী কাজ করেন। অভিযানের পর স্থানীয় সংগঠকেরা ভোটার নিবন্ধনে উৎসাহ দিতে কাজ করেন। পরে তিনটি ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত কাউন্টিতেই সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয় পান। তবে লাতিনো ভোটাররা স্থায়ীভাবে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নিষেধ করেছেন ভোটার সংগঠকেরা। তাঁদের মতে, দুই দলকেই এই জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সমস্যা, অভিবাসনসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং স্থানীয় প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই নির্বাচনী পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিবাসন নীতি, কর্মসংস্থান, বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্যের দাম ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনকে প্রভাবিত করে। তবে লাতিনো ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সব অভিবাসীর মতামত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভোট ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো এই ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে কী ধরনের নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
শিক্ষার্থীদের চিঠিতেও মিলল না মুক্তি, প্রিয় বেসবল কোচকে আটকে রাখল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
4. যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজের সুযোগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ কমিউনিটি কলেজে ডিগ্রি ছাড়াই বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ
গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা, উপহার ও চিঠি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেটে আবদুল এল-সায়েদের ঐতিহাসিক বিজয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। এল-সায়েদকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, "তুমি 'ইনশাআল্লাহ'-কে 'আলহামদুলিল্লাহ'-তে পরিণত করেছ।" মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের ক্রমাগত উত্থান ও সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ইলহান জানান, এখন থেকে মার্কিন কংগ্রেসে মোট আটজন মুসলিম প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করবেন জেনে তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নানা ধরনের বাধা পেরিয়ে আসার কথা স্মরণ করে তিনি তার বার্তায় আরও লেখেন, "তারা আমাদের বলেছিল যে আমরা কথা বলতে পারব না, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারব না এবং এত দূর পর্যন্ত আসতে পারব না। কিন্তু আমরা তা পেরে দেখিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।" এল-সায়েদের এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর ইলহান ওমরের এই বার্তা যেন সেই ঐতিহাসিক সাফল্যেরই এক উদ্যাপন।
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে ও তিন কুকুর, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করল দুই কিশোর
১৭ বছর বয়সে থেমে যায় হেইলির জীবন, তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার