সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

প্রাইম সাবস্ক্রাইবারদের অ্যাকাউন্টে আসছে ২০০ ডলার, কারা পাবেন এই অর্থ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:৫৩
অ্যামাজন প্রাইমের যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড
অ্যামাজন প্রাইমের যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড

অ্যামাজন প্রাইমের গ্রাহকদের জন্য রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়ছে। ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে অ্যামাজনের প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের সমঝোতার আওতায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে সবাই এই অর্থ পাবেন না, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

 

এর আগে যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমা বেড়ে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

নতুন নিয়মে আগে যেসব প্রাইম গ্রাহক ১০টির কম সুবিধা ব্যবহার করেছেন, তাদের পাশাপাশি ১১ থেকে ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকরাও রিফান্ডের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। অর্থাৎ আগের তুলনায় আরও বেশি গ্রাহক এই অর্থ ফেরতের আওতায় আসতে পারেন।

 

রিফান্ডের অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যোগ্য গ্রাহকদের ভেনমো, পেপ্যাল অথবা চেকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতে পারে। তবে কার কত টাকা ফেরত দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যামাজন প্রাইম ব্যবহারের তথ্য ও যোগ্যতার ওপর।

 

যেসব গ্রাহক এরই মধ্যে রিফান্ড পেয়েছেন, তারাও অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তহবিল অবশিষ্ট থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন। সব মিলিয়ে একজন গ্রাহকের মোট রিফান্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

 

এফটিসির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন গ্রাহকদের প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা গ্রাহকদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই অ্যামাজনকে গ্রাহকদের রিফান্ড দেওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের দেওয়ানি জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

সমঝোতার আওতায় অ্যামাজন রিফান্ডের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার এবং দেওয়ানি জরিমানা হিসেবে আরও ১০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। রিফান্ডের অর্থ বিতরণের পরবর্তী ধাপ ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

 

তবে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এফটিসি—রিফান্ডের নামে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বা টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রাইবাররা তাদের যোগ্যতা ও রিফান্ড পাওয়ার বিষয়ে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করাই নিরাপদ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অস্টিনে আইসিই এজেন্টের গু লি তে আহত ব্যক্তি, তদন্তের দাবি
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গুলিতে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত গরম থেকে সুরক্ষা দিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে সেই খরচ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, শ্রমিকদের তাপজনিত চাপ কমানোর পাশাপাশি এসব ব্যবস্থা কারখানার উৎপাদন ও আয় ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষণায় ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেক সময় কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি থাকে। বিশেষ করে আয়রনিং ও ফিনিশিং বিভাগে কাজ করা শ্রমিকেরা অতিরিক্ত গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। অতিরিক্ত তাপের কারণে শ্রমিকদের কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানার আয়েও প্রভাব পড়ে।   গবেষকদের হিসাবে, ওই আটটি কারখানায় অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের কারণে বার্ষিক আয় গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ফলে গরমের সমস্যা শুধু শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের বিষয় নয়, এটি পোশাক প্রস্তুতকারক এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে।   তাপ কমাতে ছাদে প্রতিফলনশীল রং ব্যবহার, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং কারখানায় বায়ু চলাচল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে গবেষণায়। গবেষকদের মতে, এসব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে পারে এবং প্রায় চার বছরের মধ্যে সেই অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।   গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড রয়টার্সকে বলেন, নতুন গবেষণা পোশাকের ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকে তাপ মোকাবিলায় কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিচ্ছে। তাঁর মতে, শীতলীকরণে বিনিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে কারখানার কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা জানা না থাকলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিভিন্ন পোশাক ব্র্যান্ডও কারখানায় তাপ মোকাবিলার বিনিয়োগ কত দিনে উঠে আসতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার খরচ কে বহন করবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন। গবেষকেরা ব্র্যান্ডগুলোকে এমন সরবরাহকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যারা শ্রমিকদের জন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে।   এর আগে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও অংশীদারদের গবেষণায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করা না হলে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি আয় হারাতে পারে। এসব দেশ বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   এদিকে, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন বা এএএফএ গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রমিকদের অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষায় নতুন Heat Stress Toolkit প্রকাশ করেছে। এতে পোশাক ব্র্যান্ড ও কারখানাগুলোর জন্য তাপ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, কর্মপদ্ধতি এবং সরবরাহকারীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তাপ মোকাবিলার কিছু বিনিয়োগ যদি কোনো কারখানার জন্য এককভাবে আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভজনক না হয়, তাহলে ব্র্যান্ডগুলোকেও সেই খরচ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।   বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং উৎপাদন ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন গবেষণার ফল বলছে, কারখানা ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা শুধু শ্রমিক সুরক্ষার খরচ নয়; সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হলে এটি উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি কমানোর একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:১
৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

৫৪ হাজার ডলারের এইচ-১বি ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে ভার্জিনিয়া টেক

অ্যামাজন প্রাইমের যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড

প্রাইম সাবস্ক্রাইবারদের অ্যাকাউন্টে আসছে ২০০ ডলার, কারা পাবেন এই অর্থ

কিশোরী দারিয়া সারকভের স্মরণে ব্যস্ত সড়কে রাখা সিটি বাইকের পাশে ফুল ও বেলুন (প্রতীকী ছবি)

সাইকেল চালাতে ভালোবাসত দারিয়া, নিউইয়র্কে সেই সিটি বাইকেই হলো শেষ যাত্রা

নিউইয়র্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেয়র জোহরান মামদানি
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটি ও এর বাসিন্দাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় বা সময় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়নি।   ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগে দুইবার সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার হোয়াইট হাউসে তাদের সাক্ষাৎ হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা বৈঠক করেন, যেখানে নিউইয়র্কের আবাসন উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   রাজনৈতিকভাবে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলেও আগের বৈঠকগুলোতে তাদের আলোচনার পরিবেশ ছিল তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। পরে অবশ্য মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।   ফেব্রুয়ারির বৈঠকে মামদানি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের আদলে তৈরি একটি বিশেষ পত্রিকার প্রথম পাতা উপহার দেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’। ১৯৭৫ সালের আলোচিত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের আদলে তৈরি করা ওই উপহার দিয়ে নিউইয়র্কে নতুন ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন।   সোমবারের বৈঠকটি নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। এর পর ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:২৫
অবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়ার অভিযোগ

গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে প্তার মেক্সিকান নাগরিক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

১২ লাখ ডলারের সঞ্চয়ে স্টেটভেদে বদলে যাচ্ছে অবসরজীবনের হিসাব
১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:২
ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার সেজে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ভুয়া ফুটবলার সেজে ১৩ কোটি টাকার প্র তা র ণা, সামনে এল আরও ৩৫ নারী

ট্রাম্পের ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চে’ থাকবে ড্রোন ও স্নাইপার

স্মৃতিস্তম্ভের বদলে সামরিক কমপ্লেক্স! ট্রাম্পের আর্চে থাকবে ড্রোন-স্নাইপার

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির গভীর অর্থসংকট মোকাবিলায় নানামুখী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স বাড়লে বছরে ৩ হাজার ডলার হারাতে পারেন কর্মীরা

0 Comments