সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে কি ফের আবাসন সংকটের শঙ্কা, এক বছরে বাড়ি বাজেয়াপ্তের হার বেড়েছে ৪২ শতাংশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২১:৪
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া মালিকদের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশজুড়ে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি বাড়ি জব্দ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। তবে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধি দেখেই বড় ধরনের আবাসন সংকটের আশঙ্কা করা ঠিক হবে না। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বাড়ি জব্দের হার ঐতিহাসিকভাবে কম ছিল। নতুন পরিসংখ্যান সেই নিম্ন অবস্থান থেকে পুনরুদ্ধারের প্রবণতাও তুলে ধরছে।

 

সম্পত্তি ও আবাসনবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের (ATTOM) আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৪০ হাজার ২৭৭টি সম্পত্তির বিরুদ্ধে বাড়ি জব্দের প্রক্রিয়াসংক্রান্ত নথি জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঋণখেলাপির নোটিশ, নিলামের নির্ধারিত তারিখ এবং ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনাও রয়েছে। সংখ্যাটি আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তবে বাড়ি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া, নিলামের পর্যায়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের দখলে চলে যাওয়ার ঘটনা এক নয়। তাই সব পরিসংখ্যানকে একই অর্থে দেখার সুযোগ নেই।

 

অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। আগস্টে দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় বাড়ি জব্দের হার ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেখানে প্রতি ১ হাজার ৫৪৭টি আবাসিক ইউনিটের মধ্যে একটির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর ছিল নেভাদা, ফ্লোরিডা, টেক্সাস ও মেরিল্যান্ড। বড় শহরগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কলাম্বিয়া, ফ্লোরিডার পুন্টা গর্দা এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনার স্পার্টানবার্গে তুলনামূলক বেশি কার্যক্রম দেখা গেছে।

 

মোট কতটি বাড়ি ঋণদাতাদের দখলে গেছে, সেই হিসাবে টেক্সাস সবার ওপরে রয়েছে। আগস্টে অঙ্গরাজ্যটিতে ১ হাজার ৮৩৫টি সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৮৯টি, নর্থ ক্যারোলাইনায় ৩৫৬টি, অ্যারিজোনায় ২৯৬টি এবং আলাবামায় ২৮৬টি সম্পত্তি জব্দ হয়েছে। বড় মহানগরগুলোর মধ্যে টেক্সাসের হিউস্টনে ৪৪৮টি, ডালাসে ৪০২টি এবং সান আন্তোনিওতে ২৫৬টি বাড়ি ঋণদাতাদের দখলে যায়। অ্যারিজোনার ফিনিক্সে এ সংখ্যা ছিল ১৮৬টি।

 

বাড়ির ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ার আরও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষে এক থেকে চার ইউনিটের আবাসিক সম্পত্তির মোট বন্ধকি ঋণের ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ খেলাপি ছিল। অর্থাৎ, এসব ঋণের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হয়নি। একই সময়ে জব্দের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ঋণের হার ছিল ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বেড়েছে, যদিও প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় সামগ্রিক খেলাপির হার সামান্য কমেছিল।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান রেটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বেন কোহেন বলেছেন, বর্তমানে ঋণ দেওয়ার নিয়ম আগের তুলনায় অনেক কঠোর। পাশাপাশি বহু বাড়ির মালিকের সম্পত্তির বাজারমূল্য ও বকেয়া ঋণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে, যা আর্থিক চাপে পড়লে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। তবে এই সুবিধা সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক এক বা দুই বছরে বাড়ি কিনেছেন কিংবা বাজারের সর্বোচ্চ দামের সময়ে সম্পত্তি কিনেছেন, এমন মালিকদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

 

বাড়ির মালিকদের ব্যয়ের চাপও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। বাড়ির বিমার খরচ, সম্পত্তিকর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে। যাঁরা অল্প সময় আগে বাড়ি কিনেছেন, তাঁদের সম্পত্তিতে পর্যাপ্ত মূল্যবৃদ্ধি বা নিজস্ব মালিকানার অংশ তৈরি করার সুযোগও কম ছিল। ফলে আয় কমে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সংকট দেখা দিলে তাঁদের পক্ষে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

 

যাঁরা আগামী মাসের বন্ধকি ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, তাঁদের আগেভাগে ঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন কোহেন। কিস্তি বকেয়া হওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য সমাধান, পরিশোধের বিকল্প ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি জব্দের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি নজরে রাখার মতো হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো ২০০৮ সালের আবাসন ও আর্থিক সংকটের সময়কার অবস্থার থেকে আলাদা।

 

সূত্র: এবিসি১৫ অ্যারিজোনা, অ্যাটমের আগস্ট ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি জব্দবিষয়ক প্রতিবেদন, মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তাদের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সাইবার হামলায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ৪১ হাজারের বেশি কর্মী ও ঠিকাদারের তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই (আইসিই), সীমান্তরক্ষা সংস্থা সিবিপি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের পরিচয় ও দাপ্তরিক তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে নাম, কর্মস্থলের ঠিকানা, যোগাযোগের বিবরণ এবং দায়িত্বসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে একটি গোষ্ঠী তথ্য সংগ্রহের দাবি করেছে। পরে তথ্যগুলো ‘আইসেপিক’ নামে একটি অনুসন্ধানযোগ্য তথ্যভান্ডারে প্রকাশ করা হয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।   তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে অবগত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, কর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে কীভাবে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঠিক কতটা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সীমান্তরক্ষা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন কাজ করেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইতে। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস এবং সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের তথ্যও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিছু নথিতে গোপন অভিযান, নজরদারি এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্য থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ দাবি করেছে, তারা কর্মীদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত একক সাইন-অন সেবার মাধ্যমে তথ্য পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওকটা নামের একটি পরিচয় যাচাই ও প্রবেশাধিকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তবে রয়টার্স পুরো তথ্যভান্ডারের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কেও সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওকটার এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবস্থা বা তথ্যভান্ডার আক্রান্ত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পায়নি। ফলে তথ্য ফাঁসের প্রকৃত উৎস ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   তথ্য প্রকাশের পেছনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী। ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস নামের একটি সংগঠন এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষক মাইয়া আর্সন ক্রিউ এই তথ্য অনলাইনে প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্টের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও গোপন কার্যক্রমের তদারকি সম্পর্কে অনুসন্ধান করা সম্ভব হবে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, এ ধরনের তথ্য প্রকাশের ফলে কর্মকর্তারা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন এবং চলমান তদন্ত বা গোপন অভিযান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের খবর সামনে এসেছে। গত মাসে ‘শাইনিহান্টার্স’ নামে একটি গোষ্ঠী এফবিআইয়ের কর্মীদের তথ্য চুরির দাবি করেছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তথ্য ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। নতুন এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন অভিযান ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের পরিচয় ও কাজের তথ্য প্রকাশের ফলে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।   সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ২৩:৪৩
২০২৬ সালের ওয়ালেটহাব গবেষণায় চাকরি খোঁজার জন্য পেনসিলভানিয়া নিচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় পেনসিলভানিয়া, বলছে গবেষণা

নতুন নিয়মে আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন ও কেন্দ্র পরিচালনার কয়েকটি ফিও বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-৫ ভিসার আবেদন ফি বাড়ছে ৩০ নভেম্বর থেকে, বিনিয়োগকারীদের খরচ বাড়বে

স্ত্রী মারিয়া গামিন্দের নিখোঁজের ঘটনায় প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এপিফানিও গামিন্দে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্ত্রীকে হত্যার পর বিদেশে জীবিত থাকার নাটক সাজানোর অভিযোগ, ফ্লোরিডায় স্বামী গ্রেপ্তার

ডিজিটাল পণ্য বিক্রির ব্যবসা থেকে মাসে ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি আয়ের কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তা র‍্যাচেল জিমেনেজ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ছেড়ে ডিজিটাল ব্যবসায় মাসে ১০ হাজার ডলার আয়, সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে যে তিন বই

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ও দুই সন্তানের মা র‍্যাচেল জিমেনেজ মাসে ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি প্যাসিভ আয় করেন বলে জানিয়েছেন। একসময় উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে পূর্ণকালীন চাকরি করতেন তিনি। চার বছর আগে সেই চাকরি ছেড়ে অনলাইন বাজার ইটসিতে ডিজিটাল পণ্য বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর আয়ের চারটি উৎস রয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, অর্থ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা বদলানো, নিয়মিত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবন গড়ার ধারণা পেতে তিনটি বই তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির ‘মেক ইট’ বিভাগ।   জিমেনেজের উল্লেখ করা প্রথম বইটি হলো মারিলি অ্যাডামসের ‘চেঞ্জ ইওর কোয়েশ্চনস, চেঞ্জ ইওর লাইফ’। বইটিতে নিজের সঙ্গে কথা বলার ধরন এবং প্রশ্ন করার পদ্ধতি কীভাবে সিদ্ধান্ত ও কাজের ফলাফলে প্রভাব ফেলে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখকের ধারণা অনুযায়ী, নিজের ভুল নিয়ে শুধু দোষারোপ না করে সমস্যা থেকে কী শেখা যায়, সেই প্রশ্ন করা বেশি কার্যকর। জিমেনেজ বলেন, ব্যবসা শুরু করার সময় সফল হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল। কিন্তু নিজেকে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে কীভাবে এগোনো যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এতে কাজগুলো ছোট ধাপে ভাগ করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।   দ্বিতীয় বই জে এল কলিন্সের ‘দ্য সিম্পল পাথ টু ওয়েলথ’। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ নিয়ে লেখা এই বইয়ে আয় অনুযায়ী খরচ করা, ঋণ এড়িয়ে চলা এবং বাড়তি অর্থ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বইটির পরামর্শ অনুসরণ করে জিমেনেজ ও তাঁর স্বামী বাজেট তৈরি করেন এবং ২০১৫ সালে নিজেদের আয়ের ৫০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁরা কম খরচের সূচকভিত্তিক তহবিলে নিয়মিত বিনিয়োগ করেছেন, জটিল কৌশল বা বাজারের ওঠানামা অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেননি। জিমেনেজের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় তাঁদের এমন আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, যার কারণে এখন তাঁরা তুলনামূলক কম বেতনের হলেও পছন্দের কাজ বেছে নিতে পারেন।   তৃতীয় বই বিল বার্নেট ও ডেভ ইভান্সের ‘ডিজাইনিং ইয়োর লাইফ: হাউ টু বিল্ড আ ওয়েল-লিভড, জয়ফুল লাইফ’। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশাভিত্তিক চিন্তাপদ্ধতি থেকে অনুপ্রাণিত এই বইয়ে জীবনের জন্য নিখুঁত পরিকল্পনার অপেক্ষা না করে বিভিন্ন পথ পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জিমেনেজ জানান, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর ২০২০ সালে পূর্ণকালীন অফিসের চাকরিতে ফেরার চিন্তা তাঁকে উদ্বিগ্ন করছিল। বইটির অনুশীলন তাঁকে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের সঙ্গে মানানসই কাজ খুঁজতে সাহায্য করে। তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘ বৈঠকের চেয়ে প্রকল্পভিত্তিক সৃজনশীল কাজ তাঁর কাছে বেশি স্বস্তিদায়ক।   তবে প্যাসিভ আয় শুরু করার পর জিমেনেজ উপলব্ধি করেন, শুধু অর্থ উপার্জনই তাঁর সন্তুষ্টির একমাত্র উৎস নয়। কর্মক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবও তিনি অনুভব করছিলেন। পরে নিজের কাজের ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবতে গিয়ে শিক্ষকতা ও লেখালেখির মতো কাজ বেছে নেন, যেখানে সৃজনশীল প্রকল্পের পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, জীবনের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত সংশোধন করাও গুরুত্বপূর্ণ।   জিমেনেজের গল্পে তিনটি বইয়ের মূল শিক্ষা হলো, নিজের চিন্তাভাবনা বদলে সমস্যার সমাধান খোঁজা, আয়ের তুলনায় কম খরচ করে সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা এবং নিজের দক্ষতা ও পছন্দ অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা। তবে তাঁর মাসিক আয়ের অভিজ্ঞতা সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ডিজিটাল পণ্য বিক্রির ব্যবসায় আয় নির্ভর করতে পারে পণ্যের চাহিদা, বিক্রির পরিমাণ, প্রতিযোগিতা, প্ল্যাটফর্মের খরচ এবং ব্যবসা গড়ে তুলতে দেওয়া সময়ের ওপর।   তথ্যসূত্র: সিএনবিসি মেক ইট, র‍্যাচেল জিমেনেজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ‘মানি হ্যাকিং মামা’।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ২১:৫৫
নিউ ইয়র্কে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় গোপন অবস্থান খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ দেন ইউটিউব তারকা আইশোস্পিড। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে ইউটিউবার আইশোস্পিডের লুকোচুরি প্রতিযোগিতা, বিজয়ীর পুরস্কার ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার

নিউ ইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কেনার সরকারি সহায়তা ও যোগ্যতার শর্ত নিয়ে কথা বলেছেন রিয়েলটর মোহাম্মদ হাসেম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনতে সরকারি সহায়তা, যা বললেন রিয়েলটর মোহাম্মদ হাসেম

বোয়েন ওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর বাবা-মা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

উচ্চ সুদ ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনা অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
অর্থনৈতিক মন্দাকেও ছাড়াল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন সংকট, তলানিতে বাড়ি কেনাবেচা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনাবেচা এমন পর্যায়ে নেমেছে, যা ২০০৮ সালের মহামন্দার সময়কার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। অঞ্চলটির ছয়টি কাউন্টিতে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত টানা ১২ মাসে বাড়ি বিক্রির সংখ্যা ২০০৫ সাল থেকে হিসাব করা বার্ষিক গড়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম ছিল। তবে বিক্রি কমলেও বাড়ির দাম এখনো রেকর্ডের কাছাকাছি। ফলে উচ্চমূল্য, ঋণের সুদ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   আবাসনবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের সংশোধিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে লস অ্যাঞ্জেলেস ডেইলি নিউজের ব্যবসাবিষয়ক কলাম লেখক জনাথন ল্যান্সনার এ চিত্র তুলে ধরেছেন। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে বাড়ি বিক্রির সবচেয়ে ধীর সময়গুলোর একটি চলছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়। তাঁর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই মাসে বাড়ি বিক্রির গতি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের আবাসন বাজারের ধসের সবচেয়ে খারাপ সময়ের তুলনায়ও প্রায় ৩ শতাংশ কম ছিল। সংশোধিত হিসাবে আগে থেকে বিদ্যমান বাড়ির পাশাপাশি নতুন নির্মিত বাড়ি ও কনডোর বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি চিত্রও উদ্বেগজনক। গত ২১ বছরে যে ২৫টি মাসে বাড়ি বিক্রি সবচেয়ে কম ছিল, তার মধ্যে ১৭টি মাসই এসেছে ২০২৩ সালের পর। ২০০৭ ও ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় এমন সাতটি মাস ছিল। আরেকটি ছিল ২০২০ সালের মে মাস, যখন করোনাভাইরাস মহামারির বিধিনিষেধে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ থমকে গিয়েছিল। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ি কেনাবেচার দুর্বলতা শুধু সাময়িক ওঠানামায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।   বিক্রি কমলেও বাড়ির দাম ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নামেনি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৮ লাখ ১৫ হাজার ডলার, যা অঞ্চলটির ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এটি মাত্র ২ শতাংশ কম। ফলে বাজারে বাড়ি কেনার আগ্রহ থাকলেও অনেক পরিবার আর্থিক সামর্থ্যের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদ, সম্পত্তিকর, বাড়ির বিমা এবং অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে।   ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বসন্তে অরেঞ্জ কাউন্টিতে মাত্র ১৫ শতাংশ পরিবার একটি বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখত। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগো কাউন্টিতে এ হার ছিল ১৭ শতাংশ, ভেনচুরায় ১৯ শতাংশ, রিভারসাইডে ২৮ শতাংশ এবং সান বার্নার্ডিনোতে ৩৪ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, অঞ্চলটির অধিকাংশ পরিবারের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য প্রয়োজনীয় অগ্রিম অর্থ জোগাড় করা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বাড়ির দাম বাড়ার গতিও আগের তুলনায় কমেছে। ২০২৩ সালের পর থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মূল্য বছরে গড়ে প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে এর আগের দশকে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির গতি কমে আসায় দ্রুত মুনাফার আশায় বাড়ি কেনার প্রবণতাও দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যে বাড়ি কেনার পর ঋণের কিস্তি বহন করার ঝুঁকি ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ফলে বাড়ির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বাজারে লেনদেন বাড়ানোর ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট সহায়ক হচ্ছে না।   মধ্যম দামের একটি বাড়ি কিনলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ক্রেতাকে বন্ধকি ঋণের কিস্তি, সম্পত্তিকর, বাড়ির বিমা ও বন্ধকি ঋণবিমাসহ প্রতি মাসে আনুমানিক ৫ হাজার ৭৬৫ ডলার ব্যয় করতে হতে পারে। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এই মাসিক ব্যয় ৭২ শতাংশ বেশি। এর বাইরে ১০ শতাংশ অগ্রিম অর্থ হিসেবে প্রয়োজন প্রায় ৮১ হাজার ৫০০ ডলার। বিপরীতে, জিলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অঞ্চলটিতে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ২ হাজার ৮৬০ ডলার, যা বাড়ি কেনার আনুমানিক মাসিক ব্যয়ের অর্ধেকেরও কম।   বন্ধকি ঋণের সুদের হার বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ৩০ বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট সুদের বন্ধকি ঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অক্টোবরের মাঝামাঝি তা বেড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছায়। এই বৃদ্ধির কারণে সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ি কেনার আর্থিক সক্ষমতা আনুমানিক ৮ শতাংশ কমে গেছে। ফলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন বাজারে বিক্রি বাড়াতে শুধু দাম কমার অপেক্ষা যথেষ্ট নয়, ঋণের খরচ ও ক্রেতাদের সামর্থ্যও বড় ভূমিকা রাখবে।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস ডেইলি নিউজ, অ্যাটম, ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস ও জিলো।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ২০:৩৪
বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার বার্ষিক বনভোজন স্থগিত করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার বার্ষিক বনভোজন স্থগিত

ফ্লোরিডায় ৩৫ মাইল দূরে বসে রোবটের সাহায্যে প্রস্টেট ক্যানসারের সফল অস্ত্রোপচার করলেন চিকিৎসক

ফ্লোরিডায় ৩৫ মাইল দূরে বসে রোবটের সাহায্যে প্রস্টেট ক্যানসারের সফল অস্ত্রোপচার করলেন চিকিৎসক

ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে আলোচনায় ওবামা, মঞ্চ ছাড়ার সময় মাইক ছোড়ার ভিডিওতে ৫০ লাখ ভিউ

ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে আলোচনায় ওবামা, মঞ্চ ছাড়ার সময় মাইক ছোড়ার ভিডিওতে ৫০ লাখ ভিউ

0 Comments