আগুনের গ্রাসে বাড়ি, দুই মেয়েকে বাঁচাতে জানালা দিয়ে ছুড়লেন মা, ধরলেন প্রতিবেশীরা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে দুই ছোট মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিপন্ন করেছেন এক মা। তিনতলা বাড়ির ভেতরে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় আটকে পড়ার পর সন্তানদের বাঁচাতে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে হিউস্টনের শ্যাডি একরস এলাকায় বেল স্ট্রিটের কাছে একটি টাউনহাউসে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশে। পরিবারের গাড়িতেও আগুন ধরে যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি জানিয়েছে, বাড়িটিতে বসবাস করতেন ক্যাসি গঞ্জালেস ও তাঁর স্বামী এফ্রেইন গঞ্জালেস। তাঁদের দুই মেয়ের বয়স মাত্র চার ও পাঁচ বছর।আগুন লাগার পর বাবা এফ্রেইন পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেন। পরিবারের গাড়িতে বিস্ফোরণের পর তিনি আগুনের মধ্যে ছুটে যান। শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেলেও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধোঁয়ার কারণে তিনি আর ভেতরে এগোতে পারেননি। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে বাড়ির তৃতীয় তলায় দুই মেয়েকে নিয়ে আটকা পড়েন মা ক্যাসি। চারদিকে কালো ধোঁয়া, আগুনের তীব্রতা এবং বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের বাঁচাতে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।নিচে তখন প্রতিবেশীরা ছুটে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জন বাউয়ার ও আরেক প্রতিবেশী। আগুনের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে তাঁরা বাড়ির পেছনে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
সন্তানদের সাহস জোগাতে মা বলেন, সাহসী হতে হবে। এরপর তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে দুই মেয়েকে নিচে নামিয়ে দেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশীরা দুই শিশুকেই ধরে ফেলেন। সৌভাগ্যক্রমে শিশু দুটির দৃশ্যমান কোনো আঘাত লাগেনি।কিন্তু সন্তানদের নিরাপদে পাঠানোর পর নিজের জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন ক্যাসি। ততক্ষণে ধোঁয়া এতটাই ঘন হয়ে গিয়েছিল যে প্রতিবেশীরা তাঁকে নিরাপদে ধরতে পারেননি। তিনি তিনতলা থেকে নিচে পড়ে আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।
প্রতিবেশী জন বাউয়ার জানান, আগুনের শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে কমলা রঙের আগুনের আলো দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে যান। তিনি জানতেন না ঠিক কাকে বা কতজনকে ধরে ফেলতে হবে। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে পিছিয়ে যাননি।বাউয়ার বলেন, তিনি শুধু সেই মুহূর্তে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নায়ক হিসেবে দেখলেও নিজের কাজকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন তিনি।
এদিকে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন। পরিবারের গাড়িটি ২০২৫ সালের কিয়া টেলুরাইড বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।এই মুহূর্তে পরিবারের সবচেয়ে বড় লড়াই হলো সুস্থ হয়ে ফিরে আসা। হাসপাতালে মা চিকিৎসাধীন, বাবা আশঙ্কাজনক অবস্থায় জীবনযুদ্ধ করছেন। আর দুই ছোট শিশু ভয়াবহ সেই রাতের স্মৃতি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।
একটি পরিবারের জীবনে কয়েক মুহূর্তেই সবকিছু বদলে গেল। তবে বিপদের সেই রাতে প্রতিবেশীদের মানবিক সাহস দুই শিশুর জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মানাটি কাউন্টিতে চার্চের অনুদানের চেক চুরির এক বিশাল প্রতারণাচক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ডাকযোগে পাঠানো অনুদানের চেক চুরি করে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার মানাটি কাউন্টি শেরিফ অফিস এই বিশাল জালিয়াতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের (২০২৫) ডিসেম্বরে। লেকউড র্যাঞ্চ এলাকার হার্ভেস্ট ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চের একজন যাজক প্রথম লক্ষ্য করেন যে, চার্চের ঠিকানায় আসা ডাক বা চিঠিপত্রের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এরপর চার্চের সদস্যরাও তাদের দেওয়া মাসিক অনুদানের চেকগুলো সঠিক জায়গায় পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের পাঠানো চেকগুলো চুরি করে অন্য ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। একটি চার্চের অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া এই তদন্ত কয়েক মাস ধরে চলার পর এক বিশাল প্রতারণাচক্রের রূপ উন্মোচিত হয়, যেখানে ২০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে মানাটি কাউন্টির অন্তত ১৭টি চার্চ এই প্রতারণার শিকার হয়েছে। অপরাধীরা চার্চের সদস্যদের পাঠানো চেকগুলো চুরি করে মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্টে জমা করত। ডিজিটাল এই লেনদেন প্রক্রিয়ার কারণেই তাদের জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। চার্চের নিয়মিত অনুদানের বিষয়টিকে পুঁজি করেই তারা এই নিখুঁত প্রতারণার ফাঁদ পাতে। কারণ, সদস্যরা ভাবতেন তাদের টাকা যথারীতি চার্চে পৌঁছেছে, আর চার্চ কর্তৃপক্ষেরও সাধারণত এসব চেক হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সন্দেহ করার কারণ ছিল না। এখন পর্যন্ত মানাটি কাউন্টিতে ৬৬ জন ভুক্তভোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু এই কাউন্টিতেই ১০৭টি চেক চুরির মাধ্যমে ৭২ হাজার ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাউন্টির বাইরে আরও ২৬৮টি চেক চুরির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ডলার আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। মানাটি কাউন্টি শেরিফ অফিস, ইউ.এস. পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস এবং পার্শ্ববর্তী হিলসবরো ও পাস্কো কাউন্টি পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত আটজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতারণা, গ্র্যান্ড থেফট বা বড় ধরনের চুরি, জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত পরিচয় চুরির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও আরও সাতজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, যাদের কয়েকজন মিয়ামি এবং অন্তত একজন কিউবায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিউইয়র্ক বাফেলোতে প্রথমবার বাড়ি কিনলে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ
জেফ বেজোসের চুল প্রতিস্থাপনের ছবি ভাইরাল, অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারের ওষুধের খরচ ৫০ শতাংশ বাড়ছে, বিপাকে লাখো মানুষ
২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গ্যাভিন নিউসম বলেছিলেন, তিনি গড়পড়তা নিরাপদে থাকার চেয়ে বরং সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হওয়াকে শ্রেয় মনে করেন। নিজের সেই কথার প্রমাণ দিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ জন আসামির সবার সাজা মওকুফ (ক্লেমেন্সি) করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার ওপর এই গণ-মওকুফ কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনাকল্পনার মাঝেই তিনি দেশবাসীর কাছে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে নিউসম জানান, কেবল জনমত জরিপ দেখাই যদি তার কাজ হতো, তবে একজন এআই চ্যাটবট দিয়েই গভর্নরের কাজ চালানো যেত। তিনি মনে করেন, জরিপ দেখে নয়, বরং নিজের বিচার-বিবেচনা ও নেতৃত্বগুণের কারণেই তিনি এই পদে এসেছেন। তিনি বলেন, তার কাজ হলো নেতৃত্ব দেওয়া এবং মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন করা। সমাজে মৃত্যুদণ্ডের মতো সাজার অসম প্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, বর্তমান বিচারব্যবস্থায় গরিব ও নির্দোষ হওয়ার চেয়ে ধনী ও অপরাধী হওয়া বেশি সুবিধাজনক। এই বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে নিউসমের এই সিদ্ধান্ত ক্যালিফোর্নিয়ার আইন ও আদালতের ক্ষমতার এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। রাজ্যের সংবিধানে গভর্নরের নিজের ক্ষমতাবলে প্রায় ৪০ শতাংশ আসামির মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করার সুযোগ থাকলেও, বাকিদের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে যাদের অতীতের বড় কোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আদালতের সায় ছাড়া মওকুফ সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ২০১২ ও ২০১৬ সালে রাজ্যের ভোটাররা মৃত্যুদণ্ড বাতিলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনও আইনিভাবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। যদিও ২০০৬ সালের পর থেকে রাজ্যটিতে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি এবং নিউসম ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেম্বারটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নবনির্বাচিত গভর্নর হাভিয়ের বেসেরাও মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার এই নীতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। গভর্নরের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিহতের পরিবার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির শেরিফ জিম কুপার ও রিভারসাইড কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল হেস্ট্রিন এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ নিহতদের পরিবার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা প্রসিকিউটরদের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রগতিশীল নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে এবং ২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি ভোটারদের মন জয় করতেই নিউসম এই পথে হেঁটেছেন। তবে এর ফলে রিপাবলিকানরা তাকে 'অপরাধীদের প্রতি নমনীয়' তকমা দিয়ে মধ্যপন্থী ভোটারদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এত সমালোচনা ও রাজনৈতিক ঝুঁকির পরও নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছেন গ্যাভিন নিউসম। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে, তার এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষের হাতিয়ার হতে পারে। তারপরও কেবল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কষে চুপ থাকাটাকে তিনি নিজের সঙ্গে 'প্রতারণা' বলে মনে করেন। মেয়াদের শেষ সময়ে এসে কোনো আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নিতে চান না তিনি। জীবনে সব সময়ই ঝুঁকি নিতে পছন্দ করা এই ডেমোক্র্যাট নেতা জানান, অন্য কেউ এই অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ না তুললে তিনি নিজেই হাসিমুখে সেই দায়িত্ব ও সব সমালোচনা মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।
নিউইয়র্কে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ডেন্টিস্টের ১৫ হাজার ডলার হাতিয়ে গ্রেপ্তার নারী
ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স দুই হাজারের বেশি কর্মী নেবে, বার্ষিক বেতন সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ডলার
নিউইয়র্কে অভিবাসীদের ধরতে আইসিই’র সাঁড়াশি অভিযান, তোপের মুখে মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন পাবলিক স্কুলের রেজিস্ট্রেশন স্পেশালিস্ট সিজারিনা বারোস এক অদ্ভুত আইনি জটিলতায় পড়েছেন। ২০০৯ সালে টিউশন ফি দিতে না পারায় ১০ হাজার ডলার বকেয়া রেখেই নিউবেরি কলেজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি, যদিও তিনি সাধ্যমতো তা পরিশোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর ২০১৯ সালে কলেজটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০২২ সালে এর অলাভজনক কার্যক্রমও পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়া হয়। বারোস ভেবেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যেহেতু আর নেই, তাই হয়তো তার এই বকেয়ার বোঝাও শেষ। কিন্তু ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই ওই বন্ধ হয়ে যাওয়া কলেজটি তার বিরুদ্ধে বকেয়া টিউশন ফি ও সুদসহ মোট ২৮ হাজার ডলার আদায়ের একটি মামলা দায়ের করে। বোস্টন মিউনিসিপ্যাল কোর্টের নথিপত্র অনুযায়ী, শুধু বারোস নন, তার মতো আরও ২০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে বেতন জব্দের (wage garnishment) হুমকি দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে আদায় করা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসলে কোথায় যাবে, তার উত্তর কারও কাছে নেই। আদালতে শুনানিকালে বারোস যখন বিচারক স্টিভেন কিমকে এই অর্থের গন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, তখন খোদ বিচারক বা কলেজটির প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী—কারও কাছেই এর কোনো সদুত্তর ছিল না। আপাতত আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন বিচারক। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালত এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের নির্দেশে হুইটন কলেজকে নিউবেরি কলেজের সম্পদ ও তহবিলের আইনি উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে হুইটন কলেজের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা পুরোনো শিক্ষার্থীদের বকেয়া বা অ্যাকাউন্টের দায়িত্ব অধিগ্রহণ করেননি। তা সত্ত্বেও, ঋণ আদায়ের আইনি নোটিশগুলোতে নিউবেরি ও হুইটন—উভয় কলেজের ঠিকানাই উল্লেখ করা হচ্ছে। দুই সন্তানের জননী বারোস তার আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন ডিগ্রি সম্পন্ন করার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিত এই মামলা তার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এবং চরম মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছে। শিক্ষা ঋণ নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কাজ করা আইনজীবী অ্যাডাম মিনস্কি জানান, কোনো শিক্ষার্থী কোর্স শেষ করার আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে তার কাছে এভাবে বকেয়া দাবি করার ঘটনা তার পেশাগত জীবনে বিরল। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনজ্যুমার ল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্না অ্যান্ডারসন সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হয়রানিমূলক পরিস্থিতি ক্রমশ একটি বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। তিনি ভুক্তভোগীদের মামলা এড়িয়ে যাওয়ার বদলে দ্রুত আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন। কারণ, ঋণ ক্রয়কারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলো নানা ফি, মজুরি থেকে অর্থ কর্তন এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে নিজেদের মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলেজের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে কি না, তা মূলত নির্ভর করে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেনা কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে তার ওপর।
টেক্সাসে তেল-গ্যাস কোম্পানিসহ চার স্থানে এফবিআইয়ের অভিযান, প্রতারণার অভিযোগ
ফ্লোরিডায় 'সন্ত্রাসী' তকমার জেরে কার্যক্রম স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ মুসলিম অধিকার গোষ্ঠী