বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস দেওয়ার কথা বলে মেডিকেয়ার নম্বর চুরি, পরে আসছে হাজার ডলারের ভুয়া বিল
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস বা চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বয়স্ক নাগরিকদের মেডিকেয়ার নম্বর হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। পরে চুরি করা নম্বর ব্যবহার করে এমন চিকিৎসা সরঞ্জামের বিল জমা দেওয়া হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো অর্ডার করেননি। এতে মেডিকেয়ারের সুবিধা ব্যবহারের সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার নথিতেও ভুয়া তথ্য যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিটের এক প্রতিবেদনে এ ধরনের প্রতারণার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ৭২ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত নারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ফোনে এক নারী তাঁকে জানান, মেডিকেয়ারের আওতায় বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস পাওয়া যাবে। শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মেডিকেয়ার নম্বর প্রয়োজন বলে জানানো হয়। ওই নারী বিশ্বাস করে নিজের কার্ডের ১১ অক্ষরের নম্বর জানিয়ে দেন।
কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর বাড়ির সামনে এমন একটি হাঁটুর ব্রেস পৌঁছে যায়, যা তিনি কখনো অর্ডার করেননি। পরে মেডিকেয়ারের বিবরণীতে এমন একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়, যেটির সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় নেই। তাঁর নামে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিলও জমা দেওয়া হয়েছে। এভাবেই ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া বিল তৈরির ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রতারণার বড় উদাহরণ হিসেবে ২০১৯ সালের একটি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে বছরের এপ্রিলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা প্রায় ১২০ কোটি ডলারের একটি কথিত প্রতারণা পরিকল্পনার অভিযোগে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তদন্তে বলা হয়, ফিলিপাইন ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন কল সেন্টার থেকে মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ফোন করে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হতো।
এরপর টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসকদের অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করাত এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেডিকেয়ারের কাছে প্রতিটি ব্রেসের জন্য প্রায় ৫০০ থেকে ৯০০ ডলার পর্যন্ত বিল জমা দিত। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগীদের চুরি করা মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করা হতো। মেডিকেয়ারের পার্ট বি কর্মসূচিতে হাঁটুর ব্রেস, ওয়াকার ও হুইলচেয়ারের মতো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সরঞ্জামের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতারণার আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য যুক্ত হওয়া। কোনো ব্যক্তির নামে আগে থেকেই একটি ব্রেস সরবরাহের দাবি জমা থাকলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের চিকিৎসার প্রয়োজনে একই ধরনের সরঞ্জাম পেতে সমস্যা হতে পারে। কারণ মেডিকেয়ারের নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসাসেবায় ব্যবহারের সীমা রয়েছে। আগে থেকেই সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হলে নতুন চিকিৎসার বিল প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া কখনো চিকিৎসা না নিয়েও রোগীর নথিতে ভুয়া রোগনির্ণয় যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ না করা চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীর নামে অতিরিক্ত অর্থ বা কো-পেমেন্টের দাবি আসতে পারে। নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এসব আর্থিক চাপ আরও সমস্যার কারণ হতে পারে।
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক ডিডাক্টিবল ২৮৩ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর গড় মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের পর ২ হাজার ৭১ ডলার। এমন পরিস্থিতিতে ৫০০ থেকে ৯০০ ডলারের ভুয়া চিকিৎসা বিলও একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
প্রতারণা শনাক্ত করার জন্য মেডিকেয়ার সামারি নোটিশ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্যক্তির মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করে জমা দেওয়া সব চিকিৎসা ও সরঞ্জামের বিলের বিবরণ থাকে। নিজের চিকিৎসার তারিখ ও সেবার সঙ্গে বিবরণী মিলিয়ে দেখলে অপরিচিত কোনো দাবি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। মেডিকেয়ার ডট গভ ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলেও মূল মেডিকেয়ারের বিলের তথ্য দেখা যায়।
কোনো অপরিচিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, না পাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জামের বিল কিংবা নিজের অর্ডার না করা কোনো প্যাকেট বাড়িতে এলে সেটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। মেডিকেয়ার সাধারণত হঠাৎ ফোন করে ব্যক্তিগত নম্বর জানতে চায় না। তাই কেউ মেডিকেয়ারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নম্বর চাইলে ফোনে তা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতারণার শিকার হলে প্রথমেই ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করে অপরিচিত বিলের বিষয়ে জানাতে হবে। প্রয়োজনে নতুন মেডিকেয়ার কার্ড ও নম্বর চাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয়ে ১-৮০০-৪৪৭-৮৪৭৭ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।
এ ছাড়া প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে থাকা সিনিয়র মেডিকেয়ার প্যাট্রোলের সহায়তা নেওয়া যায়। তাদের জাতীয় যোগাযোগ নম্বর ১-৮৭৭-৮০৮-২৪৬৮। সংস্থাটি অভিযোগ গ্রহণ করে প্রতারণা নাকি বিলিংয়ের ভুল, তা যাচাইয়ে সহায়তা করে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পাঠায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফোনে কেউ মেডিকেয়ারের নম্বর চাইলে তা দেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক ও ফার্মেসির প্রয়োজন হলে নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু বিনা মূল্যে ব্রেস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া অপরিচিত ব্যক্তিকে নয়। কেউ মেডিকেয়ারের প্রতিনিধি পরিচয় দিলে ফোন কেটে নিজে ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭ নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও মন খারাপের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের সাহায্য নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৯ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৫৭ শতাংশ দুঃখ, মানসিক চাপ, একাকিত্ব কিংবা অতিরিক্ত উদ্বেগের সময় এআইয়ের সঙ্গে কথা বলে। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আবেগসংক্রান্ত বিষয়েও প্রযুক্তিটির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য কুল ডাউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জেইডি ফাউন্ডেশনের পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের ৯০ শতাংশ অন্তত একবার এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে ৫৮ শতাংশ পড়াশোনা ও বাড়ির কাজের জন্য এআইয়ের সাহায্য নিয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, ১২ শতাংশ শিশু-কিশোর সঙ্গ কিংবা বন্ধুত্বের জন্য এআইয়ের সঙ্গে কথা বলে। এ ছাড়া ফিউচারিজমের বরাতে প্রতিবেদনে পৃথক একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা নিজেরা অথবা তাদের কোনো বন্ধু এআইয়ের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কের মতো যোগাযোগে জড়িয়েছে। গবেষণায় শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে এআই ব্যবহারের সম্পর্কও উঠে এসেছে। যারা মন খারাপ, একাকিত্ব বা মানসিক চাপের সময় চ্যাটবটের সাহায্য নেয়, তাদের মধ্যে অতীতে আত্মহত্যার চিন্তা ও আত্মহত্যার চেষ্টা করার অভিজ্ঞতার হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। তাদের নিজেদের দেওয়া মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার মূল্যায়নও তুলনামূলকভাবে খারাপ ছিল। তবে গবেষকেরা এআই ব্যবহারকে সরাসরি এসব সমস্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেননি। বরং মানসিকভাবে বেশি সমস্যায় থাকা শিশুরা এআইয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছে কি না এবং এই ব্যবহার তাদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টেক্সাসের ১৫ বছর বয়সী কিশোর অর্জুন শারদার অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। রসায়ন পরীক্ষায় খারাপ করার ভয় থেকে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে বারবার জানতে চাইতেন, পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে তাঁর ফলাফল বা সামগ্রিক গ্রেড পয়েন্ট গড় ঠিক থাকবে কি না। অর্জুন ওরেগন পাবলিক ব্রডকাস্টিংকে জানান, রসায়নের প্রথম দিকের পরীক্ষায় রূপান্তর ও মোলের হিসাব নিয়ে তিনি খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই বারবার চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করতেন, তিনি ঠিক থাকবেন কি না এবং তাঁর ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না। জেইডি ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মনোবিজ্ঞানী কায়লা অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, গবেষণায় তরুণদের এআই ব্যবহারের ধরন এবং তাদের মানসিক সুস্থতা, আত্মহত্যার চিন্তা ও অতীতের প্রচেষ্টার সঙ্গে এর সম্পর্ক আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না এমন উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানী অ্যান মাহিউক্স মনে করেন, যেসব শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য আগে থেকেই দুর্বল, তারা সহায়তার আশায় এআইয়ের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। কিন্তু এই ব্যবহার তাদের মানসিক সমস্যাকে কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। প্রতিবেদনে শিশুদের এআই ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। চ্যাটবট পরিচালনায় বড় ধরনের কম্পিউটিং অবকাঠামো প্রয়োজন হয়, যা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং শীতল রাখার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির প্রয়োজন হতে পারে। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং পড়াশোনায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গবেষকদের আলোচনায় উঠে এসেছে, মানসিক সমস্যার সময় শিশুরা যেন যথাযথ দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য কুল ডাউন
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে জন ওসফ, স্ট্র-পোলে তলানিতে কমলা হ্যারিস
বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস দেওয়ার কথা বলে মেডিকেয়ার নম্বর চুরি, পরে আসছে হাজার ডলারের ভুয়া বিল
নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ১০ বছর বয়সী পালিত শিশু মালেশিয়া আলফোর্ডের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পালক মা কারপ্রাইস উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে আগেও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। পাঁচ বছর আগে তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা চার বছর বয়সী আরেক শিশুকে গুরুতর অপুষ্টি ও মস্তিষ্কে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর উইলিয়ামসকে ভবিষ্যতে আর পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে আদালতে দাখিল করা একটি মামলায় উল্লেখ রয়েছে। নতুন করে এই তথ্য সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের পালক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৩ হিউস্টনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে উইলিয়ামসের বাড়িতে থাকা চার বছর বয়সী এক শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে অপুষ্টি, মস্তিষ্কে আঘাত, মুখে ক্ষত এবং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেন। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে প্রায় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। শিশুটির পরিবারের পক্ষে আইনজীবী নাদিম বেজার জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। ২০২৪ সালে ওই শিশুর পরিবারের পক্ষে তাবর চিলড্রেনস সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ঘটনার পর রাজ্য ও নগর কর্তৃপক্ষের একটি পর্যালোচনা প্যানেল উইলিয়ামসকে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। মামলাটি ২০২৬ সালে ২০ লাখ ডলারে নিষ্পত্তি হয়। তবে পেনসিলভানিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উইলিয়ামসের আপিলের পর আগের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে করা শিশু নির্যাতনের ইঙ্গিতবাহী সরকারি প্রতিবেদন বাতিল করা হয়েছিল। অর্থাৎ আগের অভিযোগে তাঁকে ফৌজদারি আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। এদিকে মালেশিয়া আলফোর্ডের মৃত্যুর ঘটনায় উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করা, আলামত নষ্ট করা এবং মরদেহের অবমাননাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর শিশুটিকে সর্বশেষ জীবিত দেখা যায়। ২৬ অক্টোবর তাকে নিখোঁজ দেখিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। প্রায় ১০ দিন অনুসন্ধানের পর গত ৪ নভেম্বর নিউ জার্সির লিন্ডেনওল্ড এলাকার একটি গাড়ির ট্রাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভোঁতা বস্তুর আঘাত শনাক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে এনবিসি ১০ জানিয়েছে, মালেশিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে কয়েকজন শিশু সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, উইলিয়ামস শিশুটিকে মারধর করতেন, খাবার ও পানি দেওয়া বন্ধ রাখতেন এবং ভারী ভেস্ট পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে বাধ্য করতেন। এসব অভিযোগ পুলিশি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, শিশুটি মারা যাওয়ার পর তার ফোন ব্যবহার করে এমন বার্তা পাঠানো হয়েছিল, যাতে তাকে জীবিত ও অন্যত্র অবস্থান করছে বলে মনে হয়। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। আইনজীবী নাদিম বেজার প্রশ্ন তুলেছেন, আগের ঘটনায় গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভবিষ্যতে পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ থাকার পরও কীভাবে উইলিয়ামস আবার একটি শিশুর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, শুধু পালক অভিভাবক নয়, শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকাও তদন্ত করা প্রয়োজন। মালেশিয়ার দেখভালের দায়িত্বে ছিল ফিলাডেলফিয়ার শিশু কল্যাণ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্যাথলিক কমিউনিটি সার্ভিসেস। এ ঘটনায় ফিলাডেলফিয়ার শিশু কল্যাণ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পালক পরিচর্যা সংস্থাগুলোর তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মালেশিয়ার মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও শিশুটির পালক পরিবারে অবস্থানের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন শুধু শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা নয়, আগের অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি আবার পালক অভিভাবক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। সংবাদসূত্র: এবিসি ১৩ হিউস্টন, ৬এবিসি ফিলাডেলফিয়া।
১৭ বছর বয়সে আড়াই হাজার কানাডিয়ান ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ইলন মাস্ক!
ট্রাম্পের নেতৃত্বেই আস্থা হারাচ্ছেন মাগা সমর্থকদের একাংশ, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
ইসরায়েলিদের পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে দেশে ফিরছেন গ্যাল গ্যাডট
মাত্র ২০ বছর বয়সে এক বিলিয়নিয়ারের কাছে পাঠানো ইমেইল বদলে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ উদ্যোক্তা অ্যারন লেভির জীবন। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় বিনিয়োগের আশায় মার্ক কিউবানকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর আসে। এরপর সামনাসামনি দেখা না করেই তাঁর স্টার্টআপে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগে রাজি হন কিউবান। সেই ছোট উদ্যোগ থেকেই গড়ে ওঠে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বক্স, যার বাজারমূল্য ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল প্রায় ৪৬০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের ১৯ মে প্রকাশিত সিএনবিসি মেক ইটের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অ্যারন লেভির এই উদ্যোক্তা জীবনের গল্প। বর্তমানে ক্লাউড স্টোরেজ ও ফাইল শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি। তবে দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ছাত্রাবাসের কক্ষ থেকে। তখন ইন্টারনেটের গতি বাড়ছিল, অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণের খরচ কমছিল এবং মানুষ একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করতে শুরু করেছিল। লেভি বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যতে এমন একটি সেবার চাহিদা বাড়বে, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিরাপদে ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং যেকোনো জায়গা থেকে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এই ধারণা বাস্তবায়নে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন ডিলান স্মিথ, স্যাম গডস ও জেফ কুইসার। শুরুতে সহপ্রতিষ্ঠাতা ডিলান স্মিথ অনলাইন পোকার খেলে উপার্জন করা প্রায় ২০ হাজার ডলার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। পরে কয়েকজন প্রাথমিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আরও ৮০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেন তাঁরা। সেই অর্থ দিয়ে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও প্রাথমিক পণ্য চালু করা সম্ভব হয়। তবে ব্যবসা বড় করতে আরও অর্থের প্রয়োজন ছিল। তখন লেভি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে সরাসরি ইমেইল পাঠানো শুরু করেন। পরিচিত কারও মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ না থাকলেও তিনি পিছিয়ে যাননি। নিজের শহর সিয়াটল থেকে শুরু করে সিলিকন ভ্যালি এবং টেক্সাসের বিনিয়োগকারীদের কাছেও ব্যবসার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। তাঁর পাঠানো ইমেইলগুলোর একটি পৌঁছায় মার্ক কিউবানের কাছে। কিউবান তখন প্রযুক্তি খাতের পরিচিত বিনিয়োগকারী এবং ডালাস ম্যাভেরিকসের মালিক। আশ্চর্যজনকভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি উত্তর দেন। প্রথমে নিজের একটি ব্যবসার জন্য ডেটা হোস্টিং প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। পরে আলোচনা এগিয়ে গেলে বক্সে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগে সম্মত হন। লেভির ভাষায়, এত দ্রুত বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আসবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। এই অর্থই তাঁদের স্টার্টআপের জন্য বড় অগ্রগতি এনে দেয়। বিনিয়োগ পাওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সাহস পান। তবে কিউবানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বক্স যখন বিনা মূল্যে প্রাথমিক সেবা দিয়ে পরে অর্থের বিনিময়ে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার ব্যবসায়িক মডেল গ্রহণ করে, তখন কিউবান সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি। ২০০৬ সালে নতুন করে ১৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহের পর কিউবানের শেয়ার কিনে নেন লেভি ও তাঁর সহযোগীরা। পরবর্তী সময়ে বক্সের ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজ ও ফাইল ব্যবস্থাপনা সেবা দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয় কোম্পানিটি। ২০১৪ সালে প্রায় ১৭০ কোটি ডলার মূল্যায়ন নিয়ে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করে বক্স। সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার মুনাফা অর্জন করে। ২০২৫ সালের মে মাসে বক্সের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪৬০ কোটি ডলারে। তবে এই মূল্যায়ন কোম্পানিটির তৎকালীন বাজারমূল্য, বর্তমান বাজারমূল্য নয়। দীর্ঘ উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাওয়া তরুণদের একটি পরামর্শ দিয়েছেন লেভি। তাঁর মতে, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করা উচিত নয়। অনেকেই উত্তর দেবেন না, কেউ হয়তো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবেন। কিন্তু অসংখ্য যোগাযোগের মধ্য থেকে একজন আগ্রহী বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলেও ব্যবসার ভবিষ্যৎ বদলে যেতে পারে। অ্যারন লেভির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থ নয়, প্রয়োজন উদ্যোগ, সঠিক সময়ে যোগাযোগ এবং নিজের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা। তবে মার্ক কিউবানের বিনিয়োগই বক্সের পরবর্তী সাফল্যের একমাত্র কারণ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসার মডেল পরিবর্তন, নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং গ্রাহকভিত্তি সম্প্রসারণের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি বড় হয়েছে।
ব্রুকলিনে জগিং করতে গিয়ে নারীকে খুন, হত্যার অভিযোগে স্কুলকর্মী সায়েদ মোহাসিব গ্রেফতার
ভারত-পাকিস্তান যু দ্ধ বাধলে পাকিস্তানের পক্ষ নেবেন ইহুদিরা, ‘মূর্তিপূজকদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই’ বললেন রাব্বি