“সুযোগ পেলে আবারও করতাম” জার্মান নারীকে ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর
জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবার্গের ভিসলখ শহরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মনোরোগ ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সোমালি নাগরিক আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় আদালত তাকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয় বলে বিবেচনা করেছে। ঘটনার পর তাকে আবারও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো ভেইনসবের্গের ক্লিনিকাম আম ভেইসেনহফে চিকিৎসাধীন।
২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভিসলখের সাইকিয়াট্রিশেস জেন্ট্রুম নর্ডবাডেনের ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় আহমাদ এন. পালিয়ে যান। এর আগে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হওয়ায় ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড়ের আওতায় তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
পালানোর পর তিনি শহরের একটি TEDi দোকানে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী লিসা এস.-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাকে ৩৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।
আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। আদালতের নথি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, শারীরিক হামলা, হুমকি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে হাইডেলবার্গের একটি আদালত মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী না বলে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়।
তার অভিবাসন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাডেন-ভুর্টেমবার্গের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল। তবে মানসিক চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশে তাকে জার্মানিতে রাখা হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্লিনিকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব ছিল কি না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইডেলবার্গের ল্যান্ড কোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য ছিল, আহমাদ এন. প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকায় ঘটনার সময় নিজের কাজের বেআইনি চরিত্র বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। পরে তাকে শাস্তিমূলক কারাদণ্ডের পরিবর্তে মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে জার্মানির অভিবাসন ব্যবস্থা, মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীদের ব্যবস্থাপনা এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগগুলো মতামতভিত্তিক; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় বা অবহেলা নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয় রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreরাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর বাবা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুখরা মুজায়েভা নামের ওই নারীকে স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে নিজেই নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, জুখরা জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরে জানান, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তবে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। স্বাধীনভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন তিনটি সূত্র দাবি করেছে, জুখরাকে তাঁর বাবা হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর মাথা ন্যাড়া করা হয়, এরপর তাঁকে নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই কথিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুখরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। ১৭ বছর বয়সে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। পরে তাঁদের আরও একটি কন্যাসন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসাধনী বিক্রির ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন তিনি। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ বা কথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুখরাকে হত্যার পেছনে পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষার ধারণা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চেচনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হত্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
“সুযোগ পেলে আবারও করতাম” জার্মান নারীকে ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ মহড়া শেষ হতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে গত জুলাইয়ে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে চীনা উৎস থেকে পাওয়া উচ্চমানের উপগ্রহচিত্র ব্যবহার করেছিল ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটির উচ্চ রেজল্যুশনের উপগ্রহচিত্র সংগ্রহ করেছিল। ঘাঁটিটি দেশটির আজরাক এলাকায় অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আম্মান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে এসব ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে চীনের সরকার সরাসরি এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এমন অভিযোগও তোলা হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি চীনা প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছেন। চীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে প্রমাণ চাওয়া হয়েছে বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় প্রথমে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। আরও একজন সেনা নিখোঁজ ছিলেন এবং চারজন আহত হন। পরে নিখোঁজ ওই সেনার অবস্থাও মৃত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। ফলে ওই হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে। মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বারবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ঘাঁটিটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ মোতায়েন রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটিটি এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতা বাড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা উৎস থেকে পাওয়া চিত্র ইরানকে ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সেখানে থাকা সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা দিতে পারে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনা প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এর আগেও ওয়াশিংটন উদ্বেগ জানিয়েছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে চীন ও হংকংভিত্তিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মে মাসের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় উপগ্রহচিত্র সরবরাহের এই নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না। ফলে ইরানের হামলায় চীনা উৎসের উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের খবরটি মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হলেও, এতে চীন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ঘটনাটি বরং ইরানের সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে বেসরকারি বা চীনা বাণিজ্যিক উপগ্রহতথ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আল জাজিরা
কাজে এসে কাজ শেষেই ফিরতে হবে দেশে, রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম
নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের দুই দিন পর মারা গেলেন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা, তথ্য পেতে সহায়তা চায় কর্তৃপক্ষ
ভারতের দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের আরজি হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের শরীরের ভেতরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো গঠন পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় তার দুটো অণ্ডকোষও স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জটিল এই শারীরিক অবস্থাকে Persistent Müllerian Duct Syndrome বা PMDS হিসেবে শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের কাছে ওই যুবক প্রাথমিক বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে যান। পরীক্ষায় তার বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া যায়নি, যাকে অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়। একই সঙ্গে দেখা যায়, তার দুটো অণ্ডকোষই শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে এবং অণ্ডথলিতে নামেনি। এসব অস্বাভাবিকতার কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হয়। এমআরআই পরীক্ষায় পেলভিসের ভেতরে জরায়ুর মতো একটি গঠন এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো নালির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জেনেটিক পরীক্ষায় তার ক্রোমোজোম প্যাটার্ন ৪৬,XY বলে নিশ্চিত হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা PMDS শনাক্ত করেন। PMDS একটি অত্যন্ত বিরল জন্মগত শারীরিক অবস্থা। এতে সাধারণত ৪৬,XY ক্রোমোজোম ও পুরুষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকা ব্যক্তির শরীরে ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া মুলেরিয়ান ডাক্ট পুরোপুরি বিলীন হয় না। ফলে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অভ্যন্তরীণ গঠন থেকে যেতে পারে। এ অবস্থার সঙ্গে অণ্ডকোষ না নামা এবং বন্ধ্যাত্বের সম্পর্কও রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ রোগের কয়েকশরও কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণত শৈশবেই অণ্ডকোষ না নামা বা অন্য সমস্যার চিকিৎসার সময় এটি ধরা পড়ে। তবে কখনো কখনো বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও রোগটি শনাক্ত হয়। আরজি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের দুটো অণ্ডকোষই দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ভেতরে থাকায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুলেরিয়ান গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুটো অণ্ডকোষ অপসারণ করা হয়। পরে টিস্যু পরীক্ষায় বাম অণ্ডকোষে Germ Cell Neoplasia In Situ বা GCNIS নামের ক্যানসারের পূর্ববর্তী পরিবর্তন পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন অণ্ডকোষ শরীরের ভেতরে থাকা অবস্থায় ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই বন্ধ্যাত্বের পাশাপাশি অণ্ডকোষের অস্বাভাবিক অবস্থানও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দরে ডিউটি-ফ্রি দোকানে পাসপোর্ট স্ক্যানের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারের
রাশিয়ার ৫০ ফুট সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে জাপানের ক্ষোভ