ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিল, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি 'টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস' (টিপিএস) ১৩টি দেশের জন্য বাতিল বা বাতিলের প্রক্রিয়ায় নেওয়ায় প্রায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার অভিবাসী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। এর ফলে বহু মানুষ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ টিপিএস সুবিধার আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের এই সুরক্ষা শেষ হয়ে যাচ্ছে বা শেষ হওয়ার পথে।
টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানবিক কর্মসূচি, যা ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে চালু হয়। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সংকটে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই অনুমোদনের মেয়াদ সাধারণত ৬ থেকে ১৮ মাস হলেও অতীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নবায়ন করা হয়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার সময় ১৭টি দেশের জন্য টিপিএস কার্যকর ছিল। এরপর প্রশাসন ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল বা বাতিলের উদ্যোগ নেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভেনেজুয়েলা, হাইতি এবং হন্ডুরাসের নাগরিকরা।
বর্তমানে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, হাইতি, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, নেপাল, নিকারাগুয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার ক্ষেত্রেও টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, টিপিএস হারানোদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ভেনেজুয়েলার নাগরিক। দুই দফায় দেওয়া টিপিএস সুবিধার আওতায় থাকা ৬ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভেনেজুয়েলান এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়েছেন। দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী হাইতির নাগরিক, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার।
এদিকে ২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার টিপিএস বাতিলের অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর প্রশাসনের জন্য অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের জন্য টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, সেসব দেশে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সেখানে নাগরিকদের ফিরে যাওয়া সম্ভব। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, টিপিএস কখনোই স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি নয়; এটি সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই চালু করা হয়েছিল।
তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, সিরিয়াসহ অনেক দেশে এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিপিএস বাতিল করলে হাজারো মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়বেন। কিছু সংগঠন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলেও অভিযোগ করেছে।
অনেক টিপিএসধারী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। উদাহরণ হিসেবে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের অনেকে ১৯৯৮ সালে হারিকেন মিচের পর যুক্তরাষ্ট্রে এসে টিপিএস পান। তারা প্রায় তিন দশক ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন।
বর্তমানে চারটি দেশের নাগরিকদের জন্য টিপিএস এখনো কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো এল সালভাদর, ইউক্রেন, লেবানন ও সুদান। এসব দেশের প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ এখনো এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এসব সুবিধার মেয়াদও ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসন এগুলো আবার নবায়ন করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে টিপিএস হারানো অনেক অভিবাসী এখন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছেন। কেউ আশ্রয়ের আবেদন করছেন, কেউ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন কিছু অভিবাসীকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে উৎসাহিত করছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের অনুমতিও বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জুনের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট ছিল। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও রিপাবলিকান সমর্থকদের অধিকাংশ তা সমর্থন করেছেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যতগুলো দেশের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় বেশি। ফলে দেশটির অভিবাসন নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মর্মান্তিক এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে চার শিশু ও তাদের মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার পর বাবা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (কেবিআই) এবং উইনফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ৫৩ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র নিজেই পুলিশে ফোন করেন। তিনি জানান, পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছেন এবং এরপর নিজের জীবনও শেষ করতে যাচ্ছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে সরে গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং বিশেষায়িত সোয়াট (SWAT) দলের সহায়তা চান। সকাল প্রায় ১১টার দিকে সোয়াট সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী কেলি জর্জ এবং তার চার সন্তান। তাদের পরিচয় হলো ৯ বছর বয়সী ক্যারল উইলিয়ামস, ৭ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস জুনিয়র, ৫ বছর বয়সী সারাহ উইলিয়ামস এবং ৩ বছর বয়সী কেলি ম্যাগি-উইলিয়ামস। এছাড়া রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়রের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। উইনফিল্ড পুলিশের প্রধান রবি ডিলং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে রোনাল্ড উইলিয়ামসের অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে মানুষকে ধমক দেওয়া বা চিৎকার করার মতো ঘটনার তথ্যও তাদের কাছে ছিল। তিনি আরও জানান, এর আগে ওই এলাকার আশপাশে গুলির শব্দ শোনার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গুলির উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ডিলং বলেন, আগের অভিযোগগুলো এমন পর্যায়ের ছিল না, যাতে এত বড় একটি ট্র্যাজেডির আশঙ্কা করা যায়। তার ভাষায়, "২০ বছরের বেশি সময়ের চাকরি জীবনে এর কাছাকাছিও কোনো ঘটনার মুখোমুখি হইনি।" কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা প্রতিবেশী, স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র পূর্বে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কানসাসের আদালতের নথিতে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে শিশু নির্যাতনের চেষ্টাসহ একাধিক অপরাধে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। এ কারণে তার নাম রাজ্যের যৌন অপরাধীর নিবন্ধন তালিকাতেও ছিল। এই ঘটনা ঘটল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মিশিগানে আরেকটি ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পর। সে ঘটনায় এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যা করার পর আগুন লাগিয়ে দেন বলে তদন্তে উঠে আসে। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, কানসাসের এই ঘটনাসহ চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৫টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ৯টি ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। অপরাধবিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘটনাকে 'ফ্যামিলি অ্যানাইহিলেশন' বা পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
নিউ জার্সিতে বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি ফিরিয়ে দিল ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইন প্রতিষ্ঠান
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিল, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ম্যানহাটনের এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনের জায়গায় আবাসন নির্মাণ করা এখন তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এর জন্য তিনি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। মামদানি নির্বাচনী প্রচারের সময় ওই বাগান সরিয়ে সেখানে ১২৩টি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট, বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য, নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাডামসের প্রশাসন ২০২৫ সালে জায়গাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগর পার্ক হিসেবে ঘোষণা করায় সেখানে নির্মাণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এখন ওই জমিতে আবাসন নির্মাণ করতে হলে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন। এদিকে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে নতুন একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনের পরিবর্তে লোয়ার ম্যানহাটনের ২২ সাফোক স্ট্রিটে ১৮০টি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অ্যাডামসের প্রশাসন এর আগে বাগানটি সংরক্ষণ করে আশপাশের কয়েকটি স্থানে মোট ৬০০টি সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। মামদানি তখনও গার্ডেনের জায়গায় আবাসন নির্মাণের পক্ষে ছিলেন। এখন নতুন সমঝোতার মাধ্যমে বাগানটি রক্ষা করার পাশাপাশি বিকল্প জায়গায় আবাসন নির্মাণের চেষ্টা চলছে। তবে মামদানির সমালোচকেরা বলছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার দায় শুধু পূর্ববর্তী প্রশাসনের ওপর চাপানো উচিত নয়।
টেক্সাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে দুই আরোহী নিহত
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসনালিতে বমি আটকে মৃত্যুর মুখে তিন বছরের শিশু, প্রাণ বাঁচাল পুলিশ
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাজিয়া হক
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০) নামের পাঁচ সন্তানের এক মা। পরিবারের দাবি, সন্তানদের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতেই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। শনিবার মধ্যরাতে ইলিনয়ের কাহোকিয়া হাইটসে একটি পরিত্যক্ত আমেরিকান লিজিয়ন পোস্টের বাইরে জেভিয়ার হ্যারিসন (৩০) নামের ওই ব্যক্তি রিভেরাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে রিভেরার ১৬ বছর বয়সী মেয়ের চোখের সামনেই। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা জানালেও রিভেরার পরিবার তা অস্বীকার করেছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে একসময় সম্পর্ক থাকলেও হ্যারিসন গত কয়েক বছর ধরে রিভেরাকে ক্রমাগত হয়রানি করে আসছিল। ঘটনার রাতে রিভেরা হ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন কেবল তার সন্তান এবং বয়স্ক মাকে বাঁচানোর তাগিদে। পরিবারের সদস্য তেরেসা ফিউডো জানান, রিভেরা যদি সেদিন হ্যারিসনের সাথে দেখা না করতেন, তবে সে সরাসরি তাদের বাড়িতে এসে আরও বড় ধরনের ক্ষতি বা ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারত। রিভেরার মা কারেন রিভেরা বলেন, "সে মূলত আমাদের জীবন বাঁচাতেই নিজের জীবন বিপন্ন করেছে।" ঘটনার সময় রিভেরার কিশোরী মেয়ে কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করে এবং ৯১১ নম্বরে কল করে পুলিশকে খবর দেয়। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, রিভেরা গত মার্চ মাসে হ্যারিসনের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা আদেশের (অর্ডার অব প্রটেকশন) আবেদন করেছিলেন, যা কয়েক সপ্তাহ পর এপ্রিলে বাতিল হয়ে যায়। শুধু রিভেরাই নন, গত মাসে এবং ২০১৯ সালেও আরও দুই নারী হ্যারিসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, হ্যারিসন এর আগেও রিভেরা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। গত কয়েক বছরে বেলভিলে অবস্থিত রিভেরার বাড়িতে অন্তত ৫০ বার পারিবারিক সহিংসতার কারণে পুলিশকে ডাকতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বোনেরা। পরিবারের ভাষ্যমতে, রিভেরাই ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পাঁচ সন্তান ও মায়ের ভরণপোষণের জন্য তিনি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করতেন। তেরেসা ফিউডো বলেন, "সে তার সন্তানদের নিজের পুরো হৃদয় দিয়ে ভালোবাসত। সন্তানদের জন্য সে করতে পারে না, এমন কিছুই ছিল না।" এখন থেকে নিহত এই সাহসী মায়ের পাঁচ সন্তানের লালনপালনে তার মা কারেন রিভেরা সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ম্যাককেসনে শত শত চাকরি, বাংলাদেশিদের জন্য যেসব সুযোগ
মিফতাহ সিদ্দিকীর নিয়োগে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ জুয়েল সাদতের