ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি। অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মাত্র ৬৫ ডলারের একটি পার্কিং চুক্তি বাতিল না করাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে এক অ্যাপার্টমেন্টের লিজিং অফিসে ঢুকে তিনজন সম্পত্তি ব্যবস্থাপককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৩০ বছর বয়সী তসেগাব আদেমাস্সু বিনেসুর বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে তিনটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ এনেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যায় ডাভার্ন পার্ক অ্যাপার্টমেন্টস থেকে গুলির শব্দ ও চিৎকারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী নানসি জি. ফুয়েন্তেস জামব্রানো, ৫৬ বছর বয়সী ডেনা এম. সিলকক্স এবং ৪৩ বছর বয়সী অ্যাডাম জে. উইলওয়ার্ডিং। রামসি কাউন্টির ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার আগে বিনেসু অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষকে ফোন করে মাসিক ৬৫ ডলারের পার্কিং গ্যারেজ চুক্তি বাতিল করতে চান। কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি নবায়ন করা চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। ফোনেই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, সরাসরি অফিসে এলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পরই তিনি লিজিং অফিসে যান। সেখানে প্রথমে অ্যাডাম উইলওয়ার্ডিংয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করেন। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও একাধিকবার গুলি করা হয়। এরপর ডেনা সিলকক্সকে পরপর গুলি করেন। পরে অফিসের ভেতরের আরেকটি অংশে পালানোর চেষ্টা করা নানসি ফুয়েন্তেস জামব্রানোও গুলিতে নিহত হন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লিজিং অফিসের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার বড় অংশ ধরা পড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৯ মিলিমিটার ক্যালিবারের ২১টি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নানসি ফুয়েন্তেস জামব্রানোর গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে সেন্ট লুইস কাউন্টিতে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, একটি খালি ম্যাগাজিন, আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতিপত্র এবং সদ্য কেনা ক্যাম্পিং সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার সময় যে পোশাক পরেছিলেন, গ্রেপ্তারের সময়ও একই পোশাকে ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে বিনেসুর সঙ্গে বসবাস করা এক রুমমেট পুলিশকে জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত তাকে ফোন করে তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। প্রথমে তিনি পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বললেও পরে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে বিনেসু যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সাত বছরেও ইথিওপিয়ায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং মানসিক চাপের কারণে তিনি ট্রাকচালকের চাকরিও ছেড়ে দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অ্যাপার্টমেন্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে বারবার ‘এটাই সিস্টেম’ বলে দায় এড়িয়েছে। তবে তদন্তকারীদের কাছে তিনি লিজিং অফিসে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সেখানে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আর কোনো বক্তব্য দেননি। পরে আইনজীবীর উপস্থিতি চান। রামসি কাউন্টির ফৌজদারি অভিযোগপত্র ও সেন্ট পল পুলিশ জানিয়েছে, বিনেসুর বিরুদ্ধে তিনটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি নির্ধারিত হয়েছে বুধবার।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি নিজেদের পক্ষে লড়তে এখন সরকারি খরচে আইনজীবীর সহায়তা পাচ্ছেন। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত আইনি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেএসটিপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি সামাজিক সেবা কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই অভিযোগ ওঠার আগে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছিলেন। মিনেসোটার আইন অনুযায়ী, কোনো আসামি নিজ খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিতে অক্ষম বলে আদালত মনে করলে তার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক অভিযুক্ত যেন ন্যায্য বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারেন। তবে আদালত প্রয়োজনে অভিযুক্তের আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি ব্যয়ের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক আলোচিত মামলা সামনে এসেছে। এর মধ্যে শিশুদের খাবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে বহু ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়েছেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সরকারি অর্থ জালিয়াতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য আবারও করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন এবং ন্যায্য আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সেন্ট পলের হ্যারিয়েট আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিনেসোটা ইয়াট ক্লাব ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। গেট খোলার আগে থেকেই মিসিসিপি নদীর তীরে উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। সেন্ট পলের বাসিন্দা জাস্টিস জার্নিক লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, তিনি ‘দ্য ব্ল্যাক কিজ’-এর পারফরম্যান্স দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। উৎসবস্থলের ঠিক অপর প্রান্তে অবস্থিত ‘সিটি হাউস’ রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মিরান্ডা বুদাচ জানান, এই উৎসবের কারণে তাদের ব্যবসা সাধারণ সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে এবং তারা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। উৎসবের একটি স্টেজ সরাসরি তাদের রেস্তোরাঁর দিকে মুখ করে থাকায় সেখান থেকে গান খুব ভালোভাবে শোনা যায়। শুক্র, শনি ও রবিবার—তিন দিনই তাদের রেস্তোরাঁর সব টেবিল বুকড হয়ে গেছে। ওকলাহোমা বা টেক্সাস থেকে আসা উৎসবের টেকনিশিয়ান ও কর্মীরাও আগেভাগেই এই এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের এই উৎসবে দ্য ব্ল্যাক কিজ, দ্য লুমিনিয়ার্স, দ্য স্ট্রোকস, ম্যাচবক্স টোয়েন্টি, মাউন্ট জয় এবং ই্যাম হাউসের মতো স্থানীয় ও জনপ্রিয় ব্যান্ড দলগুলো পারফর্ম করছে। সেন্ট পল পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, এই উইকএন্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৩৬,০০০ মানুষ শহরে আসছেন। তবে আবহাওয়া অত্যন্ত গরম থাকায় পুলিশ সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। সেন্ট পল পুলিশ বিভাগের সিনিয়র কমান্ডার জেসি মলনার বলেন, "তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে আমরা উৎসব প্রাঙ্গণে দুটি খালি এসি কুলিং বাস, কুয়াশা ছড়ানো কুলিং ফ্যান, অতিরিক্ত তাঁবু এবং বেশ কয়েকটি পানি পানের স্টেশন বা হাইড্রেশন স্টেশনের ব্যবস্থা করেছি।" এদিকে উৎসবের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে সেন্ট পলের বাসিন্দা পল থমাস জানান, সঙ্গীতপ্রেমীদের আগমনকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখলেও উৎসবস্থল খুব কাছে হওয়ায় এই সময়টায় তারা বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। উৎসবের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রো ট্রানজিট বেশ কিছু বাস ও লাইট রেল রুট প্রস্তুত রেখেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) দুর্বল করার ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। বুধবার উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম স্ট্যাটিউট’ অনুমোদনের মাধ্যমে আদালটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির কর্মকর্তা ও বিচারকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগ আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রয়োজনে “ইটে ইট খুলে” আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ভেঙে দেওয়ার জন্য সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ব্যবহার করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং মার্কিন নাগরিক ও মিত্রদের বিরুদ্ধে আদালতের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে আসা ইলহান ওমার বলেন, “আমরা যদি সত্যিই মানবাধিকার ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, তাহলে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল নয়, বরং আরও শক্তিশালী করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত উদাহরণ সৃষ্টি করা এবং দেখানো যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” তিনি আরও বলেন, আইসিসি কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করে, যখন কোনো দেশ যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিজস্ব বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় বা অনিচ্ছুক থাকে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য নয় এবং আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করে না। তবে সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে আইসিসি তদন্ত চালাতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে আদালত গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তদন্ত করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইলহান ওমারের প্রস্তাবটি আইন নয়; এটি প্রতিনিধি পরিষদের একটি নীতিগত রেজুলেশন। এটি পাস হলেও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে আইসিসির সদস্য করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইসিসিতে যোগ দিতে হলে রোম স্ট্যাটিউট অনুমোদনসহ সংবিধান অনুযায়ী পৃথক আইনগত ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক সাবেক ফেডারেল এজেন্টকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করার পর তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা জানিয়েছে, ইগান শহরের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী টিমোথি গ্রেগকে ৮৪ মাস বা সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ ছবি ও ভিডিও তৈরিতে এবং সেগুলো পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় গ্রেগ মিনেসোটায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) বিশেষ এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এফবিআইয়ের একটি যৌথ টাস্কফোর্সেও দায়িত্ব পালন করতেন। মামলার রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে এবং অপরাধী যে পদেই থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইসিইর পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ব্যাজ, পদ বা দায়িত্ব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। তার ভাষায়, এই মামলায় অভিযুক্তের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ ক্রিস্টোফার ডটসন বলেন, আদালতের এই রায় ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের জন্য অন্তত কিছুটা ন্যায়বিচারের অনুভূতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তারা আশা করছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্রেগ সরকারি দাপ্তরিক ই-মেইল ব্যবহার করে একটি হোটেল কক্ষ সংরক্ষণ করেছিলেন, যেখানে তার সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জানান, টুইন সিটিজ এলাকায় একটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল গ্রেগের। তবে সেই অভিযানে যোগ দেওয়ার আগের দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা, আদালতের নথি এবং এফবিআই ও আইসিইর বিবৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্রেইনার্ডে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে শোক, ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিহত কিশোরী অ্যালেক্সিসের পরিবার দাবি করেছে, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার পরই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং অভিযোগ জমা পড়েনি। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পর্যালোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অ্যালেক্সিসের বাবা-মা শ্যান্টেল স্মিথ ও ব্রেন্ট উইলিসের অভিযোগ, তাদের মেয়ে ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে পড়ার সময় একদল সহপাঠী তার গায়ের রং, নাকের আকৃতি ও চেহারা নিয়ে নিয়মিত অপমান করত। তাদের দাবি, অ্যালেক্সিস বিষয়টি বন্ধু, পরিবারের সদস্য এমনকি স্কুলের কিছু কর্মীকেও জানিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনো পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মন্তব্যের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণও ছিল। তারা মনে করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। ঘটনার পর দায়িত্ব নেওয়া ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট চিপ র্যাঙ্কিন বলেন, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে গভীর শোক নেমে এসেছে। তিনি জানান, স্কুল প্রশাসনের নথিতে অ্যালেক্সিসকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং রিপোর্ট নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকলেই যে বুলিং হয়নি, এমনটি বলা যায় না। র্যাঙ্কিন বলেন, বর্তমানে অনেক বুলিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘটে, যা স্কুল সময়ের বাইরে হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জড়াতে না চাওয়ায় ঘটনাগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় না। তিনি জানান, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর পরপরই জেলার সংকট মোকাবিলা দল সক্রিয় করা হয়েছে। ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ৩০টিরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো বুলিং অভিযোগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইন-স্কুল বা আউট-অব-স্কুল সাসপেনশন, বহিষ্কার, এমনকি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। র্যাঙ্কিন বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে বুলিং শনাক্তকরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিযোগ গ্রহণ ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বুলিং প্রতিরোধ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং স্কুলে অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এদিকে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের শৃঙ্খলাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসে বুলিং ও হয়রানির ঘটনা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে যেখানে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি, সেখানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০-এ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৫-এ পৌঁছায়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুলিংয়ের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও কঠোর হয়েছে। ইন-স্কুল সাসপেনশনের পাশাপাশি আউট-অব-স্কুল সাসপেনশনও আগের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যালেক্সিসের মৃত্যু আরও বেশি আলোচনায় এসেছে, কারণ এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছিল। দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বুলিং প্রতিরোধ এবং স্কুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কানাডা সীমান্তসংলগ্ন উত্তর মিনেসোটায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শান্তিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর টিম ওয়ালজ। আগুন নিয়ন্ত্রণ, মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় জরুরি কর্মীদের সহায়তার জন্য মিনেসোটা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দাবানলে ৮০০ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনগুলো এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। গভর্নর ওয়ালজ বলেন, উত্তর মিনেসোটার দাবানল মোকাবিলায় তিনি শান্তিকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ন্যাশনাল গার্ডকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। বাসিন্দা ও তাঁদের সম্পদ রক্ষায় দিনরাত কাজ করা দমকলকর্মী ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও পরিবহন সুবিধা দিতে পারবেন। দুর্গম বনাঞ্চল থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি সরবরাহ পৌঁছানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করাও তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর মিনেসোটার সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে অন্তত ১৬টি সক্রিয় দাবানল শনাক্ত হয়েছে। এই বনাঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত জনপ্রিয় বাউন্ডারি ওয়াটার্স ক্যানো এরিয়া ওয়াইল্ডারনেসের কয়েকটি অংশে জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিয়ার ট্র্যাপ, থাম্ব ও উলফপ্যাক নামের অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ এলাকাগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এসব এলাকা সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টের লাক্রোয়া রেঞ্জার ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত। আগুন সম্পূর্ণ নিভে না যাওয়া পর্যন্ত অথবা কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সপ্তাহান্তে বনরক্ষী ও উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন পর্যটন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের বের করে আনেন। গ্রীষ্মকালে প্রায় দেড় লাখ মানুষ সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে ঘুরতে যান। ফলে ব্যস্ত পর্যটন মৌসুমের মধ্যে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি সেবাকর্মীদের কাজে বাধা সৃষ্টি না করা এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম নিরাপদে পরিচালনার জন্য আক্রান্ত এলাকাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বন্ধ ঘোষণা করা বনপথ, ক্যাম্পিং এলাকা এবং জলপথে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পুরো সুপিরিয়র ন্যাশনাল ফরেস্টে ক্যাম্পফায়ারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করে আগুন জ্বালানো, রান্না করা কিংবা গ্রিল চালানোর অনুমতি নেই। তবে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত মেনে গ্যাস বা প্রোপেনচালিত চুলা ব্যবহার করা যাবে। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস উত্তরাঞ্চলে চরম অগ্নিঝুঁকির কারণে ‘রেড ফ্ল্যাগ ওয়ার্নিং’ জারি করেছে। এ ধরনের সতর্কতার অর্থ হলো—তাপমাত্রা, বাতাস, কম আর্দ্রতা ও শুকনো গাছপালার কারণে ছোট একটি আগুনও দ্রুত বড় দাবানলে পরিণত হতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, সপ্তাহান্তের উচ্চ তাপমাত্রা আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। তীব্র গরমে মাটি, শুকনো ঘাস এবং গাছপালার আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এর সঙ্গে বাতাস যুক্ত হলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির আশপাশ থেকে শুকনো পাতা, ডাল ও দাহ্য বস্তু সরিয়ে রাখতে বলেছে। গাড়ি শুকনো ঘাসের ওপর পার্ক না করা, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বাইরে না ফেলা এবং কোনো ধরনের খোলা আগুন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগুনের কাছাকাছি এলাকার মানুষকে জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি, খাবার, মোবাইল চার্জার, নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে দেরি না করে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। দাবানলের ধোঁয়া উত্তর মিনেসোটাসহ আশপাশের এলাকার বায়ুর মানেও প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং হাঁপানি, ফুসফুস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে বাইরে কম সময় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং সম্ভব হলে বায়ু পরিশোধক ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। মিনেসোটা ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আবহাওয়া, বায়ুমানের সতর্কতা এবং সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বনাঞ্চল, লেক সুপিরিয়র ও বাউন্ডারি ওয়াটার্স এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে বন বিভাগের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা যাচাই করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। বাতাসের গতি বা দিক বদলালে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বন্ধ এলাকা দেখতে যাওয়া, ছবি তুলতে অগ্নিকাণ্ডের কাছাকাছি যাওয়া অথবা ড্রোন ওড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ড্রোনের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গভর্নর ওয়ালজের জরুরি ঘোষণার ফলে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত জনবল, যন্ত্রপাতি ও আর্থিক সহায়তা দ্রুত ব্যবহার করতে পারবে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও এই জরুরি ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের স্টি. ক্লাউড শহরে প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী কাতেরিনা ইভানোভনা মার্কিভের বিরুদ্ধে দুটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত ২৫ বছর বয়সী কুইন্টন ম্যাককে হিউজ ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর ভোর ৪টার কিছু পর স্টি. ক্লাউড পুলিশ একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ যাওয়ার আগে হিউজ নিজেই ৯১১ নম্বরে ফোন করে জানান যে, একটি “সামান্য ঝগড়ার” সময় তিনি ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তদন্তে পুলিশ একটি রক্তমাখা প্রায় ৮ ইঞ্চি লম্বা ছুরি উদ্ধার করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে মার্কিভকে আহত হিউজের বুকে চাপ দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ৯১১ কলে তাকে বারবার ক্ষমা চাইতেও শোনা গেছে বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিভ জানান, ঘটনার আগে তারা দুজনই মদ্যপান করেছিলেন। পরে তাদের মধ্যে তর্কের সূত্রপাত হয়, কারণ তিনি যৌন সম্পর্ক করতে চাইলে হিউজ রাজি হননি। তিনি দাবি করেন, তর্কের একপর্যায়ে রাগের মাথায় ছুরি নাড়ানোর সময় হিউজের গায়ে আঘাত লাগে। তার ভাষ্য, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করতে চাননি; কেবল আঁচড় দিতে চেয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, তার রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে এবং ঘটনার সময় তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, মার্কিভ ও হিউজ একই কর্মস্থলে কাজ করতেন এবং কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সহকর্মীদের একজন তদন্তকারীদের জানান, মার্কিভ আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং রেগে গেলে নিজেকে সামলাতে কষ্ট হতো। স্টিয়ার্নস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মার্কিভের বিরুদ্ধে দুটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বর্তমানে তিনি স্টিয়ার্নস কাউন্টি জেলে আটক রয়েছেন। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাতেরিনা ইভানোভনা মার্কিভ আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট 'অ্যানোকা-হেনিপিন'-এ শিক্ষার বাজেট ঘাটতি মেটাতে এক নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে। স্কুলের তহবিল সংকটের কারণে পড়াশোনার মান যেন ভেঙে না পড়ে, সেজন্য সাধারণ অভিভাবকেরা একজোট হয়ে নতুন কর বা ট্যাক্স বাড়ানোর দাবিতে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। তবে স্কুল বোর্ড এই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেওয়ায় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। বর্তমানে এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টটি প্রায় ২২ মিলিয়ন (২ কোটি ২০ লাখ) মার্কিন ডলারের বিশাল বাজেট ঘাটতিতে ভুগছে। এই বিপর্যয় সামাল দিতেই ‘প্যারেন্টস ফর গুড’ নামক অভিভাবক সংগঠনটি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা বোর্ডে জমা দিয়েছিল, যাতে ভোটের মাধ্যমে নতুন করে ট্যাক্স বা লেভি ধার্য করা যায়। কিন্তু স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, মিনেসোটার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাধারণ ভোটারদের আবেদনের ভিত্তিতে ব্যালটে বা ভোটে এই ধরনের ট্যাক্স পাসের কোনো সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষের এমন জবাবের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিভাবক সংগঠনটি। তারা এক বিবৃতিতে বলে, "স্কুল বোর্ড আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী এবং পুরো সমাজের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বোর্ড যে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, সচেতন সমাজ হিসেবে আমরা আজ সেটাই করে দেখিয়েছি।" অ্যানোকা-হেনিপিন স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অধীনে ৩০টিরও বেশি স্কুলে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ব্লেন, ব্রুকলিন পার্ক, অ্যানোকা এবং কুনের মতো প্রায় এক ডজনেরও বেশি শহরের শিক্ষা ব্যবস্থা এর ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি মে মাসে এই ডিস্ট্রিক্টে নতুন সুপারিনটেনডেন্ট গ্রেগ কোল দায়িত্ব নিয়েছেন। তার ওপর গত জানুয়ারি মাসেই শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে হওয়া একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার বড় চাপ রয়েছে। অভিভাবকদের এই বিশাল গণস্বাক্ষরের আবেদনটি স্কুল বোর্ড আপাতত বিবেচনায় রেখেছে। আগামী মাসে এই বিষয়ে বোর্ড তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এক নারী হোটেল রুমের গরম জলের কুণ্ডে (হট টাব) আলাপ হওয়া দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই জঘন্য অপরাধের পরও ওই নারীর স্বামী তাঁর পাশে থাকার এক অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যালিসন শার্ডিন নামের ওই অপরাধী নারী ইতিমধ্যে যৌন অপরাধীদের তালিকায় (সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন এখনও বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৫২ বছর বয়সী অ্যান্থনি নিশ্চিত করেন যে তারা এখনও বিবাহিত এবং একসঙ্গে আছেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে বা আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন। ৪০ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী অ্যালিসন শার্ডিন তাঁর অপরাধের জন্য বড় মেয়াদের কারাদণ্ড এড়াতে সক্ষম হন। গত বছরের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করার পর তাঁকে মাত্র দুটি সপ্তাহান্তের (উইকেন্ড) জেল, সমাজসেবামূলক কাজ এবং পাঁচ বছরের প্রবেশন বা নজরদারির সাজা দেওয়া হয়। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি অ্যালিসন তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে রোজভিলের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কলোরাডো থেকে খেলতে আসা ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর অ্যাথলেটের সঙ্গে হট টাবে তাঁর আলাপ হয়। সেখানে ভিজতে ভিজতে অ্যালিসন ওই কিশোরদের কাছে নিজের স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী উপর থেকে চিৎকার করে বলেন, "তুমি যদি এখনই উপরে না আসো, তবে আমাদের সম্পর্ক শেষ।" এরপরই অ্যালিসন ওই কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে অ্যালিসন ওই কিশোরদের একজনের স্ন্যাপচ্যাটে বার্তা পাঠিয়ে তাদের রুমে যাওয়ার কথা বলেন। রুমে গিয়ে তিনি কিশোরদের ওপর যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, যখন অপর এক কিশোর তা দেখছিল। ভুক্তভোগীদের একজন police-কে জানায়, তারা অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল এবং কীভাবে 'না' বলতে হয় তা তাদের জানা ছিল না। এই ঘটনার পরদিন অ্যালিসন ওই কিশোরদের খেলার মাঠেও তাড়া করেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি প্রশাসনকে না জানাতে মেসেজ পাঠিয়ে অনুরোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নথি অনুযায়ী, এই ঘটনার ঠিক চার সপ্তাহ আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যান্থনি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন। তবে স্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তারা যৌথভাবে সেই মামলাটি স্থগিত করার আবেদন জানান এবং এক বছর পর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি পুরোপুরি খারিজ হয়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসনকে বিচার বিভাগের (DOJ) তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। গত সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি এই পদক্ষেপ নেন, যেখানে অঙ্গরাজ্যটির সুবিধাভোগী প্রকল্পগুলোতে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসের ‘টাস্কফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেডি ভ্যান্স। ওভারসাইট প্যানেল গত রবিবার তাকে মিনেসোটার এই জালিয়াতি নিয়ে অধিকতর তদন্তের আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জেডি ভ্যান্স জানান, তিনি এসব অভিযোগ বিচার বিভাগের নতুন ফ্রড ডিভিশনে ফৌজদারি তদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিনেসোটার কোনো কর্মকর্তাই আইনের ঊর্ধ্বে নন। যদি তারা এই জালিয়াতিতে সহায়তা করে থাকেন, শপথ নিয়ে মিথ্যা বলেন অথবা তথ্য ফাঁসকারীদের (হুইসেলব্লোয়ার) ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন, তবে তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স অবশ্য জানিয়েছেন, তদন্তের আগেই তারা বাইডেন প্রশাসনের মতো কাউকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করছেন না, তবে জালিয়াতিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। মূলত গত বছরের ডিসেম্বরে ইউটিউবার নিক শার্লির একটি ভাইরাল ভিডিওর পর ওভারসাইট কমিটি এই তদন্ত শুরু করে, যেখানে ভুয়া চাইল্ড কেয়ার সুবিধাগুলো কীভাবে ফেডারেল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তা দেখানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মিনেসোটার ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ স্ক্যান্ডালেই অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ডলার চুরি গেছে, যার ফলে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়েছে। এমনকি একজন সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটরের মতে, ২০১৮ সালের পর থেকে মিনেসোটার ১৪টি মেডিকেইড কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি হতে পারে। যদিও গভর্নর ওয়ালজ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এই বিশাল অঙ্কের দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, মিনেসোটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বছরের পর বছর ধরে চলা এই জালিয়াতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তা থামানোর আইনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন গভর্নর ওয়ালজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটার মতো ব্লু স্টেটগুলোকে (ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত) শাস্তি দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ ফেডারেল সরকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়রের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের আরেকটি তদন্ত আগে থেকেই চলমান রয়েছে। চলমান এই জালিয়াতি কেলেঙ্কারির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে মিনেসোটার জন্য প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড তহবিল স্থগিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।