আমেরিকা

নিউইয়র্কের যে শহরে মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে মিলছে বাড়ি, তবু কেন মানুষ ছেড়ে যাচ্ছে শহরটি?

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২০:৩০
মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে বাড়ি, তবু জনশূন্য হয়ে পড়ছে নিউইয়র্কের ইউটিকা। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে বাড়ি, তবু জনশূন্য হয়ে পড়ছে নিউইয়র্কের ইউটিকা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের আপস্টেটের শহর ইউটিকায় যেন চলছে নতুন বাসিন্দা খোঁজার এক মরিয়া চেষ্টা। নিউইয়র্ক সিটির আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিপরীতে এই শহরটি নীরবে রাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজারে পরিণত হয়েছে। একাধিক মার্কেট ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাভেদে এখানকার একেকটি বাড়ির গড় মূল্য মাত্র ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। মাসিক ভাড়াও শুরু হয় মাত্র ৯০০ ডলার থেকে। সামগ্রিকভাবে নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম।

 

নিউইয়র্ক সিটির লাগামহীন ব্যয়ের কারণে যারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাছে এই পরিসংখ্যানকে স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে জীবনযাত্রার খরচ এত কম হওয়া সত্ত্বেও একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই শহরের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে?

 

জিলো (Zillow)-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে ইউটিকার বাড়ির দাম প্রায় ৯ শতাংশ বাড়লেও এখানকার একটি বাড়ির গড় দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে একটি বাড়ির গড় মূল্য যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সেখানে ইউটিকার এই দামকে নিতান্তই নগণ্য বলা চলে।

 

শহরের আবাসন বাজারের এই সস্তা দরের বেশ কিছু বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। স্প্রিং স্ট্রিট ওয়েস্টে অবস্থিত পাঁচ বেডরুম ও এক বাথরুমের একটি সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির তালিকাভুক্ত মূল্য মাত্র ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার। এছাড়া তিন বেডরুমের একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯৯ হাজার ৯০০ ডলারে। শহরের একটু দামি এলাকার কথা বিবেচনা করলেও, মোহক স্ট্রিটে ২ হাজার ৫৩২ স্কয়ার ফুটের পাঁচ বেডরুম ও আড়াই বাথরুমের একটি বাড়ির দাম হাঁকা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার।

 

কিন্তু মুদ্রার উল্টোপিঠের চিত্রটা বেশ হতাশাজনক। এত সস্তায় আবাসন সুবিধা পাওয়ার পরও মানুষ ইউটিকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বছরে প্রায় ০.৭৪ শতাংশ হারে কমছে। ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে শহরটির জনসংখ্যা ৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের আপস্টেট মিউনিসিপ্যালিটিগুলোর মধ্যে ইউটিকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থানান্তর হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহক ভ্যালির এক প্রবীণ রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "এটি হয়তো আপনার কেনা সবচেয়ে সস্তা বাড়ি হবে, কিন্তু আপনার সন্তানদের এখানে থাকার জন্য রাজি করানোটা হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।" সাউদার্ন টিয়ার বা ক্যাপিটাল রিজিয়নের সাথে ইউটিকার তুলনা করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে তিনি পরিস্থিতিটি এভাবেই তুলে ধরেন। তার মতে, "এখানে বাড়ির দাম কোনো সমস্যা নয়। দাম ছাড়া বাকি সবকিছুই আসলে সমস্যা।"

 

শহরবাসীর এই প্রস্থানের শেকড় লুকিয়ে আছে কয়েক দশক আগের ইতিহাসে। ‘রাস্ট বেল্ট’ এলাকার অন্যান্য শহরের মতো ইউটিকাকেও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) এবং লকহিড মার্টিনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা বন্ধ করে শহরতলিতে চলে যাওয়ার ফলে ইউটিকা তার মূল অর্থনৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। বিপুল সংখ্যক চাকরি হারানোর কারণে শহরের কর রাজস্ব কমে যায় এবং অনেক বাসিন্দা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন।

 

২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউটিকার মানুষের ব্যক্তিগত আয়ের মধ্যমা (মিডিয়ান ইনকাম) ছিল মাত্র ৩০, ৭৮৫ ডলার, যেখানে একটি পরিবারের আয়ের মধ্যমা প্রায় ৫২,০০০ ডলার; যা নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে অনেক নিচে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের (Department of Labor) তথ্যানুযায়ী, এই শহরের বেকারত্বের হার ৪.৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখানকার দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশেরও বেশি, যা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।

 

অর্থনৈতিক এই দৈন্যদশার কারণেই মূলত সস্তায় বাড়ি পাওয়ার পরও মানুষ শহর ছাড়ছেন। সম্প্রতি নিজের বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন এমন এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ব্রুকলিনে একটি বাড়ি কিনতে শুধু ডাউনপেমেন্ট হিসেবে যে টাকা দিতে হয়, সেই টাকায় আপনি এখানে আস্ত একটি বাড়ি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ভাড়ায় খাটানোর জন্য বাড়ি কেনা যায়, এখানে নিজেরা থাকার কোনো কারণ কাউকে বোঝানোই এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।"

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, আরও কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি

অপরাধ, জালিয়াতি, যৌন নির্যাতন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, তদন্ত এবং তাদের ভিসা বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো ঘটনায় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া অধিকাংশ ভিসাধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার মাধ্যমে যুক্ত হন। এসব অপরাধের মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি ছিল।   এ ছাড়া জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবৈধ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, শিক্ষকতা করতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।   এ ছাড়া গত বছর রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্যে উদযাপন করেছিলেন এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।   সরকার আরও জানায়, সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ চক্রের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে।   ভিসা বাতিলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত মাসের শেষ দিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করে, যার আওতায় মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু ধরনের মার্কিন ভিসার জন্য জামানত জমা দিতে হবে। সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, গত এক দশকের বেশি সময়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক লাখ অ-অভিবাসী দর্শনার্থী তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি।   এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আরেকটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।   এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশের ভেতরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আরও কার্যকরভাবে যাচাই, তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।   একই ঘোষণায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, গণমাধ্যম ভিসাধারী বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৪০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আর চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে এমন নীতির সমালোচনা করে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বৈধ আবেদনকারী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২১:৬
নতুন অভিবাসী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি চাকরি খোঁজা ও আবেদন প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে নিউইয়র্কে। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে চাকরি খুঁজতে সমস্যা? নিউইয়র্কে যেভাবে সরাসরি গিয়ে বিনামূল্যে চাকরির আবেদন করতে পারবেন

মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে বাড়ি, তবু জনশূন্য হয়ে পড়ছে নিউইয়র্কের ইউটিকা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের যে শহরে মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে মিলছে বাড়ি, তবু কেন মানুষ ছেড়ে যাচ্ছে শহরটি?

ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হাইওয়ে। ছবি:সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হাইওয়ে

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আবাসন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত গণশুনানি। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আবাসন ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক গণশুনানি, নজরে সাশ্রয়ী আবাসন

নিউইয়র্ক শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানো এবং জমির ব্যবহার নিয়ে আগস্ট মাসে একাধিক সভা, গণশুনানি ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম চলছে। এসব আলোচনায় নতুন আবাসন প্রকল্প, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং নগরের আবাসন নীতির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাচ্ছে।   চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কের আবাসন ও ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নগরের কোনো এলাকায় নতুন আবাসন বা বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া এসব প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   নিউইয়র্কে ভূমি ব্যবহারের বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম ল্যান্ড ইউজ রিভিউ প্রসিডিউর বা ইউলুর্প প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড, বরো প্রেসিডেন্ট, নগর পরিকল্পনা কমিশন এবং শেষ পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের পর্যালোচনা যুক্ত থাকে।   আবাসন সংকটের কারণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনও আবাসন সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সময়ে নগরের আবাসন নীতি ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।   বিশেষ করে নতুন আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, ভবনের ঘনত্ব, অবকাঠামোর সক্ষমতা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ইউনিটের সংখ্যা—এসব বিষয় গণশুনানিতে গুরুত্ব পেতে পারে।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাড়া, নতুন আবাসন নির্মাণ, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত সরাসরি অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   নগর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এসব শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসন ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্তগুলো নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। 

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৯:৩
কুইন্সের ফ্লাশিং ও অ্যাস্টোরিয়ার বহুজাতিক খাবারের ব্যবসা ও রেস্তোরাঁ এলাকা। ছবি:সংগৃহীত

কুইন্সে বাড়ছে নতুন রেস্তোরাঁ, বৈচিত্র্যময় খাবারে জমে উঠছে অভিবাসী কমিউনিটির ব্যবসা

নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, ব্যবসা ও সেবাখাতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান, গড়ে তুলছেন বহুজাতিক নগর সমাজ।

নিউইয়র্কের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে ৩১ লাখ অভিবাসী

বিমান চালানোর প্রশিক্ষণের সময় ককপিটে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি; ছেলের অনুপ্রেরণায় পাইলট হওয়ার গল্পটি নতুন করে আলোচনায়। ছবি:সংগৃহীত

ছেলেকে মুগ্ধ করতে বিমান চালানো শিখেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, দুই দশক পর পাইলট ম্যাডক্সও

বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক হওয়া মিয়ামি ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পোররাইন। ছবি:সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচে দলের সঙ্গে যোগ দিতে যাওয়ার সময় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) হাতে আটক হয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার মাতিয়াস আলেহান্দ্রো পোররাইন। ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। তার দল মিয়ামি ইউনাইটেড এফসি তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছিল।   ঘটনাটি ঘটে ৬ আগস্ট। পোররাইন সতীর্থদের সঙ্গে ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর আইসিই কর্মকর্তারা তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করার কথা বলে আলাদা করে নেন। তাকে বলা হয়েছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু পরে সতীর্থরা জানতে পারেন, তাকে আর বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং তিনি আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন।   পোররাইনের পরিবার ও আইনজীবীর দাবি, তিনি সাত বছর আগে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বৈধ কাজের অনুমতি ছিল, ফ্লোরিডার পরিচয়পত্রও রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ছিলেন। আইনজীবী রেজিনা বোর্হেস জানিয়েছেন, পোররাইন আটকের ঘটনায় ভীত হলেও শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   তবে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে জানান, পোররাইন ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাকে ছয় মাস থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের দাবি অনুযায়ী, তার অনুমোদিত থাকার সময় ২০২০ সালের ১১ মে শেষ হয়ে গেলেও তিনি দেশটিতে থেকে যান। এই অবস্থান থেকেই তাকে অভিবাসন আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।   আইসিইর বক্তব্য অনুযায়ী, পোররাইনকে ৬ আগস্ট ফোর্ট লডারডেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হবে এবং তিনি আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।   পোররাইন বর্তমানে মিয়ামি ইউনাইটেড এফসির মিডফিল্ডার। ক্লাবটির সরকারি তালিকাতেও তাকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন এবং একাধিক ম্যাচে গোলও করেছেন।   মিয়ামি ইউনাইটেড চলতি মৌসুমে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। জুলাইয়ে দলটি পিনেলাস কাউন্টি ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফ্লোরিডা স্টেট চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর দলটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়।   ২০২৬ সালের ইউনাইটেড প্রিমিয়ার সকার লিগের বসন্ত মৌসুমের জাতীয় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মিয়ামি ইউনাইটেড জাতীয় পর্যায়ের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিযোগিতায় ছিল।   পোররাইনের আটকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করেও অভ্যন্তরীণ একটি বিমানযাত্রার আগে একজন ক্রীড়াবিদকে আটক করার ঘটনা নিয়ে তার পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   পোররাইনের পরিবার বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সহায়তা চেয়েছে। আইনজীবীও আদালতে তার মুক্তির আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তার অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত পরিণতি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৭:১৪
পুলিশ কর্মকর্তা হাকিম ফারথিং।

মাতাল চালকের গাড়িচাপায় মৃত্যু, ২৪ বছর পরও হাকিমকে স্মরণ করে পুরস্কার দেয় মার্কিন পুলিশ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলে হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা আলাদা দেওয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের

ঘরে বসেই দেখছেন সোশ্যাল সিকিউরিটির টেক্সট প্রতিটি। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি করছেন যুক্তরাষ্ট্রে? যেভাবে দেখবেন আপনার নামে কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স জমা হয়েছে

0 Comments