সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, আরও কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২১:৬
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

অপরাধ, জালিয়াতি, যৌন নির্যাতন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।

 

স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, তদন্ত এবং তাদের ভিসা বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো ঘটনায় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া অধিকাংশ ভিসাধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার মাধ্যমে যুক্ত হন। এসব অপরাধের মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি ছিল।

 

এ ছাড়া জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবৈধ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

 

উদাহরণ হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, শিক্ষকতা করতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া গত বছর রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্যে উদযাপন করেছিলেন এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

 

সরকার আরও জানায়, সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ চক্রের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

 

ভিসা বাতিলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে।

গত মাসের শেষ দিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করে, যার আওতায় মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু ধরনের মার্কিন ভিসার জন্য জামানত জমা দিতে হবে। সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

 

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, গত এক দশকের বেশি সময়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক লাখ অ-অভিবাসী দর্শনার্থী তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি।

 

এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আরেকটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।

 

এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশের ভেতরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আরও কার্যকরভাবে যাচাই, তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

 

একই ঘোষণায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, গণমাধ্যম ভিসাধারী বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৪০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আর চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে এমন নীতির সমালোচনা করে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বৈধ আবেদনকারী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তুর্কি বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে করলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী আলিনা
তুর্কি বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে করলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী আলিনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী আলিনা হাব্বা তুরস্কের ব্যবসায়ী তুরহান মিলডনকে বিয়ে করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।    মিলডন তুরস্কের মিলার হোল্ডিংয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী। বিয়ের আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে বিলিয়নিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।    হাব্বা ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পান। পরে তিনি নিউ জার্সিতে ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তাঁর আগের স্বামী গ্রেগ রুবেনের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ২৩:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশিদের জন্য বড় অগ্রগতি, এগিয়েছে এফ-১ থেকে এফ-৪

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশিদের জন্য বড় অগ্রগতি, এগিয়েছে এফ-১ থেকে এফ-৪

ফ্লোরিডায় জোড়া খুনে দোষী কিশোরী, মা ও প্রেমিককে হ ত্যার দায়ে ৫০ বছরের সাজা

ফ্লোরিডায় জোড়া খুনে দোষী কিশোরী, মা ও প্রেমিককে হ ত্যার দায়ে ৫০ বছরের সাজা

নিউইয়র্কে ভ য়াবহ ঝড়, ব্রুকলিনে গাছের নিচে চাপা পড়ে নি হত ৫৬ বছরের ব্যক্তি

নিউইয়র্কে ভ য়াবহ ঝড়, ব্রুকলিনে গাছের নিচে চাপা পড়ে নি হত ৫৬ বছরের ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করলেন ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন দেওয়া প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের সরকারি ব্যয় বা বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিবাসী সেবা এবং বৈচিত্র্য ও সমতাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের বরাদ্দ ছাঁটাই করতে এক বিরল ও বিতর্কিত আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে হোয়াইট হাউস।   ট্রাম্পের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এই পদক্ষেপকে সরকারের ‘সবচেয়ে ক্ষতিকর ব্যয়’ রোধ করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এই তহবিলগুলোর আর প্রয়োজন নেই। ফলে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে পরিচালিত শরণার্থী ও অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশুদের সহায়তা সংক্রান্ত কর্মসূচিগুলোতেই সবচেয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।   অভিবাসী সহায়তা ছাড়াও শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী কর্মসূচি, বিচার বিভাগের বর্ণগত উত্তেজনা প্রশমন দপ্তর, সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক উন্নয়ন উদ্যোগ এবং আবাসন বিভাগের কাউন্সেলিং সেবার বরাদ্দও বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংক্রান্ত তথাকথিত 'ওক' (woke) কর্মসূচি থেকে ৭ কোটি ডলার, স্বাস্থ্য গবেষণা অনুদান থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১ কোটি ডলার এবং জলবায়ু নীতিতে অর্থায়ন করা বিদেশি দেশগুলোর ঋণ মওকুফ তহবিল থেকে ৯০ লাখ ডলার প্রত্যাহার করছে প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এসব সংস্থার বেশ কয়েকটির নেতৃত্বে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন।   তবে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খোদ রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ার ও রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কোনো পূর্ব সতর্কতা বা আলোচনা ছাড়া নেওয়া এই পদক্ষেপকে কংগ্রেসের আর্থিক ক্ষমতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি একে ‘অবৈধ কার্যক্রম’ অভিহিত করে জানান, ওএমবি কোনোভাবেই কোন কর্মসূচি চলবে আর কোনটি বন্ধ হবে তা এককভাবে নির্ধারণ করতে পারে না। অন্যদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারে এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকান জনগণের সঙ্গে প্রকাশ্য চুরি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দ্বিদলীয় ঐকমত্যে পাস হওয়া এই অর্থ সাধারণ মানুষের কাজে না লাগিয়ে প্রশাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে।   ফেডারেল আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ব্যয় সংকোচনের ওপর পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসকে ৪৫ দিন সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতে এবং প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন মুলতবি থাকা অবস্থায় এই ঘোষণা দিয়ে সেই সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সরকারের ওয়াচডগ সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও)-এর মতে, আইনপ্রণেতাদের পাশ কাটিয়ে তহবিল বাতিল করার এই 'পকেট রিসিশন' কৌশলটি আইনসম্মত নয়। এর আগেও গত বছর বিদেশি সহায়তার প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আটকে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।   এবার অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে একই ধরনের হস্তক্ষেপ করায় নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে নতুন করে তীব্র সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৭:৫৫
মাত্র ৮ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, আজ আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠিত সিলেটের ড. কালী প্রদীপ

মাত্র ৮ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, আজ আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠিত সিলেটের ড. কালী প্রদীপ

১০–১৫ হাজার ডলারের পুঁজিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শপিং মল কার্ট ব্যবসার সম্ভাবনা

১০–১৫ হাজার ডলারের পুঁজিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শপিং মল কার্ট ব্যবসার সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মা দক-অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৮৯ ও ৭৩ বছরের দুই কিউবান অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মা দক-অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৮৯ ও ৭৩ বছরের দুই কিউবান অভিবাসী

নিউইয়র্কে সিটি বাইকের গতি কমায় ২৪ মিনিটের যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট
নিউইয়র্কে সিটি বাইকের গতি কমায় ২৪ মিনিটের যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট

নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় সিটি বাইক (Citi Bike) ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামস ই-বাইকের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৮ মাইল থেকে কমিয়ে ১৫ মাইল করার নির্দেশ দেন। শহরজুড়ে রাস্তা ও পার্কের ভেতরের পথগুলোতে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যাত্রীরা যাতায়াতে বেশি সময় লাগার পাশাপাশি বাড়তি খরচের অভিযোগ করছেন।   লিফটের (Lyft) মালিকানাধীন সিটি বাইক বর্তমানে সদস্যদের ই-বাইক চালানোর জন্য প্রতি মিনিটে ২৭ সেন্ট করে চার্জ কাটে। ফলে গতি কমার কারণে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন বেশি সময় লাগছে, তেমনি পকেট থেকে খসছে বাড়তি অর্থ।   নিয়মিত সিটি বাইক ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রু কামের মতে, বাইকের গতি কমার কারণে সেবাটির মান কমার পাশাপাশি এটি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তিনি হিসাব করে দেখিয়েছেন, গতি কমার কারণে চেম্বারস স্ট্রিট থেকে ১২৫তম স্ট্রিট পর্যন্ত ৬ মাইলের একটি সাধারণ যাত্রায় এখন আগের চেয়ে অন্তত ১ ডলার ৮ সেন্ট বেশি খরচ হচ্ছে।   আগে ১৮ মাইল বেগে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত প্রায় ২০ মিনিট এবং খরচ হতো ৫ ডলার ৪০ সেন্ট। কিন্তু বর্তমান ১৫ মাইল গতিসীমার কারণে একই পথ পাড়ি দিতে অন্তত ২৪ মিনিট সময় লাগছে, যার ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট। অনেক সাধারণ যাত্রী ব্যাপারটি বুঝতে না পারায় অ্যান্ড্রু কাম একে সিটি বাইক ব্যবহারকারীদের ওপর একধরনের ‘লুক্কায়িত কর’ বা হিডেন ট্যাক্স হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   মজার ব্যাপার হলো, যাত্রীদের খরচ বাড়লেও গতি কমানোর এই নিয়মের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সিটি বাইকের আয়ের খাতায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী সিটি বাইক ব্যবহার করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ (২৪.৭ মিলিয়ন) ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২৪ সালের ৬৮ লাখ (৬.৮ মিলিয়ন) ডলারের তুলনায় বহুগুণ বেশি।   মূলত উইলিয়ামসবার্গে একটি ই-বাইক দুর্ঘটনায় তিন বছরের এক শিশু আহত হওয়ার পর তৎকালীন ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র র্যান্ডি মাস্ত্রোর চাপে মেয়র অ্যাডামস গতি কমানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও ওই দুর্ঘটনায় কোনো সিটি বাইক জড়িত ছিল না। বর্তমানে নিউইয়র্কের সাইকেল আরোহী এবং বেশ কয়েকজন সিটি কাউন্সিল মেম্বার বাড়তি খরচের এই লাগাম টানতে সোচ্চার হয়েছেন।   তাঁরা সদস্যদের জন্য ই-বাইক রাইডের সর্বোচ্চ খরচ ৩ ডলারে সীমিত করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। তবে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নিউইয়র্কের রাস্তায় দ্রুতগতির আরোহীদের বাধ্য হয়েই ধীরগতিতে চলতে হবে এবং গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৫:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম

নিউইয়র্কে দায়িত্ব নেওয়ার ৯ মাসেই জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মামদানি, পেছনে প্রবীণ নেতারা

নিউইয়র্কে দায়িত্ব নেওয়ার ৯ মাসেই জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মামদানি, পেছনে প্রবীণ নেতারা

মার্কিন গ্রোসারি ব্র্যান্ডের লড়াই: কস্টকো নাকি অ্যালডি, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কে?

মার্কিন গ্রোসারি ব্র্যান্ডের লড়াই: কস্টকো নাকি অ্যালডি, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কে?

0 Comments