মাদক সেবনের পর নবজাতককে বুকের দুধ, ৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু; যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা
বুকের দুধ খাওয়ানোর কয়েকদিন আগে মেথামফেটামিন (মেথ) সেবনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক তরুণী মা। পরে মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মা ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে এবং পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জেসি লি কিটেলসন (২৩) গত ১৪ মার্চ উইসকনসিনের ট্রিমবেল এলাকার নিজ বাড়িতে জরুরি সেবার জন্য ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দেখতে পান, তিন সপ্তাহ বয়সী শিশুটির নাড়ির স্পন্দন নেই, সে শ্বাস নিচ্ছে না এবং তার শরীর নীলচে হয়ে গেছে।
জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিটেলসন পুলিশকে জানান, তিনি গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে মেথ সেবন করেছিলেন। এছাড়া সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন আগেও তিনি এই মাদক গ্রহণ করেন।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিটেলসন তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতেন। তিনি দাবি করেন, মাদক সেবনের পর কয়েকদিন দুধ বের করে ফেলে দিয়েছিলেন (পাম্প অ্যান্ড ডাম্প), এরপর আবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন।
তদন্তকারীরা আরও জানান, কিটেলসন গুগলে খোঁজ করেছিলেন, মেথামফেটামিন কতদিন পর্যন্ত বুকের দুধে থাকতে পারে। তবে পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার সন্তান কীভাবে মাদকের সংস্পর্শে এসেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
এদিকে, কিটেলসনের সঙ্গী টেইলর জে ওলসন (২৬) পুলিশকে জানান, তিনিই দুজনের জন্য মেথামফেটামিন সংগ্রহ করেছিলেন।
পিয়ার্স কাউন্টি কর্তৃপক্ষ কিটেলসন ও ওলসনের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং শিশুর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার অভিযোগ এনেছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
আদালতের নথিতে তাদের কোনো আইনজীবীর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির তালিকায় ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কয়েকটি পদে আবেদন চলছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, চেনাঙ্গো কাউন্টিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স এবং অ্যালবানিতে স্বাস্থ্যসেবার আর্থিক কার্যক্রমসংক্রান্ত পদ রয়েছে। যোগ্যতা ও আবেদনের শেষ দিন পদভেদে আলাদা। অরেঞ্জ কাউন্টির নিউবার্গে স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসের ট্রেনিং অফিসার পদের আবেদন শেষ হবে ১০ অক্টোবর। বার্ষিক বেতন ৭৩ হাজার ২৯৭ ডলার। দায়িত্বের মধ্যে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা রয়েছে। এটি অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করার পদ নয়। চেনাঙ্গো কাউন্টির অক্সফোর্ডে নিউইয়র্ক স্টেট ভেটেরান্স হোমে অস্থায়ী লাইসেন্সড প্র্যাকটিক্যাল নার্স পদেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদনের শেষ দিন ১২ অক্টোবর। পদটির জন্য প্রয়োজনীয় নার্সিং লাইসেন্সসহ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া যোগ্যতা দেখতে হবে। অ্যালবানিতে নিউইয়র্ক স্টেটের অফিস অব মেন্টাল হেলথ রিসোর্সেস অ্যান্ড রিইম্বার্সমেন্ট এজেন্ট প্রশিক্ষণার্থী পদে আবেদন নিচ্ছে। বেতন শুরু বছরে ৫৬ হাজার ১৮৩ ডলার থেকে; আবেদন শেষ ১২ অক্টোবর। প্রশিক্ষণার্থী স্তরেও সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে অভিজ্ঞতার একটি অংশ পূরণের সুযোগ আছে। খসড়ায় উল্লিখিত নিউইয়র্ক সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর পদটি সিটির চাকরির তালিকায় মেয়াদোত্তীর্ণ দেখাচ্ছে। তাই সেটিকে এখন আবেদনযোগ্য পদ হিসেবে প্রচার করা যাবে না। একইভাবে ‘আজই ৫০০টির বেশি পদে নিয়োগ’ কিংবা অ্যামাজনের নির্দিষ্ট বেতন ও সুযোগসুবিধার দাবিও নিশ্চিত তথ্য ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক হবে না। নিউইয়র্ক সিটির সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ড বাধ্যতামূলক, এমন নিয়ম নেই। পদের বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্বের শর্ত থাকলে তা মানতে হবে; শর্ত না থাকলে নিয়োগের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেখাতে হয়। আবেদনকারীদের তাই পদের যোগ্যতা, কর্মস্থল, শেষ দিন ও আবেদনের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টেক্সাসে আড়াই মাসের বিশেষ অভিযানে ১২১ অভিবাসী গ্রেপ্তার
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে হাজার হাজার ডলার ছুড়ে ফেললেন অভিযুক্ত
নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষের জন্য আবাসন বাজারে সামর্থ্যের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বাড়ির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকা এবং বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত বাড়ি না থাকায় এমনিতেই চাপে থাকা ক্রেতাদের জন্য নতুন করে সমস্যা তৈরি করেছে ৩০ বছরের স্থির বন্ধকী ঋণের সুদহার ৭ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়া। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যাচিভের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠিন মহানগর আবাসন বাজারগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় একটি প্রাথমিক পর্যায়ের বাড়ির গড় দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৯ ডলার। অন্যদিকে ওই এলাকার একটি পরিবারের মধ্যম বা মধ্যম মানের বার্ষিক আয় প্রায় ৯৯ হাজার ১৫৫ ডলার। অ্যাচিভের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ অগ্রিম অর্থ দিয়ে একটি বাড়ি কিনে এবং পরিবারের মোট আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বন্ধকী কিস্তিতে ব্যয় করার শর্ত ধরলে, ওই বাড়িটি স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৮০ ডলার। অর্থাৎ নিউইয়র্ক মহানগরের সাধারণ পরিবারের আয়ের তুলনায় প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এই হিসাব এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থির বন্ধকী ঋণের গড় সুদহার আবার ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে নিম্ন সুদহারের পর ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি কেনার সামর্থ্য আরও কমে যাচ্ছে। তবে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে সমস্যা শুধু সুদের হার নয়। স্ট্রিটম্যাট্রিক্সের মূল্যায়নকারী জোনাথন মিলারের মতে, বিক্রির জন্য বাড়ির তীব্র সংকট বাজারে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে সুদের হার বাড়লেও বাড়ির দাম প্রত্যাশিতভাবে কমছে না। সাধারণত বন্ধকী ঋণের সুদহার দ্রুত বেড়ে গেলে বাড়ি কেনার খরচ বাড়ে, ফলে বিক্রি কমে এবং বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা বাড়ার কথা। এতে বাড়ির দাম কিছুটা কমে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি তৈরি হতে পারে। কিন্তু নিউইয়র্কে পর্যাপ্ত বাড়ি বাজারে না আসায় সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে না। মিলার বলেন, বাড়ির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাটা আবাসন সামর্থ্যের ওপর সুদের হারের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ‘মর্টগেজ লক-ইন’ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাড়ির মালিক আগের বছরগুলোতে ২ থেকে ৩ শতাংশের কাছাকাছি খুব কম সুদে বন্ধকী ঋণ নিয়েছিলেন। এখন তারা সেই বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কিনলে প্রায় ৭ শতাংশ সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। ফলে অনেক মালিকই বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী নন। এর ফলে বাজারে বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে। নতুন ক্রেতাদের জন্য সুদের হার বাড়ছে, আবার পুরোনো মালিকেরা কম সুদের ঋণ ছেড়ে নতুন ঋণে যেতে চাইছেন না। এতে বাড়ির দামও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে থেকে যাচ্ছে। ডগলাস এলিম্যানের জেসিকা পিটার্স বলেন, উচ্চ ঋণ ব্যয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাড়ির দামও স্থিতিশীল রয়েছে, বিশেষ করে জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে। সেখানে বাড়ির সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ক্রেতারা দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়ছেন। বাড়ি কেনার খরচ শুধু মাসিক বন্ধকী কিস্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের ক্রেতাদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, ভবনের সাধারণ ব্যবস্থাপনা ফি, কর এবং বাড়ি কেনার সময়ের অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। ফলে মাসিক মোট ব্যয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা পুরোপুরি বাজার থেকে সরে না গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন। কেউ বেশি অগ্রিম অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ কম দামের বাড়ি খুঁজছেন। কেউ আবার অন্য এলাকায় খোঁজ করছেন কিংবা কনডোর পরিবর্তে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট বা কো-অপ বেছে নিচ্ছেন। তবে যাদের হাতে নগদ অর্থ কম এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, তাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন। বিশেষ করে প্রথমবারের ক্রেতারা সুদের হারের সামান্য পরিবর্তনেও মাসিক কিস্তিতে বড় পার্থক্য দেখতে পারেন। ম্যানহাটনের বাজারেও এই ব্যবধান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন মিলার। তার মতে, বাড়ির দাম যত বেশি হয়, ক্রেতাদের বন্ধকী ঋণের ওপর নির্ভরতা তত কমে। আর কম দামের বাড়ির ক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণত ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করেন। ফলে সুদের হার বাড়লে তুলনামূলক কম দামের বাড়ির ক্রেতারা বেশি চাপে পড়েন। এঙ্গেল অ্যান্ড ভল্কার্স নিউইয়র্কের ব্রোকার ডোনাল্ড ব্রেনানও নিউইয়র্কের ক্রেতাদের মধ্যে এই পার্থক্য লক্ষ্য করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের সঙ্গে কাজ করা বাড়ির ক্রেতাদের মধ্যে নগদ অর্থে কেনার প্রবণতা বেশি। আগের সময়ে নগদ ও ঋণনির্ভর ক্রেতাদের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য ছিল। এদিকে যারা বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছেন, তাদের জন্য ভাড়া বাসাও খুব একটা সহজ বিকল্প হয়ে উঠছে না। বাড়ি কেনার পরিবর্তে বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় ভাড়া বাসায় থাকলে ভাড়ার আবাসনের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। মিলারের মতে, উচ্চ বন্ধকী ঋণের সুদহার সম্ভাব্য ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় ভাড়াটে থাকতে বাধ্য করতে পারে। এতে ভাড়া বাসার চাহিদা বাড়ে এবং সীমিত সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়। ফলে আবাসন সামর্থ্যের সমস্যা শুধু বাড়ি কেনার বাজারে নয়, ভাড়ার বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখন সুদের হার কমার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সুদের হার কমলেই আবাসন সামর্থ্যের সমস্যা সমাধান হবে না। সুদের হার কমার সঙ্গে সঙ্গে যদি বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়, কিন্তু বাড়ির সরবরাহ একই থাকে, তাহলে বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। ডগলাস এলিম্যানের পিটার্সের মতে, আবাসন সামর্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে শুধু কম সুদের ঋণ নয়, বিভিন্ন দামের স্তরে আরও বেশি বাড়ি বাজারে আসাও প্রয়োজন। রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেলও ক্রেতাদের শুধু সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, একটি বাড়ির দাম, ঋণের সুদ এবং ক্রেতার সামগ্রিক আবাসন বাজেট একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রিয়েল্টর ডটকমের গবেষণা অনুযায়ী, যারা প্রায় তিন মাসের মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবেন, তাদের বর্তমান সুদের হার থেকে প্রায় ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠানামা ধরে বাজেট প্রস্তুত রাখা উচিত। কারণ চূড়ান্তভাবে ঋণ নেওয়ার সময় আজকের সুদের হার একই থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সুদের হার কমার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য ‘এখন কিনুন, পরে সুদ কমলে ঋণ পুনর্অর্থায়ন করুন’ ধরনের কৌশলও নিশ্চিত সমাধান নয়। কারণ ভবিষ্যতে সুদের হার কতটা কমবে, তা নিশ্চিত নয়। পাশাপাশি সুদের হার কমলে বাড়ির চাহিদা ও দামও বাড়তে পারে। স্ট্রিটম্যাট্রিক্সের মিলারের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা আগামী কয়েক বছর ঋণের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফেডারেল রিজার্ভ সরাসরি ৩০ বছরের বন্ধকী ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে না। এর মুদ্রানীতি ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি ঋণবাজারের সুদের হারে প্রভাব ফেলে। ফলে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আপাতত জটিলই থাকছে। বাড়ির দাম বেশি, বিক্রির জন্য বাড়ি কম এবং ঋণের খরচও বেড়েছে। একই সময়ে যারা কিনতে পারছেন না, তাদের ভাড়া বাসায় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। অর্থাৎ আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ি কেনার বাজার ছাড়িয়ে ভাড়ার বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, অ্যাচিভ, রিয়েল্টর ডটকম
বিশ্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় করেও গড় আয়ুতে ৩৮তম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তরুণদের অকালমৃত্যু
ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২০টি বিড়ালকে নির্মমভাবে নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ব্যবহার করে ক্যানসারের চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে অবস্থিত হেনরিকো কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ২৭ বছর বয়সী রডনি ট্র্যাভিস জুনিয়র নামের ওই ব্যক্তি প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং কম্পিউটার জালিয়াতির অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারক লিন্ডা ল্যাম্বার্ট প্রসিকিউটরদের প্রস্তাবিত একটি ‘প্লি এগ্রিমেন্ট’ বা চুক্তি গ্রহণ করেন, যার অধীনে রডনিকে ১৫ বছর কারাগারে কাটাতে হবে। শুধু তাই নয়, জীবনে আর কখনোই কোনো প্রাণী পালন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সংস্পর্শে আসার ওপরও তার ক্ষেত্রে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রডনি ট্র্যাভিস বিড়ালগুলোকে পিটিয়ে এবং মারাত্মক জখম করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিডিও আপলোড করত। ভিডিওতে বিড়ালগুলোর মিথ্যা ক্যানসারের গল্প সাজিয়ে চিকিৎসার নামে সে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে চার লাখ (৪ লাখ) ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল। হেনরিকো কমনওয়েলথের অ্যাটর্নি শ্যানন টেলর জানিয়েছেন, ভার্জিনিয়ার ইতিহাসে প্রাণী নির্যাতনের দায়ে এটিই সর্বোচ্চ মেয়াদের কারাদণ্ড। তিনি বলেন, এই শাস্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরীহ বিড়ালগুলোর ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধের মাত্রাটিই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে। দোষ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে রডনিকে ২৫ হাজার ডলার জরিমানার পাশাপাশি মুক্তির পর আরও পাঁচ বছর আইনি নজরদারিতে বা প্রবেশনে থাকতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং চেস্টারফিল্ড কাউন্টি অ্যানিমেল কন্ট্রোল কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যথায় কাতর বিড়ালের ভিডিওগুলো দেখে হেনরিকো পুলিশকে সতর্ক করলে এই তদন্তের শুরু হয়। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত সেই জায়গাটি শনাক্ত করে, যেখান থেকে ভিডিওগুলো তৈরি করা হচ্ছিল। পরদিনই চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে রডনির নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেখান থেকে উদ্ধার করা বিড়ালগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পশুচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। মামলার একটি নথিতে ‘হেডেন’ নামের একটি বিড়ালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। রডনি ভিডিওতে হেডেনের ক্যানসারের কথা বলে সাহায্য চাইলেও, পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায় যে বিড়ালটির মাথার খুলি, পাঁজরের হাড় এবং মেরুদণ্ড নির্মমভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি
নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত