বিশ্ব

জাপানে নজির গড়লেন নারী মেয়র শোকো কাওয়াতা, নিচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২:৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের কিয়োটো প্রিফেকচারের ইয়াওয়াটা সিটির ৩৫ বছর বয়সী মেয়র শোকো কাওয়াতা সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৩ সালে নির্বাচিত এই মেয়রের সিদ্ধান্ত দেশটির স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ব্যতিক্রমী নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

কাওয়াতা জানিয়েছেন, তিনি আনুমানিক সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তার প্রথম সন্তানের জন্ম দেবেন। এ উপলক্ষে সন্তান জন্মের আগে ও পরে মোট ১৬ সপ্তাহ, অর্থাৎ ৮ সপ্তাহ করে ছুটিতে থাকবেন। নির্বাচিত কোনো মেয়রের ক্ষেত্রে এ ধরনের দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার ঘটনা জাপানে এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জাপানের বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নিয়ম নেই। ফলে বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ধূসর পরিসরে অবস্থান করছে।

 

কাওয়াতা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে সিটি প্রশাসনের দায়িত্ব সামলাতে একজন ডেপুটি নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি আংশিকভাবে ই-মেইল ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখবেন বলেও উল্লেখ করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত জাপানে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য, লিঙ্গসমতা এবং জন্মহার সংকট নিয়ে নতুন করে জাতীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানের কর্মসংস্কৃতি ও রাজনৈতিক কাঠামো এখনো অনেকাংশে পুরুষকেন্দ্রিক। পরিবর্তনের গতি ধীর হওয়ায় নারীদের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

 

জাপানে দীর্ঘদিন ধরে কম জন্মহার, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং নারীদের ক্যারিয়ার ও পারিবারিক দায়িত্বের দ্বৈত চাপে জনসংখ্যা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন যানবাহনে হামলা এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, সালফিত ও কালকিলিয়া গভর্নরেটকে সংযুক্তকারী সড়কে বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ফিলিস্তিনিদের চলাচলকারী একাধিক গাড়িতে পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    ওয়াফা আরও জানায়, কালকিলিয়ার পূর্বাঞ্চলের আন-নবি ইলিয়াস গ্রামের প্রবেশপথে ইসরায়েলি বাহিনী একটি লোহার গেট বন্ধ করে রেখেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে উল্লেখযোগ্য বাধার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।    অন্যদিকে, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খিরবেত আল-রাস আল-আহমার এলাকায় এক ফিলিস্তিনির ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী আরেফ দারাঘমেহ ওয়াফাকে জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিক সুলেইমান জামিল বানি ওদেহকে আটকে রেখে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে যায় বসতি স্থাপনকারীরা।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।    এদিকে, রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনিদের একটি অংশ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।    উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ বলে জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ মনে করলেও ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ২:৫
টোকিওতে সপ্তাহে ৪ দিন অফিস

টোকিওতে সপ্তাহে ৪ দিন অফিস, অথচ প্রধানমন্ত্রীর ঘুম মাত্র ৩ ঘণ্টা!

ইরানি সামনে নাস্তানাবুদ যুক্তরাষ্ট্র!  ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যাওয়ায় ভয়ে হামলা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানি সামনে নাস্তানাবুদ যুক্তরাষ্ট্র! ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যাওয়ায় ভয়ে হামলা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

১৫ দিনের সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাথে ১৫ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান ও ১৭ ড্রোন ধ্বংস

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে সম্ভাব্য বিশেষ সামরিক অভিযানের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান!

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত জব্দ বা সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে এ পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে জটিল বিশেষ সামরিক অভিযানের একটি হতে পারে। এতে ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা, বিশেষ করে ফোরদো, ইসফাহান এবং নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ কমপ্লেক্সকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযানে হাজারো সেনা, বিশেষ বাহিনী, প্রকৌশল ইউনিট এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দলের সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক আলোচনা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এ সম্ভাব্য অভিযান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।    অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা এবং সেখানে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে আরও তথ্য চেয়ে আসছে। এ ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও অব্যাহত রয়েছে।    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এটি কেবল বিবেচনাধীন একটি পরিকল্পনা; যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চালানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২৩:৫৫
ক্যালিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা তরুণী মারিয়া কামিলা পোতোসির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ।

কলম্বিয়ায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা, গর্ভ থেকে নবজাতক চুরি

ভূমিকম্পে প্রাণ হারানো অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসা উইডম নতুন জীবন শুরু করতে ভেনেজুয়েলায় গিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ’ করা মার্কিন নাগরিকের মরদেহ মিলল ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ থেকে!

বার্লিনের ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

এলজিবিটিকিউ উৎসবে গাড়ি তুলে হামলায় ১ জন নিহত, আহত ১৬, ইসলামপন্থী সন্দেহভাজনের খোঁজে পুলিশ

চিকিৎসক থমাস কেলি, যিনি চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা থেকে এআইভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাইডি গড়ে তুলেছেন। ছবি: সংগৃহীত
রোগী দেখার চাপেই চিকিৎসক জীবনে ক্লান্তি, চাকরি ছেড়ে গড়া এআই স্টার্টআপের মূল্য এখন ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার

শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হবেন। কঠিন পথ পার হয়ে সেই লালিত স্বপ্ন সত্যিও করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের তরুণ থমাস কেলি। ২০১৭ সালে ডাক্তারি পাস করে নাম লেখান মহৎ এই পেশায়। তবে বাস্তবে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে কঠিন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, রোগীর উপচে পড়া ভিড় আর নিত্যদিনের প্রশাসনিক কাগজের পাহাড় তাকে ঠেলে দেয় তীব্র মানসিক ক্লান্তির (বার্নআউট) দিকে। অবশেষে সেই ক্লান্তিকর জীবন থেকে বাঁচতে ডাক্তারি পেশাকেই বিদায় জানান তিনি। কিন্তু গল্পটা সেখানে শেষ হয়নি। সেই অভিজ্ঞাতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, যার বাজারমূল্য এখন সাড়ে চারশো মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।   সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অস্ট্রেলীয় এই তরুণ উদ্যোক্তার রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ৩৩ বছর বয়সী ড. থমাস কেলি জানান, মেলবোর্নে ছোটবেলায় যে চিকিৎসকের কাছে তিনি যেতেন, তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই ২০১৩ সালে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি এবং মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের টিউটরিং শুরু করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে গিয়ে সময় বাঁচাতে তিনি প্রথম 'অস্কার' নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইন্টারভিউ টিউটর তৈরি করেন, যা শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে সাহায্য করত। ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার শুরু করে।   পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সরাসরি চিকিৎসাসেবায় যোগ দেওয়ার পর কেলি অনুধাবন করেন, বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। তিনি বলেন, "একজন রোগীর জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পাওয়া যেত। দিনে প্রায় ১০০ জন রোগী দেখতে হতো, তার ওপর শত শত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর কাজের সমন্বয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দৌড়ে কাটাতে হতো। একজন চিকিৎসকের মূল কাজ রোগীর কথা মন দিয়ে শোনা, কিন্তু সেই সুযোগটাই ছিল না।"   এই অতিরিক্ত চাপ ও বার্নআউট থেকে মুক্তি পেতে এবং অন্যান্য চিকিৎসকদের কাজ সহজ করতে কেলি সিদ্ধান্ত নেন এআই প্রযুক্তিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর। তিনি চিন্তা করেন, যে প্রযুক্তি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আলাপচারিতা বুঝতে পারে, তা নিশ্চয়ই চিকিৎসক ও রোগীর সাধারণ কথোপকথন শুনে প্রেসক্রিপশন ও ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করতে পারবে।   ২০২১ সালে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন কেলি। একদিকে ভাস্কুলার সার্জারির উচ্চতর প্রশিক্ষণ, অন্যদিকে নিজের উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তিকে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। ঝুঁকি নিয়ে তিনি চিকিৎসকের ক্যারিয়ারে বিরতি দেন এবং পুরোদমে এআই টুল তৈরির কাজে নেমে পড়েন। গড়ে তোলেন 'হাইডি' (Heidi) নামের একটি এআই মেডিকেল স্ক্রাইব। এই প্রযুক্তি চিকিৎসক ও রোগীর কথোপকথন শুনে সরাসরি ক্লিনিক্যাল নোট তৈরি করে দেয়, যা চিকিৎসকদের প্রশাসনিক কাজের বড় বোঝা দূর করে।   কেলি বলেন, "আমি ভেবেছিলাম এই সুযোগটা না নিলে সারাজীবন আফসোস থেকে যাবে। অংক, ব্যবসা আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তাদের মধ্যে আমি এই ঝুঁকিটা নিতে পেরেছি।"   বর্তমানে ‘হাইডি’ চিকিৎসকদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। গত অক্টোবরে কোম্পানিটি ৬৫ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ-বি অর্থায়ন নিশ্চিত করে, যার মাধ্যমে এর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি)। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।   একটি সরকারি প্রেসক্রিপশন লেখার যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা থমাস কেলি প্রমাণ করেছেন উদ্ভাবনী চিন্তা ও সাহসের মাধ্যমে যেকোনো অচলাবস্থাকেই বিরাট সাফল্যে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২০:৪১
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে | ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া, জরুরি অবস্থা ও সেনা মোতায়েন

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

ইসরাইলিদের তাণ্ডবে আগুনে পুড়ল ফিলিস্তিনি গ্রাম, ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

0 Comments