বিশ্ব

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন, শিক্ষার্থী ও কর্মী স্পনসরশিপে আসছে কড়াকড়ি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৫:৫১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আসছে। দেশটির সরকার অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং নিয়মতান্ত্রিক করতে বিভিন্ন নীতিমালায় সংশোধন ও পরিমার্জন করছে। ফলে যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, নতুন করে ভিসার আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন কিংবা কর্মী স্পনসরশিপের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো আবেদন প্রক্রিয়ার জট কমানো, নিয়মের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

 

শিক্ষার্থী ভিসা আপিলে আসছে বড় পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন বাতিল হলে এতদিন আপিল প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে শুনানির জন্য আবেদনকারীদের সরাসরি উপস্থিতও হতে হতো।

নতুন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনাল (এআরটি) জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফলে আবেদনকারীদের সরাসরি শুনানিতে অংশগ্রহণের প্রয়োজন কমে আসবে এবং নিষ্পত্তির সময়ও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অতীতে কিছু আবেদন নিষ্পত্তি হতে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগত। নতুন ব্যবস্থার ফলে সেই দীর্ঘসূত্রতা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকেই আবেদনপত্র ও সহায়ক কাগজপত্র নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

 

৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসায় বাড়তি নজরদারি

অস্ট্রেলিয়ার ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসাধারীদের কার্যক্রমের ওপরও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের স্পনসর করছে, তাদের কার্যক্রম এখন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কর্মস্থলে গিয়ে যাচাই করছেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং ভিসার শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং প্রকৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে স্পনসর প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

 

রিজিওনাল স্পনসরশিপে বাড়ছে ন্যূনতম বেতনসীমা

অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক বা রিজিওনাল এলাকায় দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত সাবক্লাস ৪৮২ ও ৪৯৪ ভিসার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে।

আগামী জুলাই থেকে এসব কর্মীর জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতনসীমা প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারে উন্নীত করা হবে। এর ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় রেস্তোরাঁ এবং আঞ্চলিক এলাকার নিয়োগদাতাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এসব অঞ্চলে সাধারণত বেতন কাঠামো বড় শহরের তুলনায় কিছুটা কম হয়ে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বেতনসীমা দক্ষ কর্মীদের জন্য ইতিবাচক হলেও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ ব্যয় বাড়াবে।

 

স্কিল অ্যাসেসমেন্টে ভাষা সহজ, তবে সময় লাগছে বেশি

দক্ষ পেশাজীবীদের যোগ্যতা মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা ট্রেড রিকগনিশন অস্ট্রেলিয়া (টিআরএ) তাদের স্কিল অ্যাসেসমেন্ট নির্দেশিকাগুলোর ভাষা আরও সহজ করেছে।

এর ফলে আবেদনকারীদের জন্য নিয়মগুলো বোঝা সহজ হবে। তবে মূল যোগ্যতা বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি।

অন্যদিকে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে স্কিল অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হতে প্রায় চার মাস পর্যন্ত সময় লাগছে বলে জানা গেছে।

 

পারিবারিক ও প্যারেন্ট ভিসার কোটা ঘোষণা

আগামী অর্থবছরের জন্য পারিবারিক পুনর্মিলনভিত্তিক ভিসা কর্মসূচিতেও আসনসংখ্যা নির্ধারণ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

এর মধ্যে কন্ট্রিবিউটিং প্যারেন্ট ভিসার জন্য ৬ হাজার ৮০০টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাদের বাবা-মাকে দেশটিতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।

 

অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করার উদ্যোগ

সামগ্রিকভাবে নতুন পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ এবং দক্ষ আবেদনকারীদের জন্য উপযোগী করে তুলতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মের এই পরিবর্তন শুরুতে কিছুটা জটিল মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি আবেদনকারীদের জন্য একটি আরও সুশৃঙ্খল ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। তাই নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং নিয়ম মেনে আবেদন করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে তীব্র সংঘর্ষে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনো তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। দক্ষিণ লেবাননে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সময় তিনি নিহত হন।   একই ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনী। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত বাকি তিন সেনার নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।   দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। চলমান লড়াইয়ে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।   এদিকে সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক অভিযান ও সংঘর্ষ থামেনি। ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৬:৪১
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালের মধ্যে এক রেলপথে যুক্ত হবে কুয়েত, সৌদি আরব, কাতারসহ ৬ উপসাগরীয় দেশ

ছবি: রয়টার্স

কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি হতে পারেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

গ্রিস সীমান্তে সাগরে তেলের ট্যাংকার। ফাইল ছবি: রয়টার্স

১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল সরবরাহ হারিয়েছে বিশ্ববাজার, ঘাটতি পূরণে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে

ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

সুইজারল্যান্ডে ইরানি আলোচকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা বাতিল করার পর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বৈঠকটি আর হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড।   হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, আলোচনার লজিস্টিক ব্যবস্থা শুরু থেকেই জটিল ছিল এবং তা সবসময় পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল সফরের জন্য প্রস্তুত থাকবে।   সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে বুর্গেনস্টক পাহাড়ি রিসোর্টে নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্ধারিত বৈঠকও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আলোচনার প্রয়োজন হলে তারা সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।   ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, বুধবারের ১৪ দফা চুক্তির পর অন্তত ৬০ দিনের জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ করা হলে তারা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে। ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষণ দেখতে চান তারা।   আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স সফর বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত ইরানের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত ছিল না।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করে জানায়, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। এতে অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যুদ্ধবিরতির পরও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর থাকবে।   ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ায় দেশটি নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান হামলা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের একাংশ কংগ্রেসে প্রশ্ন তুলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গিয়ে প্রশাসন অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে কি না।   ট্রাম্প পূর্বে বলেছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধের অবসান ঘটবে না। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার আওতায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক মার্কিন ছাড় দেওয়া হয়েছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প ‘হতাশার কারণে’ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা সহজ হবে না। তিনি বলেন, “যদি মার্কিন পক্ষ অতিরিক্ত দাবি করে, আমরা তা গ্রহণ করব না।”   চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আলোচকদের ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।   এছাড়া ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রাখতে চায়।   যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের খরচ এবং অন্যান্য বিল পরিশোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যাতে দেশটি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানো এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল।   তবে সমঝোতা স্বাক্ষরের সময় এসব লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ইরান আবারও জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। পাশাপাশি দেশটি সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শনে সম্মত হয়েছে। তবে এসব উপাদান দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তেলবাজার ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি   ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। একই সঙ্গে নতুন জাহাজ চলাচল ফি আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে, যদিও ৬০ দিনের আলোচনাকালীন সময়ে তা কার্যকর হবে না।   হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার পর সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম কমেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।   অন্যদিকে লেবাননে নতুন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে।   চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির কথা উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং নতুন করে দখলকৃত অঞ্চল মানচিত্রে যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে দেশটি।   এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে কতটা চাপ দিতে পারবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৪:২৩
ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন সীমিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সুইজারল্যান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কাতার: পেজেশকিয়ান

ছবি: সংগৃহীত

চুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প, সদিচ্ছা থেকে এগিয়েছে ইরান: মোজতবা খামেনি

ছবি: সংগৃহীত
ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ২২:৩৫
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: এএফপি

ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

ধনীদের ভোগবিলাসে পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, চাঞ্চল্যকর তথ্য

0 Comments