মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল ১৮ বছরের তরুণ, নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে পরিবারের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রোমাঞ্চ মহাজন। বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার পর সেন্ট্রাল পার্কে একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেই আনন্দময় ভ্রমণ পরিণত হয় শোকাবহ ট্র্যাজেডিতে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রোমাঞ্চ। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও এই ঘটনার ধাক্কা তাদের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন রোমাঞ্চ। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা দীপক মহাজন, মা প্রিয়া মহাজন এবং ছোট ভাই।
পার্কের একটি পরিচিত ফোয়ারার সামনে পরিবারের স্মরণীয় একটি ছবি তোলার জন্য গাড়িচালক ঘোড়ার গাড়ি থামান। পরিবারের দাবি, ছবি তোলার সুবিধার্থে চালক কিছুটা দূরে সরে গেলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত ছুটতে শুরু করে।
রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন জানান, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘোড়াটি ফুটপাতে উঠে যায় এবং পরে ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে দৌড়াতে থাকে। এ সময় চালক ঘোড়ার পেছনে ছুটলেও সেটিকে থামাতে পারেননি।
দীপক মহাজন বলেন, “আমরা বারবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম। সবাই একে অপরকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল।”
তিনি আরও জানান, দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা গাড়ি থেকে তার স্ত্রী প্রিয়া মহাজন ছিটকে পড়ে গেলে রোমাঞ্চ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। মাকে বিপদে দেখে সে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে।
“আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। সে বারবার ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছিল,” বলেন আবেগাপ্লুত দীপক মহাজন।
গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে রোমাঞ্চ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে দ্রুত নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম আহত হন। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়ার গাড়িটি পরে আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুপুর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা নিউ ইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রাণীকল্যাণকর্মী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে সেন্ট্রাল পার্কে পর্যটকদের বহনকারী ঘোড়ার গাড়িগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন।
ঘোড়ার গাড়িচালকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল ১০০-ও ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে চালক ঘোড়ার কাছ থেকে এমন দূরত্বে সরে গিয়েছিলেন, যেখানে তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তার মতে, ছবি তোলার জন্য কোনো চালকেরই গাড়ি বা ঘোড়াকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে যাওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটার কথা নয়। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
ইউনিয়নের তথ্যমতে, ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটি মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে সেন্ট্রাল পার্কে কাজ শুরু করেছিল। দুর্ঘটনার পর ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘোড়ার গাড়িচালককে গাড়ির মালিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে ইউনিয়ন। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, চালকের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যে সফরটি মহাজন পরিবারের জন্য আনন্দ ও স্মৃতির হওয়ার কথা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। মাকে বাঁচানোর চেষ্টায় এক তরুণের মৃত্যু এখন নিউ ইয়র্কজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকাগুলোর একটি ওয়েস্ট ভিলেজে মাত্র ৩৮০ বর্গফুটের একটি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেন এক তরুণী। ফ্ল্যাটটিতে বাথরুমে ওয়াশবেসিন নেই, আলাদা ক্লোজেটও নেই। জায়গা কম, শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোও মেলে না। তবু তিনি বলছেন, এই বাসা ছেড়ে যাওয়ার কথা তিনি ভাবতেই পারেন না। বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তিনি জানান, নিউইয়র্কের ওয়েস্ট ভিলেজের মতো এলাকায় যেখানে একই ধরনের এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া প্রায়ই ৪ হাজার ডলার বা তারও বেশি, সেখানে তিনি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে প্রায় ২ হাজার ডলারে এই বাসায় থাকতে পারছেন। এই অর্থনৈতিক সুবিধাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় কারণ। তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই অ্যাপার্টমেন্টে বড় হয়েছেন। পরিবারের স্মৃতি, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী এবং এলাকার সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁর কাছে বাসাটিকে শুধু একটি থাকার জায়গা নয়, বরং নিজের পরিচয়ের অংশে পরিণত করেছে। ফ্ল্যাটটিতে পুরোনো ইটের দেয়াল, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং পুরোনো নিউইয়র্কের আবহ থাকলেও বাস্তব সমস্যার শেষ নেই। ছোট জায়গার কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখাও কঠিন। তবে এসব সীমাবদ্ধতার চেয়ে নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ভাড়ায় শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় বসবাসের সুযোগকে তিনি অনেক বেশি মূল্য দেন। নিউইয়র্কে রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা এসব ভবনের ভাড়ার বৃদ্ধির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে, ফলে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম খরচে বাস করার সুযোগ পান ভাড়াটিয়ারা। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থির রাখার সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। সমর্থকদের মতে, এটি উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে বাড়ির মালিকদের একটি অংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ভাড়া না বাড়ালে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে ওই তরুণীর কাছে বিতর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের বাস্তবতা। তাঁর বিশ্বাস, এত কম ভাড়ায় ওয়েস্ট ভিলেজে একই ধরনের আরেকটি বাসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ছোট জায়গা, অস্বস্তিকর বিন্যাস কিংবা কিছু দৈনন্দিন অসুবিধা মেনে নিয়েই তিনি এই অ্যাপার্টমেন্টকে নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানা হিসেবে ধরে রাখতে চান।
ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিল ফিফা
দশ বছরে প্রথমবার অর্থনীতিতে রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা মার্কিন ভোটারদের
' ব্রিটেন আসলে দেউলিয়া' উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরামর্শ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং উত্তেজনা কমাতে ইরানের হাতে এখন ‘শেষ সুযোগ’ রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, সমঝোতা হলে খুব শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবারও চালু হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং এ ধরনের দাবির বাস্তব ভিত্তি নেই। ইরান বলছে, তাদের বর্তমান যোগাযোগ কেবল ওমানের মাধ্যমে সামুদ্রিক চলাচল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সীমাবদ্ধ। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ বা অচল থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে সোমবার প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত উৎসের একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। কূটনৈতিক সমাধান হবে, নাকি নতুন করে সংঘাত বাড়বে— সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’
নিউইয়র্কে এখন নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে? নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা
নিউইয়র্কের সরকারি খাদ্যসামগ্রীর দোকানে কেনাকাটায় কি পরিচয়পত্র লাগবে? বিতর্কে মুখ খুললেন মামদানি
ইন-এন-আউট রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলায় নিহত তরুণ কর্মী, পরিবার বলছে, ‘সে ছিল অসাধারণ এক সুন্দর মনের মানুষ ’ আইডাহোর টুইন ফলস শহরের একটি ইন-এন-আউট বার্গার রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলায় নিহত ২৩ বছর বয়সী কর্মী অ্যাশলি গারিবেকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পরিবারের সদস্যরা তাকে “অসাধারণ এক সুন্দর আত্মা” হিসেবে স্মরণ করছেন। গত শনিবার সদ্য চালু হওয়া ইন-এন-আউট রেস্তোরাঁয় এ হামলায় তিনজন নিহত এবং সাতজন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, ২৪ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী চ্যাড উইলিয়ামস ঘটনাস্থলে নির্বিচারে গুলি চালানোর পর পালিয়ে যান এবং পরে আত্মহত্যা করেন। হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারীরা। অ্যাশলি গারিবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনের বাসিন্দা ছিলেন। নতুন শাখার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে তিনি আইডাহোতে গিয়েছিলেন। হামলার সময় তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবার ও বন্ধুদের ভাষায়, তিনি ছিলেন সবার প্রিয় কন্যা, বোন, খালা এবং বন্ধু। ইন-এন-আউটের মালিক ও প্রেসিডেন্ট লিনসি স্নাইডার এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় একজন সহকর্মীকে হারানো পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য হৃদয়বিদারক। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পুলিশের তথ্যমতে, হামলার সময় একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন সশস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যা আরও বড় প্রাণহানি ঠেকাতে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। হামলার পর আইডাহোর টুইন ফলস শহরে নিহতদের স্মরণে শোকসভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীর পটভূমি খতিয়ে দেখছেন।
গ্রিন কার্ড পেলেই কি বাবা-মাকে আমেরিকায় আনা যায়? অনেক প্রবাসীরই অজানা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
একই আমেরিকায় এত বেতনের পার্থক্য কেন? ডি.সিতে ঘণ্টায় ১৮.৪০$, টেক্সাসে এখনো ৭.২৫$