ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে অমৃতসরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান অনিচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ক্রু এবং সংশ্লিষ্ট এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, গত ২২ জুন রাতে দিল্লি থেকে অমৃতসরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-৪৭৯ ফ্লাইটটি একটি এয়ারবাস এ-৩২১ উড়োজাহাজে পরিচালিত হচ্ছিল। অমৃতসর বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতির সময় রানওয়েতে পাখির আঘাতসংক্রান্ত একটি ঘটনার তদন্ত চলছিল। এ কারণে বিমানটিকে কিছু সময় আকাশে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
ডিজিসিএর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি আকাশে অবস্থান করার সময় অবতরণের জন্য ঘুরে আসার (গো-অ্যারাউন্ড) কৌশল অনুসরণ করছিল। এ সময় রাত ১০টা ৮ মিনিটে উড়োজাহাজটি অনিচ্ছাকৃতভাবে অল্প সময়ের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, রাডার নির্দেশনার (রাডার ভেক্টরিং) সময় বিমানটি সীমান্ত অতিক্রম করলেও বিষয়টি পাকিস্তানের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদভাবে পরিচালনা করা হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানটি অমৃতসরে না নেমে দিল্লিতে ফিরে যায় এবং নিরাপদে অবতরণ করে।
ডিজিসিএ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। এ কারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পাইলটকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইট ক্রু এবং অমৃতসরের একজন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়াও এক বিবৃতিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অমৃতসরে অবতরণের সময় গো-অ্যারাউন্ড কৌশল অনুসরণ করতে গিয়ে ফ্লাইটটি স্বল্প সময়ের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। বিষয়টি ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি প্রায় তিন মাইল পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমার ভেতরে প্রবেশ করেছিল। তবে পুরো সময়ই বিমানটির গতিবিধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে ছিল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় অমৃতসর বিমানবন্দরে অ্যাপ্রোচ সার্ভেইলেন্স সেবা সচল ছিল না। পরে বিমানটি আবারও অবতরণের চেষ্টা করলেও অপেক্ষার কারণে জ্বালানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফ্লাইটটি রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিরাপদে দিল্লির বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে একই বিমান আবার অমৃতসরের উদ্দেশে যাত্রা করে এবং যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে এ ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর পাকিস্তান ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে উভয় দেশের মধ্যে চার দিনব্যাপী সামরিক সংঘাতও হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগের পর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ইরানি প্রস্তাবও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এভার লাভলি নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ জাতিসংঘ-সমর্থিত নিরাপদ নৌপথ দিয়ে চলাচল করছিল। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, হামলার পরও এভার লাভলি যাত্রা অব্যাহত রাখে এবং কোনো ধরনের জরুরি সহায়তা চায়নি। এই ঘটনার পর আইএমও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। সংস্থাটি বলছে, নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না। আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এক বিবৃতিতে বলেন, আক্রান্ত জাহাজটি আইএমওর পরিচালিত নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থার আওতায় চলাচল করছিল না। তিনি বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগর এলাকায় শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ১১ হাজারের বেশি নাবিক আটকে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সব জাহাজকে নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে। অনুমোদিত পথের বাইরে চলাচল করলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না এবং এর দায়ভার জাহাজের মালিক ও পরিচালকদের বহন করতে হবে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি বা টোল আদায়ের অধিকার ইরানের নেই। রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ এখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। ইরান অবশ্য এ অর্থকে "সামুদ্রিক সেবা ফি" বা পরিবেশ সুরক্ষা ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এটিকে কার্যত টোল আদায়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন একটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং আইআরজিসির প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রপথে নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, জাহাজ চলাচলের নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সেবার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতার ভিত্তিতে সংঘাত বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই সমঝোতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগ এবং নৌপথ ব্যবহার নিয়ে নতুন বিরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও সমর্থনের প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় এই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাসেম নাইম হামাস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আলোচনায় বাসেম নাইম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান এবং প্রতিরোধমূলক ভূমিকাকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইরানের ধারাবাহিক নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে বাসেম নাইম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে ইরানের যে অবস্থান, তা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এই সমর্থন ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ জাতীয় অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে। আরাঘচি আরও জানান, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বিষয়টি ইরান নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান ও হামাসের এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এতে আরও জোরালো হতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুদাম ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন আহত ব্যক্তির মৃত্যু হলে এই সংখ্যা বাড়ে। প্রশাসনের আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে দমকল বাহিনী, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। উদ্ধারকারীরা সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক ভূগর্ভ অনুসন্ধান যন্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, পাপ্পু রজক, আজগার হোসেন, সাহিল সরদার এবং ঘি কুমার। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকেই গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কলকাতা পুলিশ ও পৌরসভার কর্মকর্তারাও সারারাত উদ্ধারকাজে নজরদারি করেছেন। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী, উদ্ধারকারী দল এবং চিকিৎসা সহায়তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের নড়াচড়া, শব্দ বা হৃদস্পন্দনের মতো সংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে শুরু থেকেই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। রাতভর ঘটনাস্থল ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গুদাম ভবনটি কেন ধসে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।