বিশ্ব

হরমুজ প্রণালীতে মালবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা, জাতিসংঘ কর্তৃক উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ২২:৪
হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগের পর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ইরানি প্রস্তাবও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এভার লাভলি নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ জাতিসংঘ-সমর্থিত নিরাপদ নৌপথ দিয়ে চলাচল করছিল।

সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, হামলার পরও এভার লাভলি যাত্রা অব্যাহত রাখে এবং কোনো ধরনের জরুরি সহায়তা চায়নি।

 

এই ঘটনার পর আইএমও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। সংস্থাটি বলছে, নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এক বিবৃতিতে বলেন, আক্রান্ত জাহাজটি আইএমওর পরিচালিত নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থার আওতায় চলাচল করছিল না। তিনি বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

বর্তমানে ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগর এলাকায় শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ১১ হাজারের বেশি নাবিক আটকে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সব জাহাজকে নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে। অনুমোদিত পথের বাইরে চলাচল করলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না এবং এর দায়ভার জাহাজের মালিক ও পরিচালকদের বহন করতে হবে।

 

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি বা টোল আদায়ের অধিকার ইরানের নেই।

রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ এখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।

 

ইরান অবশ্য এ অর্থকে "সামুদ্রিক সেবা ফি" বা পরিবেশ সুরক্ষা ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এটিকে কার্যত টোল আদায়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

 

এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন একটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং আইআরজিসির প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রপথে নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

 

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, জাহাজ চলাচলের নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সেবার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতার ভিত্তিতে সংঘাত বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই সমঝোতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগ এবং নৌপথ ব্যবহার নিয়ে নতুন বিরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
উপগ্রহ ছবিতে ধরা পড়েছে চীনের গোপন সামরিক লক্ষ্যবস্তু। ছবি: সংগৃহীত
চীনের মরুভূমিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ত্রিমাত্রিক রেপ্লিকা, স্যাটেলাইট চিত্রে যুদ্ধের প্রস্তুতি

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াংয়ের তাকলামাকান মরুভূমিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আদলে তৈরি একটি নতুন ত্রিমাত্রিক (৩ডি) লক্ষ্যবস্তুর ছবি ধরা পড়েছে উপগ্রহে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার অস্ত্র পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই এই নতুন স্থাপনা বেইজিংয়ের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।   নিউজউইক–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপগ্রহে ধরা পড়া লক্ষ্যবস্তুটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আর্লি বার্ক শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের আদলে নির্মিত। এই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং দূরপাল্লার হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযানে এ ধরনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে।   জাপানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের অধীনে থাকা ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন–১৫–এ এই শ্রেণির ১০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এসব যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে চীনের নৌবাহিনীর নিয়মিত মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটে। তাইওয়ানভিত্তিক উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষক জোসেফ ওয়েন প্রথম ১১ মে তোলা একটি উপগ্রহ ছবিতে নতুন লক্ষ্যবস্তুর অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। ছবিটি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারিতে তোলা আরেকটি ছবিতে লক্ষ্যবস্তুর অভ্যন্তরীণ কাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক ধাপ দেখা গিয়েছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) রুওচিয়াং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্মিত হয়েছে। ওই এলাকায় আগে থেকেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীর দ্বিমাত্রিক (২ডি) প্রতিরূপ ছিল। তবে এবার প্রথমবারের মতো বাস্তব আকারের ত্রিমাত্রিক যুদ্ধজাহাজের প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে।   জোসেফ ওয়েন জানান, লক্ষ্যবস্তুর পাশেই একটি রেলপথ রয়েছে, যা চলমান লক্ষ্যবস্তু মরুভূমির বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব কৃত্রিম জাহাজে এমন যন্ত্র বসানো হতে পারে, যা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ইলেকট্রনিক সংকেতের অনুকরণ করতে সক্ষম। এতে বাস্তবসম্মত পরিস্থিতিতে চীনের রাডার, নজরদারি ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা পরীক্ষা করা সহজ হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই প্রস্তুতির অন্যতম সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট তাইওয়ান ইস্যু। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বহুবার বলেছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে দূরপাল্লা থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।   এটি চীনের একমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়। তাকলামাকানের আরও উত্তর-পূর্বে আরেকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে আগে থেকেই মার্কিন এফ-৩৫ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমানের আদলে তৈরি লক্ষ্যবস্তুর অস্তিত্ব উপগ্রহ ছবিতে ধরা পড়েছে। এছাড়া গত বছর প্রকাশিত উপগ্রহ ছবিতে দেখা যায়, চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার ঝুরিহে সামরিক ঘাঁটিতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের আদলে নির্মিত স্থাপনাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব প্রতিরূপ ব্যবহার করা হচ্ছে।   এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউজউইক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ২৩:২
জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় এবার শুরু হয়েছে লুটপাট। ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শুরু হয়েছে ব্যাপক লুটপাট

খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান। কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র, আবার খামেনির শেষ বিদায়েও আমন্ত্রিত, কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে মোদি

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীতে মালবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা, জাতিসংঘ কর্তৃক উদ্ধার অভিযান স্থগিত

এখন থেকে ছোট সন্তানের পাশে বসতে রায়ানএয়ারে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না। ছবি: সংগৃহীত
অভিভাবকদের জন্য সুখবর, শিশুর পাশে বসতে আর অতিরিক্ত টাকা নেবে না রায়ানএয়ার

ইউরোপের অন্যতম স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার অবশেষে তাদের পারিবারিক আসন নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ছোট শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণকারী অভিভাবকদের সন্তানদের পাশে বসার জন্য আলাদা করে আসন সংরক্ষণের অর্থ দিতে হবে না।   যুক্তরাজ্যের কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি (সিএমএ) এ নীতির বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় বিমান সংস্থাটি। তবে রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারি বলেছেন, তারা "অনিচ্ছাসত্ত্বেও" এই পরিবর্তন এনেছেন এবং আগের নীতিটিও আইনসম্মত ছিল বলে তাদের দাবি। নতুন নীতি অনুযায়ী, যেসব অভিভাবক অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট আসন বুক করতে চান না, তাদের জন্য চেক-ইনের পর বিনা মূল্যে শিশুর পাশের আসন বরাদ্দ করা হবে। রায়ানএয়ার বলছে, ইউরোপের অধিকাংশ বিমান সংস্থাই এ ধরনের ব্যবস্থা অনুসরণ করে।   এর আগে রায়ানএয়ারের নিয়ম ছিল, শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণকারী পরিবারকে অন্তত একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের ফি দিতে হতো। সেই আসনের পাশে সর্বোচ্চ চারজন শিশুর জন্য আসন বরাদ্দ করা হতো। এতে প্রতি যাত্রাপথে সাধারণত ৮ পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হতো। চলতি মাসের শুরুতে সিএমএ তদন্ত শুরু করে জানতে চায়, এই নীতির মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনের খরচ কি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, অন্য অনেক বিমান সংস্থা অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই শিশুদের অভিভাবকের পাশে বসার ব্যবস্থা করে থাকে।   রায়ানএয়ারের দাবি, আগের নীতির মাধ্যমে যাত্রীরা টিকিট বুকিংয়ের সময়ই নিশ্চিত হতে পারতেন তারা কোথায় বসবেন। এতে পরিবারের সদস্যদের জন্য বাড়তি নিশ্চয়তা তৈরি হতো। তবে নতুন নীতিতে বিনা মূল্যের পারিবারিক আসন মূলত বিমানের পেছনের সারিগুলোতে বরাদ্দ করা হবে। কারণ সামনের সারির আসনগুলো সাধারণত আগে থেকেই সংরক্ষিত থাকে।   বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ পরিবর্তনকে রায়ানএয়ার "সামান্য নীতিগত সংশোধন" হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এতে তাদের আয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে না। রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারি সিএমএর সমালোচনা করে বলেন, তাদের পারিবারিক আসন নীতি ইউরোপের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও ভোক্তাবান্ধব ব্যবস্থাগুলোর একটি ছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগিতা বাড়ানো ও কম ভাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থা শুধু শিল্পখাতের প্রচলিত নীতির সঙ্গে মিল রাখতেই রায়ানএয়ারকে পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।   অন্যদিকে সিএমএ জানিয়েছে, রায়ানএয়ার দাবি করছে যে তাদের নতুন নীতি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি যাচাই করবে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, যদি নতুন নীতি সত্যিই আইনসম্মত হয়, তাহলে এটি পরিবারগুলোর জন্য ইতিবাচক খবর। কারণ এখন থেকে সন্তানদের পাশে বসতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না। তবে অতীতে যেসব পরিবার বাধ্য হয়ে এই অর্থ পরিশোধ করেছে, সেই বিষয়েও তদন্ত চলবে।   এদিকে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংস্থা হুইচ? জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে না এলে রায়ানএয়ার এই পরিবর্তন আনত না। সংস্থাটির ট্রাভেল সম্পাদক রোরি বোল্যান্ড বলেন, আগামী কয়েক মাস তারা পর্যবেক্ষণ করবেন, নতুন নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং সব অভিভাবক সত্যিই বিনা খরচে সন্তানদের পাশে বসার সুযোগ পান কি না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ২১:৪৩
অমৃতসরে নামতে গিয়ে পাকিস্তানের আকাশে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভুল করে ঢুকে পড়ল ভারতীয় বিমান, কী ঘটল পাইলটের সঙ্গে?

ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৮৮: ধ্বংসস্তূপে চলছে জীবিতদের সন্ধান

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা হামাসের

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা হামাসের, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান

৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা
৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ভয়াবহ এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং ভবন ধসে পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানান, অনেক দুর্গম এলাকায় এখনও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার শঙ্কা রয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকা। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এত অল্প ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।   রাজধানী কারাকাসেও এই ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জরুরি সেবা কার্যক্রম পরিচালনায়ও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।   ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।   প্রধান ভূমিকম্পের পর থেকে দেশজুড়ে ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে নতুন করে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠ, সড়ক ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ইউএসজিএসের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অগভীর ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’-এর কারণে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ভূত্বকের দুটি অংশ অনুভূমিকভাবে দ্রুত সরে গিয়ে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করে।   ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন এলাকায় বহু বাড়িঘর, সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রথম কম্পনের পরই অনেকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু দ্বিতীয় ও আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। আতঙ্কে অনেকে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুর্যোগ শুধু একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, বরং ভেনেজুয়েলার জন্য বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং চলমান আফটারশকের ঝুঁকি দেশটির পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।   এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন ভেনেজুয়েলার জন্য সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৮:৪৫
আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, সংকটে সাধারণ মানুষ

আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, সংকটে সাধারণ মানুষ

মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত

মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত, একই দিনে নদীতে নৌকায় আঘাতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন গুদাম ধস

কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন গুদাম ধস: নিহত বেড়ে ১০, ধ্বংসস্তূপে এখনও অনুসন্ধান চলছে

0 Comments