বিশ্ব

কেন বিশ্বের অন্য সব মহাদেশের চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৬:৪৬
ইউরোপে বাড়ছে তাপমাত্রা | ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে বাড়ছে তাপমাত্রা | ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম ইউরোপে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে। এই পরিস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা—গত তিন দশকে বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়েছে ইউরোপ।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে। এই হার বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে ইউরোপে তাপমাত্রা অন্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত বাড়ার পেছনে আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক কারণও কাজ করছে।

 

ইউরোপের উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের বরফে আচ্ছাদিত ছিল। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেই বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। বরফ সরে যাওয়ায় উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে সাগরের গাঢ় রঙের জলরাশি, যা বরফের তুলনায় অনেক বেশি সূর্যতাপ শোষণ করে।

 

ফলে উত্তর ইউরোপ ও আর্কটিক সংলগ্ন অঞ্চলে উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে ‘আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউরোপে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এতে বাতাসে অ্যারোসল নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ কমেছে।

 

অ্যারোসল সূর্যের কিছু তাপ মহাকাশে প্রতিফলিত করতে সাহায্য করে। ফলে এই কণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি সৌর বিকিরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে তুষারপাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সর্বোচ্চ তুষারপাতের মৌসুমেও তুষারের পরিমাণ গড়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম ছিল।

 

তুষারের সাদা আবরণ সাধারণত সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। কিন্তু তুষার কমে যাওয়ায় উন্মুক্ত মাটি বেশি তাপ শোষণ করছে। বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের দ্রুত উষ্ণায়নের সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী ‘জেট স্ট্রিম’-এর পরিবর্তনেরও সম্পর্ক রয়েছে।

 

উত্তর গোলার্ধের আবহাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং শীতল উত্তর মেরুর তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর। কিন্তু মেরু অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণায়নের কারণে এই পার্থক্য কমে আসছে। ফলে জেট স্ট্রিমের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন বলে উল্লেখ করেন।

 

এর ফলে উচ্চচাপের গরম বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে একটি এলাকায় আটকে থাকতে পারে এবং কয়েক দিনের গরম রূপ নিতে পারে সপ্তাহব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিম ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তীব্র ও পুনরাবৃত্ত তাপপ্রবাহের অন্যতম কারণ এই ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন।

 

বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি এই প্যাটার্নের ঘনঘন উপস্থিতির জন্য দায়ী কি না। তবে তারা একমত যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন প্রায় এক মাস স্থায়ী ছিল।

 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ হয়তো তত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, কিন্তু ইতোমধ্যেই বহু অঞ্চলে তাপমাত্রার পুরোনো রেকর্ড বড় ব্যবধানে ভেঙে গেছে। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী লিজি কেন্ডনের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হওয়া এখন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চলতি তাপপ্রবাহে যে মাত্রায় পুরোনো রেকর্ড ভাঙছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
বিশ্লেষকেরা বলছেন—যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের ক্ষয় শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে বিশ্বের একচ্ছত্র ক্ষমতায় পরিণত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ শতকের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক বিজয়ী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশটি শুধু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করেনি, সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং উদার গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। তবে কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই একচ্ছত্র আধিপত্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।   মার্কিন আধিপত্যের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হয় উনিশ শতকে। সে সময় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল ইউরোপীয় শক্তিগুলোর হাতে। বিশেষ করে বিশাল উপনিবেশিক সাম্রাজ্য এবং শিল্পবিপ্লবের সুবিধাভোগী যুক্তরাজ্য ছিল বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্র। কিন্তু শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতকের শুরুর দিকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব বিশ্ব ক্ষমতার মানচিত্র পাল্টে দেয়। রসায়ন, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ওষুধশিল্প, অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন, চালিত উড্ডয়ন এবং রেডিও প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিশ্বায়নের নতুন যুগেরও সূচনা হয়।   এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় রদবদল দেখা দেয়। ইউরোপে জার্মান সাম্রাজ্যের উত্থান এবং এশিয়ায় জাপানের উত্থান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ। ১৯১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। সে সময় ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও প্রকৃত প্রশ্ন ছিল, বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আবির্ভাব কবে ঘটবে।   প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় রাজনীতিতে নির্ধারক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিচুক্তিকে কার্যকর রাখার দায়িত্ব থেকে দেশটি ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ১৯২০-এর দশকের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং মহামন্দার সময়কার ব্যাপক বেকারত্ব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তোলে। সেই প্রেক্ষাপটই পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। সোভিয়েত কমিউনিজমের সঙ্গে আদর্শিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকতে বাধ্য করে। শুরু হয় দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধ। এই সময়ে ইউরোপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পশ্চিম ইউরোপ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হতে থাকে।   স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে পশ্চিমা বিশ্বে সামাজিক গণতান্ত্রিক ঐকমত্য গড়ে ওঠে এবং পরিচালিত পুঁজিবাদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৮০-এর দশকের নব্যউদারবাদী সংস্কারের পরও সেই কাঠামোর মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকে, যদিও এর পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে।   ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার প্রভাববলয় ভেঙে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ফ্যাসিবাদ, কমিউনিজম এবং জার্মানি, জাপান, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ওপর বিজয়ের এই সময়কে ওয়াশিংটন আখ্যা দেয় ‘ইউনিপোলার মোমেন্ট’ বা একমেরু মুহূর্ত হিসেবে।   তবে ইতিহাসের গতি দীর্ঘদিন এক জায়গায় স্থির থাকেনি। বিজয়ের মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যে ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। যেমন উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, তেমনি নতুন অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল চীনের উত্থান। ১৯৭০-এর দশকে বেইজিংকে মস্কোর প্রভাববলয় থেকে দূরে আনার কৌশলগত প্রচেষ্টার পর দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে চীন ‘সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ’ নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হয় এবং কয়েক দশকের মধ্যে চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো সমমর্যাদার একটি প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়।   একই সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপ্লব বিশ্বায়নের দ্বিতীয় ধাপকে আরও গতিশীল করে। বিশ্ব অর্থনীতি আরও আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। তবে এর সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। আর্থিক সংকট, ব্যাপক অভিবাসন এবং সামাজিক পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে।   উনিশ শতকের শেষভাগে যেখানে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল শ্রেণি ও জাতিগত প্রশ্ন, সেখানে বর্তমান সময়ে লিঙ্গ, বর্ণ ও পরিচয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী এবং রক্ষণশীল রাজনৈতিক আন্দোলনেরও উত্থান ঘটেছে।   যুক্তরাষ্ট্র এখন তার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। দেশটির নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে। রাজনৈতিক বিভাজন, আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন আধিপত্যের উত্থান ও ক্ষয়ের ইতিহাস শুধু একটি রাষ্ট্রের কাহিনি নয়; এটি আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনশীল চরিত্র এবং ক্ষমতার চক্রাকার রূপান্তরেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৭:৪০
ছবি: আল জাজিরা

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী দেশ হতে পারে ইরান

ইউরোপে বাড়ছে তাপমাত্রা | ছবি: সংগৃহীত

কেন বিশ্বের অন্য সব মহাদেশের চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ?

ছেলে অ্যাডামের সঙ্গে সুইডেনের জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি। ছবি: রয়টার্স

শিশু সন্তানকে নিয়ে ইইউ বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী, জোটের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা

ছবি: সংগৃহীত
আটক অর্থ দিয়ে মার্কিন পণ্য কেনার দাবি মিথ্যা: ইরানের স্পিকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, ইরানের অবমুক্ত অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ‘আমেরিকা মিথ্যা দাবি করছে যে আমাদের অবমুক্ত করা সম্পদ দিয়ে তাদের কৃষি পণ্য কেনা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ফসলটি আমরা এখন ঘরে তুলছি, তা আপনারাই বপন করেছিলেন—দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাস। এটি অর্গানিক, অফুরন্ত এবং খাঁটি দেশি।’   একই পোস্টে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ‘জিএমও সয়াবিন, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ এবং ফাঁপা বুলি’ ছাড়া আর কিছু রপ্তানি করে না। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রাথমিক আর্থিক সুবিধার অংশ হিসেবে ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো নগদ অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে যাবে না। বরং ওই অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা ও গম কেনা হবে, যা ইরানের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, ইরানের জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করা হলে সেই অর্থ মার্কিন কৃষকদের উপকৃত করবে এবং ইরানের জনগণের খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।   এদিকে বৃহস্পতিবার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায় যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না।   তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো মার্কিন প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সমঝোতা স্মারককে কোনো ছাড় নয়, বরং তেহরানের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।   ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজারবাইজানের রাজধানী বাকু সফরের সময় গালিবাফ এই সমঝোতা স্মারককে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, নথিতে এমন কোনো আইনি ধারা নেই যা ইরানকে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করে।   সোমবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় অবমুক্ত হওয়া অর্থ শুধু জরুরি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা ১৮ জুন কার্যকর হয়। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।   তবে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ব্যাখ্যাগত পার্থক্য এখনও স্পষ্ট। ফলে চুক্তি বাস্তবায়নের পথেও মতবিরোধ দেখা দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৬:১৪
উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল রাস তানুরা। ছবি: সংগৃহীত

রাস তানুরা থেকে ফের তেল রপ্তানি শুরু করল সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার হাত বাড়াল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

নর্থ ইংল্যান্ডে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা

ছয় মাস কারাবাসের পর প্রকাশিত হলো এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের ছবি। ছবি: সংগৃহীত
ছয় মাস ইসরাইলি কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনে চেহারা বদলে গেল ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের

ছয় মাস ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকার পর ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুজাহিদ বানি মুফলেহর একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবিটি প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি বন্দী অধিকার সংগঠন ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি দাবি করেছে, এটি ইসরাইলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মানবিক পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।   আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বুধবার নিজের ছবি প্রকাশ করেন বানি মুফলেহ। ছবিতে দেখা যায়, ইসরাইলি কারাগারে চিকিৎসার সময় একাধিক অস্ত্রোপচারের ফলে তার মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করতে হয়েছে। এছাড়া তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তাকে অত্যন্ত দুর্বল ও ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।   এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি অভিযোগ করে, ইসরাইলি কারাগারগুলো ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য ধীরে ধীরে মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে। সংগঠনটির দাবি, বানি মুফলেহর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি কারাগারের ভেতরে বন্দীদের ওপর চলমান পদ্ধতিগত নির্যাতনের প্রতিফলন। সংগঠনটির অভিযোগ, এসব নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পর্যাপ্ত খাদ্য না দেওয়া, চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ সৃষ্টি।   ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি জানায়, তারা ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া শত শত ফিলিস্তিনির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের অনেকেই গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পুনরায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক পরিবার তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছে বলে সংগঠনটির দাবি। সংগঠনটির তথ্যমতে, পশ্চিম তীরের নাবলুসের বেইতা শহরের বাসিন্দা মুজাহিদ বানি মুফলেহকে ২০২৫ সালের জুন মাসে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ইসরাইল প্রশাসনিক আটক নীতির আওতায় গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।   ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটির দাবি, মুক্তির মাত্র দুই দিন পর তিনি গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার সম্পূর্ণ সুস্থ হতে দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজ্জা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযান বেড়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ২৪৫ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   সরকারি ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযানে ১ হাজার ১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত এবং প্রায় ২৩ হাজার জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই সময়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ।   তবে ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটির এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ২৩:৫৭
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জব্দ অর্থে মার্কিন গম-ভুট্টা-সয়াবিন কেনার পরিকল্পনা ট্রাম্পের, পাঠানো হবে তেহরানে

উপগ্রহ ছবিতে ধরা পড়েছে চীনের গোপন সামরিক লক্ষ্যবস্তু। ছবি: সংগৃহীত

চীনের মরুভূমিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ত্রিমাত্রিক রেপ্লিকা, স্যাটেলাইট চিত্রে যুদ্ধের প্রস্তুতি

জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় এবার শুরু হয়েছে লুটপাট। ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শুরু হয়েছে ব্যাপক লুটপাট

0 Comments