ফ্রান্সে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহে অন্তত ১ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেই প্যারিসে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) না থাকা নিয়ে মার্কিন পর্যটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের সমালোচনার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শহরটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক ডেপুটি মেয়র অড্রে পুলভার। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে সৃষ্ট তাপপ্রবাহের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আংশিক দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অড্রে পুলভার লেখেন, ‘প্রিয় মার্কিন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা, কয়েক দিন ধরে আপনারা প্যারিসের সমালোচনা করছেন, কারণ এই শহরের প্রতিটি ঘরে এসি নেই। এটি নিয়ে উপহাস করার কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে ফ্রান্সে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের দায় রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আপনাদের শহরগুলোর ৯০ শতাংশ জায়গায় এসির ব্যবহারও এই পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’ প্যারিসের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমাদের উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুন। আগে নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন।’ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সে এসির ব্যবহার অনেক কম। দেশটিতে মাত্র এক-চতুর্থাংশ পরিবারের ঘরে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে অনেক ফরাসিই এসিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। চলতি মাসে প্রকাশিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ ফরাসি নাগরিকের মতে, এসির ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রতি ছয়জনের একজন জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তারা দাবদাহের কষ্টও সহ্য করতে প্রস্তুত। তবে সাম্প্রতিক তীব্র গরমে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। দেশজুড়ে বহনযোগ্য এসির চাহিদা বেড়েছে এবং বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ফ্রান্সের পাবলিক হেলথ বিভাগ জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র দাবদাহের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ট্রিবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনের তীব্র গরমের প্রভাব বিলম্বিতভাবে দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও তরুণদের ক্ষেত্রে। অনেক সময় দাবদাহ শেষ হওয়ার পাঁচ থেকে ১০ দিন পরও রোগীরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন।’ তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে তাপমাত্রা কমে গেলেও হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। প্যারিসের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত শুক্রবার শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩ হাজার ৪০০টি কল পেয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি। একই সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত ৩০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের পশ্চিমে ইভলিন অঞ্চলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ১৫ বছর বয়সী ভাইকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন চিকিৎসাকর্মীরা। এছাড়া তীব্র গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে এ পর্যন্ত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিসের কানাল সেন্ট-মার্টিনে সাঁতার নিষিদ্ধ এলাকায় ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক প্যারিসবাসী নিজেদের উত্তপ্ত অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বাট-শমঁ পার্কের মতো খোলা সবুজ এলাকায় রাত কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এসিযুক্ত হোটেলে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। রোববার রাতে বজ্রঝড়ের কারণে প্যারিসে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বজ্রপাতে আইসিন, ইভলিন ও ইন্দ্র-এ-লোয়ার অঞ্চলের প্রায় ৩৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্যারিসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শনিবার থেকে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ১ হাজার ৩০০ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে লিফট, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সবাইকে প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি আপনার কোনো প্রতিবেশী একা থাকেন, তাহলে এখনই তার দরজায় কড়া নাড়ুন। আমাদের প্রত্যেককেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
পশ্চিম ইউরোপে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে। এই পরিস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা—গত তিন দশকে বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়েছে ইউরোপ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে। এই হার বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে ইউরোপে তাপমাত্রা অন্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত বাড়ার পেছনে আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক কারণও কাজ করছে। ইউরোপের উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের বরফে আচ্ছাদিত ছিল। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেই বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। বরফ সরে যাওয়ায় উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে সাগরের গাঢ় রঙের জলরাশি, যা বরফের তুলনায় অনেক বেশি সূর্যতাপ শোষণ করে। ফলে উত্তর ইউরোপ ও আর্কটিক সংলগ্ন অঞ্চলে উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে ‘আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউরোপে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এতে বাতাসে অ্যারোসল নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ কমেছে। অ্যারোসল সূর্যের কিছু তাপ মহাকাশে প্রতিফলিত করতে সাহায্য করে। ফলে এই কণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি সৌর বিকিরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে তুষারপাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোপারনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সর্বোচ্চ তুষারপাতের মৌসুমেও তুষারের পরিমাণ গড়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম ছিল। তুষারের সাদা আবরণ সাধারণত সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। কিন্তু তুষার কমে যাওয়ায় উন্মুক্ত মাটি বেশি তাপ শোষণ করছে। বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের দ্রুত উষ্ণায়নের সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী ‘জেট স্ট্রিম’-এর পরিবর্তনেরও সম্পর্ক রয়েছে। উত্তর গোলার্ধের আবহাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং শীতল উত্তর মেরুর তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর। কিন্তু মেরু অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণায়নের কারণে এই পার্থক্য কমে আসছে। ফলে জেট স্ট্রিমের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন বলে উল্লেখ করেন। এর ফলে উচ্চচাপের গরম বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে একটি এলাকায় আটকে থাকতে পারে এবং কয়েক দিনের গরম রূপ নিতে পারে সপ্তাহব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিম ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তীব্র ও পুনরাবৃত্ত তাপপ্রবাহের অন্যতম কারণ এই ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন। বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি এই প্যাটার্নের ঘনঘন উপস্থিতির জন্য দায়ী কি না। তবে তারা একমত যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ‘ডাবল জেট’ প্যাটার্ন প্রায় এক মাস স্থায়ী ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহ হয়তো তত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, কিন্তু ইতোমধ্যেই বহু অঞ্চলে তাপমাত্রার পুরোনো রেকর্ড বড় ব্যবধানে ভেঙে গেছে। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী লিজি কেন্ডনের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হওয়া এখন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চলতি তাপপ্রবাহে যে মাত্রায় পুরোনো রেকর্ড ভাঙছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকা তাপের পরিমাণ ২০২৫ সালে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা (ডব্লিউএমও) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট’-এ এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই অতিরিক্ত তাপের প্রভাব শত শত থেকে হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ডব্লিউএমও-র মতে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়কালটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১টি বছর। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, জলবায়ুর প্রতিটি প্রধান সূচক এখন লাল সংকেত দেখাচ্ছে। ডব্লিউএমও-র প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর ‘এনার্জি ইমব্যালান্স’ বা শক্তির ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব গত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সূর্য থেকে আসা শক্তি আর বের হতে পারছে না, যা পৃথিবীকে ক্রমেই উত্তপ্ত করে তুলছে। বিপজ্জনক তথ্য হলো, অতিরিক্ত এই তাপের ৯১ শতাংশেরও বেশি জমা হচ্ছে সমুদ্রে। ফলে ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং বরফ গলার হার ত্বরান্বিত হয়েছে। ১৯৯৩ সালের পর থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ডব্লিউএমও-র উপ-প্রধান কো ব্যারেট এই ভবিষ্যৎ চিত্রকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।