ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার (স্থানীয় সময়) সকালে তোম্বলেইন শহরের কাছাকাছি বিমানবন্দরের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যাদের একটি অংশ প্যারাসুট নিয়ে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তোম্বলেইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানটি স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ধরনের ফ্লাইট সাধারণত স্বল্প উচ্চতায় উঠানামা করে এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। ফলে এই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট আকারের বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, তবে এমন বড় ধরনের প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বিরল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreশৈশবে আলাদা হয়ে যাওয়া দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী কিশোরী বয়সে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। চেহারার অদ্ভুত মিল দেখে আশপাশের মানুষ অবাক হলেও তারা কেউই জানতেন না, আসলে তারা আপন দুই বোন। প্রায় তিন দশক পর একটি ডিএনএ পরীক্ষায় সেই সত্য সামনে আসে। দুই নারীর নাম মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজসেন। দুজনেরই জন্ম ভারতে। শিশুকালে তাদের আলাদা এতিমখানায় রাখা হয় এবং পরে নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবার তাদের দত্তক নেয়। ফলে একই দেশে বড় হলেও নিজেদের রক্তের সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তাদের। ১৯৯৬ সালে দত্তক নেওয়া শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। তখন তারা দুজনই কিশোরী। পরিচয়ের পর দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। চেহারার মিলও নজর এড়ায়নি বন্ধুদের। ঠিকানা বিনিময় করে চিঠি চালাচালিও শুরু করেন তারা। এমনকি মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। কিন্তু সেই সময় কেউই জানতেন না, কথাটি কেবল মজার ছলে বলা নয়। বাস্তবেই তারা আপন দুই বোন। পরে জীবনের ব্যস্ততায় তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এর মধ্যে দুজনের জীবন এগিয়েছে আলাদা পথে। মীনা নেদারল্যান্ডসে থেকে যান এবং তিন সন্তানের মা হন। মিনাল তার সঙ্গী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানায়, মীনা ও মিনালের মধ্যে পূর্ণ ভাইবোনের সম্পর্ক রয়েছে। তখনই বহু বছরের পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন অর্থ পায়। ফল হাতে পাওয়ার পর প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি মিনাল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে নিশ্চিত হন, ডিএনএ পরীক্ষায় যে আপন বোনের সন্ধান মিলেছে, তিনি সেই পুরোনো বান্ধবীই। দুই বোনের আবেগঘন পুনর্মিলন হয় ১১ আগস্ট নেদারল্যান্ডসে। দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হয়ে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। কান্না আর হাসিতে কাটে সেই মুহূর্ত। জীবনের এতটা সময় আলাদা থাকার পর প্রথমবার তারা জানতেন, এবার আর তারা শুধু পুরোনো বন্ধু নন, আপন দুই বোন। মীনা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার মনে হতো জীবনে যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেছে। বোনকে ফিরে পাওয়ার পর সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। মিনালের অনুভূতিও একই রকম। দত্তক পরিবারে ভালোবাসা পেলেও নিজের জন্মপরিচয় ও রক্তের সম্পর্কের কাউকে না জানার একটি শূন্যতা তার মধ্যে ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। এখন আলাদা দেশে থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন দুই বোন। প্রায় ৩০ বছর আগে যে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে, তিন দশক পর সেই সম্পর্কের আসল পরিচয় সামনে এসেছে। একটি ডিএনএ পরীক্ষা শুধু তাদের জন্মপরিচয়ের রহস্যই ভাঙেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে বহু বছর ধরে অজানা থেকে যাওয়া আপন সম্পর্কও।
ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, প্রতিরক্ষার বদলে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশলে জোর
১২ আগস্ট আকাশে মহাজাগতিক উৎসব, একসঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া
প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছেন বারবার। ভোটের রাজনীতিতে সফল হতে পারেননি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে কখনোই হারিয়ে যাননি মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্ব দেওয়া সেই প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা এবার দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের মধ্যে তার এই উত্থানকে ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে কট্টর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৯ আগস্ট) ৭১ বছর বয়সী রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিনিধিত্বও করবেন এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোয়। রেজাইয়ের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হন তিনি। এরপর টানা ১৬ বছর, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়ই বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্বে ছিলেন রেজাই। সেই যুদ্ধই তাকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তার নেতৃত্বের সময় আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী হিসেবেই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেও বিস্তার লাভ করে। ১৯৯৭ সালে সামরিক দায়িত্ব ছাড়ার পরও ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরে যাননি রেজাই। তাকে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি করা হয়। সংসদ ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ইরানের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই পরিষদের। পরে অর্থনীতি নিয়েও সক্রিয় হন রেজাই। অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার থেকে ধীরে ধীরে অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের ভেতরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে জনগণের সরাসরি ভোটের পরীক্ষায় রেজাইয়ের সাফল্য নেই। ২০০৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোটের মাত্র দুই দিন আগে তিনি সরে দাঁড়ান। ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০১৩ সালে প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ২০২১ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিততে পারেননি। অর্থাৎ ব্যালট বাক্স তাকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে পৌঁছে দিতে পারেনি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তার প্রভাব কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সেই রেজাই এখন এমন এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে ফিরলেন, যখন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা নিয়োগগুলোতে পুরোনো এবং কট্টরপন্থী বিপ্লবী গার্ড নেতৃত্বের প্রভাব বেড়েছে। আনুগত্য, অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে এই মুহূর্তে তেহরান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। রেজাই নিজেও দায়িত্ব নেওয়ার পর কট্টর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, হুমকির মুখে ইরান তার ‘জাতীয় অধিকার’ থেকে পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তার এমন বক্তব্য নতুন দায়িত্বে তার অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেজাইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কও পুরোনো। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। আর্জেন্টিনার তদন্তে ওই হামলার সঙ্গে রেজাইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। ইন্টারপোল ২০০৭ সালে তারসহ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেজাই ও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তার পুরোনো কিছু বক্তব্যও আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে রেজাই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মার্কিন সেনাদের বন্দি করে তাদের মুক্তির বিনিময়ে বিপুল অর্থ আদায় করা সম্ভব। বক্তব্যটি সে সময়ও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। এখন যে কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন রেজাই, সেটি ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের কাজ করে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। প্রেসিডেন্ট, সামরিক নেতৃত্ব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অধীন। ফলে রেজাইয়ের নিয়োগ শুধু একজন প্রবীণ কর্মকর্তার নতুন পদ পাওয়া নয়। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এমন একজনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনল, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সামরিক ইতিহাস অনেক বেশি শক্তিশালী। ভোটে তিনি কখনো প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। কিন্তু ইরান-ইরাক যুদ্ধের তরুণ কমান্ডার থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সেই মোহসেন রেজাই এখন আবার ইরানের যুদ্ধ, নিরাপত্তা ও কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোর একটির দায়িত্বে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই প্রত্যাবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেহরান আপাতত নিরাপত্তা নীতিতে অভিজ্ঞ ও কট্টর পুরোনো নেতৃত্বের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে।
বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ! লন্ডন থেকে স্পেন মাত্র ২৬৫ পাউন্ডে
ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে ৩২ ঘণ্টা, জীবিত উদ্ধার মা ও ১৮ দিনের শিশু
মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে গড়ল ইতিহাস
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গৃহযুদ্ধকালীন বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায়ে তাঁর ছোট ভাই ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মাহের আল–আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে বাশার আল–আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আদালতের মতে, ওই সময় সংঘটিত অপরাধের মধ্যে শিশু হত্যার ঘটনাও রয়েছে। আতেফ নাজিব ছিলেন বাশার আল–আসাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান। ২০১১ সালের আন্দোলনের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং নির্যাতনের ফলে মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১১ সালে সিরিয়ার সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের সূচনা হয়। দেয়ালে সরকারবিরোধী স্লোগান লেখার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা সে সময় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে সেই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। বাশার আল–আসাদ ২০০০ সালে তাঁর বাবা হাফেজ আল–আসাদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। প্রায় ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় তাঁর সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতা হারানোর পর তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। বাশার ও মাহের আল–আসাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব এর আগে রাশিয়ার কাছে তাঁদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। তবে রাশিয়ায় অবস্থান করায় মৃত্যুদণ্ডের এই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই রায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে দেশটির নতুন সরকারের নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে সাবেক সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আতেফ নাজিবের বিচার ছিল ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন সিরিয়ায় শুরু হওয়া প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য বিচারগুলোর একটি।
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র