বাংলাদেশ

হামের প্রকোপ থামছেই না: ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:৩১
২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে হামের বিস্তার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন শিশু, যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

রোববার (২৮ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে হামে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে।

 

এদিকে সংক্রমণের হারও কমার লক্ষণ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় ১১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৯৪১ জন। ফলে একদিনেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ জনে পৌঁছেছে।

 

হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বলছে, একই সময়ে নতুন করে ৮৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন রোগী, যাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সচেতনতার অভাব—এই তিনটি কারণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের প্রকোপ থামছেই না: ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়াল

দেশজুড়ে হামের বিস্তার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন শিশু, যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।   রোববার (২৮ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে হামে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে।   এদিকে সংক্রমণের হারও কমার লক্ষণ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় ১১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৯৪১ জন। ফলে একদিনেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ জনে পৌঁছেছে।   হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বলছে, একই সময়ে নতুন করে ৮৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন রোগী, যাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সচেতনতার অভাব—এই তিনটি কারণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।   বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:৩১
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ফাইল ছবি: বাসস

আবাসন খাতে বিএনপি সরকারের নতুন উদ্যোগ, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ১ লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের ঘোষণা

বাংলাদেশিদের জন্য আজ থেকে আবার শুরু ভারতের পর্যটন ভিসার আবেদন। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর পর আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য আবার চালু ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন

ডা. কুশাল ও ডা. সুষমা রেজা | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

লাইফস্প্রিংয়ের পরামর্শক দম্পতি সুষমা-কুশালের বিচ্ছেদ, নেপথ্যে আসলে কী কারণ?

কুমিল্লায় হোটেলে ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুটি ৬ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে ফেরত | ছবি: প্রথম আলো
কক্সবাজার যাওয়ার পথে কুমিল্লায় রেস্তোরাঁয় ২ বছরের শিশুকে ফেলে গেল পাকিস্তানি পরিবার

পাকিস্তানের করাচি থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা একটি পর্যটক পরিবারের অসাবধানতায় দুই বছর বয়সী এক শিশুকে রেস্তোরাঁয় ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় এই ঘটনা ঘটে। পরে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর শিশুটি তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে পায়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাকিস্তানি ওই পরিবারের সদস্যরা।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার করাচি থেকে ১১ সদস্যের একটি পাকিস্তানি পরিবার বাংলাদেশে ভ্রমণে আসে। ঢাকায় একদিন থাকার পর আজ শনিবার ভোরে দুটি গাড়ি নিয়ে তারা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি দিয়ে সকালের নাশতা করে। এ সময় তারা গল্প ও আড্ডায় মেতে ছিলেন। নাশতা শেষ করে সবাই আবার যাত্রা শুরু করলেও ভুলে দুই বছরের শিশুটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরেই ফেলে রেখে চলে যান।   রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চালকসহ অন্তত ১৪ জন দুটি গাড়িতে করে এসে সেখানে নাশতা করছিলেন। দুটি গাড়ির একটিতে শিশুটির বাবা এবং অন্যটিতে মা ছিলেন। গাড়ি আলাদা হওয়ায় মা ভেবেছিলেন শিশুটি তার বাবার কাছে আছে, আর বাবা ভেবেছিলেন সে মায়ের সাথে আছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা শিশুটিকে ছাড়াই রওনা হন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার পর চা পানের জন্য আবার যাত্রাবিরতি দিলে তারা বুঝতে পারেন যে শিশুটি তাদের সাথে নেই।   এদিকে শিশুটি রেস্তোরাঁয় রেখে যাওয়ার পর প্রথমে কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দ্রুত তাকে সামলে নেন। তারা শিশুটিকে একমুহূর্তের জন্যও আতঙ্কিত হতে দেননি এবং মোবাইলে ভিডিও ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাকে ব্যস্ত ও হাসিখুশি রাখেন। এর পাশাপাশি জাইতুন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করে। একই সাথে তারা রেস্তোরাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ঘটনাটি জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।   চট্টগ্রামে গিয়ে শিশুটির পরিবার যখন নিখোঁজের বিষয়টি টের পায়, তখন তারা ফেসবুকে জাইতুন রেস্তোরাঁর ওই পোস্টটি দেখতে পায়। পরে তারা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ভিডিও কলে শিশুর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন। এরপর তারা দ্রুত কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে রেস্তোরাঁয় এসে শিশুটিকে বুঝে নেন। পাকিস্তানি পরিবারটির ১২ দিন বাংলাদেশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই যাত্রাপথেই তারা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।   সূত্র: প্রথম আলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১২:২৭
শাহবাগে ফ্ল্যাট থেকে তরুণী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

শাহবাগে ফ্ল্যাট থেকে তরুণী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার, তিন দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে ছিল না যোগাযোগ

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের দাম,ভরিতে বাড়ল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে শিশু। ছবি: সংগৃহীত

হামের প্রাদুর্ভাব: মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বেনজীরকে দেশে ফেরাতে ইউএইকে নথি পাঠানো হয়েছে, এখনো কোনো জবাব মেলেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।   তিনি জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পর আবুধাবি থেকে ফেডারেল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করে। একই সঙ্গে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠাতে বলা হয়।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেগুলো ইউএই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”   সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশিদের ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকেই জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   তিনি বলেন, “আমরা কূটনৈতিকভাবে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছি, যদি কোনো বাংলাদেশি সেখানে অবস্থান করে, তাহলে তাদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠানো হোক। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   এ সময় শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলার তিন আসামিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে এবং তারা বর্তমানে কলকাতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ভারতের আইন অনুযায়ী আদালতে মামলা হয়েছে। আমরা এক্সট্রাডিশন চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাঠিয়েছি। আশা করছি, তাদের শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”   তিনি আরও বলেন, আসামিদের ফেরত আনার পর মামলার বাকি তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৬:৫৮
রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে আজ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন: টিআইবি

প্রতীকী ছবি।

ভয়াবহ গবেষণা: দেশের ৮২ লাখ মাদকসেবীর মধ্যে ৬১ লাখই গাঁজাখোর

0 Comments