ফ্রান্সে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহে অন্তত ১ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেই প্যারিসে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) না থাকা নিয়ে মার্কিন পর্যটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের সমালোচনার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শহরটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক ডেপুটি মেয়র অড্রে পুলভার। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে সৃষ্ট তাপপ্রবাহের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আংশিক দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অড্রে পুলভার লেখেন, ‘প্রিয় মার্কিন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা, কয়েক দিন ধরে আপনারা প্যারিসের সমালোচনা করছেন, কারণ এই শহরের প্রতিটি ঘরে এসি নেই। এটি নিয়ে উপহাস করার কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে ফ্রান্সে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের দায় রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আপনাদের শহরগুলোর ৯০ শতাংশ জায়গায় এসির ব্যবহারও এই পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’ প্যারিসের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমাদের উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুন। আগে নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন।’ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সে এসির ব্যবহার অনেক কম। দেশটিতে মাত্র এক-চতুর্থাংশ পরিবারের ঘরে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে অনেক ফরাসিই এসিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। চলতি মাসে প্রকাশিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ ফরাসি নাগরিকের মতে, এসির ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রতি ছয়জনের একজন জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তারা দাবদাহের কষ্টও সহ্য করতে প্রস্তুত। তবে সাম্প্রতিক তীব্র গরমে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। দেশজুড়ে বহনযোগ্য এসির চাহিদা বেড়েছে এবং বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ফ্রান্সের পাবলিক হেলথ বিভাগ জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পর দেশে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র দাবদাহের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ট্রিবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনের তীব্র গরমের প্রভাব বিলম্বিতভাবে দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও তরুণদের ক্ষেত্রে। অনেক সময় দাবদাহ শেষ হওয়ার পাঁচ থেকে ১০ দিন পরও রোগীরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন।’ তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে তাপমাত্রা কমে গেলেও হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। প্যারিসের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত শুক্রবার শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩ হাজার ৪০০টি কল পেয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি। একই সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত ৩০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের পশ্চিমে ইভলিন অঞ্চলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ১৫ বছর বয়সী ভাইকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন চিকিৎসাকর্মীরা। এছাড়া তীব্র গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে এ পর্যন্ত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিসের কানাল সেন্ট-মার্টিনে সাঁতার নিষিদ্ধ এলাকায় ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক প্যারিসবাসী নিজেদের উত্তপ্ত অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বাট-শমঁ পার্কের মতো খোলা সবুজ এলাকায় রাত কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এসিযুক্ত হোটেলে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। রোববার রাতে বজ্রঝড়ের কারণে প্যারিসে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বজ্রপাতে আইসিন, ইভলিন ও ইন্দ্র-এ-লোয়ার অঞ্চলের প্রায় ৩৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্যারিসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শনিবার থেকে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ১ হাজার ৩০০ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে লিফট, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট সবাইকে প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি আপনার কোনো প্রতিবেশী একা থাকেন, তাহলে এখনই তার দরজায় কড়া নাড়ুন। আমাদের প্রত্যেককেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্কাইডাইভারদের বহনকারী একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি শহরের কাছে টমব্লাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে একজন পাইলট ও ১০ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী স্কাইডাইভার এবং পাঁচজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক রয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা কেউই বেঁচে যাননি। মার্থ-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ইভ সেগুই বলেন, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশেই আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি। স্থানীয় একটি প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণ স্কুলের পরিচালিত বিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উড়ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশে ওঠার পর বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় রানওয়ের কাছে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর পরিবারের সদস্য ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই চোখের সামনে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে দেখেছেন, যা এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। এছাড়া দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কারিগরি ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ন্যান্সি শহরের কাছে টম্বলেন এলাকায় একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে পাইলটসহ বিমানের ভেতরে থাকা মোট ১১ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১১টার কিছু পর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে আঞ্চলিক প্রশাসন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানটি মূলত স্থানীয় একটি প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণার্থী এবং পাঁচজন পেশাদার প্রশিক্ষক ছিলেন। তাদের সাথে বিমানের পাইলটও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ন্যান্সি এসে অ্যারোড্রোম থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাছাকাছি একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ম্যুর্ত এ মোজেল অঞ্চলের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় তারা সালভাদর আলেন্দে স্ট্রিটসহ আশপাশের এলাকায় জনসাধারণকে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। একই সাথে জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে সহায়তার জন্য সবাইকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। ম্যুর্ত এ মোজেল প্রিফেকচার জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিভাগীয় অপারেশনাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। প্রিফেক্ট ইভ সেগি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই আছড়ে পড়ল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ১১ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি শহরের কাছে একটি স্কাইডাইভিং স্কুলের বিমান উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খাড়াভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ৫ জন স্কাইডাইভিংয়ের শিক্ষার্থী এবং ৫ জন প্রশিক্ষক ছিলেন। ম্যুর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভস সেগুই জানান, বিমানটি ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরপরই হঠাৎ এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রানওয়ের একদম কাছেই এটি আছড়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, বিমানটি যদি আর মাত্র কয়েক ডজন মিটার দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ত, তবে লোকালয়ে বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। তবে সৌভাগ্যবশত মাটিতে থাকা কোনো সাধারণ মানুষ হতাহত হননি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এবং নার্সিং কাউন্সিলের প্রধান থিয়েরি পেচেই নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত ৫ শিক্ষার্থী পেশায় নার্স ছিলেন। তারা সবাই সহকর্মী এবং চলমান তীব্র তাপদাহের ক্লান্তি দূর করে একটু মানসিক শান্তির খোঁজে প্রথমবারের মতো দল বেঁধে স্কাইডাইভিং করতে এসেছিলেন। তারা সবাই একজন করে প্রশিক্ষকের সাথে যুক্ত হয়ে ‘ট্যান্ডেম জাম্প’ বা যৌথভাবে লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ন্যান্সির মেয়র ম্যাথিউ ক্লেইন জানিয়েছেন, স্কাইডাইভিং দেখতে আসা নিহতদের বেশ কয়েকজন বন্ধু ও পরিবারের সদস্য রানওয়ের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। চোখের সামনে বিমানটিকে আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়তে দেখে তারা চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা ও সহযোগিতা দেওয়া শুরু করেছে। জন কুরাকু নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তিনি তার বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার শব্দ পান এবং এর পরপরই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন বিমানের ভেতর আর কেউ বেঁচে নেই এবং প্রচণ্ড ধাক্কায় দুটি মরদেহ বিমান থেকে কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জরুরি ভিত্তিতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার (স্থানীয় সময়) সকালে তোম্বলেইন শহরের কাছাকাছি বিমানবন্দরের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যাদের একটি অংশ প্যারাসুট নিয়ে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তোম্বলেইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানটি স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ধরনের ফ্লাইট সাধারণত স্বল্প উচ্চতায় উঠানামা করে এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। ফলে এই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট আকারের বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, তবে এমন বড় ধরনের প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বিরল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা স্যঁতে পাবলিক প্রকাশিত এক প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের তথ্য এখনো পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। কেয়ার হোম ও ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে এলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। তারা বলছেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপের জলবায়ু আরও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চরম গরম কিছুটা কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চল এখনও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই দুর্যোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।" স্যঁতে পাবলিক জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। তবে তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সব বয়সী মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলেছে। সূত্র: এএফপি
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের একটি দোকানে পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার ও বৈদ্যুতিক পাখা কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভেতরে ঢুকে শেষ কয়েকটি শীতলীকরণ যন্ত্র সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। ঘटनাটি ফ্রান্সের শামব্রে-লে-তুর (Chambray-lès-Tours) এলাকার একটি দোকানে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দোকান খোলার আগেই বাইরে অপেক্ষা করছিলেন কয়েক ডজন ক্রেতা। নিরাপত্তা শাটার উঠতেই তারা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার ও পাখার তাক প্রায় খালি হয়ে যায়। এই কেনাকাটার চাপের পেছনে রয়েছে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ। ফ্রান্স, স্পেনসহ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে নামার সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশটিতে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে প্যারিসের উপকণ্ঠের সাঁ-গ্রাসিয়াঁ এলাকায় পরিবারের একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৪৫ মিনিট পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিসে সাময়িকভাবে জনসমক্ষে মদ্যপানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ফ্রান্সের হাজারো স্কুল, বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও দৈনন্দিন জনজীবন এই তীব্র গরমে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আর্লিং হালান্ডকে ছাড়া মাঠে নামা নরওয়ের জন্য গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক চরম দুঃস্বপ্নে। শুরুর একাদশে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে থাকলেও, মাঠের ফুটবলে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ভর করে নরওয়েকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ফলস্বরূপ, মাত্র সপ্তম মিনিটেই দলের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন দেম্বেলে। এর কিছুক্ষণ পর, ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। দুই গোল হজমের পর নরওয়েও দ্রুত লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২১তম মিনিটে থেলোনিয়াস আসগার্ডের দারুণ এক গোলে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে তারা। কিন্তু ফরাসিদের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে নরওয়ের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রতিরোধ ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে এক অসাধারণ দলীয় বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে অরেলিয়েন চুয়ামেনির বাড়ানো বল বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, যেখানে নরওয়ের গোলরক্ষকের তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। মাত্র ৩২ মিনিটে করা এই হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক হিসেবে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার এরিক প্রবস্ট। বিরতির পর নরওয়ে ম্যাচে ফেরার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি বক্সে অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের নেওয়া দুর্বল স্পটকিকটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিঁয়া। এরপর ফরাসিদের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের মাঝেই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স।
ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান দাবদাহের মধ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়। ফ্রান্সের উপকূলীয় ফিনিস্তের বিভাগের প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কিম্পের শহরের কাছে এরগে-গাবেরিক কমিউনে ট্রান্সফরমারটির ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং হাজারো পরিবার অন্ধকারে পড়ে। ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থা আরটিই এবং এনেদিসের কর্মীরা রাতভর মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের দিকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে ফ্রান্স চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়। আরটিই জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বুধবার দিনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও সব পরিবারকে একযোগে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে না। ফ্রান্সের ৫৮টি বিভাগের মধ্যে ফিনিস্তের অন্যতম, যেখানে চরম তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বুধবার তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বায়ুপ্রবাহের বিশেষ অবস্থানের কারণে গরম বাতাস কয়েক দিন ধরে একই এলাকায় আটকে রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।
তীব্র ও রেকর্ডব্রেক দাবদাহে পুড়ছে সমগ্র ইউরোপ। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে নদী বা জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে দেশটিতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ ও কম বয়সী। এই আকস্মিক ও নৃশংস আবহাওয়ায় ইউরোপের লাখ লাখ মানুষের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি এক সাক্ষাৎকারে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, দাবদাহের এই কঠিন সময়ে লাইফগার্ড বা নজরদারিবিহীন বিপজ্জনক জলাশয়গুলোতে সাঁতার কাটা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর 'মেতেও ফ্রান্স' জানিয়েছে, চলমান এই চরম আবহাওয়া অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফ্রান্সের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল বা ৫৪টি বিভাগে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতাসূচক 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে। প্যারিসের ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ার তীব্র গরমের কারণে তাদের স্বাভাবিক সময়সূচি পরিবর্তন করে রাতে খোলা রাখার পরিবর্তে বিকেলেই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং বা এসি ব্যবস্থা না থাকায় বহু স্কুল, গণপরিবহন এবং ক্রীড়া অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ বা স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত দিন ও রাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে ১০৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশও এই তীব্র গরমে পুড়ছে। স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ায় তাপমাত্রা ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে গ্রীষ্মকালের প্রথাগত সময়ের বাইরেও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ আঘাত হানছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস'-এর মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরও বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য তীব্র দাবদাহের রেড ওয়ার্নিং জারি করেছে। সেখানে তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রেললাইন গলে যাওয়ার বা বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে একাধিক ট্রেন অপারেটর তাদের সেবা বাতিল করেছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আগামী পাঁচ বছরে গরমের এই ধরনের আরও অনেক রেকর্ড ভাঙতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও বনের দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের পর এবার তার প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চায়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট লি নিশ্চিত করেন, ট্রাম্প তাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবার উত্তর কোরিয়া ইস্যুর দিকে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে। বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানান যে, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বর্তমানে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করেন লি। তার মতে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা সামান্য সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তাও বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনছে। এদিকে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটির সঙ্গে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য যুক্ত না করলেও, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতির পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার দিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তির বদলে কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশ কেবল একটি সুনির্দিষ্ট অসামরিকীকৃত সীমান্ত অঞ্চলের (ডিএমজেড) মাধ্যমে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের একটি ছবি তোলার জন্য মেলোনি তার কাছে ‘মিনতি’ করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত তার মার্কিন সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, এই প্রকাশ্য বিরোধের মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জর্জিয়া মেলোনিকে বেশ আন্তরিকভাবে সোফায় বসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল এবং মেলোনি তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সম্মেলন শেষে ইতালির ‘লা সেভেন’ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো মিনতি করেছিলেন এবং দয়া পরবশ হয়ে তিনি সেই অনুরোধে রাজি হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালীয় ভাষায় ডাব করে প্রচার করার পর পুরো ইতালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সাত মিলিয়ন অনুসারীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে তিনি স্তব্ধ। মেলোনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সাথে এমন আচরণ করছেন। ট্রাম্পের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এমন দৃঢ়তা দেখাতে পারেন না, উল্টো সেসব দেশের স্বৈরশাসকদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় দেখা যায়। একই সাথে ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র—কেউ কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না। এই ঘটনার পর ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জোয়ার বইছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সাথে এমন অহংকারী ভাষায় কথা বলার অধিকার কারও নেই। অন্যদিকে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের মূল্যে হওয়া উচিত নয়। মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'-র সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত তার নিজের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করছে এবং ওয়াশিংটনের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেলোনির ‘না’ বলার সাহসী অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সুর মিলিয়ে মেলোনির সরকারি মিত্র মাত্তেও সালভিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেলোনির ওপর আক্রমণ মানে পুরো ইতালির ওপর আক্রমণ। ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া জর্জিয়া মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলো তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু মনে করত। তবে ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করায় গত এপ্রিল মাস থেকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। এছাড়া, সম্প্রতি পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি, যা দুই নেতার বর্তমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ফ্রান্সের ৫৩টি প্রশাসনিক এলাকাকে তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় এনেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেটেও-ফ্রান্স। শুক্রবার দুপুর থেকে এসব এলাকায় কমলা সতর্কতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি এলাকায় কমলা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আরও ২৭টি এলাকা এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। মেটেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে এটি দেশটির দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই তাপপ্রবাহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের মাসিফ সেন্ট্রাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও কর্সিকা অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে রাজধানী প্যারিস ও ইলে-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটেও-ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে প্যারিসের বিভিন্ন খোলা স্থান ও জলাশয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্যানাল সেন্ট-মার্টিনের তীরেও অনেককে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ফ্রান্সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আসন্ন আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না ফ্রান্স। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ▶️ ভিডিও দেখুন...ট্রাম্প-ইরান চুক্তিতে লেবানন, হরমুজ প্রণালী ও ইউরেনিয়াম নিয়ে যা আছে | America Bangla বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় নিশ্চিত হলেই কেবল জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ভেটো ক্ষমতাধারী দেশ হিসেবে ফ্রান্সের অবস্থান ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” আরও পড়ুন... ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনার্থীপ্রাপ্ত জাদুঘর লুভর মিউজিয়াম জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নের জন্য অর্থসংকটে পড়েছে। সম্প্রতি এক শুনানিতে জাদুঘরটির নতুন পরিচালক ক্রিস্তফ লেরিবো এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। ফ্রান্সের সিনেট কমিটির সামনে দেওয়া বিবৃতিতে লেরিবো বলেন, ‘এর রাজকীয় মহিমান্বিত রূপ এবং কর্মীদের প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম সত্ত্বেও লুভর মিউজিয়াম আসলে এখন ধুঁকছে। এর ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর মেয়াদ বা কার্যকারিতা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে।’ অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্পকলা বিশেষজ্ঞ লেরিবো গত ফেব্রুয়ারি মাসে লুভরের দায়িত্ব নেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে দিনের আলোয় জাদুঘর থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের রাজকীয় অলংকার চুরির ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান পদত্যাগ করেন। ওই ঘটনার পর জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। লুভর মিউজিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ও দর্শনার্থীমুখর জাদুঘরগুলোর একটি। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনা লিসা’ এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৯০ লাখ দর্শনার্থী এই জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সেন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রাসাদ, যা একসময় ফরাসি রাজপরিবারের সরকারি বাসস্থান ছিল। পরিচালক লেরিবো আরও জানান, ভবনসংক্রান্ত জরুরি সমস্যাগুলো ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের বিনিয়োগ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মঘটের কারণে রাজস্ব ক্ষতি, প্রায় ১ কোটি ইউরো মূল্যের টিকিট জালিয়াতি, ভবনে পানি চুইয়ে পড়া এবং রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একাধিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প প্রতিষ্ঠান।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের উপস্থিতিতে নিজেকে ‘বস’ বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনে সাংবাদিক ও বিশ্বনেতাদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে ঠিক কী প্রেক্ষাপটে তিনি এমন দাবি করেছেন, তা খোলসা করেননি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ কোনো রাষ্ট্রনেতাই ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কোনো প্রতিবাদ জানাননি। বরং, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে এতদিন ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে আসা ইউরোপীয় নেতারাও এবার বেশ নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছেন। গত ১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি৭ সম্মেলন চলবে ১৭ জুন বুধবার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ট্রাম্প অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। বুধবারের অধিবেশনে মূলত দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদ, বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে ‘বস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতাদের এমন সুর বদলের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এক বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। ইরান প্রতিশোধ হিসেবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নীতির তখন তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প ইউরোপের সাহায্য চাইলেও বেশির ভাগ শক্তিধর দেশ সে সময় পিছিয়ে যায়, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বারবার ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এবারের জি৭ বৈঠকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ৪৭ নম্বর লেখা একটি ফুটবল জার্সিও উপহার দেন, যা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের এই বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই নাটকীয় সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইরান চুক্তি। গত রোববার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়তার জন্য ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক মিশন প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা আসার পর সোমবার তিনি এ কথা জানান। ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স–যুক্তরাজ্যের এই যৌথ মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়াই সমুদ্রপথে নৌ চলাচল পুনরায় শুরু করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে নৌচলাচল বিঘ্নিত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি ও অবৈধ বসতি স্থাপনে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ একাধিক নেতার ফ্রান্সে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই যৌথ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নরওয়ের মতো দেশগুলোর সাথে একযোগে নেওয়া এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— পশ্চিম তীরে যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং ঔপনিবেশিক তৎপরতা আরও জোরালো করছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ফ্রান্সের এই নতুন নির্দেশনার ফলে অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ ছাড়াও ইসরায়েলের চারজন প্রভাবশালী বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) সংগঠনের নেতা এবং ২১ জন উগ্রপন্থী সেটলার ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারবেন না। বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মোট্রিচের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি এই মন্ত্রী সক্রিয়ভাবে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে নিরলস প্রচার চালাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে এমন দাবিও করছেন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে নতুন করে অবৈধ বসতি তৈরি, গাজা পুনরুপনিবেশকরণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো নীতিকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো সতর্ক করে বলেন, স্মোট্রিচের এসব কট্টরপন্থী নীতি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ, যারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংকট নিরসনে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তারা কোনোভাবেই এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারে না। মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠার এই তাগিদ থেকেই ফ্রান্স এবং তার অংশীদার মিত্ররা মিলে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন আপাতত অধরাই থেকে গেল। তবে সেই হতাশাকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার পর অবসর সময়কে কাজে লাগাতে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের একটি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন তিনি। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা কামাভিঙ্গা গত কয়েক মৌসুম ধরে স্পেনের জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলছেন। ফ্রান্সের জাতীয় দলেও নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য কোচ দিদিয়ের দেশমের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের রানার্সআপ হওয়ার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কামাভিঙ্গা। সেই আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয় ফরাসিদের। তবে এবারের বিশ্বকাপের আগে তার পরিস্থিতি ভিন্ন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে নিয়মিত একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেননি এই মিডফিল্ডার। বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়েছে বেঞ্চে। জাতীয় দলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হারাতে হয়েছে তাকে। কিন্তু হতাশায় ডুবে না থেকে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছেন কামাভিঙ্গা। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের বিনোদন ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট একটি কোর্সে ভর্তি হওয়ার খবর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি। রোববার নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কামাভিঙ্গা লেখেন, “কিছুদিন শেখা, শোনা এবং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যয় করতে চাই।” ফুটবলের বাইরে শিক্ষা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, আধুনিক ক্রীড়াবিদদের জন্য মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, ক্রীড়া সংগঠক, শিল্পোদ্যোক্তা এবং পেশাজীবীরা নিয়মিত এখানকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অংশ নিয়ে থাকেন। মজার বিষয় হলো, ফ্রান্স জাতীয় দল এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে যে এলাকায় অবস্থান করবে, তার কাছাকাছিই রয়েছে হার্ভার্ডের ক্যাম্পাস। ফলে কামাভিঙ্গা একদিকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন, অন্যদিকে সতীর্থদের বিশ্বকাপ অভিযানও কাছ থেকে অনুসরণ করার সুযোগ পাবেন। আগামী ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, অরেলিয়েন চুয়ামেনিদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী দলটি এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও কামাভিঙ্গার সামনে এখনও দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। বয়স এবং প্রতিভা বিবেচনায় ভবিষ্যতে ফরাসি মিডফিল্ডার আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবেন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষার সময়টুকু তিনি কাজে লাগাচ্ছেন শিক্ষা ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যমে।
বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে তিনি জানান। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উভয় পক্ষ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বর্তমান সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মূলত ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য। ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সময়োপযোগী করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা প্রয়োজন হলেও তা ‘যেকোনো মূল্যে’ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন কীভাবে নিরাপদভাবে পুনরায় শুরু করা যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।