কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreআগামী ৫ নভেম্বর দীপাবলি উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা রামায়ণ। ছবিটির মুক্তির আগে প্রচারণার কাজে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন এর কলাকুশলীরা। সম্প্রতি স্টার টকস নামের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রণবীর কাপুর, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, যশ এবং পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি। এই আলাপের সময় প্রাচীন মহাকাব্যকে পর্দায় তুলে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তারা। সেখানেই প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তির সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের একটি দারুণ তুলনা টেনেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুর। সাক্ষাৎকার চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রামায়ণ যুগের অবিশ্বাস্য সব অস্ত্রের প্রশংসা করেন যা আধুনিক সৃষ্টিকেও হার মানাতে সক্ষম। পাশাপাশি তিনি অস্কারজয়ী স্টুডিও ডাবল নেগেটিভ বা ডিএনইজি এর করা দুর্দান্ত ভিএফএক্স কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি জানান, পৌরাণিক সেই সৃষ্টিগুলোকে পর্দায় নতুন করে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। এর সূত্র ধরেই রণবীর কাপুর বলেন, ইলন মাস্ক সম্প্রতি একটি উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কার করেছেন, তবে আমার মনে হয় ভারত ৫ হাজার বছর আগেই এই কাজ করে দেখিয়েছিল। রণবীর মূলত টেসলার নতুন উড়ন্ত গাড়ির সঙ্গে রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথের তুলনা করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে টেসলা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রোডস্টারের প্রদর্শন করে। প্রদর্শনীতে বৈদ্যুতিক এই সুপারকারটি বিশাল এক বাঁকানো র্যাম্পে উল্টো হয়ে শূন্যে ভেসে থাকে এবং নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানান গাড়িটির প্রযুক্তি সফলভাবে কাজ করেছে এবং ২০২৮ সাল থেকে এর উৎপাদন শুরু হবে। অন্যদিকে হিন্দু পুরাণ অনুসারে পুষ্পক রথ হলো একটি জাদুকরী উড়ন্ত রাজপ্রাসাদ। রামায়ণ সিনেমার ট্রেইলারে বিশাল আকারের এই উড়ন্ত যানটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা ভগবান ব্রহ্মার জন্য এই রথটি তৈরি করেছিলেন। পরে ব্রহ্মা এটি সম্পদের দেবতা এবং রাবণের সৎ ভাই কুবেরকে উপহার দেন। কিন্তু রাবণ কুবেরকে পরাজিত করে পুষ্পক রথটি ছিনিয়ে নেন। মহাকাব্যে বলা হয়েছে, এই রথটি মনের গতিতে উড়তে পারত এবং যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী নিজের আকার পরিবর্তন করতে পারত। প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে দুই পর্বের এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নিতেশ তিওয়ারি। ছবিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী। রাবণের ভূমিকায় কন্নড় তারকা যশ, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবেকে দেখা যাবে। ছবির অন্যতম প্রযোজক যশ জানান, রামায়ণের এই নতুন উপস্থাপনটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নমিত মালহোত্রা ও যশের প্রযোজনায় ছবিটিতে সুরারোপ করেছেন এ আর রহমান এবং হ্যান্স জিমার।
ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে সমর্থন না পেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছাড়লেন কানাডীয় নারী
কেশম দ্বীপে অক্ষত অবস্থায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটক করল ইরান
ইংল্যান্ডে লিভারপুল মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও ৬০০ ব্রিটিশকে ইসলামে দীক্ষিত করেন আইনজীবী উইলিয়াম হেনরি
কিশোর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন ঝৌ ছুনফেই। দিনে মজুরি পেতেন মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই তিনিই এখন চীনের সবচেয়ে ধনী নারী। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝৌর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ৫৬ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা ১১ বছর পর আবারও চীনের শীর্ষ ধনী নারীর অবস্থান ফিরে পেয়েছেন। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬’ তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছেন ঝৌ। তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান সম্পদের মালিক হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ান রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। এর আগে ২০১৫ সালেও চীনের সবচেয়ে ধনী নারী হয়েছিলেন ঝৌ। এবারের তালিকায় তাঁর সম্পদের হিসাব করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ঝৌর। কৈশোরেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান শেনজেনে। সেখানে একটি কারখানায় ঘড়ির কাচ তৈরির কাজ নেন। প্রতিদিনের মজুরি ছিল প্রায় ১ ডলার ২০ সেন্ট। তবে কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ছাপার প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ২৩ বছর বয়সে ১৯৯৩ সালে নিজের উদ্যোগে একটি ছোট কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লেন্স টেকনোলজি স্মার্টফোনের পর্দার কাচ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের আবরণ সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত লেন্স টেকনোলজির মূল ব্যবসার আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছিল অ্যাপলের কাছ থেকে। ২০১৫ সালের মার্চে শেনজেনের শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি ঝৌর সম্পদ ও ব্যবসায়িক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। সে বছরই প্রথমবার চীনের শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব পান তিনি। তবে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধ এবং অ্যাপলের বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের কারণে লেন্স টেকনোলজির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোনের বাইরেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার এবং রোবট তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হয় তারা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হংকংয়ের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য এই উদ্যোগ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ঝৌর ব্যবসায়িক প্রভাবের প্রতিফলন দেখা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ২০২৬ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আয়োজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁর আসন ছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মাঝখানে। প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলেও ঝৌ এখন পরিচিত নাম। হুরুনের ২০২৬ সালের তালিকায় চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নিজ উদ্যোগে সম্পদ গড়েছেন, আর ৩৫ শতাংশ উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তালিকা প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানটির মতে, চীনের উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাত নারীদের বড় উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সূত্র: হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
নারী সেজে মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আতিকুরের কারাদণ্ড
স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মোমবাতি থেকে ছাত্রীর পোশাকে আগুন, শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ
ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে আজীবন বিলাসবহুল জাহাজে থাকার পরিকল্পনা, এক মাসেরও কম সময়ে ভেঙে গেল স্বপ্ন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবৈধ মদ তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তৈরি করা তরল পুরোনো মদের বোতলে ভরে বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ভারতের ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এআইয়ের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশের ভাষ্য, এআই থেকে পাওয়া তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামের একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করেন অজয়। ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে বাড়িতে অবৈধভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। পরে পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি তরল ভরে বিক্রি করা হয়। আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, ৬ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে এসব মদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়। মূলত গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুরোনো বোতল এবং আসল মদের সঙ্গে মিশ্রণের কারণে ক্রেতাদের পক্ষে নকল পানীয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবৈধ সরবরাহের সঙ্গে কয়েকটি বৈধ মদের দোকানের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয়কর্মীদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে ইন্দোরের ব্যবসায়ী আমান কাসলিওয়ালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা মদের বোতল ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দেওয়াস জেলার চান্দানা ও বিনজানা গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব মৃত্যুর সঙ্গে বিষাক্ত মদপানের সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসন শুরুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছিল। পরে বিষয়টি তদন্তে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও নকল মদের সঙ্গে মৃত্যুগুলোর সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত দুজনের দেহের নমুনা, উদ্ধার করা মদ এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও দ্য ডেইলি স্টার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের সমালোচনা করে পোস্ট, সাময়িক বরখাস্ত ব্রিটিশ চিকিৎসক
কানাডায় স্কুল বাসে আপত্তিকর পোশাক পরায় ট্রান্সজেন্ডার চালক বরখাস্ত