৫ হাজার বছর আগেই ভারতের উড়ন্ত গাড়ি ছিল, ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে রামায়ণের পুষ্পক রথের তুলনা রণবীরের
আগামী ৫ নভেম্বর দীপাবলি উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা রামায়ণ। ছবিটির মুক্তির আগে প্রচারণার কাজে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন এর কলাকুশলীরা। সম্প্রতি স্টার টকস নামের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রণবীর কাপুর, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, যশ এবং পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি। এই আলাপের সময় প্রাচীন মহাকাব্যকে পর্দায় তুলে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তারা। সেখানেই প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তির সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের একটি দারুণ তুলনা টেনেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুর।
সাক্ষাৎকার চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রামায়ণ যুগের অবিশ্বাস্য সব অস্ত্রের প্রশংসা করেন যা আধুনিক সৃষ্টিকেও হার মানাতে সক্ষম। পাশাপাশি তিনি অস্কারজয়ী স্টুডিও ডাবল নেগেটিভ বা ডিএনইজি এর করা দুর্দান্ত ভিএফএক্স কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি জানান, পৌরাণিক সেই সৃষ্টিগুলোকে পর্দায় নতুন করে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। এর সূত্র ধরেই রণবীর কাপুর বলেন, ইলন মাস্ক সম্প্রতি একটি উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কার করেছেন, তবে আমার মনে হয় ভারত ৫ হাজার বছর আগেই এই কাজ করে দেখিয়েছিল।
রণবীর মূলত টেসলার নতুন উড়ন্ত গাড়ির সঙ্গে রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথের তুলনা করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে টেসলা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রোডস্টারের প্রদর্শন করে। প্রদর্শনীতে বৈদ্যুতিক এই সুপারকারটি বিশাল এক বাঁকানো র্যাম্পে উল্টো হয়ে শূন্যে ভেসে থাকে এবং নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানান গাড়িটির প্রযুক্তি সফলভাবে কাজ করেছে এবং ২০২৮ সাল থেকে এর উৎপাদন শুরু হবে।
অন্যদিকে হিন্দু পুরাণ অনুসারে পুষ্পক রথ হলো একটি জাদুকরী উড়ন্ত রাজপ্রাসাদ। রামায়ণ সিনেমার ট্রেইলারে বিশাল আকারের এই উড়ন্ত যানটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা ভগবান ব্রহ্মার জন্য এই রথটি তৈরি করেছিলেন। পরে ব্রহ্মা এটি সম্পদের দেবতা এবং রাবণের সৎ ভাই কুবেরকে উপহার দেন। কিন্তু রাবণ কুবেরকে পরাজিত করে পুষ্পক রথটি ছিনিয়ে নেন। মহাকাব্যে বলা হয়েছে, এই রথটি মনের গতিতে উড়তে পারত এবং যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী নিজের আকার পরিবর্তন করতে পারত।
প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে দুই পর্বের এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নিতেশ তিওয়ারি। ছবিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী। রাবণের ভূমিকায় কন্নড় তারকা যশ, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবেকে দেখা যাবে। ছবির অন্যতম প্রযোজক যশ জানান, রামায়ণের এই নতুন উপস্থাপনটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নমিত মালহোত্রা ও যশের প্রযোজনায় ছবিটিতে সুরারোপ করেছেন এ আর রহমান এবং হ্যান্স জিমার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreবৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চীনের বিওয়াইডি বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর সংখ্যা এখন ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বিওয়াইডির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু সম্প্রতি এই বিশাল অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা, জেনারেল মোটরস, ফোর্ড এবং টেসলার সম্মিলিত কর্মীর সংখ্যার চেয়েও বিওয়াইডির কর্মীর সংখ্যা এখন বেশি। এই চারটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার। সেই হিসেবে বর্তমানে বিওয়াইডিতে তাদের তুলনায় প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার বেশি কর্মী কাজ করছেন। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিওয়াইডির মোট কর্মী ছিল প্রায় ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬০০ জন। আর মাত্র দশ মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে তা বেড়ে ১০ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিশাল এই কর্মী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার জনই চীনের অভ্যন্তরে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে কর্মরত আছেন প্রায় ৬০ হাজার কর্মী। এর চেয়েও চমকপ্রদ তথ্য হলো প্রতিষ্ঠানটির অন্তত এক লাখ ২০ হাজার কর্মী কেবল গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করেন। তারা মূলত উন্নত মানের ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর, ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে গবেষণার কাজ করছেন। বিওয়াইডির এত বিশাল কর্মী বাহিনীর পেছনে তাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থাই প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের জন্য বাইরের কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল থাকে সেখানে বিওয়াইডি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাটারি, চিপ, মোটর থেকে শুরু করে অন্যান্য সব অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি নিজেদের কারখানাতেই তৈরি করে। শুধু গাড়ি নির্মাণেই নয় তাদের কার্যক্রম ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, শক্তি সঞ্চয় এবং আধুনিক রেল পরিবহন ব্যবস্থা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সবকিছু নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এত বিপুল পরিমাণ জনবলের প্রয়োজন হয়। কর্মী সংখ্যা বাড়লেও গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা মিশ্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীনা এই অটোমোবাইল জায়ান্ট। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে মোট ৩১ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের গাড়ির বিক্রি অভাবনীয় হারে বেড়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তারা ১৩ লাখ ৪০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা আগের বছরের তুলনায় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বর্তমানে তাদের মোট বিক্রির প্রায় ৪৩ শতাংশই আসছে বিদেশের বিভিন্ন বাজার থেকে যা কোম্পানিটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের একটি বড় প্রমাণ। বিশ্বজুড়ে ব্যবসার প্রসার ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর মাত্র ৬ শতাংশ এখন চীনের বাইরে কাজ করছেন। একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিওয়াইডির এই বিশাল কর্মী সংখ্যার মধ্যে তাদের ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য খাতের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অর্থাৎ এই ১০ লাখ কর্মী যে শুধু গাড়ি নির্মাণের সঙ্গেই যুক্ত আছেন বিষয়টি এমন নয়। তাই কর্মী বেশি হওয়ার মানেই যে তাদের গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা অন্যদের চেয়ে জাদুকরীভাবে বেশি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে নিজেদের প্রয়োজনীয় সবকিছু নিজেরাই তৈরির এই নিজস্ব কৌশল বিওয়াইডিকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে। সংবাদ সূত্র: আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল সাময়িকী ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৫ হাজার বছর আগেই ভারতের উড়ন্ত গাড়ি ছিল, ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে রামায়ণের পুষ্পক রথের তুলনা রণবীরের
ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে সমর্থন না পেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছাড়লেন কানাডীয় নারী
কেশম দ্বীপে অক্ষত অবস্থায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটক করল ইরান
খ্রিষ্টান পরিবারে জন্ম নেওয়া এক ব্রিটিশ আইনজীবী ইসলাম গ্রহণের পর নিজের শহর লিভারপুলে মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ব্রিটেনে মুসলিম সমাজের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি উইলিয়াম হেনরি কুইলিয়াম, যিনি ইসলাম গ্রহণের পর আবদুল্লাহ কুইলিয়াম নাম ধারণ করেন। উনিশ শতকের শেষভাগে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লিভারপুলের মসজিদটিকে ব্রিটেনের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রকাশনা ও সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি সে সময়ের ব্রিটিশ সমাজে ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ১৮৫৬ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন কুইলিয়াম। তাঁর পরিবার ছিল ওয়েসলিয়ান মেথডিস্ট খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসারী। পেশায় আইনজীবী কুইলিয়াম ১৮৮৭ সালে মরক্কো সফরের সময় ইসলামের প্রতি আগ্রহী হন। ধর্মটি সম্পর্কে পড়াশোনা ও এর শিক্ষা জানার পর একই বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আবদুল্লাহ নাম ধারণ করেন। পরে লিভারপুলে ফিরে জনসমক্ষে বক্তৃতা, ধর্মীয় আলোচনা ও লেখালেখির মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরিতে কাজ শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিকও ইসলাম গ্রহণ করেন। ১৮৮৯ সালে লিভারপুলের ৮ ব্রুম টেরেসে তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে মাউন্ট ভার্নন স্ট্রিটের একটি ভাড়া করা কক্ষে মুসলিমদের ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হতো। তবে স্থানীয় বিরূপ মনোভাব ও বাড়ির মালিকের আপত্তির কারণে সেখানে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে ব্রুম টেরেসের ভবনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুইলিয়ামের নেতৃত্বে ২০ জন ব্রিটিশ ধর্মান্তরিত মুসলিমের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানই ব্রিটেনের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মসজিদ। মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান ছিল না। এর সঙ্গে গড়ে ওঠে লিভারপুল মুসলিম ইনস্টিটিউট, যেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজসেবার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ছিল বিদ্যালয়, এতিমখানা, পাঠাগার, বক্তৃতা আয়োজনের হল, ছাপাখানা এবং বিজ্ঞানাগার। মুসলিমদের পাশাপাশি অমুসলিমরাও সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। ১৮৯৬ সালে অসহায় ও অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য ‘মদিনা হোম’ নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করা হয়। ইসলাম সম্পর্কে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে কুইলিয়াম প্রকাশনা কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় ‘দ্য ক্রিসেন্ট’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। এতে ব্রিটেনের মুসলিম সমাজ, ইসলামি চিন্তাধারা ও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠীর খবর তুলে ধরা হতো। তাঁর লেখা ‘দ্য ফেইথ অব ইসলাম’ বইটিও সে সময় পাঠকদের মধ্যে পরিচিতি পায়। ব্রিটিশ লাইব্রেরির সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রকাশনা ও লেখালেখি ব্রিটেনের বাইরেও পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল। ইসলামের প্রচার ও মুসলিম সমাজের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ১৮৯৪ সালে কুইলিয়ামকে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধি দেন। তবে ভিক্টোরীয় যুগের ব্রিটিশ সমাজে তাঁর কর্মকাণ্ড সবসময় সমর্থন পায়নি। ঐতিহাসিক ইংল্যান্ডের বিবরণে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিরোধিতার মুখে মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভিন্ন সময় অপমান ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও কুইলিয়াম ১৯০৮ সাল পর্যন্ত লিভারপুলে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যান। পরে তিনি ব্রিটেন ত্যাগ করেন এবং জীবনের শেষ দিকে হ্যারুন মুস্তাফা লিওন নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৩২ সালের ২৩ এপ্রিল লন্ডনে মারা যান আবদুল্লাহ কুইলিয়াম। তাঁর প্রভাব ও প্রচেষ্টায় ব্রিটেনে প্রায় ৬০০ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে এই সংখ্যার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই সংখ্যাটিকে নিশ্চিত হিসাবের পরিবর্তে বহুল প্রচলিত একটি অনুমান হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে লিভারপুলের সেই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কার করে ‘আবদুল্লাহ কুইলিয়াম মসজিদ ও জাতীয় ঐতিহ্য কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ব্রিটেনে ইসলামের প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা এখনো স্মরণ করা হয়। সূত্র: ব্রিটিশ লাইব্রেরি, হিস্টোরিক ইংল্যান্ড এবং আবদুল্লাহ কুইলিয়াম মসজিদ ও জাতীয় ঐতিহ্য কেন্দ্র।
কারখানার শ্রমিক থেকে প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, চীনের শীর্ষ ধনী নারী ঝৌ কুনফেই
নারী সেজে মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আতিকুরের কারাদণ্ড
স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মোমবাতি থেকে ছাত্রীর পোশাকে আগুন, শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ
আজীবন সমুদ্রের বুকে ভাসমান একটি জাহাজে থাকার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়েছিলেন ৫৭ বছর বয়সী জোয়েল গ্রেইফ। পরিকল্পনা ছিল ১০, ২০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় কাটাবেন ভিলা ভি ওডিসি নামের আবাসিক ক্রুজ জাহাজে। কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরু হওয়ার মাত্র ২৬ দিনের মাথায় জাহাজটির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ২৭ অক্টোবর কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে জাহাজ থেকে নেমে যেতে বলা হয় যাত্রীদের। বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে গ্রেইফ বলেন, জাহাজটিতে কাটানো অল্প সময় নিয়েও তিনি হতাশ নন। বরং সেখানে পাওয়া বন্ধু, পরিচিতজন এবং কর্মীদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ। তবে দীর্ঘদিনের জন্য নতুন একটি বাড়ি খুঁজে পাওয়ার যে আশা করেছিলেন, তা আপাতত পূরণ হচ্ছে না। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রথম ভিলা ভি ওডিসি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পড়ে আগ্রহী হন গ্রেইফ। পরে কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা বিষয়ে খোঁজ নেন। ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের জন্য জাহাজটিতে থাকার সুযোগ পান তিনি। গ্রেইফের ভাষ্য, জাহাজে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মনে হয়েছিল, এটাই তাঁর নতুন বাড়ি, এখানকার বাসিন্দারাই হবেন নতুন প্রতিবেশী। এরপর জাহাজের বাসিন্দাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন তিনি। তাঁদের কাছে জানতে চান, জাহাজে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট কি না। ইতিবাচক উত্তর পেয়ে সিদ্ধান্ত আরও পোক্ত হয়। চলতি বছরের আগস্টে ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন। সেপ্টেম্বরে ব্যাংকক হয়ে এশিয়ায় পৌঁছে ১ অক্টোবর ওডিসিতে ওঠেন তিনি। জাহাজে নিজের পরিচয় দিতেন ‘ফ্যান্টাস্টিক জোয়েল’ নামে। সেখানে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে সময় কাটত তাঁর। বাসিন্দাদের জন্য ছিল হাতের কাজ শেখা, নাটক, কারাওকে এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য সেডার ডিনারের মতো অনুষ্ঠান। জাহাজের কর্মীদের প্রতিও তাঁর বিশেষ ভালো লাগা তৈরি হয়। গ্রেইফ বলেন, কর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁদের প্রশংসা প্রাপ্য। তবে জাহাজে ওঠার পরপরই আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে তাঁর। ২০২৫ সালের মে মাসে যে সেবা ও সুযোগ-সুবিধা দেখেছিলেন, অক্টোবরে সেগুলোর মান কমে গেছে বলে মনে হয়। কাপড় ধোয়ার কাজ আগের মতো নিয়মিত হচ্ছিল না। আঙ্কর ওয়াট ভ্রমণে যাওয়ার আগে তাঁকে নিজের কাপড় নিজেকেই ধুতে হয়। ভ্রমণসূচিও বারবার বদলানো হচ্ছিল, কখনো কখনো কয়েক দিন সমুদ্রে অবস্থান করতে হচ্ছিল। এসব বিষয় নিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না বলে জানান। জাহাজের প্রধান নির্বাহী ও বাসিন্দাদের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ‘সার্কেল’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। সেখানেই ভ্রমণসূচি, ভিসা আবেদন এবং জাহাজের অন্যান্য বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো। ২৬ অক্টোবর রোববার বাসিন্দাদের জানানো হয়, মঙ্গলবারের মধ্যে অর্থের ব্যবস্থা না হলে জাহাজের যাত্রা চালানো সম্ভব হবে না। পরদিনও একই ধরনের বার্তা দেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর সকালে আঙ্কর ওয়াট ভ্রমণ শেষে বাসে করে জাহাজে ফিরছিলেন গ্রেইফ। কম্বোডিয়ার একটি বাসস্টেশনে ফোন চার্জ দিতে অপেক্ষা করার সময় সার্কেলে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশনা পান তিনি। সকাল ৭টার দিকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, দুপুর ২টার মধ্যে সবাইকে জাহাজ থেকে নেমে যেতে হবে। নিজের সব সম্পদ ছয়টি ব্যাগে গুছিয়ে এনেছিলেন গ্রেইফ। ফলে এক ঘণ্টার মধ্যেই জিনিসপত্র গোছাতে পেরেছিলেন। তবে যাঁরা দুই বছর ধরে জাহাজে বসবাস করছিলেন এবং ঘরের মতো করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন ছিল। জাহাজ ছাড়ার পর প্রথমে কম্বোডিয়ার শান্ত শহর কামপটে চলে যান গ্রেইফ। সিহানুকভিলের কোলাহল, উঁচু ভবন ও ক্যাসিনোর পরিবেশ তাঁর ভালো লাগছিল না। পরে সেখানে এক মাসের জন্য তুলনামূলক কম ভাড়ায় দুই শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট নেন। তবে জাহাজে ফিরে অন্য বাসিন্দাদের মালপত্র সরানো, থাকার জায়গা খুঁজে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাজে সহায়তা করছেন তিনি। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও বাসিন্দারা একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ওডিসিতে মাত্র ২৬ দিনের জন্য থাকার বিপরীতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছিলেন গ্রেইফ। সেই অর্থ আর ফেরত পাবেন না বলেই মনে করছেন তিনি। তবে অর্থ হারানোর বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবার ও বন্ধু, নতুন জায়গা দেখা, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং অন্যদের পাশে দাঁড়ানো। ভিলা ভি ওডিসির কার্যক্রম আবার চালু হলে তিনি জাহাজে ফিরতে আগ্রহী। আর তা সম্ভব না হলে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে বসবাসের কথা ভাবছেন। ফ্লোরিডা ছাড়ার সময় এটিকেই বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে রেখেছিলেন তিনি। জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস ২৭ অক্টোবর কম্বোডিয়ায় কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি কেবিনের বিপরীতে মাসিক জ্বালানি ব্যয় আগে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার থাকলেও সম্প্রতি তা বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে এই সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পুনর্গঠন ও নতুন অর্থায়নের পথ খোঁজার কথা জানালেও জাহাজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চয়তা নেই। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, ভিলা ভি রেসিডেন্সেস
এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি মদ পান করে ভারতে ১৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, গ্রেপ্তার ১১
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের সমালোচনা করে পোস্ট, সাময়িক বরখাস্ত ব্রিটিশ চিকিৎসক