দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা ফিলিস্তিনি যুবকের সন্ধান মিলল ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রামের ছবিতে
প্রায় ২১ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এক তরুণ ফিলিস্তিনির জীবিত থাকার প্রথম প্রমাণ মিলেছে এক ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করা ছবিতে। ছবিটি শনাক্ত করার পর তার পরিবার নিশ্চিত হয়েছে যে, নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত এক সময় তিনি জীবিত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন এবং তাকে কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রাখা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্ন এখনও অজানা।
নিখোঁজ তরুণের নাম মাহমুদ আতাল্লাহ আল-দ্রিমলি (২২)। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ছবিতে তাকে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই নারী ইসরায়েলি সেনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ছবিটি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর মাহমুদ গাজা সিটিতে ফেরার চেষ্টা করার সময় নিখোঁজ হন। সে সময় উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী নেতজারিম করিডোরের নিয়ন্ত্রণে ছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
ছবিটি মাহমুদের জীবিত থাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এলেও, তার বর্তমান অবস্থান, শারীরিক অবস্থা কিংবা তিনি আটক রয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার পরিবার এবং মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বহু ফিলিস্তিনির নিখোঁজ হওয়া, আটক থাকা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তুলে ধরেছে। মাহমুদ আল-দ্রিমলির ঘটনাও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreপ্রায় ২১ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এক তরুণ ফিলিস্তিনির জীবিত থাকার প্রথম প্রমাণ মিলেছে এক ইসরায়েলি সেনার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করা ছবিতে। ছবিটি শনাক্ত করার পর তার পরিবার নিশ্চিত হয়েছে যে, নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত এক সময় তিনি জীবিত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন এবং তাকে কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রাখা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্ন এখনও অজানা। নিখোঁজ তরুণের নাম মাহমুদ আতাল্লাহ আল-দ্রিমলি (২২)। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ছবিতে তাকে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই নারী ইসরায়েলি সেনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ছবিটি দেখে তাকে শনাক্ত করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর মাহমুদ গাজা সিটিতে ফেরার চেষ্টা করার সময় নিখোঁজ হন। সে সময় উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী নেতজারিম করিডোরের নিয়ন্ত্রণে ছিল ইসরায়েলি বাহিনী। ছবিটি মাহমুদের জীবিত থাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এলেও, তার বর্তমান অবস্থান, শারীরিক অবস্থা কিংবা তিনি আটক রয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার পরিবার এবং মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বহু ফিলিস্তিনির নিখোঁজ হওয়া, আটক থাকা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তুলে ধরেছে। মাহমুদ আল-দ্রিমলির ঘটনাও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করতে ১ লাখ ডলার ফি? ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবে এবার মুখ খুলল ভারত
ইসরায়েলকে নাৎসিদের সঙ্গে তুলনা করা অপরাধ নয়: জার্মান আদালতের রায়
পেরুতে ইউরোপীয় পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত: দুই পাইলটসহ প্রাণ হারালেন ১৩ জন
স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসে হাঁটতে বেরিয়ে হাজারো মৌমাছির ঝাঁকের হামলার শিকার হন এক মা ও তার দুই বছরের ছেলে। শরীরে ১৫০টিরও বেশি হুল ফোটার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দুজনকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার এক বছর পরও তারা মানসিক আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মৌচাক স্থাপনের নিয়ম কঠোর করার দাবিও উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৯ জুন স্কটল্যান্ডের ওয়েস্টার রসের পুলিউয়ে এলাকায় হাঁটছিলেন রোজি কার্কনেস ও তার দুই বছরের ছেলে জেমি। পথ দিয়ে একটি গাড়ি যাওয়ার সময় রোজি রাস্তার পাশে সরে দাঁড়ান। সেখানেই ছিল কয়েকটি মৌচাক, যেখানে মৌপালকেরা কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাথায় একটি মৌমাছি অনুভব করেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে তার হাত ও শরীর মৌমাছিতে ঢেকে যায় এবং ঝাঁকের আক্রমণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতির মধ্যে ছেলেকে নিয়ে কাছের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন রোজি। বাড়ির মালিক তাদের ভেতরে নিয়ে যান। পরে তিনি রোজির মা সুসান কার্কনেসকে জানান, রাস্তার পাশে ছোট্ট জেমিকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মৌমাছিতে ঢেকে থাকতে দেখার দৃশ্য তিনি কোনো দিন ভুলবেন না। সাহায্য করতে গিয়ে ওই ব্যক্তিও মৌমাছির হুলের শিকার হন। বাড়ির ভেতরে গোসলের পানিতে শরীর থেকে মৌমাছি সরানোর চেষ্টা চলাকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জরুরি সেবাকর্মীরা। এক পর্যায়ে শিশুটি গলায় আটকে থাকা মৌমাছির কারণে বমি করতে শুরু করে। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাদের কিডনির জটিলতা, বিষক্রিয়াজনিত পেশির খিঁচুনি, তীব্র ফোলাভাব এবং ত্বকের সংক্রমণের চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও পড়েছে তাদের জীবনে। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে মা ও ছেলে দুজনই পরবর্তীতে আঘাত-পরবর্তী মানসিক চাপজনিত সমস্যায় (পিটিএসডি) আক্রান্ত হন। রোজি আগে থেকেই কিছু অ্যালার্জির কারণে জরুরি ইনজেকশন সঙ্গে রাখতেন। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে মৌমাছির হুল আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। রোজির মা সুসান কার্কনেস এই ঘটনাকে "ভয়ের চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো" বলে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার প্রায় এক বছর পর তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টে একটি আবেদন জমা দেন। সেখানে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মৌচাক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং জনপথ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে মৌচাক রাখার বিধান চালুর দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে সুসান অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় মৌপালকেরা মৌচাকে কাজ করলেও সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না। মৌমাছিগুলো উত্তেজিত হয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করলে তার মেয়ে ও নাতি হামলার মুখে পড়েন। তিনি আরও দাবি করেন, মৌপালক তার মেয়ের চিৎকার শুনলেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মৌপালকের কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি। এদিকে স্কটিশ মৌপালক সমিতি জানিয়েছে, জনপথ বা শিশুদের চলাচলের কাছাকাছি মৌচাক না রাখাই নিরাপদ। পাশাপাশি স্কটিশ সরকার বলেছে, মৌমাছির কারণে জনসাধারণের ক্ষতি বা ঝুঁকি সৃষ্টি হলে বিদ্যমান আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কে টমি রবিনসনকে যুক্তিতে হারালেন অক্সফোর্ডের মুসলিম শিক্ষার্থী
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন
গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে অন্তত একজন অভিভাবক হারানো ১০০ শিশু দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুদ্ধে অনাথ হয়ে পড়া শিশুদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতাটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং যুদ্ধের মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির একটি প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমও রাখা হয়। অংশগ্রহণকারী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, যুদ্ধ তাদের জীবন আমূল বদলে দিয়েছে। অনেক শিশু বাবা, মা অথবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। তবুও দৌড়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যায়নি। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বহুবার সতর্ক করেছে, গাজায় যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার শিশু এতিম হয়েছে বা পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবারও জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতে খান ইউনিসসহ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শিশুদের বড় একটি অংশ শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আয়োজকেরা বলছেন, এমন সামাজিক উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হামাসকে অর্থ ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি
স্পেন সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল: কেন হঠাৎ সিউতার পথে হাজারো মানুষের ছুটে চলা?