বিশ্ব

দিল্লিতে ভারতের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২০, ২০২৬ ১৫:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাইকমিশনার রিয়াজ ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

 

দিনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের খবর মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ পৃথক পোস্টে জানায় জয়শঙ্কর ও রিয়াজ। জয়শঙ্কর পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে হাইকমিশনার রিয়াজ বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন লাভের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানানো হয়েছে।

 

সন্ধ্যায় হাইকমিশনার রিয়াজ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার দাবি, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে ইসরায়েল।    আলাউদিনভ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার।   তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদিনভ বলেন, তার ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখানেই থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে। তার অভিযোগ, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো ন্যাটো জোটকে এতে জড়ানোই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তার মতে, সেই চেষ্টা ইতোমধ্যে অনেকটাই সফল হচ্ছে।    এরপরই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি করেন রুশ এই জেনারেল। আলাউদিনভের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করতে পারে এবং তার পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেখানে পড়তে হয় - এমন মন্তব্যও করেন তিনি।    আলাউদিনভ অবশ্য ইরানকে ঘিরে আগেও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করা উচিত রাশিয়ার। এমনকি রুশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিলে নিজেও ইরানে গিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইউক্রেনকে যেভাবে সহায়তা করছে, তার পাল্টা হিসেবে ইরানকে সমর্থনের যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন এই রুশ কমান্ডার।    রাশিয়া এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মস্কো সংঘাত কমানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৪:১৯
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!

ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!

নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি

নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি, লন্ডনে প্রতিদিন হেনস্থার শিকার তরুণী

কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার, ১৯ আগস্ট ভোররাতে মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। এতে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।    নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক ফায়ার ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছে যায়।    তবে আগুনের চেয়ে ঘন কালো ধোঁয়াই উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ধোঁয়ায় ভবনের সিঁড়ি ও করিডোর ঢেকে যাওয়ায় ওপরের তলায় আটকে পড়া অতিথিদের কাছে পৌঁছাতে ফায়ারফাইটারদের বেগ পেতে হয়। অনেক অতিথি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন।    ভবনটির সরু সিঁড়ি এবং পর্যাপ্ত ইমার্জেন্সি এক্সিট না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই ভবনের মধ্যে একাধিক ছোট আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    উদ্ধারকারীরা ভবন থেকে বহু মানুষকে বের করে আনেন। কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ৮০ জনকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মীকেও আটক করেছে পুলিশ।    প্রাথমিকভাবে মৃতদের অনেকের শরীরে বড় ধরনের দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন না থাকার তথ্য এসেছে। এ কারণে ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।   আগুন কীভাবে লেগেছে, সেটিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তাই শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলেও তা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।    মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও নিউ মার্কেটের আশপাশের এলাকায় বহু বাজেট হোটেল রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, কেনাকাটা ও অন্যান্য কাজে কলকাতায় যাওয়া মানুষের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবস্থান করেন। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের কাছে এলাকাটি পরিচিত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।    ঘটনার পর হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে।    এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলেও ভয়াবহ আগুনে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:১৪
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!

ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!

শাস্তি দিয়ে শাসন করা শিশুরাই উল্টো আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে

শাস্তি দিয়ে শাসন করা শিশুরাই উল্টো আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল

তীব্র আপত্তির মুখে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল

Australia’s Muslim population
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার

অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে।   ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে।   এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।   হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে।   অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে।   এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে।   তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে।   প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা।   অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে।   ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৫:৫০
একই এলাকায় স্কুলে ভর্তি ৯ জোড়া যমজ, শিক্ষকদেরও ‘দুইবার তাকানোর’ দশা

একই এলাকায় স্কুলে ভর্তি ৯ জোড়া যমজ, শিক্ষকদেরও ‘দুইবার তাকানোর’ দশা

৬২০ ড্রোনে মস্কোয় ইউক্রেনের বিশাল হামলা

৬২০ ড্রোনে মস্কোয় ইউক্রেনের বিশাল হামলা, ব্রিটেনকে ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব

‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব

0 Comments