‘ঠিকানা হবে নরকের অতল গহ্বরে’, হিজবুল্লাহ প্রধানকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুহুমকি!
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হিজবুল্লাহর বর্তমান মহাসচিব নাঈম কাসেমকে উদ্দেশ্য করে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে কাটজ বলেন, ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট হামলার জন্য নাঈম কাসেমকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে এবং তার চূড়ান্ত ঠিকানা হবে ‘নরকের অতল গহ্বরে’। মূলত ইহুদিদের পবিত্র ‘পাসওভার’ উৎসবের প্রাক্কালে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক রকেট হামলার প্রেক্ষিতে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেন তিনি।
হিজবুল্লাহ প্রধানকে সরাসরি সম্বোধন করে ইসরায়েল কাটজ বলেন, “সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেমের জন্য আমার একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—ইসরায়েলিরা যখন পাসওভারের সেডার (ভোজ) পালনে ব্যস্ত, তখন তাদের লক্ষ্য করে তীব্র হামলার জন্য তোমাকে এবং তোমার সহযোগীদের চরম মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, নাঈম কাসেমের আয়ু ফুরিয়ে আসছে এবং তাকেও তার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করতে হবে।
কাটজ তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, “তুমি এই মূল্য দেখার জন্য বেশিদিন বেঁচে থাকবে না। কারণ নাসরাল্লাহ, খামেনি, সিনওয়ার এবং ইতিমধ্যে নির্মূল হওয়া অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তুমিও নরকের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হবে।” ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার হুমকির তালিকায় এখন নাঈম কাসেমের নাম স্পষ্টভাবে উঠে এলো।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার রবর্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির একজন সংসদ সদস্য এই দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কার্লোস নিজে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। দাবিটির মূল সূত্র তুরস্কের একে পার্টির গাজিয়ানতেপের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। ব্রাজিল সফরের সময় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবার্তো কার্লোসের ধর্মান্তরের বিষয়টি সামনে আনেন। শাহিন জানান, ব্রাজিলের মুসলিম নেতা শেখ জিহাদ হাম্মাদেহের কাছ থেকে তিনি কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের কথা জেনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, কার্লোসের সঙ্গে হাম্মাদেহের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের একটি সাক্ষাৎ হয়। ওই সাক্ষাতের সময় রবার্তো কার্লোস শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন শাহিন। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলের সাবেক এই তারকাকে অভিনন্দন জানান। শাহিনের বক্তব্যের পর তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফুটবলবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গোলও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রবার্তো কার্লোস নিজে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নিজের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য সামনে আসেনি। এ কারণে আলি শাহিনের বক্তব্যকে একটি দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে। কার্লোস নিজে অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তার ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়। এর মধ্যেই রবার্তো কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরক্কোর বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নারী সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার বিয়ের কিছু ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাদের সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়টি ব্যবহার করে কার্লোসের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রবার্তো কার্লোস বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫টির বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন এই তারকা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি একাধিক লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী ফ্রি কিক, গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কার্লোস। এত বড় একজন ফুটবল তারকার ধর্মান্তরের খবর হওয়ায় দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ধর্মীয় পরিচয় একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত ঘোষণা করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে যথাযথ নয়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছেন তুরস্কের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। কিন্তু কার্লোস নিজে সেই দাবি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি। তার নিজের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত বিষয়টি দাবি হিসেবেই থাকছে।
নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি, লন্ডনে প্রতিদিন হেনস্থার শিকার তরুণী
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!
শিশুকে শাসন করতে শারীরিক শাস্তি কার্যকর, বহু পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ফিলিপাইনের ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজিস্ট ড. লিয়ানে আলামপে। দেশটির সিনেটে শিশু ও কিশোরদের আচরণ নিয়ে এক শুনানিতে তিনি বলেছেন, শিশুদের মারধর বা কঠোর শারীরিক শাস্তি তাদের আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তোলে, এমন দাবির পক্ষে গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই। বরং কঠোর শাসনের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফিলিপাইনের সিনেটের নারী, শিশু, পারিবারিক সম্পর্ক ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক কমিটির শুনানিতে এসব কথা বলেন আলামপে। তিনি মেট্রো ম্যানিলার আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং দীর্ঘদিন ধরে শিশু লালনপালন ও শারীরিক শাস্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। আলামপে আইনপ্রণেতাদের জানান, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক গবেষণায় শারীরিক শাস্তিকে কার্যকর শৃঙ্খলা তৈরির নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করা হয়নি। বরং শিশুদের ওপর ঘন ঘন বা কঠোর শারীরিক শাস্তির সঙ্গে আগ্রাসন, উদ্বেগ এবং পরবর্তী সময়ে সহিংস আচরণের মতো সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটিতে প্রকাশিত আলামপে ও অন্য গবেষকদের আগের গবেষণাতেও ফিলিপিনো পরিবারে শারীরিক শাস্তির ব্যবহার এবং শিশুদের আচরণগত সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিশু ও অভিভাবকদের ওপর পরিচালিত গবেষণায়ও শারীরিক শাস্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে। তবে কিশোর বা তরুণদের সহিংস আচরণের জন্য একটি মাত্র কারণকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও সতর্ক করেছেন আলামপে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি শিশুর পারিবারিক পরিবেশ, বেড়ে ওঠার ধরন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থা এবং আশপাশের সামাজিক পরিস্থিতি মিলেই তার আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। ফলে তীব্র রাগ, হতাশা বা চাপের মুহূর্তে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি বোঝা তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এ কারণে শিশুদের আচরণ সংশোধনে শুধু ভয় বা শাস্তির ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে শেখানো, সীমা নির্ধারণ এবং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের শিশু বিচার ব্যবস্থার নীতিরও মিল রয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসন ও restorative justice-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আইনগত সমস্যায় জড়িয়ে পড়া শিশুদের মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক বিকাশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। ফিলিপাইনের সমাজকল্যাণ বিভাগ এর আগেও বলেছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে restorative justice নিশ্চিত করা জরুরি। এ প্রক্রিয়ায় শিশুকে শুধু অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তার আচরণের কারণ বোঝা, দায়িত্ববোধ তৈরি করা এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশু শাসনে মারধর নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। অনেক সমাজেই দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হয়েছে, শারীরিক শাস্তি না দিলে শিশু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কিন্তু শিশু বিকাশ নিয়ে সাম্প্রতিক দশকের গবেষণা এই ধারণাকে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গবেষকদের মতে, শৃঙ্খলার উদ্দেশ্য যদি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুকে ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখা হয়, তাহলে শারীরিক শাস্তি কখনও কখনও সাময়িকভাবে আচরণ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু একটি শিশু কেন কোনো আচরণ ভুল, কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই শিক্ষা শুধু ভয়ের মাধ্যমে তৈরি হয় না। এই কারণেই শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা।
তীব্র আপত্তির মুখে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার
একই এলাকায় স্কুলে ভর্তি ৯ জোড়া যমজ, শিক্ষকদেরও ‘দুইবার তাকানোর’ দশা
ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ এবার আরও গভীরে পৌঁছেছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। রাতভর মস্কো ও আশপাশের অঞ্চল লক্ষ্য করে ৬২০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা। একই সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যকে ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলা হামলা নিয়ে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানী ও আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে আসা ড্রোনগুলোর মধ্যে অন্তত ১৮০টি ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৬২০ ড্রোন পাঠানোর এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। কয়েকটি ভবন ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। রাশিয়ার রাজধানীর দিকে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠানোর ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধের পরিবর্তিত চিত্র সামনে আনছে। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশই এখন দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন বিশেষভাবে রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং যুদ্ধের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। তবে এবারের ঘটনাপ্রবাহ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন করে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রোন ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলার জন্য ব্যবহার করছে। এসব হামলায় রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প স্থাপনাসহ তেল শোধনাগার এবং বিভিন্ন লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লন্ডনে রুশ দূতাবাস। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনকে এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য শুধু কিয়েভকে সহায়তা করছে না - বরং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে। মস্কোর হুঁশিয়ারি, সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটিকে তার জন্য তত বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তবে রাশিয়ার এসব অভিযোগ ও হুঁশিয়ারির পরও অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ব্রিটেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ মস্কোর সতর্কবার্তার পরও কিয়েভকে সামরিক সহায়তা থেকে সরে আসার কোনো ঘোষণা দেয়নি লন্ডন। ফলে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ এখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে মস্কো ও লন্ডনের পুরোনো উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যখন রাশিয়ার গভীরে হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখন ইউক্রেনের জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর ওপরও আক্রমণ জোরদার করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফটোগাজ জানিয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহে তাদের স্থাপনাগুলোতে ১৩টি রুশ হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, শীতের আগে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহের একটি বড় ইস্পাত কারখানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলা দেখাচ্ছে, যুদ্ধ এখন আর শুধু সম্মুখসারিতে সীমাবদ্ধ নেই - উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার চেষ্টা করছে। আর ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহারের অভিযোগ সেই উত্তেজনাকে আরও বড় আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন শুধু ইউক্রেন রাশিয়ার কতটা গভীরে আঘাত করতে পারছে, সেটি নয় - পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর জবাবে মস্কো কতদূর যেতে প্রস্তুত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ৬২০ ড্রোনের বিশাল হামলার পর তাই নজর এখন মস্কোর পরবর্তী পদক্ষেপে। বিশেষ করে ব্রিটেনকে দেওয়া ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি রাশিয়া সেটিকে বাস্তব কোনো পদক্ষেপে রূপ দেয় - সেটিই এখন লন্ডন-মস্কোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরবর্তী বড় প্রশ্ন।
‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব
মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়েছিলেন, সেই নেপালিকে সৌদির উপহার