সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অপ্রত্যাশিত পতন, জুলাইয়ে কমেছে ২৩ হাজার চাকরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১১:৮
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অপ্রত্যাশিত পতন
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অপ্রত্যাশিত পতন

প্রত্যাশার বিপরীতে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বদলে উল্টো ২৩ হাজার চাকরি কমেছে। অর্থনীতিবিদেরা প্রায় ৮০ হাজার নতুন চাকরি যোগ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও বড় অঙ্কে কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে, যা মার্কিন শ্রমবাজারের গতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BLS) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে চাকরির সংখ্যা কমার পাশাপাশি আগের দুই মাসের হিসাব সংশোধন হওয়ায় শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্র আগের ধারণার তুলনায় দুর্বল হয়ে উঠেছে।

 

মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাব মিলিয়ে আগের প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় ১ লাখ ৩ হাজার চাকরি কম যোগ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জুনের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব বড় ধরনের সংশোধনের মধ্য দিয়ে মাত্র ২০ হাজারে নেমে এসেছে। 

 

এই দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও নিয়োগের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জুলাইয়ে চাকরি কমার সরাসরি কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধ বা মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করার মতো নির্দিষ্ট প্রমাণ এই প্রতিবেদনে নেই।

 

চাকরির এই দুর্বল পরিসংখ্যানের প্রভাব পড়েছে আর্থিক বাজারেও। বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের সিদ্ধান্তের দিকে আরও বেশি নজর রাখছেন। দুর্বল শ্রমবাজারের কারণে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে।

 

জুলাইয়ের তথ্য প্রকাশের পর সোনার দামও বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়ায় শুক্রবার সোনার দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

 

তবে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যাওয়াকে এককভাবে শ্রমবাজারের উন্নতির সংকেত হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদেরা। চাকরির বাজারের প্রকৃত শক্তি বোঝার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ এবং মজুরি বৃদ্ধির মতো একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়।

 

সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান তাই মার্কিন অর্থনীতির সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হবে, নাকি দুর্বল হয়ে পড়া চাকরির বাজার বিবেচনায় ফেডারেল রিজার্ভকে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। সেপ্টেম্বরে ফেডের সিদ্ধান্তে পরবর্তী মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার
নিউইয়র্ক জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে দ্রুত নামাজ চালুর আশাবাদ কর্তৃপক্ষের, ভোগান্তিতে দুঃখ প্রকাশ

নিউইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে (জেএমসি) সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা নামাজের কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত যেসব সমস্যার কারণে মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সিটি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিয়মিত মুসল্লি ও কমিউনিটির সদস্যদের অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে জেএমসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও এক্সিকিউটিভ কমিটি।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক কমিউনিটি আপডেটে জানানো হয়, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় চিহ্নিত হওয়ায় মসজিদে নামাজ আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে এসব সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে।   বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সিটি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করে নিরাপদ পরিবেশে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি আবার উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।   জেএমসি কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে মসজিদের নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। মুসল্লিদের কাছে মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।   এদিকে সম্প্রসারণ প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা, ধৈর্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জেএমসি। কঠিন এই পরিস্থিতিতে মসজিদের জন্য দোয়া এবং মুসল্লিদের ধৈর্য ধরে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তবে মসজিদে নিয়মিত নামাজ কবে থেকে পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে নামাজ চালুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা দ্রুত কমিউনিটিকে জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার কর্তৃপক্ষ।   সংবাদসূত্র: জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি), বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও এক্সিকিউটিভ কমিটির কমিউনিটি আপডেট।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক

যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক

যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স

যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক!

যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন অঙ্গরাজ্যে তিন আসামির  মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন অঙ্গরাজ্যে তিন আসামির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর

দুর্ঘটনায় নিহত তরুণ কো-পাইলট নাথালিয়া
ফ্লোরিডায় জেট দুর্ঘটনায় নিহত তরুণ কো-পাইলট নাথালিয়া, শেষ বেতারবার্তা বারবার শুনছেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জেট দুর্ঘটনায় নিহত ২০ বছর বয়সী কো-পাইলট নাথালিয়া গাদেলিয়া ফিলগেইরাসের শেষ বেতারবার্তা বারবার শুনছেন তাঁর বাবা অ্যালান ফিলগেইরাস। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কোরাল গেবলসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিমানটি কীভাবে বিধ্বস্ত হলো, তার কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না, সেই আশায় তিনি রেকর্ডিংটি শুনেছেন। সেখানে তিনি শুনেছেন, দ্রুত নিচে নামতে থাকা জেটটি থেকে তাঁর মেয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে পরিস্থিতি জানিয়ে গেছেন। নিজেও একজন পাইলট অ্যালান বলেন, ওই সময়ে মেয়ে যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, তা শুনে তিনি গর্ব অনুভব করেছেন।   গত রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্সের কাছে একটি সড়কে বিধ্বস্ত হয় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি। জেটটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরা এয়ারপোর্টে যাচ্ছিল। পথে রাডার ও বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। নিহতদের মধ্যে নাথালিয়া ও ৫৫ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন জেফ গ্রেগরি ছাড়াও ছিলেন সাত যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প ও তাঁদের দুই সন্তান। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা।   উড্ডয়নের শেষ দিকের বেতার রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, নাথালিয়া প্রথমে তীব্র ঝাঁকুনি ও উড়োজাহাজে বরফ জমার কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান। এরপর তিনি ৩৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চান। কন্ট্রোলার অনুমতি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জেটটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। নাথালিয়া জরুরি সংকেত পাঠান এবং বিমানটি কত দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে, তা জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, জেটটি মিনিটে ২০ হাজার ফুট করে নিচে নামছে। তাঁর শেষ বার্তা ছিল, ‘আমাদের হাতে আর সময় নেই।’   ব্রাজিলীয় পরিবারের সন্তান নাথালিয়ার জন্ম ফ্লোরিডায়। তাঁর বয়স যখন ১২, তখন অ্যালান নিজেও বিমান চালানো শিখছিলেন। প্রশিক্ষক সঙ্গে থাকতেন, আর বাবার সেই ফ্লাইটগুলোতে নাথালিয়াও উঠতেন। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট বোকা রাটন কমিউনিটি হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স পান। তখনো তাঁর ড্রাইভার লাইসেন্স হয়নি। স্কুলের এভিয়েশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাম বিচ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাঁর পাইলট লাইসেন্সের খরচ বহন করে। পরে তিনি কমার্শিয়াল পাইলট ও ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টরের লাইসেন্স পান। লিয়ারজেট ৬০-এর কো-পাইলট হিসেবেও তাঁর স্বীকৃতি ছিল। দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টার বেশি।   একসময় মেয়েই হয়ে উঠেছিলেন বাবার প্রশিক্ষক। অ্যালান জানান, রাতে ওড়ার সময় যন্ত্রপাতি বিকল হলে কীভাবে বিমান সামলাতে হবে, নাথালিয়া তাঁকে তা অনুশীলন করাতেন। দুর্ঘটনার চার দিন আগে তাঁরা একসঙ্গে নৌযান প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন এবং দুপুরের খাবার খেয়েছিলেন। সেটিই ছিল মেয়ের সঙ্গে কাটানো তাঁর শেষ দিন। অ্যালান বলেন, তিনি বিমান চালিয়ে যাবেন। আকাশে উঠলেই মেয়ের সঙ্গে সেই যোগ অনুভব করবেন বলে জানান তিনি।   তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে একটি ইঞ্জিনের অংশ উদ্ধার করেছেন। জেটটির নাক ওপরে বা নিচে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত লেজের একটি অংশের টুকরোও মূল ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েক মাইল দূরে পাওয়া গেছে। এনটিএসবির সদস্য টম চ্যাপম্যান জানিয়েছেন, অংশটি মাটিতে আঘাতের আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। সেটি খুলে যাওয়ার পর জেটটি দ্রুত নামতে শুরু করে, নাকি দ্রুত নামার সময়ের চাপে অংশটি ভেঙে যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবহাওয়াও তদন্তের একটি প্রধান বিষয়। শুক্রবার পর্যন্ত তদন্তকারীরা ককপিটের কথোপকথন ধারণ করার যন্ত্রটির খোঁজ চালাচ্ছিলেন।   সংবাদসূত্র — সিএনএন

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১৩:৩০
নিউজার্সিতে মা খু নের ৫ মাস পর সেই বাড়িতে আবারও পুলিশের তল্লাশি

নিউজার্সিতে মা খু নের ৫ মাস পর সেই বাড়িতে আবারও পুলিশের তল্লাশি, আতঙ্কে প্রতিবেশীরা

চার্চের অনুদানও নিরাপদ নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮

চার্চের অনুদানও নিরাপদ নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮

নিউইয়র্ক বাফেলোতে প্রথমবার বাড়ি কিনলে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ

নিউইয়র্ক বাফেলোতে প্রথমবার বাড়ি কিনলে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ

জেফ বেজোসের চুল প্রতিস্থাপনের ছবি ভাইরাল
জেফ বেজোসের চুল প্রতিস্থাপনের ছবি ভাইরাল, অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মাথায় নতুন চুল গজানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে টাক মাথার জন্য পরিচিত এই মার্কিন ধনকুবেরকে ছোট ছোট চুলসহ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দাবি করেছেন, বেজোস সম্প্রতি হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বা চুল প্রতিস্থাপন করিয়েছেন। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ এবং ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান লিড স্টোরিজের অনুসন্ধানে ছবিগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। পুরোনো ছবি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিবর্তন করে নতুন চুলের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জের  প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্স, থ্রেডস ও ব্লুস্কাইসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেজোসের নতুন চেহারার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোতে তাঁর মাথার সামনের অংশে ছোট ছোট চুল দেখা যায়, যা দেখে অনেকের ধারণা হয় তিনি সম্প্রতি চুল প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে হলিউড অভিনেতা জেসন স্ট্যাথামের মাথায় নতুন চুল দেখানো কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। দুই তারকার চেহারায় আকস্মিক পরিবর্তনের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করে।   তবে ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে ভিন্ন তথ্য পান দ্য ভার্জের সাংবাদিকেরা। গুগলের রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করে তাঁরা দেখতে পান, বেজোসের ভাইরাল ছবিটির মূল সংস্করণ ২০২৩ সালে তোলা হয়েছিল। সেই ছবিতে তাঁর মাথায় নতুন চুল ছিল না। পরে ছবিটির মাথার অংশ পরিবর্তন করে চুল যুক্ত করা হয়েছে। জেসন স্ট্যাথামের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁর পরিবর্তিত ছবির মূল সংস্করণটি ২০১১ সালে তোলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।   অন্যদিকে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান লিড স্টোরিজ জানিয়েছে, ২ নভেম্বর এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্ট থেকে বেজোসের চুলযুক্ত ছবির একটি সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ছবিটি পরীক্ষা করতে একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সাইটইঞ্জিন পরীক্ষায় ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ এবং হাইভ মডারেশনের পরীক্ষায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দেখানো হয়। পাশাপাশি সিন্থআইডি পরীক্ষায় ছবিটিতে গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে লিড স্টোরিজ। তবে দ্য ভার্জের পরীক্ষায় কিছু ছবিতে এআই ব্যবহারের নির্দিষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে ভাইরাল ছবিগুলোর সব সংস্করণ একই প্রযুক্তিতে পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।   লিড স্টোরিজের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বেজোসের পুরোনো ছবিটি ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক পোস্টের পেজ সিক্স বিভাগে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তাঁর মাথায় নতুন চুল দেখা যায়নি। এমনকি ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তোলা ছবিতেও বেজোসকে আগের মতোই দেখা গেছে। চুল প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে তাঁর নিজের বা প্রতিনিধিদের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে তাঁর চুল প্রতিস্থাপনের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক ফটো এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব ছবিতে এমন পরিবর্তন আনা এখন অনেক সহজ হয়েছে। ফলে পরিচিত ব্যক্তিদের চেহারা পরিবর্তন করে তৈরি ছবি অনেক সময় বাস্তব মনে হতে পারে। বেজোসের ছবি নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি শুধু দেখে সত্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ছবির মূল উৎস ও প্রকাশের সময় যাচাই করলেই অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব।   সংবাদসূত্র: দ্য ভার্জ, লিড স্টোরিজ, ইনফোবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারের ওষুধের খরচ ৫০ শতাংশ বাড়ছে, বিপাকে লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারের ওষুধের খরচ ৫০ শতাংশ বাড়ছে, বিপাকে লাখো মানুষ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফের উদ্যোগ নিউসমের

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৪৮ মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফের উদ্যোগ নিউসমের

নিউইয়র্কে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ডেন্টিস্টের ১৫ হাজার ডলার হাতিয়ে গ্রেপ্তার নারী

নিউইয়র্কে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ডেন্টিস্টের ১৫ হাজার ডলার হাতিয়ে গ্রেপ্তার নারী

0 Comments