সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

দালালের ফাঁদ এড়িয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ১০ হাজার বাংলাদেশি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:৪৬
অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা ঠেকাতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা ঠেকাতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নয়, বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বছরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা কমাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, পরিবারসহ বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

 

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া জনশক্তির বড় একটি অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। এসব এলাকার কিছু মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।

 

এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে তিন জেলায় যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে এসব কর্মশালায় অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে বৈঠকের পর জানান প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শিকড় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে।

 

তবে ইতালিতে বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী। দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।

 

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখাতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।

 

বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতেও সহযোগিতা করতে চায় ইতালি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একজন সিটি মেয়র এবং কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

 

খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সম্পর্কও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

 

ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বর্তমানে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতালির দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এদিকে বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই কথাই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

 

দুই দেশের এই আলোচনায় শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে বৈধ পথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার পরিবর্তে বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে।

সূত্র: চ্যানেল ২৪


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা ঠেকাতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
দালালের ফাঁদ এড়িয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ১০ হাজার বাংলাদেশি

দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নয়, বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বছরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা কমাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, পরিবারসহ বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।   মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া জনশক্তির বড় একটি অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। এসব এলাকার কিছু মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।   এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে তিন জেলায় যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে এসব কর্মশালায় অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।   প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে বৈঠকের পর জানান প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শিকড় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে।   তবে ইতালিতে বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী। দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখাতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতেও সহযোগিতা করতে চায় ইতালি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একজন সিটি মেয়র এবং কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।   খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সম্পর্কও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।   ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বর্তমানে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতালির দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই কথাই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।   দুই দেশের এই আলোচনায় শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে বৈধ পথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার পরিবর্তে বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে। সূত্র: চ্যানেল ২৪

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:৪৬
বাংলাদেশি দুই ভাই সাবিক বিন সুলতান ও শাফি বিন সুলতান, এআই স্টার্টআপ AgenticHire-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি কলেজ শিক্ষার্থী দুই ভাইয়ের এআই স্টার্টআপ পেল ৩০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ডিং

ভারতের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা নিয়ে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন শেখ সেলিম: শেখ হাসিনা

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএসটিআইয়ের পরীক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ মিশা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

৫০তম বিসিএসের ভাইভা দিতে ঢাকায় আসার পথে সড়কে প্রাণ গেল ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর

অ্যামাজনে চাকরি পেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন
অ্যামাজনে চাকরি পেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, জেনে নিন

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ফারিহা জেরিন রাবিতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় পাড়ি দেন। বিদেশে পড়াশোনার খরচ পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে থাকলেও স্কলারশিপ, ক্যাম্পাসে কাজ এবং একের পর এক ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি শেষ পর্যন্ত টরন্টোতে অ্যামাজনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।    বাংলাদেশের এইচএসসি ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাবিতার শুরুতে লক্ষ্য ছিল বুয়েটে পড়া। করোনার কারণে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কানাডায় পড়াশোনার সুযোগ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ নিয়ে গবেষণা করে শেষ পর্যন্ত কানাডার ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। চার বছরে ৪৪ হাজার ৪০০ কানাডিয়ান ডলারের Seymour Schulich Scholarship তার বিদেশে পড়ার পথটি সহজ করে দেয়।    কানাডায় গিয়ে পড়াশোনার খরচ সামলাতে শুরুতে একটি স্টেডিয়ামে পার্টটাইম কাজ নেন রাবিতা। তবে কাজটি তার পড়াশোনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছিল। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এমন কাজ করবেন যা একই সঙ্গে আয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে।   পরবর্তী চার বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ১৫টি ভিন্ন পদে কাজ করেন। এর মধ্যে ছিল রেসিডেন্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফ্যাকাল্টি অ্যাম্বাসাডর, কো-অপ অ্যাম্বাসাডর ও আইটি সার্ভিসেসের বিভিন্ন দায়িত্ব। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে টানা চার সেমিস্টারে ১৫০টির বেশি শিক্ষার্থীর ল্যাব পরিচালনাও করেন তিনি। এসব কাজ তাকে যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়।    এরপর আসে তিনটি কো-অপের সুযোগ, তিনটি ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে। টরন্টোর Munich Re-তে প্রথম কো-অপে কাজ করার আগে কানাডায় তার কোনো ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা ছিল না। অন্তত ১০০টি কোম্পানিতে আবেদন করে শেষ পর্যন্ত প্রথম করপোরেট চাকরির সুযোগ পান তিনি।   দ্বিতীয় কো-অপে হ্যালিফ্যাক্সের Ubisoft-এ জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেন। ছোটবেলায় গেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া রাবিতার জন্য এটি ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিতে চান না।   তৃতীয় কো-অপে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি Arctic Wolf-এ ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। সেখানে স্বয়ংক্রিয় সিকিউরিটি রিপোর্ট তৈরির একটি সিস্টেম উন্নত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। আগে যেখানে রিপোর্ট তৈরি হতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগত, নতুন মাইক্রোসার্ভিস চালুর পর সময় নেমে আসে প্রায় তিন ঘণ্টায়। অর্থাৎ রিপোর্ট তৈরির সময় ৮৫ শতাংশের বেশি কমে যায়।    স্নাতক হওয়ার আগে থেকেই রাবিতার লক্ষ্য ছিল অ্যামাজনে কাজ করা। ২০২৫ সালের সামার সেমিস্টারে, গ্র্যাজুয়েশনের প্রায় দুই মাস আগে তিনি অ্যামাজনের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেন। নিজের সিভিতে শুধু কী কাজ করেছেন তা নয়, সেই কাজের ফলে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও তুলে ধরেন। অ্যামাজনের Leadership Principles-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কভার লেটারও তৈরি করেন তিনি।   আবেদন বাছাই হওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টার অনলাইন অ্যাসেসমেন্টে দুটি কোডিং প্রশ্ন ও একটি আচরণগত অংশ ছিল। এরপর তিন দফা এক ঘণ্টার ইন্টারভিউ দেন তিনি। প্রথম দুটি ছিল কারিগরি, যেখানে কোডিং, সমস্যা সমাধান, জটিলতা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। শেষ ইন্টারভিউতে অ্যামাজনের Leadership Principles অনুযায়ী তার পূর্ব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব নেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।    আবেদন থেকে চাকরির অফার পেতে রাবিতার প্রায় দুই মাস সময় লাগে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনে কাজ শুরু করেন তিনি। একই বছরের অক্টোবরে তার গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়।   বর্তমানে তার কর্মদিবসে কোডিং, কোড রিভিউ, মিটিং, প্রোডাক্ট ম্যানেজারদের সঙ্গে আলোচনা, সিস্টেম ডিজাইন, টেস্টিং ও ডিবাগিংয়ের মতো কাজ থাকে। কখনো কখনো অন-কল দায়িত্বে ভোর ৪টার সময়ও সমস্যার সমাধানে সাড়া দিতে হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাবিতার টরন্টোর জীবন ও অ্যামাজনে কাজের অভিজ্ঞতার ভিডিও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও তিনি জানান, বাস্তব চাকরিজীবনে চাপ, ডেডলাইন ও বার্নআউটও রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিটির কঠিন দিকের তুলনায় ভালো লাগার দিকই বেশি, তাই তিনি এই পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাবিতার পরামর্শ, চাকরিযোগ্য হওয়ার জন্য শেষ বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু ভালো ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও কিছু তৈরি করা এবং কী তৈরি করেছেন, কোন সমস্যার সমাধান করেছেন ও কী শিখেছেন, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। সূত্র: The business standard

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২:২১
লোডশেডিংয়ের ভিডিও করে চাকরি হারানো সুমনের নতুন পেশা

লোডশেডিংয়ের ভিডিও করে চাকরি হারানো সুমনের নতুন পেশা, ৩ ঘণ্টায় আয় ২ হাজার

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হালিম, তার মোবাইলেই ছিল সেই ঘটনার ভিডিও

ছয় মাস মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ, বাবার মোবাইলে মিলল ভিডিও

অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ, সাভারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যা

অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ, সাভারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যা

চিকিৎসক সংকট বাম হাতে স্যালাইন চলছে, ডান হাতে প্রেসক্রিপশন লিখছেন অসুস্থ ডা.
চিকিৎসক সংকট বাম হাতে স্যালাইন চলছে, ডান হাতে প্রেসক্রিপশন লিখছেন অসুস্থ ডা.

ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ। কিন্তু জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ থাকায় শরীরে স্যালাইন চলা অবস্থাতেই আবার চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে তাকে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতের এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   রাত প্রায় ১২টার দিকে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ ছিল। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষার মধ্যে খবর আসে, দায়িত্বে থাকা ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। একপর্যায়ে হাতে ক্যানুলা লাগানো অবস্থাতেই জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিতে বসেন তিনি।   কালবেলার প্রতিবেদনে ডা. ইরফান মাহমুদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই থেকে তিনবার বমি হওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তখন তার রক্তচাপ ৬০/৯০-এ নেমে যায় বলে জানান তিনি। পরে নার্সরা তাকে স্যালাইন দেন। তবে জরুরি বিভাগে কয়েকজন গুরুতর রোগী আসায় স্যালাইন চলা অবস্থাতেই তাদের চিকিৎসা দিতে হয়।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর চাপ বেশি।   ডা. ইরফান মাহমুদ জানান, হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৭ জন। কনসালট্যান্ট ছাড়া পাঁচজন চিকিৎসক দুই শিফটে জরুরি বিভাগের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।   পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে অন্য একজন চিকিৎসক জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নিলে ডা. ইরফান মাহমুদ বাসায় ফেরেন। তিনি বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।   হাসপাতালে একজন চিকিৎসক নিজে অসুস্থ থাকা অবস্থায় স্যালাইন চলতে চলতেই রোগী দেখার ঘটনায় চিকিৎসক সংকট এবং জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত কর্মচাপের বিষয়টি সামনে এসেছে।   সূত্র: সময় নিউজ ডট টিভি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ০:২১
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার

স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার

আব্দুল মান্নান—ভাইরাল ভিডিওতে তাঁর অসংলগ্ন আচরণ নিয়ে চলছে আলোচনা

‘স্ত্রী মেরেছেন তাই মদ পান’, ভিডিও ভাইরালের পর নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এসআই প্রত্যাহার

রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

0 Comments