সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৭:৩৫
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত

এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান।

 

ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা।

 

ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান।

 

ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান।

 

এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে।

 

পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন।

 

এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়।

 

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন।

 

রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।

 

ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

 

তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

 

সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
রান যুদ্ধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পেল জাতিসংঘ

ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে ফেব্রুয়ারিতে চালানো সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন। মিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   একই প্রতিবেদনে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের মিশন বলেছে, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কঠোর বিধিনিষেধের মতো ঘটনা রয়েছে।   জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে তেহরানের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, সেখানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল বলে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি তারা পেয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।   জাতিসংঘের মিশনের মতে, বিদ্যালয়টি স্পষ্টভাবে একটি বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। তদন্তকারীরা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যে হামলার সময় ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডারের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল। কিন্তু হামলার আগে সেই তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ বা যাচাই করা হয়নি। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মনে করেন, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদ্যালয়টি সামরিক স্থাপনা কি না তা নিশ্চিত না করে হামলা চালানো এবং বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত লাগার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অভিযান পরিচালনা করা সাধারণ অবহেলার চেয়ে গুরুতর বিষয়।   জাতিসংঘের মিশনের মতে, এর ফলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং হামলাটি নির্বিচার আক্রমণের বৈশিষ্ট্য বহন করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   মিনাবের ওই হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো চূড়ান্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, মেয়েদের স্কুলটি ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে কেউ হামলা চালায়নি। অন্যদিকে রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্তে মিনাবের হামলায় মার্কিন বাহিনীর জড়িত থাকার সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। পেন্টাগন পরে তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেনি।   মিনাবের হামলার পাশাপাশি লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলাও তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা এই হামলাকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   তবে লামের্দের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মার্চে জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দিনে মার্কিন বাহিনী লামের্দ শহরে কোনো হামলা চালায়নি। জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনের পরও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।   জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মিশনের তদন্ত অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালায়। এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের তথ্য পাওয়া গেছে। মিশন এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে।   বিক্ষোভ দমনে নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানি সরকারের সরকারি হিসাবে ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, তারা এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি এবং প্রকৃত নিহত ও আহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার ইরানি কর্তৃপক্ষের দমননীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সময়ের দমন-পীড়নকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির সবচেয়ে বড় দমন অভিযানের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং বিক্ষোভের জন্য বিদেশি শক্তি ও নির্বাসিত সরকারবিরোধীদের দায়ী করে আসছে।   জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধের সময় বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবেদনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন পর্যালোচনা করায় সংঘাতের দুই দিকের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিও সামনে এসেছে।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:২১
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত

কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে একই ধরনের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। জুনে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বেড়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত হয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।    তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক শান্তি ঘোষণা হয়নি। বরং একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো চুক্তি হলে তার শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:১৬
ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ

ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স দিলেন স্বামী

গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী
মেয়ে হয়ে একা একা ঘোরা! সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

আফগানিস্তানের বামিয়ানে একা ভ্রমণ করায় গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েছেন ভারতের কেরালার ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমা আইপি, যিনি ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত। ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চেয়ে বার্তা দেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে তিনি জানান, তাকে কোনো পুলিশ স্টেশন বা কারাগারে নেওয়া হয়নি এবং তিনি নিরাপদে আছেন।    অরুণিমা কেরালার পালাক্কাড জেলার অট্টাপালাম এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি একা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন। আফগানিস্তানে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। চলতি সফরে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাই ঘুরছিলেন।    বামিয়ানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অরুণিমা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে তিনি বামিয়ানে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেখতে চান। এরপর তাকে বলা হয়, একজন পুরুষ সঙ্গী বা গাইড ছাড়া একা ভ্রমণ করা নিয়ে স্থানীয় নিয়মের সঙ্গে তার অবস্থান সাংঘর্ষিক।    এর আগে জালালাবাদে ভ্রমণের অনুমতি নিতে গিয়েও একই সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অরুণিমা জানিয়েছেন। তার দাবি, একা ভ্রমণ করায় তাকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি। বামিয়ানে তাকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াত করাও নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।    ঘটনার এক পর্যায়ে অরুণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চান। তার পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘মুজাহিদিন’ তাকে আটক করেছে এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল চিঠি নেই। ওই পোস্টের সত্যতা সে সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে অরুণিমা নিজেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তাকে থানায় বা কারাগারে নেওয়া হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।    অরুণিমার বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তার আগে বামিয়ানে পৌঁছাতে সহায়তা করা এক স্থানীয় ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করেন। তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কথা বলার পর অরুণিমাকে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন।    ঘটনার পর আফগানিস্তানে নারীদের চলাচল ও ভ্রমণ নিয়ে দেশটির কঠোর বিধিনিষেধ আবারও আলোচনায় এসেছে। অরুণিমার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, নারী একা ভ্রমণ করতে পারবেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী বা গাইড এবং অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব বিধিনিষেধের নির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং তার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে আফগান সরকারের কোনো স্বাধীন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।    অরুণিমা পরে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন এবং আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে উজবেকিস্তানের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রথমে ‘গ্রেপ্তার’ বললেও পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে মূলত আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্রেপ্তারের হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২:১৩
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

ধ্বংসস্তূপে ২ দিন না খেয়ে থাকা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা

৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা, ভাইরাল দুই ছবিতে যুদ্ধের নির্মমতা

0 Comments