বাংলাদেশি চলচ্চিত্র এবার নতুন এক মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত দম — আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ চলচ্চিত্রটি নিউইয়র্কে মুক্তি পাচ্ছে, যা প্রবাসে বাংলা সিনেমার বিস্তারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।
পরিচালক রেদওয়ান রনি নির্মিত এই ছবিটি আগামী ১০ এপ্রিল থেকে নিউইয়র্ক-এর কুইন্সে অবস্থিত কিউ গার্ডেন সিনেমাস-এ প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন বিকেল ২টা, সন্ধ্যা ৫টা এবং রাত ৮টায় তিনটি করে শো চলবে, যা ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটির পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে বায়োস্কোপ ফিল্মস এলএলসি। এটি তাদের ৫৩তম পরিবেশনা, যা প্রবাসে বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার প্রতিফলন।
এক সময় প্রবাসে বাংলা সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল সীমিত, কমিউনিটি হলের ছোট পর্দায় ভিডিও ক্যাসেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল সেই অভিজ্ঞতা। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নামকরা সিনেমা হলে বড় পর্দায় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, টেক্সাস ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন শহরে প্রবাসীরা এখন সহজেই উপভোগ করতে পারছেন মাতৃভাষার সিনেমা।
এই পরিবর্তনের পেছনে বায়োস্কোপ ফিল্মসের মতো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের উদ্যোগে বাংলা সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই নয়, প্রবাসে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
দেশে ইতোমধ্যেই আলোচনায় থাকা ‘দম’ চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের জন্য এটি হতে পারে ভিন্নধর্মী এক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।
প্রদর্শনী উপলক্ষে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। দর্শকদের পরিবারসহ হলে এসে ছবি উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
চলচ্চিত্র দুনিয়ায় সাড়া জাগানো নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন মহাকাব্যিক সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ ঘিরে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা তুঙ্গে। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার জন্য যখন টিকিট পাওয়ার হাহাকার চলছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) ফাঁস হয়ে গেল সিনেমাটির একটি উচ্চমানের পাইরেটেড বা অবৈধ কপি। প্রকাশের মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে এটি ২১ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। পরবর্তীতে কপিরাইট লঙ্ঘনের দায়ে এক্স কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি সরিয়ে নেয় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে। বিনোদনবিষয়ক বিশ্বখ্যাত মাধ্যম ভ্যারাইটি ও দ্য হলিউড রিপোর্টার এ খবর নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পরপরই এই বুটলেগ বা পাইরেটেড সংস্করণটি নেটিজেনদের নজরে আসে। এক ব্যবহারকারী সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, "কেউ একজন এক্স-এ পুরো 'দ্য ওডিসি' সিনেমাটি আপলোড করে দিয়েছে, বিশ্বাস করা যায়?" তার এই পোস্টটি নিজেই অন্তত ৩০ লাখ ভিউ পায়, যা মূলত ফাঁসের খবরটিকে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন রবিবার এক্স-এ অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের আরেকটি কপি আপলোড করা হয়, যা সরিয়ে নেওয়ার আগে প্রায় ৫০ হাজার ভিউ পায়। এমনকি সোমবার অনেক ব্যবহারকারী ফুল মুভি দাবি করে কিছু লিংক শেয়ার করেন, কিন্তু সেগুলো ছিল ইন্টারনেটভিত্তিক ট্রোল বা 'রিকরোলিং' ট্রিক—যেখানে ক্লিক করলে চলচ্চিত্র না এসে ১৯৮৭ সালের বিখ্যাত গান 'নেভার গনা গিভ ইউ আপ'-এর ভিডিও প্লে হতে থাকে। ছবিটির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল পিকচার্সের এক মুখপাত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই তারা দ্রুত টেকডাউন প্রোটোকল বা ভিডিও অপসারণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, "আমরা মেধাস্বত্ব ও কপিরাইট লঙ্ঘন গুরুত্বের সাথে দেখি এবং আমাদের কনটেন্ট সুরক্ষায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।" অবশ্য এই অনলাইন পাইরেসির ঘটনা সত্ত্বেও সিনেমাটির ব্যবসায়িক সাফল্যে কোনো ভাটা পড়েনি। বক্স অফিসে চালকের আসনে রয়েছে প্রায় তিন ঘণ্টার এই সিনেমাটি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ১২ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার আয়ের পর দ্বিতীয় সপ্তাহেও বিশ্বজুড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যবসা করেছে ছবিটি। পূর্ণাঙ্গ বয়স্ক বা 'আর' রেটিং পাওয়া সিনেমার জন্য এই ধরনের আয় অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড। সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে এই অভূতপূর্ব উন্মাদনার প্রধান কারণ হলো নোলানের নির্মাণশৈলী। ইতিহাসজুড়ে এই প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরোপুরি ভারী ও জটিল 'আইম্যাক্স ৭০ মিমি' ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। নোলানের এই কারিগরি জাদু বড় পর্দায় উপভোগ করতে সিনেমা প্রেমীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে সমস্যা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে মাত্র ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে ৭০ মিমি আইম্যাক্স প্রজেক্টরে চলচ্চিত্র দেখানোর সুবিধা রয়েছে। চাহিদা এতটাই তুঙ্গে যে নিউ ইয়র্ক শহরের একমাত্র ৭০ মিমি আইম্যাক্স হল 'এএমসি লিঙ্কন স্কয়ার ১৩'-এর আগামী আগস্ট পর্যন্ত সব শোর টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি অনলাইন কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ইবে-তে (eBay) টিকিট কালোবাজারি বা চড়া দামে বিক্রির মতো ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে, সিনেমাটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্কও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক ক্রিস্টোফার নোলানের এই সিনেমার কাস্টিং বা অভিনয়শিল্পী নির্বাচ-নের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মাস্কের দাবি, অস্কার পুরস্কার জেতার সুবিধা পেতে নোলান সিনেমাটিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বৈচিত্র্যময় কাস্টিং (DEI policy) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিশেষ করে হেলেন অব ট্রয় চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিতা নিওঙ্গো এবং গ্রীক যোদ্ধার চরিত্রে রূপান্তরিত লিঙ্গের অভিনেতা এলিয়ট পেজকে নেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। মাস্ক আরও ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলতি বছরের শেষের দিকে তার নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্ম 'গ্রোক ইমেজ'-এর মাধ্যমে 'দ্য ওডিসি'-র একটি ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। সব বিতর্ক ও পাইরেসির বাধা পেরিয়ে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ প্রেক্ষাগৃহে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে, আর সাধারণ দর্শকরা এখনও টিকিটের আশায় লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন।
হলিউডের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্তকে জীবনের অন্যতম সেরা পরিবর্তন বলে মনে করছেন ‘ল্যান্ডম্যান’ তারকা আলি লার্টার। তার ভাষায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলনায় আইডাহোতে জীবন অনেক বেশি সহজ, শান্ত এবং পরিবারকেন্দ্রিক। সম্প্রতি নিউপোর্ট বিচ টিভি ফেস্টিভ্যালে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ২০২০ সালে পরিবারের সঙ্গে আইডাহোর সান ভ্যালিতে চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের গ্রীষ্মকালীন জীবনধারা পুরোপুরি বদলে গেছে। আলি লার্টার বলেন, এখন সন্তানদের নিয়ে আগের মতো দীর্ঘ পাহাড়ি পথে হাঁটতে যাওয়া সম্ভব না হলেও তারা একসঙ্গে সাইকেল চালান, নদীর ঠান্ডা পানিতে সময় কাটান এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকেন। তিনি বলেন, "আমরা বাড়িতে বারবিকিউ করি, আমাদের কুকুরগুলোর সঙ্গে খেলি। আমার মেয়ে ভলিবল খেলতে পছন্দ করে। মাঝে মাঝে আমরা স্থানীয় দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে যাই।" তার ভাষায়, "এখানে জীবন অনেক সহজ। গ্রীষ্মে রাত ১০টা পর্যন্ত সূর্যের আলো থাকে। তাই সন্তানদের সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাই।" আলি লার্টার ও তার স্বামী অভিনেতা হেইস ম্যাকআর্থার দুই সন্তানের বাবা-মা। তাদের ছেলে টেডির বয়স ১৫ বছর এবং মেয়ে ভিভিয়েনের বয়স ১১ বছর। অভিনেত্রী জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে মাত্র দুই মাসের জন্য আইডাহোতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। ধারণা ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল দ্রুত খুলে যাবে। কিন্তু তা না হওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা অনলাইনে চলতে থাকে। অন্যদিকে আইডাহোর স্কুল খুলে যাওয়ায় তাদের ছোট মেয়েকে সেখানে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। লার্টারের ভাষায়, ওই সময়েই তারা স্থানীয় অনেক পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন। সন্তানদের নিয়ে স্কি করা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং ছোট শহরের পরিবেশ তাদের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। পরে গ্রীষ্মের ছুটিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে গিয়ে তারা উপলব্ধি করেন, হলিউডে একজন অভিনেতার জীবন শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত অডিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্টি ও দাতব্য আয়োজনে উপস্থিত থাকারও চাপ থাকে। তিনি বলেন, "আমরা সেই জীবন আর চাইনি। আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, আইডাহোতেই থেকে দেখব।" তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতি ভালোবাসার কথা অস্বীকার করেননি আলি লার্টার। তিনি বলেন, শহরটি সবসময়ই তার হৃদয়ের একটি অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু বর্তমান জীবনধারায় তিনি পরিবারের জন্য বেশি সময় দিতে পারছেন, যা তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ল্যান্ডম্যান’-এ অ্যাঞ্জেলা চরিত্রে অভিনয় করছেন আলি লার্টার। সিরিজটিতে তিনি অভিনেতা বিলি বব থরন্টনের চরিত্রের সাবেক স্ত্রী হিসেবে অভিনয় করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি মজার ছলে বলেন, বাস্তব জীবনেও মাঝে মাঝে অ্যাঞ্জেলা চরিত্রের সাহসী ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে ইচ্ছা হয়।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি এবার হাজির হয়েছেন মার্ভেল দুনিয়ার জনপ্রিয় সুপারহিরো Spider-Man–এর সঙ্গে একই ফ্রেমে। সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রচারণামূলক ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ৪০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, পিটার পার্কার একটি কফিশপে বসে নিজের ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে ফোনে কথা বলছেন। ঠিক সেই সময় একটি বিশেষ ট্র্যাকার হাতে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন মেসি। মনে হয় যেন স্পাইডারম্যানকে খুঁজতেই তাঁর এই আগমন। কিছুক্ষণ পরই পিটার পার্কার স্পাইডারম্যানের পোশাকে ফিরে আসেন। ভিডিওর শেষ দৃশ্যে নিউইয়র্কের আকাশে স্পাইডারম্যানের জালে ভর করে দুলতে দেখা যায় মেসিকে—যা ভক্তদের জন্য বড় চমক হয়ে এসেছে। হলিউডভিত্তিক কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, এই ভিডিওতে অল্প সময়ের উপস্থিতির জন্য মেসি প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকার সমান। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সনি পিকচার্স বা মেসির পক্ষ। আগামী ৩০ জুলাই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মার্ভেলের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভিডিওটি মূলত সেই সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওতে মেসির হাতে দেখা যাওয়া ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ নিয়েও ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কমিকসপ্রেমীদের কাছে এটি পরিচিত একটি ডিভাইস। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত The Amazing Spider-Man–এ পিটার পার্কার নিজেই এই ট্র্যাকার তৈরি করেছিলেন, যা প্রথম ব্যবহার করা হয় ভিলেন ডক্টর অক্টোপাসকে শনাক্ত করতে। এদিকে ট্র্যাকারের স্ক্রিনে দেখা একাধিক লাল বিন্দু ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এটি মার্ভেলের মাল্টিভার্স ধারণার ইঙ্গিত হতে পারে এবং নতুন সিনেমায় একাধিক স্পাইডারম্যানের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। জানা গেছে, নতুন সিনেমার গল্প শুরু হবে Spider-Man: No Way Home–এর পরবর্তী ঘটনা থেকে, যেখানে পৃথিবীর সবাই ভুলে যায় যে পিটার পার্কারই স্পাইডারম্যান। নতুন এই অধ্যায়ে এক রহস্যময় হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার পাশে থাকতে পারে The Punisher ও Hulk। সব মিলিয়ে, ফুটবল ও সুপারহিরো—দুই জগতের এই অপ্রত্যাশিত মেলবন্ধন ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। সিনেমা মুক্তির আগে এমন প্রচারণা যে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই যায়।