সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২১:৪৫
নতুন গবেষণা পর্যালোচনায় দীর্ঘায়ু ও প্রোটিন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নতুন গবেষণা পর্যালোচনায় দীর্ঘায়ু ও প্রোটিন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালোরি কমিয়ে কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করেও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা। গবেষকদের দাবি, বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমানো একই ধরনের বিপাকীয় সুবিধা দিতে পারে, যা আগে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হতো।

 

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫০টিরও বেশি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Cell Press Blue-এ। এতে দেখা গেছে, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কমানো হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, কোষের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুষ্টি-সংকেত নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কোষের ক্ষতি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহও কমতে পারে।

 

গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর-২১ (FGF21) নামের একটি বিপাকীয় হরমোন। খাদ্যে প্রোটিন কমে গেলে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, FGF21 শক্তি ব্যয় বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

পর্যালোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রোটিনের তিনটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড মেথিওনিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাদের শরীরে এসব অ্যামিনো অ্যাসিডের অতিরিক্ত উপস্থিতি কোষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের গবেষক ডাডলি ল্যামিং বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করা মানুষের জন্য পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিনের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ মানুষ যেহেতু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন করেন, তাই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে গবেষকেরা এও স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা নতুন কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নয়; বরং পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর একটি পর্যালোচনা। তাই এটি মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফলাফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মানবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব বিপাকীয় পরিবর্তন সত্যিই মানুষের আয়ু বাড়ায় কি না।

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য একই মাত্রার প্রোটিন উপযুক্ত নয়। তাই এই ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রোটিনের ঘাটতিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরচর্চার সময় খাদ্য থেকে পাওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় রোধেও পর্যাপ্ত প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে।

 

গবেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক খাদ্য নির্দেশিকায় সবার জন্য এক ধরনের প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক কার্যক্রম এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি? চিকিৎসকের সতর্কবার্তা
এয়ার ফ্রায়ার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি! চিকিৎসকের সতর্কবার্তায় নতুন আলোচনা

জনপ্রিয় রান্নার যন্ত্র এয়ার ফ্রায়ার নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চিকিৎসক ডা. পুনম দেশাই। দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এই চিকিৎসক দাবি করেছেন, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই তার এয়ার ফ্রায়ার ফেলে দিয়েছেন।   ডা. দেশাইয়ের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করা হলেও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় খাবারে অ্যাক্রিলামাইড নামের রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আলুর মতো শর্করা বা স্টার্চসমৃদ্ধ খাবার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে এর পরিমাণ বাড়তে পারে।   আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA) জানিয়েছে, ভাজা, বেক করা বা রোস্ট করার মতো উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। প্রাণীর ওপর গবেষণায় এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে; তবে মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের মাধ্যমে পাওয়া অ্যাক্রিলামাইডের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনো সীমিত ও অসঙ্গত।   ডা. দেশাই আরও দাবি করেছেন, কিছু এয়ার ফ্রায়ারে থাকা নন-স্টিক আবরণে PFAS-জাতীয় রাসায়নিক থাকতে পারে, যা উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব এয়ার ফ্রায়ার একই ধরনের আবরণ দিয়ে তৈরি নয়।   কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অনেক নন-স্টিক রান্নার সামগ্রীর আবরণে PFAS ব্যবহার করা হয় এবং অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রায় এসব সামগ্রী ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।   তবে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলেই ক্যানসার হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) বলছে, খাবারে থাকা অ্যাক্রিলামাইড মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা বাড়ায়, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি অবশ্য দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত তাপে খাবার রান্না না করার এবং অতিরিক্ত বাদামি বা পুড়ে যাওয়া খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।   ডা. দেশাই বলেছেন, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতেই হলে তিনি স্টেইনলেস স্টিলের মডেল বেছে নেবেন এবং সেটিও খুব বেশি ব্যবহার করবেন না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৫:৪৮
গবেষণাগারে ক্যানসার কোষ, ডিএনএ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ইমেজ বিশ্লেষণ করছেন গবেষকরা

টিউমার হওয়ার আগেই স্তনের ক্যানসার ঠেকানোর সম্ভাব্য উপায় খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

সেফেপাইম অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে নতুন গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে

জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বড় গবেষণা, মৃ ত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রচণ্ড গরমে কাজ করা তরুণ নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে অজ্ঞাত কারণে কিডনি বিকলের ঘটনা নজরে চিকিৎসকদের

২০-এর কোঠায় কিডনি বিকল, টেক্সাসে চিকিৎসকদের নজরে রহস্যজনক রোগ

পেট ফাঁপাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করার পর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। ছবি: সংগৃহীত
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার

পেট ফাঁপাকে প্রথমে সাধারণ হজমের সমস্যা ভেবেছিলেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। কিন্তু প্রায় দুই মাসেও অস্বস্তি না কমায় চিকিৎসকের কাছে গেলে নার্স প্র্যাকটিশনার কোলনোস্কপির বদলে সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে পিংয়ের স্টেজ ৪ ওভারিয়ান ক্যানসার। ততক্ষণে রোগটি তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।   পিংয়ের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি দুটি পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি ছেলের ওপেন-হার্ট অস্ত্রোপচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার আগে থেকেই মানসিক চাপের সময় হজম ও অন্ত্রের নানা সমস্যা হতো। তাই পেট ফুলে যাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি শুরুতে সেভাবেই দেখেছিলেন। ছেলের অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পরও যখন সমস্যা থেকে যায়, তখন তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।   চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় তার পেট এতটাই ফুলে ছিল যে নাভির আশপাশে স্পর্শ করলেও অস্বস্তি লাগত। পিং ধারণা করেছিলেন, তাকে সম্ভবত কোলনোস্কপি করতে বলা হবে। কিন্তু নার্স প্র্যাকটিশনারের সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত তাকে অবাক করে দেয়। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, তার ওভারিয়ান ক্যানসার অনেকটা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।   ক্যানসার বিশেষজ্ঞ প্রিমাল ঠাকারের কাছে চিকিৎসা শুরু করার পর পিং জানতে পারেন, ওভারিয়ান ক্যানসার অনেক সময় শুরুতেই শনাক্ত করা কঠিন। রোগটির এমন কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং পরীক্ষা নেই, যা নিয়মিতভাবে সবার ক্ষেত্রে এটি শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এর প্রাথমিক উপসর্গগুলোও অনেক সময় মেনোপজ বা তুলনামূলক কম গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট ফাঁপা, অল্প খাবারেই দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি এবং মলত্যাগ বা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন ওভারিয়ান ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। পেটের ভেতর তরল জমলেও পেট ফুলে যেতে পারে। পিংয়ের ক্ষেত্রে রোগটি অনেকটা অগ্রসর হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করা হয়।   চিকিৎসার সময় পিংকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সামলাতে হয়েছে। চুল পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বমিভাব ও ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর কেমোথেরাপি নিতে হতো এবং প্রতিটি চিকিৎসা পর্বের পর প্রায় এক সপ্তাহ স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে হতো। তবে প্রতিবার চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগের উন্নতির খবর তাকে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিংয়ের অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে ক্যানসারের উপস্থিতি খোঁজা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর প্রায় ছয় সপ্তাহ তিনি সুস্থ হওয়ার জন্য সময় নেন। এরপর শরীরে অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার লক্ষ্যে আবার কেমোথেরাপি শুরু করেন।   এরপর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তাকে কয়েক দফা ইমিউনোথেরাপিও দেওয়া হয়। চলতি বছরের বসন্তে তার শেষ ইনফিউশন সম্পন্ন হয়। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আর নেই, এই খবরকে পিং অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তিনি প্রতিদিন একটি কেমোথেরাপির ওষুধ সেবন করছেন।   পিংয়ের চিকিৎসার পুরো ঘটনাপ্রবাহে যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, সেটি হলো তার সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া নার্স প্র্যাকটিশনারের ভূমিকা। কয়েক মাস চিকিৎসা চলার পর একদিন পিং তার স্বামীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার ফোন ধরেন। ফোনের অপর প্রান্তের কণ্ঠটি তার পরিচিত মনে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, এই ব্যক্তিই তার সিটি স্ক্যানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।   ওই নার্স প্র্যাকটিশনার পিংকে জানান, তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ওভারিয়ান ক্যানসারে মারা গিয়েছিলেন, কারণ রোগটি সময়মতো শনাক্ত হয়নি। পিংয়ের উপসর্গগুলো দেখে তাই তিনি ঝুঁকি না নিয়ে সিটি স্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘটনাটি জানতে পেরে পিং তাকে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ওই সিদ্ধান্তই তার জীবন বাঁচিয়েছে।   বর্তমানে পিং নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওভারিয়ান ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার ছেলে এবং তিনি আবার নিজেদের দুটি রেস্তোরাঁর কাজে ফিরেছেন। সেখানে ক্যানসারের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে তার সঙ্গে কথা বলেন। পিং তাদের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, স্টেজ ৪ ক্যানসারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আশার জায়গা থাকে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৩:১৬
স্থূলতা, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে আঘাত ও বিষণ্নতাকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে নতুন গবেষণা

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে! গবেষণায় নতুন তথ্য

নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত

নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার

মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস

মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস

২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত
হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু

২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর পরিবারে ছিল আনন্দের মুহূর্ত। গর্ভাবস্থাও স্বাভাবিক ছিল এবং জন্মের পর জেসিকে দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। কিন্তু জন্মের মাত্র এক সপ্তাহ পর একটি ফোনকল বদলে দেয় পরিবারের সেই আনন্দময় সময়। নবজাতকের নিয়মিত পরীক্ষার ফল জানিয়ে লুপিতাকে বলা হয়, তাঁর ছেলে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি বা এসএমএ নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত।   জন্মের পর জেসির গোড়ালিতে যে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটিকে অন্য অনেক অভিভাবকের মতো লুপিতাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮ শতাংশের বেশি নবজাতকের জন্মের পরপরই এই পরীক্ষা করা হয়। প্রতি বছর নবজাতকের এই পরীক্ষার মাধ্যমে ৭ হাজারের বেশি শিশুর গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য বিভিন্ন রোগ শনাক্ত হয়। জেসির ক্ষেত্রেও রোগটি উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষায় ধরা পড়ে।   ফোনে জেসির রোগের কথা জানার পর লুপিতা ও তাঁর পরিবার হতবাক হয়ে যান। তিনি জানান, ফোনকল পাওয়ার সময় এসএমএ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। পরে ইন্টারনেটে রোগটি সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে তাঁর ভয় আরও বেড়ে যায়। তিনি অনেক কেঁদেছেন এবং বুঝতে পারছিলেন না, কীভাবে তাঁর দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ শিশুর এমন একটি রোগ হতে পারে। এমনকি নিজের কোনো ভুলের কারণে সন্তান এই রোগ নিয়ে জন্মেছে কি না, সেই প্রশ্নও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল।   এসএমএ এমন একটি বিরল জেনেটিক রোগ, যা পেশি নড়াচড়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা স্নায়ুকোষকে আক্রান্ত করে। এর ফলে ধীরে ধীরে পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে এবং হাঁটা, গিলতে পারা ও শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও প্রভাবিত হতে পারে। জেসির ক্ষেত্রে প্রথম ধরনের এসএমএ শনাক্ত হয়, যা রোগটির সবচেয়ে গুরুতর সাধারণ ধরনগুলোর একটি। সাধারণত জীবনের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে এই ধরনের এসএমএর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   রোগ শনাক্ত হওয়ার পর জেসিকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। মাত্র ১৬ দিন বয়সে জেসি প্রতিদিন খাওয়ার একটি ওষুধ নিতে শুরু করে। এই ওষুধ মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে কাজ করে। রোগটি অগ্রসর হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত এই চিকিৎসা শুরু করা হয়।   পরে জেসি একবারের জিন থেরাপিও পায়। এই চিকিৎসায় রোগটির জন্য দায়ী ত্রুটিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কাজ করা হয়। চিকিৎসকেরা অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার ভালো ফল দেখলেও জেসির অগ্রগতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছিল না। সে হামাগুড়ি দিচ্ছিল না, খুব বেশি নড়াচড়াও করছিল না এবং হাঁটার কোনো আগ্রহও দেখা যাচ্ছিল না। তখন জেসির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ উচ্চমাত্রার স্পিনরাজা দেওয়ার পরামর্শ দেন।   স্পিনরাজা সরাসরি মেরুদণ্ডের তরলে দেওয়া হয়। এটি শরীরের বিকল্প এসএমএন২ জিনকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমাত্রার এই চিকিৎসা নেওয়া জেসি টেক্সাসের প্রথম রোগী। আগের ১২ মিলিগ্রাম মাত্রার তুলনায় নতুন এই চিকিৎসায় ওষুধের ঘনত্ব বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে এক দশকের বেশি সময়ের ক্লিনিক্যাল তথ্যের পর নতুন এই মাত্রার অনুমোদন দেয়।   নতুন চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। স্পিনরাজা মেরুদণ্ডে দেওয়ার সময় জেসিকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হতো। এত চিকিৎসা, রক্ত নেওয়া ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লুপিতা এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন। তবু শেষ পর্যন্ত পরিবারটি চিকিৎসাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লুপিতা জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পর তিনি খুশি যে তাঁরা ঝুঁকিটি নিয়েছিলেন।   এরপরই জেসির জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। প্রথম ডোজ নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সে নিজে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে এবং দেয়াল ধরে হাঁটতে থাকে। দুটি ডোজ নেওয়ার প্রায় এক মাস পর জেসি স্বাধীনভাবে হাঁটতে শুরু করে। যে পরিবার একসময় আশঙ্কা করেছিল, তাদের সন্তান হয়তো কখনো হাঁটতে পারবে না, তাদের সামনে হঠাৎই বদলে যায় সেই বাস্তবতা।   জেসির হাঁটতে পারার মুহূর্তটি পরিবারের জন্য ছিল গভীর আবেগের। লুপিতা জানান, সবাই কেঁদে ফেলেছিলেন। কারণ তাঁরা আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলেন যে হয়তো তাঁদের সন্তান কখনো হাঁটতে পারবে না। চিকিৎসার পর জেসির নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে হাঁটার দৃশ্য পরিবারের কাছে ছিল তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আশঙ্কার পর পাওয়া বড় আনন্দের মুহূর্ত।   এরপরও জেসির অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। যদিও সে সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ভারসাম্য ঠিক রাখার বিষয়টি এখনও অনুশীলন করছে, তবু লুপিতা তাঁর ছেলেকে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে দেখে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি বলেন, এসএমএ যেন জেসির পরিচয় হয়ে না ওঠে। তাঁর ছেলে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে এবং ফুটবল, সংগীত ও গাড়ি পছন্দ করে। সে একজন দুঃসাহসী শিশুও হয়ে উঠছে।   এখন দুই বছর বয়সী জেসি সেই শিশুটির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার রোগ শনাক্ত হওয়ার ফোনকল একসময় পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জন্মের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া সেই কঠিন খবরের পর চিকিৎসা, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তার পরিবার। একসময় যে শিশুর হাঁটতে পারা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা, চিকিৎসার পর সেই জেসিই নিজের পায়ে হাঁটছে।   লুপিতা জানেন, অন্য অভিভাবকরাও এমন ফোনকল পেতে পারেন। তাঁদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ হলো, ইন্টারনেটে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় না গিয়ে সন্তানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি প্রতিদিনকে একদিন করে মোকাবিলা করার এবং সহায়তা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। অন্য মায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই তিনি নিজের পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন বলে জানান।   সূত্র: নিউজউইক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৩৯
থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

গোপন অঙ্গ বড় করার ইনজেকশনে মৃত্যু, বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারের করুণ পরিণতি

দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে

১ লাখ ৭১ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, অটিজম নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিলল চমকে দেওয়া তথ্য

দুই চিকিৎসক ব্যারি মার্শাল ও রবিন ওয়ারেন, যাঁদের গবেষণায় আলসারের সঙ্গে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার

0 Comments