সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৮:৩০
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০

একসময় মোবাইল ফোনের বাজারে নোকিয়া ১১০০ ছিল পরিচিত এক নাম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই বাটন ফোনটি এখন স্মার্টফোনের যুগে অনেকটাই অতীতের স্মৃতি। তবে প্রায় দুই দশক পরও নোকিয়া ১১০০ অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। পুরোনো এই ফোনটি কেউ সংগ্রহের জন্য, আবার কেউ সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে পেতে কিনতে চাইলে এখনো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সেট খুঁজে পাওয়া যায়।

 

নোকিয়া ১১০০ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। ফোনটি তৈরি করা হয়েছিল সহজ ব্যবহার, কম দাম এবং টেকসই গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। এতে ছিল সাদাকালো ডিসপ্লে, কল ও এসএমএসের সুবিধা, অ্যালার্ম, ক্যালকুলেটর, গেম এবং সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর একটি টর্চলাইট। শক্তপোক্ত বডি ও সহজ ব্যবহারের কারণে ফোনটি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 

জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় এর বিক্রির পরিসংখ্যানে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, নোকিয়া ১১০০-এর ২৫ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রির পরিমাণের কারণে মডেলটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গিনেসের হিসাবে, বিক্রির দিক থেকে নোকিয়া ১১০০ তার সময়ের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নোকিয়ার ৩২১০ ও ৩৩১০ এবং মটোরোলা রেজর ভি৩-এর চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিল। 

 

অর্থাৎ ২৫ কোটি ইউনিট বিক্রি মানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোনো না কোনো সময় এই ফোনটি ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল যোগাযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় নোকিয়া ১১০০ বড় ভূমিকা রাখে। কম দাম, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, সহজ ব্যবহার এবং তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত নকশা ফোনটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল। 

 

নোকিয়া ১১০০-এর জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ছিল এর সময়োপযোগী নকশা। তখনকার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল ফোনের মূল প্রয়োজন ছিল ফোন করা, এসএমএস পাঠানো এবং দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়া ফোন ব্যবহার করা। ইন্টারনেট, ক্যামেরা, অ্যাপ কিংবা টাচস্ক্রিন তখনো স্মার্টফোনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি। ফলে নোকিয়া ১১০০ অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনের প্রায় আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছিল।

 

নোকিয়া নিজেও ২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে ১১০০ মডেলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছিল। কোম্পানির ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নোকিয়া ১১০০ এবং নোকিয়া ৬০১০ ভালো পারফর্ম করেছে। 

 

সময়ের সঙ্গে মোবাইল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। রঙিন ডিসপ্লে, ক্যামেরা, মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের কারণে নোকিয়া ১১০০-এর মতো বাটন ফোন ধীরে ধীরে বাজারের মূলধারা থেকে সরে যায়। কিন্তু বিক্রির রেকর্ডের কারণে ফোনটি মোবাইল প্রযুক্তির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

 

আজও পুরোনো নোকিয়া ১১০০ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত, পুরোনো এবং সংস্কার করা সেট পাওয়া যায়। ফলে কেউ চাইলে এখনো এই ঐতিহাসিক ফোনটি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে ফোনটি আসল কি না, সেটি ব্যবহৃত নাকি সংস্কার করা, এর অবস্থা কেমন এবং বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে সেটি কাজ করবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

 

২০০৩ সালে বাজারে আসা একটি সাধারণ বাটন ফোন কীভাবে ২৫ কোটির বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড গড়েছিল, নোকিয়া ১১০০ তারই একটি বড় উদাহরণ। স্মার্টফোনের আধুনিক যুগে ফোনটির প্রযুক্তি হয়তো অনেক পুরোনো, কিন্তু নোকিয়া ১১০০ এখনো কোটি কোটি মানুষের কাছে একটি বিশেষ নস্টালজিয়ার নাম।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০

একসময় মোবাইল ফোনের বাজারে নোকিয়া ১১০০ ছিল পরিচিত এক নাম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই বাটন ফোনটি এখন স্মার্টফোনের যুগে অনেকটাই অতীতের স্মৃতি। তবে প্রায় দুই দশক পরও নোকিয়া ১১০০ অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। পুরোনো এই ফোনটি কেউ সংগ্রহের জন্য, আবার কেউ সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে পেতে কিনতে চাইলে এখনো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সেট খুঁজে পাওয়া যায়।   নোকিয়া ১১০০ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। ফোনটি তৈরি করা হয়েছিল সহজ ব্যবহার, কম দাম এবং টেকসই গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। এতে ছিল সাদাকালো ডিসপ্লে, কল ও এসএমএসের সুবিধা, অ্যালার্ম, ক্যালকুলেটর, গেম এবং সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর একটি টর্চলাইট। শক্তপোক্ত বডি ও সহজ ব্যবহারের কারণে ফোনটি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।   জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় এর বিক্রির পরিসংখ্যানে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, নোকিয়া ১১০০-এর ২৫ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রির পরিমাণের কারণে মডেলটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গিনেসের হিসাবে, বিক্রির দিক থেকে নোকিয়া ১১০০ তার সময়ের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নোকিয়ার ৩২১০ ও ৩৩১০ এবং মটোরোলা রেজর ভি৩-এর চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিল।    অর্থাৎ ২৫ কোটি ইউনিট বিক্রি মানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোনো না কোনো সময় এই ফোনটি ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল যোগাযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় নোকিয়া ১১০০ বড় ভূমিকা রাখে। কম দাম, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, সহজ ব্যবহার এবং তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত নকশা ফোনটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল।    নোকিয়া ১১০০-এর জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ছিল এর সময়োপযোগী নকশা। তখনকার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল ফোনের মূল প্রয়োজন ছিল ফোন করা, এসএমএস পাঠানো এবং দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়া ফোন ব্যবহার করা। ইন্টারনেট, ক্যামেরা, অ্যাপ কিংবা টাচস্ক্রিন তখনো স্মার্টফোনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি। ফলে নোকিয়া ১১০০ অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনের প্রায় আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছিল।   নোকিয়া নিজেও ২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে ১১০০ মডেলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছিল। কোম্পানির ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নোকিয়া ১১০০ এবং নোকিয়া ৬০১০ ভালো পারফর্ম করেছে।    সময়ের সঙ্গে মোবাইল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। রঙিন ডিসপ্লে, ক্যামেরা, মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের কারণে নোকিয়া ১১০০-এর মতো বাটন ফোন ধীরে ধীরে বাজারের মূলধারা থেকে সরে যায়। কিন্তু বিক্রির রেকর্ডের কারণে ফোনটি মোবাইল প্রযুক্তির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।   আজও পুরোনো নোকিয়া ১১০০ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত, পুরোনো এবং সংস্কার করা সেট পাওয়া যায়। ফলে কেউ চাইলে এখনো এই ঐতিহাসিক ফোনটি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে ফোনটি আসল কি না, সেটি ব্যবহৃত নাকি সংস্কার করা, এর অবস্থা কেমন এবং বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে সেটি কাজ করবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।   ২০০৩ সালে বাজারে আসা একটি সাধারণ বাটন ফোন কীভাবে ২৫ কোটির বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড গড়েছিল, নোকিয়া ১১০০ তারই একটি বড় উদাহরণ। স্মার্টফোনের আধুনিক যুগে ফোনটির প্রযুক্তি হয়তো অনেক পুরোনো, কিন্তু নোকিয়া ১১০০ এখনো কোটি কোটি মানুষের কাছে একটি বিশেষ নস্টালজিয়ার নাম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৮:৩০
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই সঙ্গীর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও মানসিক নির্ভরতা নিয়ে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে

প্রচলিত কাঠামো বদলে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম সম্পূর্ণ নতুন নকশার উড়োজাহাজ তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত

চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাফি হোসাইন। ছবি: সংগৃহীত

১ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশনে ফ্যাসেট, বিশ্ব ইউনিকর্নের কাতারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে প্যাসিফিক বিটল ককরোচ। ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধের চেয়ে ৪ গুণ পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ, হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড

খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে এমন এক উপাদান, যা শুনলেই অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। প্যাসিফিক বিটল ককরোচ নামে পরিচিত এক ধরনের তেলাপোকার শরীর থেকে তৈরি দুধের মতো পুষ্টিকর পদার্থে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। তবে এটি এখনো মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।    এই তেলাপোকার বৈজ্ঞানিক নাম ডিপ্লোপ্টেরা পাংকটাটা। অন্য অনেক তেলাপোকার মতো ডিম পাড়ার বদলে এরা জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। মায়ের শরীরে বেড়ে ওঠা ভ্রূণকে পুষ্টি দিতে বিশেষ ধরনের দুধসদৃশ তরল নিঃসৃত হয়, যা পরে ভ্রূণের অন্ত্রে প্রোটিন ক্রিস্টাল হিসেবে জমা হয়। গবেষণায় এসব ক্রিস্টালে উচ্চমাত্রার পুষ্টি উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।    গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদার্থে লিপোক্যালিনজাতীয় প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এসব প্রোটিন ভ্রূণের বেড়ে ওঠার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এর নির্দিষ্ট প্রোটিন বা পুষ্টি উপাদান খাদ্য প্রযুক্তিতে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এটিকে এখনই ‘সুপারফুড’ বা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণায় এর পুষ্টিগুণ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের নিরাপত্তা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনাতেও ভবিষ্যৎ গবেষণায় এর সঠিক গঠন ও মানুষের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।    সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ব্যাপক পরিমাণে এই উপাদান সংগ্রহ করা। একটি তেলাপোকা থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিজ্ঞানীরা সরাসরি তেলাপোকা থেকে সংগ্রহের বদলে এর পুষ্টিকর প্রোটিনের গঠন ল্যাবরেটরিতে উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছেন।   ফলে তেলাপোকার ‘দুধ’ এখনো মানুষের দৈনন্দিন খাবার নয়। তবে এর অস্বাভাবিক পুষ্টি কাঠামো ভবিষ্যতের খাদ্য প্রযুক্তি ও বিকল্প পুষ্টির উৎস নিয়ে গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১০:২০
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

শিশু ও কিশোরদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে ট্রিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা

সেন্ট অ্যান্ডরুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছবি:সংগৃহীত

সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা

সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইরানে উদ্ধার হওয়া ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। গত ৪ ও ৫ আগস্ট উদ্ধার হওয়া এই যন্ত্রাংশগুলো বিশ্লেষণ করে এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা ইরানের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রটির গাইডেন্স সিস্টেম এবং থার্মাল প্রটেকশন আর্কিটেকচার নিয়ে এতদিন যে অস্পষ্টতা ছিল, তা এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।   বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কেড়েছে ধ্বংসাবশেষে পাওয়া একটি ফোর-এলিমেন্ট কন্ট্রোলড রিসেপশন প্যাটার্ন অ্যান্টেনা বা সিআরপিএ (CRPA)। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক জ্যামিং একটি অতি সাধারণ অথচ কার্যকর কৌশল হলেও, এই সিআরপিএ প্রযুক্তির কারণে তীব্র জ্যামিংয়ের মুখেও ‘খাইবার’ তার লক্ষ্যপথে অবিচল থাকতে পারে। সাধারণ অ্যান্টেনার বদলে এটি একাধিক দিক থেকে আসা সংকেতের শক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ফলে আকাশপথে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও স্যাটেলাইট নেভিগেশনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা একেবারেই কম।   ক্ষেপণাস্ত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বহুমুখী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অসামান্য সক্ষমতা। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস (GPS) বা রাশিয়ার গ্লোনাস (GLONASS)-এর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ইউরোপের গ্যালিলিও (Galileo) এবং চীনের বেইদু (Beidou) নেটওয়ার্কের সুবিধাও একযোগে কাজে লাগাতে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, সংঘাতের সময় শত্রুপক্ষ যদি নির্দিষ্ট কোনো স্যাটেলাইট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেও দেয়, তবুও বিকল্প উপায়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এর সাথে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS) যুক্ত থাকায় দীর্ঘপথে বিচ্যুতির হারও ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসে। রাতের বেলা বা বৈরী আবহাওয়ায় কমান্ড সেন্টার কিংবা রাডার স্টেশনের মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কাছে আরও বেশি ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটির টার্মিনাল ফেজ বা উড্ডয়নের শেষ ধাপ। দাবি করা হচ্ছে, খাইবার-এর ট্রাইকনিক ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (MaRV) বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে নিজের অবস্থান ও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। হঠাৎ উচ্চতা বা দিক পরিবর্তনের এই অভাবনীয় সক্ষমতার কারণে প্যাট্রিয়ট, থাড কিংবা অ্যারো-এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর পক্ষেও এর গতিপথ অনুমান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সব সময় কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত উপসংহার টানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ।   এদিকে, উদ্ধার হওয়া অ্যান্টেনার নকশার সঙ্গে চীনের একটি বাণিজ্যিক মাল্টি-জিএনএসএস অ্যান্টি-জ্যামিং সিস্টেমের দৃশ্যত মিল পাওয়া গেছে। তবে একে সরাসরি চীনের কোনো সামরিক সহায়তা হিসেবে দেখতে রাজি নন অধিকাংশ বিশ্লেষক। তাদের মতে, তেহরান সম্ভবত বেসামরিক বা বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তীতে নিজস্ব দক্ষতায় রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সরঞ্জামে তা সফলভাবে যুক্ত করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য প্রযুক্তি এবং দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সমরাস্ত্রকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকেই প্রভাবিত করবে না, বরং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের হিসাব-নিকাশেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১২:১৫
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ ও ডাইনোসর ফিরিয়ে আনার ধারণা নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নতুন ব্যাকটেরিওফাজ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপরের অংশ। ছবি: এআই

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট

0 Comments