ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ‘বুমেরাং’ হবে: পুতিন
ভারতের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বা দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত এমন একটি দেশ, যা নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না।
রুশ সংবাদমাধ্যম ও ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি ভারতকে একটি স্বাধীন ও পূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “ভারত সবসময় নিজের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বা চাপ উল্টো বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে পারে।”
পুতিন তার বক্তব্যে মোদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও মোদি এখন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে রাশিয়ার অত্যাধুনিক সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান এবং এস-৫০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনার প্রসঙ্গ উঠলে পুতিন বলেন, ভারত এমন একটি রাষ্ট্র, যা নিজের প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়।
তার ভাষায়, “ভারতের কাছে যা সবচেয়ে আধুনিক, কার্যকর ও সাশ্রয়ী মনে হবে, তারা সেটিই বেছে নেবে। অন্যরা কী ভাবছে বা বলছে, তা নিয়ে ভারত সাধারণত সিদ্ধান্ত নেয় না।”
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কোনো সাময়িক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। দুই দেশের সহযোগিতা শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং যৌথ সামরিক প্রকল্পেও বিস্তৃত।
এই প্রসঙ্গে তিনি ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উদাহরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রি করতে রাশিয়া সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান। পুতিনের দাবি, সুখই-৫৭ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি।
দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে বিলম্বের কারণে ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে ভারত বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির উচ্চাভিলাষী ‘এএমসিএ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এই যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের আগে বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে মধ্যবর্তী সময়ে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ধরে রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে সুখই-৫৭ সংগ্রহের বিষয়টি ভারত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বার্তা নয়, বরং পরিবর্তিত বৈশ্বিক কূটনৈতিক বাস্তবতায় ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখার রাশিয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকানাডার ক্যুবেক প্রদেশে আট বছর বসবাসের পর অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভারত ফিরে গেছে কুমার পরিবার। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, মানবিক কারণে কানাডায় থাকার আবেদন এবং আদালতে পর্যালোচনার উদ্যোগের পর ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারটি ভারতগামী ফ্লাইটে ওঠে। ২০১৮ সালের এপ্রিলে কানাডায় আসার পর পরিবারটি ক্যুবেকেই নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল। হরিশ কুমার, তার স্ত্রী সোনিকা এবং তাদের দুই সন্তান গৌরেশ ও জাপেশ ২০১৮ সালে কানাডায় আসার পর অ্যাসাইলাম আবেদন করেন। হরিশের দাবি ছিল, ভারতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে মানবিক ও সহানুভূতিশীল কারণে কানাডায় থাকার আবেদনও ব্যর্থ হয়। পরিবারটির বিরুদ্ধে কানাডা ছাড়ার নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর তাদের ভারত ফেরার কথা ছিল। এর আগে ৪ আগস্ট পরিবারটিকে জানানো হয় যে তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। পরে হরিশের স্ত্রী সোনিকাকে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ হেফাজতে নেয় বলে হরিশ জানিয়েছেন। পরিবারটির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাদের দুই সন্তানকে ঘিরে। ১৪ বছর বয়সী জাপেশ ও ১২ বছর বয়সী গৌরেশের শৈশবের বড় অংশ কেটেছে ক্যুবেকে। তারা কানাডার স্কুলে পড়েছে, ফরাসি ভাষা শিখেছে এবং সেখানেই বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ গড়ে তুলেছে। বিদায়ের আগে ১৪ বছর বয়সী জাপেশ গণমাধ্যমকে জানায়, সে ক্যুবেকেই বড় হয়েছে এবং সেখানে তার বন্ধুরা রয়েছে। ভারতের জীবন সম্পর্কে তার খুব কম ধারণা। তার ১২ বছর বয়সী ভাই গৌরেশও জীবনের বড় অংশ কানাডায় কাটিয়েছে। ফলে ভারত ফিরে গিয়ে তাদের নতুন পরিবেশ, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। কানাডায় থাকার সময় হরিশ কুমার ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি এই পেশায় ছিলেন এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও পণ্য পরিবহনের কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়ে ট্রাকিং ও পরিবহন খাতকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তার স্ত্রী সোনিকাও পরিবারের ব্যয় চালাতে কাজ করেছেন। কুমার পরিবারকে সহায়তা করা ইমিগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার তাদের অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, পরিবারটি আট বছর ধরে কানাডায় বসবাস, কাজ ও স্থানীয় কমিউনিটিতে অবদান রাখার পরও তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ হয়নি। অন্যদিকে, কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে আপিল, ফেডারেল কোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউ বা প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের মতো আইনি সুযোগ পেতে পারেন। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের ৪৮ নম্বর ধারায় কার্যকর রিমুভাল অর্ডার থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে নেওয়ার বিধান রয়েছে। কুমার পরিবার ইতোমধ্যে ভারত পৌঁছালেও তাদের আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। পরিবারটি ফেডারেল কোর্টে তাদের মামলাটি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আট বছর পর ভারতে ফিরে এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি পরিবারটি। বিশেষ করে দুই সন্তানের জন্য এটি শুধু একটি দেশ পরিবর্তন নয়, বরং শৈশব থেকে পরিচিত ক্যুবেকের জীবন ছেড়ে এমন একটি দেশে নতুন করে শুরু করা, যাকে তারা নিজেদের ভাষায় খুব কমই চেনে।
‘আমার টাকা, আমার পেট, আমার সিদ্ধান্ত’, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিশ্বজিতের জবাব
হাসপাতালে শুয়েও লুকিয়ে ভ্যাপ, ৬ বছরের আসক্তির পর স্ট্র দিয়ে শ্বাসের মতো অবস্থা
মেয়েকে বন্দি জীবন থেকে বাঁচাতে ১০ বছর ছেলে করে রাখলেন আফগান বাবা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে জানান, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের আওতায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমে জড়িত নির্দিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সরকার। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়, বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বীকৃত সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা তৈরি করছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ দুর্বল করে দিতে পারে। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন বা উসকানির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য একা এই পদক্ষেপ নেয়নি। একই দিনে ফ্রান্স ও কানাডাও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ বসতি-সম্পর্কিত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত কনস্যুলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করাই নতুন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার এবং হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় কস্টকোর ১৪ নতুন শোরুম, জেনে নিন কোথায় কোথায় খুলছে
আজ থেকে কানাডার পাল্টা ট্যারিফ, আমেরিকানদের ব্যবসা ও চাকরিতে কতটা প্রভাব?
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউ দিল্লি পোস্ট। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সাবেক কূটনীতিকদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, ওই পর্যবেক্ষক দলে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সাবেক কূটনীতিককেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউ দিল্লি পোস্ট আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশের সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলৎস সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ওই সাক্ষাতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কর্মপরিকল্পনা, সম্ভাব্য সময়সূচি কিংবা পর্যবেক্ষক দলের সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয়। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত বিষয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে। ফলে নতুন এই দাবিটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্রের প্রয়োজন রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শেখ হাসিনা নিজে, আওয়ামী লীগ কিংবা পিটার ফারেনহোলৎসের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। একই সঙ্গে নিউ দিল্লি পোস্টের এই দাবিটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বা বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করেনি। ফলে আপাতত শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টিকে একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং আরও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য সামনে এলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। সূত্র: নিউ দিল্লি পোস্ট
‘হরমুজ এড়াতে বিকল্প পথ!’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নতুন কৌশলে উপসাগরীয় দেশগুলো
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ আলিমের জোড়া সাফল্য