ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুর ইচ্ছা ছিল বাড়ির পাশ দিয়ে কয়েকটি বাইক যাবে, এলেন ১৫ হাজার বাইকার
জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন ১৫ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল আরোহী। মোটরসাইকেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা কিলিয়ান জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই বিশাল বহর দেখেছিল, শুনেছিল প্রিয় বাইকের গর্জন।
কিলিয়ানের ইচ্ছা ছিল খুব সাধারণ। সে চেয়েছিল, অনেকগুলো মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে এবং সে সেগুলো দেখতে ও ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পারবে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ইচ্ছার কথা জানালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইকাররা রাউডারফেনে ছুটে আসেন।
২৪ জুলাই ২০২১-এ শুরু হয় ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ নামে ওই বিশেষ আয়োজন। পুলিশ জানিয়েছিল, এতে প্রায় ১৫ হাজার বাইকার অংশ নেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ হাজারের মতো অংশগ্রহণকারীর হিসাবও দিয়েছিলেন। বিশাল বহরটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একের পর এক মোটরসাইকেল কিলিয়ানের বাড়ির সামনে দিয়ে যায়।
মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সেখানে ছিল কোয়াড, ট্রাইক, স্কুটার ও অন্যান্য দুই চাকার যান। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাততালি দিয়ে বাইকারদের স্বাগত জানান। কিলিয়ানও বাড়ির জানালা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেই দৃশ্য দেখেছিল। তার বাবা এই বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন।
কিলিয়ান তখন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। মোটরসাইকেল ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসাগুলোর একটি। তাই হাজার হাজার অপরিচিত মানুষের এই উদ্যোগ তার জন্য ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
তবে সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৭ আগস্ট ২০২১, আয়োজনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যায়।
তার চলে যাওয়ার পরও ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ আয়োজনটি মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। একটি শিশুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আসার সেই ঘটনা আজও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন ১৫ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল আরোহী। মোটরসাইকেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা কিলিয়ান জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই বিশাল বহর দেখেছিল, শুনেছিল প্রিয় বাইকের গর্জন। কিলিয়ানের ইচ্ছা ছিল খুব সাধারণ। সে চেয়েছিল, অনেকগুলো মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে এবং সে সেগুলো দেখতে ও ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পারবে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ইচ্ছার কথা জানালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইকাররা রাউডারফেনে ছুটে আসেন। ২৪ জুলাই ২০২১-এ শুরু হয় ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ নামে ওই বিশেষ আয়োজন। পুলিশ জানিয়েছিল, এতে প্রায় ১৫ হাজার বাইকার অংশ নেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ হাজারের মতো অংশগ্রহণকারীর হিসাবও দিয়েছিলেন। বিশাল বহরটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একের পর এক মোটরসাইকেল কিলিয়ানের বাড়ির সামনে দিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সেখানে ছিল কোয়াড, ট্রাইক, স্কুটার ও অন্যান্য দুই চাকার যান। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাততালি দিয়ে বাইকারদের স্বাগত জানান। কিলিয়ানও বাড়ির জানালা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেই দৃশ্য দেখেছিল। তার বাবা এই বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। কিলিয়ান তখন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। মোটরসাইকেল ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসাগুলোর একটি। তাই হাজার হাজার অপরিচিত মানুষের এই উদ্যোগ তার জন্য ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তবে সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৭ আগস্ট ২০২১, আয়োজনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যায়। তার চলে যাওয়ার পরও ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ আয়োজনটি মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। একটি শিশুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আসার সেই ঘটনা আজও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ায় আগুনে খাবার হারানো প্রাণীদের জন্য আকাশ থেকে ফেলা হলো ১৪.৫ টন খাবার
তৃতীয় তলা থেকে পড়ে ৮৩% খুলি ক্ষতিগ্রস্ত, থ্রিডি প্রযুক্তিতে নতুন জীবন পেলেন আলী
মেয়ের পছন্দের পাখি কিনতে ৫ মিনিটে ৫ কোটি টাকা খরচ করলেন দুবাইয়ের শেখ!
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্কুলকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে যৌনধর্মী ডিপফেক ছবি তৈরি করছে অপরাধী চক্র। পরে এসব ছবি ব্যবহার করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ব্ল্যাকমেইল করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক স্কুলপ্রধান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ছবি ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অর্ধেকের বেশি স্কুলপ্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, স্কুলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শিক্ষার্থীদের ছবিও এআইয়ের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে শিশুদের যৌনধর্মী ডিপফেক ছবি তৈরির ঘটনা এখন ‘মহামারি’র মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্কুলগুলোও অপরাধীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। এআইভিত্তিক শিশু সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইডোসের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য যুক্তরাজ্যের ৫০০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ছবি অপব্যবহার, বিকৃত করা বা চাঁদাবাজির চেষ্টার অন্তত একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। এ ছাড়া ৫৪ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলের প্রকাশিত ছবিগুলো এআইয়ের অপব্যবহারের শিকার হতে পারে—এ নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত উদ্বেগ রয়েছে। ৪৫ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ছবি অপব্যবহারের অভিযোগে তাদের স্কুলে অভিভাবকদের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগও এসেছে। যুক্তরাজ্যের সাবেক জাতীয় শিশু সুরক্ষা পুলিশিং প্রধান সাইমন বেইলি বলেন, সংগঠিত অপরাধী চক্রগুলো স্কুলপ্রধানদের এমনভাবে টার্গেট করছে, যাতে তাদের ওপর থাকা চাপ ও দুর্বলতার জায়গাগুলো তারা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বলেন, অনেক স্কুলপ্রধানই প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। অপরাধীরা এই স্বাভাবিক প্রবণতাকেই কাজে লাগাচ্ছে। তার আশঙ্কা, অনেক স্কুল এমন ঘটনার শিকার হলেও তা কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছে না; বরং বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই সামলানোর চেষ্টা করছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না। আইডোসের প্রতিষ্ঠাতা ক্যারোল অসবোর্ন বলেন, শুধু অপরাধী চক্রই নয়, যৌন অপরাধীরাও স্কুলের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ব্যবহার করে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভুয়া ছবি তৈরি করছে। এমনকি শিশুরাও অন্য শিশু এবং শিক্ষকদের ছবি ব্যবহার করে ডিপফেক তৈরি করছে। অসবোর্ন বলেন, এসব ঘটনা যে বাড়ছে তা তিনি জানতেন, তবে এত বেশি স্কুল এর শিকার হয়েছে—জরিপের ফল দেখে তিনি নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। তার মতে, অনেক স্কুল এখনো মনে করছে তাদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটছে এবং স্কুলগুলোকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এবং ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ) অভিভাবকদের সন্তানদের ছবি অনলাইনে প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। আইডব্লিউএফের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড্যান সেক্সটন বলেন, শিশুদের ছবি অনলাইনে প্রকাশ না করতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া তার জন্যও অস্বস্তিকর। তবে অনলাইনে প্রকাশিত ছবির অপব্যবহার ঠেকানোর কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় সতর্ক থাকা ছাড়া আপাতত আর কোনো বিকল্প দেখছেন না তিনি।
দুই দিন পর খুলল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর, ফের অগ্ন্যুৎপাতের শঙ্কা
ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজির বিস্ফোরণ, মধ্য মেক্সিকোয় নিহত ১০, আহত ৬৪
ক্লাসে ভুলেই ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি ফাঁস, চাকরি হারিয়ে শিক্ষক এখন নিষিদ্ধ
গাজার জেইতুন এলাকায় নিজেদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী নেভিন আবু হাতাব ও তার স্বামী মোহাম্মদ। বিয়ের চার মাসও পূর্ণ হয়নি তাদের। যুদ্ধের মধ্যেই অল্প সামর্থ্যে নতুন সংসার গুছিয়ে স্থিতিশীল জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। হঠাৎ মধ্যরাতে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় দুজনের। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পান শুধু একটি ব্যক্তিগত ব্যাগ ও কাজের একটি ল্যাপটপ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ধ্বংস হয়ে যায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টসহ পুরো ভবন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন নেভিন। সেই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার ভাষায়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জীবনের সবকিছু হারিয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে আগেই তাদের বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলেও নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিন পাননি তারা। সীমিত সম্পদের মধ্যেই ঘর সাজিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন এই দম্পতি। এদিকে গাজায় হামলা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক রাতের হামলায় হামাসের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হামাসের কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে তাদের দাবি। অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল সব ধরনের হামলা বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না। যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে গাজায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগও অব্যাহত রয়েছে।
১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে বদলে গেল জীবন, অর্ধেকই বিলিয়ে দিলেন এই নারী!
নারীদের অপমান করলে ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি থালাপতি বিজয়ের